ঘরহারা ২৫ আদিবাসী পরিবার নয় দিন ধরে জঙ্গলে

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের শান্তিনগর ও রাঙ্গীপাড়া গ্রামে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের নয় দিন পরও ২৫টি আদিবাসী পরিবার তাদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেনি। হামলার পর তারা কাকপারিয়া জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া আদিবাসীদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই জঙ্গলে গেলে ভুক্তভোগীরা এসব কথা জানান।
আদিবাসীরা অভিযোগ করেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা ওই দুই গ্রামে তাদের (আদিবাসী) বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের অধিকাংশ আদিবাসী বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর প্রায় ৪০টি আদিবাসী পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তারা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কাকপারিয়া জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে ২৫টি পরিবার এখনো তাদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন গাছতলা ও খোলা আকাশের নিচে আছে। অনেকে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শান্তিদেবী চাকমা বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন ধরে অসুস্থ। শুধু বনের লতাপাতা দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে।’
বগাচতর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রনু দীপক দেওয়ান বলেন, যাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এখনো জঙ্গলে আছে। সরকার থেকে সাহায্য পেয়ে বাড়িঘর তুলতে পারলে তারা ফিরে আসবে।
ভুক্তভোগী সমর রঞ্জন চাকমা অভিযোগ করেন, ‘ভয়ে এখনো মামলা করতে পারিনি। মামলা না করার জন্য বাঙালিরা আমাদের মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছে।’
লংগদু থানার উপপরিদর্শক শাহাজান আলী বলেন, ‘আমরা আদিবাসীদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি। এখনো কেউ অভিযোগ করতে আসেনি।’ পরিস্থিতি ভালো হলে আদিবাসীরা মামলা করবে বলে তিনি জানান।’
লংগদু উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমরা ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই হাজার করে টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে তাদের আরও সাহায্য দেওয়া হবে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

উৎসঃ প্রথম আলো ।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/87

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভাষা সম্মেলন

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভাষা সম্মেলন

আদিবাসী ভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি | তারিখ: ২৭-০২-২০১১


জাতীয় শিক্ষানীতি, পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনসহ বিভিন্ন আইনে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন এ অধিকার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।
রাঙামাটিতে গতকাল শনিবার আয়োজিত ‘প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রাম ভাষা সম্মেলন’-এ ভাষা গবেষক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সব আদিবাসীর ভাষার উন্নয়নে আদিবাসী ভাষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, আদিবাসীদের ভাষার অভিধান তৈরি, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন জাতিসত্তার ভাষা কমিটিগুলোকে সচল, আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে আদিবাসী ভাষায় পাঠ্যসূচি প্রণয়নে সেল গঠনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সম্মেলন আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা গ্রাউস, সাস, জাবারাং, টংগ্যা ও সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে।
রাঙামাটি শহরের আশিকা মানবিক উন্নয়নকেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে রাঙামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও গবেষক সুগত চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, আদবাসী ভাষার উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম ও ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে আদিবাসীরাই সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পরিকল্পনাতেও তা রয়েছে।
দীপংকর তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণ, প্রচলন, গবেষণা ও বিকাশের জন্য একটি স্বতন্ত্র অনুষদ রয়েছে। এই অনুষদটিকে ধীরে ধীরে আদিবাসীদের ভাষার জন্য একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দেশে যে আদমশুমারি হতে যাচ্ছে, তাতে প্রতিটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যথাযথভাবে তুলে আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, সামার ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুইস্টিকের (সিল) সহযোগী পরিচালক ফিওনা মর্গান ও সাংবাদিক হরি কিশোর চাকমা। সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার দেড় শতাধিক ভাষা গবেষক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপন্ন ভাষা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট জাতিসত্তার ভূমিকা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও ললিত সি চাকমা।

উৎসঃ প্রথম আলো

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/81

সাংবিধানিক সংস্কার ও আদিবাসী পরিচয়

সাংবিধানিক সংস্কার ও আদিবাসী পরিচয়

দেবাশীষ রায় ওয়াংঝা |

তারিখ: ২৪-০২-২০১১

অসাম্প্রদায়িকতার যাত্রায় আদিবাসী যাত্রী
সুপ্রিম কোর্টের পঞ্চম সংশোধনীর রায়ের মাধ্যমে দেশটি নতুন যাত্রায় নেমে পড়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার অন্বেষণে। বৈঠা ধরেছেন শেখ হাসিনা। দাঁড়ে রয়েছে সংসদীয় সংস্কার কমিটি। পাঁচজন আদিবাসী সাংসদও বৈঠা হাতে। প্রশ্ন হলো, দেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা সেই নৌকার যাত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে কি না। নৌকায় খানিকটা বসার বা দাঁড়ানোর স্থান পেলেও তারা কি তাদের নিজস্ব পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজে যেতে পারবে? অন্য কথায়, পুনর্গঠিত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে আদিবাসীদের স্বকীয়তা, মর্যাদা ও অধিকারের যথাযথ স্থান হবে কি না। নাকি ১৯৬২ ও ১৯৭২-এর মতো সংবিধান প্রণয়নের তরী তাদের ফেলে রেখে আবারও যাত্রা করবে?

সংবিধান ও পরিকল্পনা
বাংলাদেশকে যদি আমরা একটি বাড়ির সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে এ দেশের আদিবাসীদের অবস্থান এই বাড়ির মূল ঘরের বাইরে ছোট্ট কুঁড়েঘর অথবা বারান্দা। তাই বাংলাদেশের সংবিধানের সংস্কার ব্যতীত আদিবাসীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা এবং নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক অধিকারের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর আমাদের সংবিধান প্রণয়নের আগে তৎকালীন গণপরিষদের সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার বহুত্ববাদ ও সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতার দাবি যদি গৃহীত হতো, তাহলে হয়তো আজ আর আদিবাসীদের নতুন করে সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন হতো না। হয়তো বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় সংজ্ঞায়িত করতেও এত ঝামেলা হতো না। নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের বেলায় কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট মুসলমান বনাম বাঙালির দ্বন্দ্বও হয়তো বেড়ে ওঠার সুযোগ পেত না।

বাংলাদেশের সংবিধান ও বৈষম্য দূরীকরণ
আগেই বলেছি, সাংবিধানিক সংস্কার ব্যতীত আদিবাসীর পরিচয়, স্বকীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বর্তমান সংবিধানে কি আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত না? এ প্রশ্নের সাদামাটা উত্তর হলো, ‘না’। ‘হ্যাঁ’ আপনি বলতে পারেন, কারণ সংবিধানে তো বর্তমানেও লেখা আছে ‘ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের’ কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য করতে পারবে না। নির্মম বাস্তবতা বলে, বৈষম্যহীনভাবে যদি রাষ্ট্রের আচরণ থাকত, তাহলে কি সুপেয় জল ও চিকিৎসার অভাবে সদ্য সন্তানপ্রসবা আদিবাসী তরুণী মা ও শিশুর জীবন দিতে হতো? উদ্বাস্তু পাহাড়ি শিশুদের বন্য আলু খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে হতো? বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ করার জন্য সাধারণ প্রশাসন ও সামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে জমির দলিল দেখাতে হতো বা ভাবনা (Maditation) কেন্দ্রের জন্য কেন পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত লাগবে, তা কাগজে-কলমে প্রমাণ দিতে হতো? সম-অধিকার ও বৈষম্যহীনতাসংক্রান্ত বিধানাবলির যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমান সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে নীতিনির্ধারক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা সহজেই বুঝতে পারেন যে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে একই রকম পদক্ষেপের মাধ্যমে সর্বদা ন্যায্য ফল পাওয়া যায় না।

সমতা, বৈষম্যহীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতা
বর্তমান সংবিধানের সম-অধিকারসংক্রান্ত বিধানাবলির যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, ‘সমাজের অনগ্রসর’ অংশের মধ্যে কি আদিবাসীরা অন্তর্ভুক্ত কি না এই প্রশ্ন। অন্তর্ভুক্ত হলে রাষ্ট্র তাদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারবে এবং তা বৈষম্যবিরোধী বিধানের লঙ্ঘন হয়েছে মর্মে বিবেচিত হবে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, গেল ১২ ও ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগ একটি রিট মামলায় ১৯৯৮ সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধনী) আইনের কিছু বিধান সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি মর্মে ঘোষণা দেন। অনুরূপভাবে পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজাদের স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রদানের বিধানকেও বেআইনি ঘোষণা করেন। আঞ্চলিক পরিষদসংক্রান্ত পুরো আইনটিকেই অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা দেন। কাজেই এসব বিশেষ বিধানসংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদসমূহে ‘আদিবাসী’ শব্দের সংযোজন হলে এই অস্পষ্টতার অবসান হবে।

আদিবাসী ও ‘অনগ্রসর’ নাগরিক
পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি-উত্তর আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনের ভূমিকার অংশে পার্বত্য অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট জেলাকে ‘অনগ্রসর উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই উল্লেখ ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসমূহের শিক্ষাগত দুরবস্থা, অনুন্নত যাতায়াতব্যবস্থা, বাজারজাতকরণের সমস্যা, পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশনের অব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, বিদ্যুতের অভাব ইত্যাদি দেখিয়েও বদীউজ্জমানের মামলায় হাইকোর্টের ‘অনগ্রসরতার’ অগ্নিপরীক্ষা পাস করতে পারল না আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ। এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ অবশ্যই করি, যেহেতু আঞ্চলিক পরিষদের আইনজীবীদের মধ্যে ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সঙ্গে আমিও ছিলাম। কিন্তু আমার আপত্তি এই মুহূর্তে ‘অনগ্রসর’ শব্দ নিয়ে।
যেকোনো এলাকা অনগ্রসর হতে পারে, উন্নয়নের মাপকাঠিতে যেভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ আইনে লেখা আছে। তবে নাগরিকের অংশ কীভাবে অনগ্রসর হয়? ‘অনগ্রসর’ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুমিয়া কৃষকের মেয়ে বা ছেলে যখন কোটায় ভর্তির পর পাস করে চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হয়? তার আগে পরীক্ষার খাতায় নম্বর বণ্টনের সময় কি তাকে ‘কোটার’ জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়? কখনো না। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা ‘প্রান্তিক’ জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে, ‘সুযোগবঞ্চিত’ হতে পারে, ‘অধিকারবঞ্চিত’ তো বটেই, তবে কোনো যুক্তিতে তাদের ‘অনগ্রসর’ বলা যায় না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক বিধানাবলি ও বাংলাদেশের সংবিধান
ব্রিটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন রাজাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারতে শাসন আইন ১৯১৫ ও ১৯১৯ এবং ভারত শাসন আইন ১৯৩৫-এ পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (যথাক্রমে ‘Backward Tracts’ I ‘Excluded Area’) রেখে দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে Excluded Area-এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হয়, তবে ১৯৬২ সালের সংবিধানে এর মর্যাদা ‘Tribal Area’-মর্যাদায় রূপান্তরিত করা হয়। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস যে পাকিস্তান আমলে যখন পার্বত্য অঞ্চলে গণতন্ত্রের নামে ভোটাধিকার প্রদান করা হয়, তার পরই Tribal Area-এর মর্যাদা তুলে দেওয়া হয়। এর পরপরই ঢাকার হাইকোর্ট মোস্তফা আনসারীর রিট মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনে বহিরাগত বহিষ্কারসংক্রান্ত বিধান, Rule 51-কে সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি মর্মে ঘোষণা দেন। এতে পার্বত্য অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাঙালি অভিবাসনের সূচনা হয়।
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে ময়মনসিংহের শ্রীবর্দী, নালিতাবাড়ী, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা ‘Partially Excluded Area’ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কবে এবং কীভাবে এই অঞ্চলের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া হয়, তা আমার জানা নেই। ষাটের দশক থেকে তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এই অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাঙালি অভিবাসনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। বর্তমান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন হালুয়াঘাট থেকে অনেকবার নির্বাচিত হয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে তাঁর মতো অন্য কোনো গারো (মান্দি) বা অন্য আদিবাসী সমতল অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হতে পারবেন তার আশা ক্ষীণ, যদি না আদিবাসীদের জন্য সংসদে বিশেষ আসনের ব্যবস্থা করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে বিগত দুই দশকে দুবার বাঙালি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাই পার্বত্য এলাকার রাজনৈতিক নেতারা ও নাগরিক সমাজের নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনসহ বিশেষসংখ্যক আদিবাসী সংসদীয় আসন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। কিছুটা ভারতের মতো ও নিউজিল্যান্ডের মাওরি আদিবাসীদের জন্য সাধারণ সংসদীয় আসন অথবা মাওরি সংরক্ষিত আসনে তাদের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আদিবাসী ও অ-আদিবাসী
সাংবিধানিকভাবে আদিবাসীদের পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তাদের জাতিগোষ্ঠীর স্বকীয়তা রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আদিবাসীরা সম্পৃক্ত হতে পারবে। আদিবাসী স্বীকৃতির মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠী যে আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হবে, তা বিশ্বাস করা অবাস্তব। যথাযথ স্বীকৃতি পেলে আদিবাসীরা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিবারের পূর্ণ সদস্যপদ পাবে মাত্র এবং একটা মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাবে।
আদিতে থাকা ছাড়াও আদিবাসীদের আদিবাসী পরিচয়ের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বা সূচক রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি, সনদ ও প্রতিবেদনে স্বীকৃত। এর মধ্যে হলো (১) তাদের প্রান্তিক অবস্থান, (২) প্রথাগত আইন অনুসরণ করে সনাতনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তি করা, (৩) প্রাচীন আবাসভূমির সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ও আত্মিক সম্পর্ক থাকা, (৪) নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি থাকা।
তবে অধিকারের দৃষ্টিতে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় আধুনিক রাষ্ট্র গঠন ও উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ, সংবিধান ও প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানাসংক্রান্ত আইন ও বিধান রচনায় তাদের অসম্পৃক্ততা।

আদিবাসী অধিকার সংরক্ষণে অন্যান্য সাংবিধানিক রক্ষাকবচ
আদিবাসীদের পরিচয় যথাযথভাবে স্বীকৃতি প্রদান ছাড়াও আদিবাসীদের স্বকীয়তা ও অধিকার রক্ষায় সংবিধানে অন্যান্য সম্পূরক বিধান সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম-অধিকার বিধানে আদিবাসীদের প্রত্যক্ষ উল্লেখ (যা আগে বলেছি), সংবিধানসহ অন্যান্য আইন সংস্কারের প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা, সংসদে ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত আসন রাখা এবং আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করে সেসব আইন সাংবিধানিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা— যথা—পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৮৮৯ (১৯৯৮-এর সংশোধনীসহ), পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮।

সাংবিধানিক সংস্কার ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিলে দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তা না হলে পঞ্চম সংশোধনীর রায় কার্যকর করতে গিয়ে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়া যাবে না।
রাষ্ট্রকে জাতিনিরপেক্ষ, ভাষানিরপেক্ষ, শ্রেণীনিরপেক্ষ ও লিঙ্গনিরপেক্ষ হতে হবে। আমাদের দেশের ইতিহাসে অসাম্প্রদায়িক শাসক ছিলেন, কবি ছিলেন, গায়ক ও গায়িকা ছিলেন, শিল্পী ছিলেন। স্মরণ করি পাল রাজা, সেন রাজা, মুসলমান সুলতান ও নবাব, লালন ফকির, হাসন রাজা, নজরুল ইসলাম ও শামসুর রাহমানকে। তাঁদের উত্তরসূরি হয়ে আমরাও জাতি হিসেবে তাঁদের দর্শন ও নীতি অনুসরণ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ও গৌরব বাড়বে।
দেবাশীষ রায় ওয়াংঝা: চাকমা সার্কেলপ্রধান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।

Source : Prothom Alo & Facebook.

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/69

প্রেমিকের খপ্পরে পড়ে ধর্ষিত কিশোরী

প্রেমিকের খপ্পরে পড়ে ধর্ষিত কিশোরী


মোবাইলে প্রতারক প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে রাজশাহীতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কক্সবাজারের এক উপজাতি কিশোরী। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রতারক প্রেমিকের ধর্ষণের শিকার হন ওই কিশোরী। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) ভর্তি করে।
ওসিসি সূত্র জানায়, কক্সবাজারের দক্ষিণ বাহারছাড়া এলাকার ওই উপজাতি কিশোরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার সাকিবুল হাসানের। মঙ্গলবার সাকিবুল মোবাইলে ওই কিশোরীকে রাজশাহীতে আসতে বলে। কিশোরী রাতে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় আসলে সাকিবুল তাকে নগরীর ছোট বনগ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে সাকিবুল। এরপর ওই বাড়িতে রেখে প্রতারক প্রেমিক পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী রাতে রাসত্মায় একা ঘোরাফেরা করতে থাকলে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেন। রাত ২টার সময় পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে ওসিসিতে ভর্তি করে। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি উপজাতি চাকমা।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/67

বর্মাছড়িতে পিসিপি-এইচডব্লিউএফ-এর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা

লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়িতে জেএসসি ও প্রাইমারী স্কুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী ও অনিল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে হামলা চালালে আনুমানিক ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন যৌথভাবে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বর্মাছড়ি মাঠে এই সম্বর্ধনার আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে এগারটায় অনুষ্ঠান শুরুর মুহুর্তে অনুক্ক চাকমা ও বিলাস চাকমা নামে দুই সন্ত্রাসী আয়োজকদেরকে অনুষ্ঠান না করার জন্য চাপ দেয়। পিসিপি ও এইচডব্লিউএফ কর্মীরা এতে প্রতিবাদ জানালে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হাত তোলে। এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয় এবং গণধোলাই দেয়।

এক পর্যায়ে কিছু দূরে থাকা সেনা সদস্যরা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে লোকজনের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়। তারা বন্দুকের বাট দিয়ে নারী পুরুষ যাকে পেয়েছে তাকে আঘাত করে আহত করে।

সকাল থেকে সেনা সদস্যরা অনুক্ক চাকমা ও বিলাস চাকমা নামে উক্ত দুই সন্ত্রাসীকে নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে অবস্থান নিয়েছিল।

সেনারা খাগড়াছড়ি থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা আট জনের একটি সাংস্কৃতিক দলকে লক্ষ্মীছড়ি বাজারে আটক করে। তাদেরকে লক্ষ্মীছড়ি থানায় আটক রাখা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়নি। সাংস্কৃতিক দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাপস ত্রিপুরা।

অপরদিকে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণেচ্ছু ৬০ ব্যক্তিকে বহনকারী দুইটি জিপ সেনা সদস্যরা শুকনাছড়িতে আটকায়। তারা সুমন্ত পাড়া ও যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া থেকে আসছিলেন।

সেনা হামলায় আহতদের বেশ কয়েক জনের নাম পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রচার করা হবে না বলে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নিরূপা চাকমা ও ইউপিডিএফ লক্ষ্মীছড়ি ইউনিটের সংগঠক শুক্ল চাকমা এক বিবৃতিতে উক্ত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা বলেন, আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল প্রকার নাগরিক অধিকার সেনাবাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট। পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটা সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান পর্যন্ত আয়োজন করা যায় না। লংগুদু হামলার মতো সাধারণ লোকজনের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধেও কোন প্রতিবাদ করা যায় না। উগ্র বল প্রয়োগ করে কিংবা নানা ষড়যন্ত্র করে এসব গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীগুলো ভন্ডুল করে দেয়া হয়।

তারা আরো বলেন, এটা আজ স্পস্ট সেনাবাহিনী ও সেটলারদের উগ্র সাম্প্রদায়িক অংশটি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিকে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। তাদের এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউপিডিএফ

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/85

সাজেক ও খাগড়াছড়িতে সেটলার হামলায় নিহতদের স্মরণে হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পাহাড়িদের গ্রামে সেটলার হামলার ১ম বার্ষিকী৷ গত বছর এই দিনে সেটলার বাঙালিরা খাগড়াছড়ি সদরে পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। এর আগে ১৯-২০ ফেব্রুয়ারী রাঙামাটি জেলার সাজেকে পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালিয়ে পাহাড়িদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এবং সেনাবাহিনী গুলি করে দু’জন পাহাড়িকে হত্যা করে।

সাজেক ও খাগড়াছড়িতে সেনা-সেটলার হামলার ১ম বার্ষিকী উপলহামলায় নিহত-আহতদের স্মরণে আজ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের য়ংড বৌদ্ধ বিহার, শিবলী বৌদ্ধ বিহার, উপালি বৌদ্ধ বিহার, দশবল বৌদ্ধ বিহার এবং ধর্মপুর বনবিহারে হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়৷ এছাড়া মহালছড়ি উপজেলার দূরপুয্যানালা জ্ঞানোদয় বনবিহার, লেমুছড়ি ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার, বদানালা সাধনা বৌদ্ধবিহার ও মাইসছড়ি বৌদ্ধ শিশুঘর বিহার সহ পানছড়ি, দিঘীনালা সহ অন্যান্য উপজেলায়ও বিভিন্ন বিহারে হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলার নান্যাচর উপজেলার রত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার, শনখোলা পাড়া বিনয় রত্ন বৌদ্ধ বিহার, বড়পুল পাড়া শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহার, দণি মরাচেঙ্গী মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার, গর্জনতলী শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহার, জঘনাতলী চিত্তানন্দ বৌদ্ধ বিহার, বন্দুকভাঙার ভারবোচুগ বন বিহার ও লিক্যাংছড়া বৌদ্ধ বিহার সহ বিভিন্ন উপজেলায় বিহারে বিহারে হাজার বাতি প্রজ্জ্বল করা হয়।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর অন্যতম সংগঠক কালোপ্রিয় চাকমা এক বিবৃতিতে সাজেক ও খাগড়াছড়ি সামপ্রদায়িক হামলার ঘটনা স্মরণ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে খুবই সুপরিকল্পিতভাবে সেদিন হামলা চালানো হয়েছিল। আজও সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী একইভাবে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় পাহাড়িদের তিনটি গ্রামে হামলা, অগি্নসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে৷ এছাড়া ১৮ ফেব্রুয়ারী রাঙামাটি জেলার কুদুকছড়িতে এবং ২১ ফেব্রুয়ারী কাউখালীতে পাহাড়িদের উপর হামলা চালানো হয়েছে এবং ইউপিডিএফ-এর অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ঘটনার এক বছর পরও হামলাকারী প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কোন পদপে সরকার তথা প্রশাসন গ্রহণ করেনি৷ বরং হামলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে৷ ভবিষ্যতে যাতে অধিকার আদায়ের আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে সে লক্ষে সরকার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে৷ মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যত স্বৈরশাসন জারি রাখা হয়েছে৷

বিবৃতিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শাসকগোষ্ঠির কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠিটি পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে৷ পাহাড়িদের উত্‍সব ঘনিয়ে এলেই এ গোষ্ঠিটির তত্‍পরতা বেড়ে যায়৷ এ ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে মিছিল-মিটিঙ ও সভা-সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকার তথা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/71

জমি বেদখল প্রচেষ্টার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি – রাঙামাটি সড়কে অবরোধ, সেনা-সেটলার কর্তৃক নিরীহ পাহাড়ি নির্যাতনের শিকার

রাঙামাটি জেলার নান্যাচরের চৌদ্দ মাইল এলাকায় জমি বেদখল প্রচেষ্টার প্রতিবাদে আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী বুধবার পাহাড়ি গ্রামবাসীরা খাগড়াছড়ি – রাঙামাটি সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে৷ এতে ওই সড়কে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। শত শত পাহাড়ি নারী পুরুষ এ সময় চৌদ্দ মাইলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় ও পাহাড়িদের জমিতে রাখা সেটলারদের গৃহ নির্মাণ সামগ্রী ধ্বংস করে দেয়।

সকালে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে সত্য চাকমা (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া নান্যাচর জোনের সেনা সদস্যরা বেতছড়ি বাজারে বেশ কয়েকজন পাহাড়ি স্কুল ছাত্রকে বিনা কারণে মারধর করে৷ সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার পাঁচ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন সুকেন চাকমা পিতার নাম ইন্দ্র বিলাস চাকমা, শ্রেণী নবম; দীপন চাকমা পিতার নাম সুমি রঞ্জন চাকমা, শ্রেণী নবম; রিফাইন চাকমা পিতার নাম তরণী রঞ্জন চাকমা, শ্রেণী অষ্টম; ইন্টু চাকম পিতার নাম আনন্দ বিলাস চাকমা, শ্রেণী সপ্তম; ও রিফেল চাকমা পিতার নাম সুমতি রঞ্জন চাকমা, শ্রেণী ৮ম৷ প্রথম জনের বাড়ি হাজাছড়ি ও বাকি চার জনের গ্রাম দজর পাড়া। তারা সবাই বেতছড়ি জেনারেল ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।

অন্য এক ঘটনায় দুপুর বারটার দিকে বেতছড়িতে সেটলাররা পিন্টু লাল চাকমা (৩২) পিতার নাম পোত্যে মনি চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে বেদম মারধর করে। তিনি নান্যাচরের নাদেঅং (লাঙেলপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি পায়ে হেঁটে ডাক বাংলা থেকে মাইসছড়িতে তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। সেটলাররা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন সেট, টাকা পয়সা ও কাপড় চোপড় কেড়ে নেয়।

সেটলাররা দীর্ঘ দিন ধরে চৌদ্দ মাইল এলাকায় পাহাড়িদের মালিকানাধীন আনুমানিক ১০০ একর জমি বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে৷ প্রায় সময় তারা ওই জমি থেকে পাহাড়িদের গাছ বাশ কেটে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয় না। কারণ সেটলাররা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সমর্থন ও উস্কানি পেয়ে থাকে৷ আজ এ ব্যাপারে নান্যাচর ইউএনও’র অফিসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের নিয়ে সভা হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু সেটলাররা সমঝোতা লঙ্ঘন করে উক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে গতকাল গৃহ নির্মাণ সামগ্রী জড়ো করলে পাহাড়িরা প্রতিবাদস্বরূপ ওই সভা বর্জন করে৷ জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিরাও উক্ত সভায় উপস্থিত থাকেননি।

ইউপিডিএফ রাঙামাটি জেলা ইউনিটের অন্যতম সংগঠক অলকেশ চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের আহ্বায়ক মিঠুন চাকমা ছাত্রসহ নিরীহ পাহাড়িদের মারধর ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে চৌদ্দ মাইলসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধ ও ইতিপূর্বে বেদখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/53

একজন জাতিবাদী কি সত্যিকার মানবতাবাদী হতে পারে না?

অমিত (Changma) হিল

একজন জাতিবাদী কি সত্যিকার মানবতাবাদী হতে পারে না? প্রশ্নটিতে অপ্রাসঙ্গিক কিছু দেখি না, বরং নির্দিদায় যুক্তিসংগত এবং যুগোপযোগি। একজন মানুষ মানবতাবাদকে নিয়ে চিন্তা করে তখনিই যখন পারিপার্শিক পরিবেশ তাকে বাধ্য করায়, তিনি যৌত্তিক প্রশ্নে আবদ্ধ হন। প্রশ্নের অনুসন্ধান করতে গিয়ে একসময় আত্মচেতনার যে মানবিকতার স্বতঃস্ফূর্ততা বিরাজমান, তা আবিষ্কার করে বসেন -আর অবিরামভাবে আত্মচেতনাকে উপলব্ধিতে রুপান্তরিত করতে গিয়ে মনুষ্যত্ববোধের সামনাসামনি হন। উক্ত পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিকার মানব জীবনের সূচনা ঘটে। আর বুঝে উঠেন সত্যিকার অর্থে মানবতাবাদ কি এবং এর সূচনা হতে উপসংহার পর্যন্ত। বহু মনিষী-কবি-সাহিত্যিক -বিজ্ঞানীক-রাজনীতিবিদ-সমাজ প্রবর্তককে দেখেছি যেনারা জাতিগত বৈষম্যর স্বীকার হতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেন মানবতাবাদের সত্যিকারের সারমর্ম – তৎপ্রেক্ষিতে দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন অধিকার আন্দোলনে। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/50

Two Jumma villagers arrested in Naniachar

TWO innocent Jumma villagers have been arrested during a military

operation in Naniachar under Rangamati district.

Sources said a group of army personnel from Burighat camp under

Naniachar zone raided the village of Sapmara today.

The soldiers encamped at Sapmara Primary school and searched the area.

They arrested Rajeeb Kanti Chakma, 26, son of Surjo Mohan Chakma and

Batya Chakma, 28, son of Ol Chakma – both from Langelpara village.

They were on their way to Naniachar bazaar.

The army beat them up and then took them to their camp. They have not

been released till the filing of this report at 7:30pm.

The military also carried out raids in Khullyangpara and T&T area.

At 9am, the soldiers raided a tea shop belonging to Iswarchandra

Chakma (son of Chandra Sukh Chakma) at Khullyangpara and harassed him.

They tried to find pretexts to arrest him and another Jumma named

Manek Lal Chakma alias Mereya.

The soldiers then ordered them to report to the army if the UPDF

members come to the tea shop, saying: “UPDF members must not be

allowed to gossip at the shop.”

The army men also took the mobile numbers of Ishwar Chandra Chakma and

some other Jummas present at the shop.


07/2011, February 09, 2011

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/46

রাধামন ধনপুদি কাহিনী –(চাকমাদের এক প্রেমের কাহিনী) ১ এক

লিখেছেন অমিত হিল ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১১, রাত ০৮:৩১

সুগত চাকমা ( টাইপিংয়ে – অমিত হীল)

অতীতে চাকমাদের আদি নিবাস ছিল চম্বকনগর । সেই চম্বকনগর রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি পাহাড়ী গ্রামের নাম ছিল ধনপাদা । গ্রামটি ছিল ধনে জনে পরিপূর্ণ এবং ঐ গ্রামের ছ্য় কুড়ি মানে একশ বিশটি পাহাড়ী পরিবার বাস ক রতো । ঐ সময় সব চাকমারা মাচাং ঘরের উপরবাস করতো । ধনপাদা গ্রামের সব বাড়ীই ছিল মাচাংঘর বিশিষ্ট । চাকমারা যে সকল গ্রামে গ্রামে আমন্ত্রিত হয়ে বেহালা বা বাঁশি বাজিয়ে নানা ধরনের পালাগান গায় তাদেরকে ‘গেংগুলি’ বা ‘গেংখুলি’ বলে । গেংগুলিদের গানে ছয় কুড়ি গৃহস্থের গ্রামকে সমৃদ্ধশালী গ্রাম অর্থে ‘ভরন্ধি আদাম’ বলা হয় ।

ঐ ধনপাদা গ্রামে মেনকা এবং কপুদি নামে দুই বোন বাস করতো । দু’বোনেরই অবস্থাপন্ন পরিবারে বিয়ে হয়েছিল । মেনকার স্বামীর নাম ছিল জয়মঙ্গল এবং কপুদির স্বামীর নাম ছিল নিলগিরি । জয়মঙ্গল কেবল অবস্থাপন্ন ব্যক্তিই ছিল না, গ্রামে তাদের পরিবারের প্রভাব প্রতিপত্তি ও ছিল । মেনকার ছেলে রাধামন এবং কপুদির মেয়ে ধনপুদি । বয়োজোষ্ঠতার দিক থেকে রাধামন ধনপুদির চেয়ে এক বছরের বড় ছিল, তারা যখন ছোট ছিল তখন অনেক সময় তাদের নানা-নানীরা তাদেরকে একত্রে একই দোলনায় রেখে দোলাতো এবং ঘুম পাড়ানি গান ‘অলিদাগনি’ – গীত গেয়ে ঘুম পাড়াতো ।

এভাবে দোলনায় দুলতে দুলতে শিশু দু’টি বেড়ে ওঠতে লাগলো । তারপর তারা একদিন দোলনা ছেড়ে মাটিতে নেমে খেলা করতে লাগলো । নানা ধরনের খেলা – ঘিলা খেলা, নাধেং খেলা আরো কত কি ! কখনও বা তারা মুখে একফালি বাঁশের টুকরা নিয়ে ‘খেংগরং’ কিংবা এক টুকরো বাঁশ থেকে তৈরি ‘ধুদক’ বাজাতে শিখলো । এভাবে তারা হেসে খেলে বড় হতে লাগলো । বয়স একটু বাড়তেই সঙ্গীসাথী ও জুটলো অনেক । তবে তারা সাত জোড় সঙ্গীসাঠীই অধিক ঘনিষ্ট হয়ে বন্ধুত্ব জুড়লো । এ সাতটি জোড় হলো –রাধামন ধনপুদি, নিলংধন-নিলংবি, কঞ্জধন-কুঞ্জবি, কামেচধন-কামেচবি, ফুজুকধ -ফুজুকবি, মেইয়াধন-মেয়াবি এবং ছেইয়াধন-ছেইয়াবি । এ সাত জোড় সঙ্গীসাথী সবাই গ্রামের মুরুব্বী চলাবাপকে (Aju Cholabap) ‘আজু’ ডাকতো । চাকমা ভাষায় ‘আজু’ শব্দের অর্থ হলো দাদু বা নানা । চলাবাপ কৌতুকপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন । তিনি নাতি-নাতনী বয়সী গ্রামের সব ছেলেমেয়েদের সাথে ঠাট্রা তামাশা করতেন । আবার কখন ও কখন ও তাদের সবাইকে নিয়ে দূরের পাহাড়, নদী ও অরণ্যে নানা ধরনের এডভেঞ্চারমূলক ও আনন্দদায়ক ভ্রমনে বেড়িয়ে পড়তেন । জুম-বেরাঃ -জুম করার জন্য কৈশরদের কাছে চলাবাপের প্রস্তাব এমনি একদিন চলাবাপ তার নাতি-নাতনীদের সাথে একটি জোছনা রাতে বসলেন । এ কথা সে কথা নানা কথার পর চলাবাপ উঠতি কিশোরদের দূর পাহাড়ে গিয়ে ঝোপঝাড় কেটে জুম চাষ করার প্রস্তাব দিলেন । পাহাড়ের ঢালু অংশে ঝোপঝাড় কেটে, এরপর সেগুলি রোদে শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে যে চাষ করা হয় তাকে জুম-চাষ এবং যেখানে জুমচাষ করা হয় তাকে ‘জুম’ বলে । আর জুম চাষ করার সময় ঝোপঝাড় কাটাকে ‘জুম-কাবা’ বলে । সেদিন চলাবাপের ‘জুম-কাবা’র প্রস্তাবকে উঠতি কিশোররা সানন্দে উৎফুল্ল চিত্তে গ্রহণ করলো । তাদের সে উৎসাহ কিশোরীরাও সায় দিল । তারাও তাদের সাথে জুমে স্থান নির্বাচিত করার ব্যাপারে দূড় পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্য রাজী হলো । সেদিন রাতে চলাবাপ এবং সাত জোড় সঙ্গীসাথী এরপর ‘জুম-বেরা’ দিন ঠিক করলো মানে জুমের জন্য পাহাড়ে যাওয়ার দিন ধার্য করলো ।

তারপর একদিন সোমবারে তারা তাদের গ্রাম ধনপাদা থেকে পশ্চিম দিকে রওনা হলো । কিশোরেরা চলাবাপের নেতৃত্বে হাসি-আনন্দে ফুগংতলী দ্যমুরা পর্বতে পৌঁছলো । তারা পাহাড় বেয়ে উপরে ওঠে পাহাড়ের পার্শ্বদেশ গুলিতে বেড়াতে শুরু করলো; উদ্দেশ্য যার যার জুমের জন্য স্থান নির্বাচন করা। জুমের স্থান নির্বাচনের কাজ শেষ হলে তারা ইষ্টদেবতা স্মরণ করে ‘তাগল’ নামক এক প্রকার দা দিয়ে যার যার জুমের ঝোপঝাড় কাটা শুরু করলো । এভাবে তারা সারাদিন জুম-এর জন্য ঝোপঝাড় কেটে বিকালে যার যা বাড়িতে ফিরলো । সেদিন সারাদিন জুমের জন্য কাজ করার পর রাধামন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল । তাই সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল । আর ঘুমিয়ে পড়তে বা পড়তেই স্বপ্ন দেখতে লাগলো ।

সে স্বপ্নে এক বুড়িকে দেখলো । ঐ বুড়ি দু’হাতে ‘রেগোচ’ ফুল নিয়ে পাহাড়ে এবং পার্শ্বদেশস্থ জুমে ঘুরে বেড়ালো । ঘুম ভাঙার পর সে তার স্বপ্নের মানে জানার জন্য নানা চলাবাপের কাছে গেলো । চলাবাপ স্বপ্নের কথা শুনে সে বছর জুম চাষ খুব ভালো হবে বললো ।

(চলবে)

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/43

Page 26 of 27« First...1020...2324252627