“জাতিসত্তা নাকি আদিবাসী”

“জাতিসত্তা নাকি আদিবাসী”

“ইউ,পি,ডি,এফ নাকি পি,সি,জে,এস,এস ?”-এই প্রশ্নটির মত আমাদের অনেকের সামনে বিশাল এক প্রশ্নবোধক(?) হয়ে আছে আর একটি প্রশ্ন- “জাতিসত্তা নাকি আদিবাসী ?”। ইউ,পি,ডি,এফ দলগতভাবে স্বায়ত্বশাসন ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি চায় আর পি,সি,জে,এস,এস দলগত ভাবে চায় ১৯৯৭-এ সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার সাংবিধানিক স্বীকৃতি। স্বায়ত্বশাসন ও চুক্তি ইস্যুটি অনেক বড় আলোচনার বিষয়। তাই ক্ষুদ্র জ্ঞানে দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর ছোট্ট পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করছি[বি,দ্রঃ এখানে শুধু মাত্র সংজ্ঞাগত দিক থেকে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।]। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1292

একটি স্বতন্ত্র চিন্তার বিছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অংশ

একটি স্বতন্ত্র চিন্তার বিছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অংশ:

পাহাড়ের আদিবাসী সমাজের ঘুণে ধরা রাজণীতি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে না বা কথা-বারতা বলে না এমন মানুষ ঢাকা শহরে আদিবাসীসমাজে চাকুরিজিবী, বিশেষ করে ছাত্র সমাজে খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন বলে মনে হয়। আর এই চিন্তার জগতের বিস্তারের ব্যপকতা বু্ঝা যায় আজ কালকার ফেইসবুক খুললে; যেখানে নামে বেনামে অনেকে তাদের বিচ্ছিন্ন চিন্তা প্রকাশ করছে, প্রকাশ পাচ্ছে হতাশা; বাড়ছে ঘৃণা।অনেকে তাদের অতি মুল্যবান মতামত রাখছে, আবার অনেকে হুজুগে না বুজে উগলে দিচ্ছে কোন নেতার উন্মাদনার মন্ত্রের বানী।তারা ফেইসবুক বা অন্য কথাও সাক্ষাতে তর্ক বা মারামারি করে, অথচ তারা সবাই চাই জুম্ম জাতির ভালেদী। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1284

“মেত্তল্যে-মেত্তলী”

“মেত্তল্যে-মেত্তলী”

মেত্তল্যে’লোয় মেত্তলী

দিননু আমক চেয় থান,

হক্কে এব জু’

হামিয়্যে সিয়ান চে থান !

আলজি তারা ভজমান

গম ন’পান বজংআন !

কামে কজ্জায় হিচ্ছু নেয়

মনে চেলে থান নো’হেয় ! বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1281

মা তুই ন’ কানিচ

মা তুই ন’ কানিচ

মা তুই হি ন’চাস সিয়ান ?

মা তুই ন’ কানিচ!

যদি কোন আদিক্যে রেদ আন্ধারত,

হাজি যাং দূরত,

ঐ হেল মোন নিবিলী ঝারত,

যিদু নেই ত মিধে ডাগানান-

তুঙ্গ, ধন, চিক্ক, পরান,

যিদু নেয় ধনপুদীর হোচপেয়্যে গান,

সোনা চিজির মিধে আজানান !

হালিক-

আগে বানা এক্কান স্ববন,

এক্কান দেশ, এক্কান প্লেগ আ ইজ্ঞু গান!

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1254

“পূর্ব-সংকেত”

“পূর্ব-সংকেত”

প্রতিটি সৃষ্টিশীল শিল্প মানুষের সকল ইন্দিয়কে আক্রান্ত করে যায়। পাঠক পাঠিকাদের মনের ভিতর চলতে থাকা ক্ষোভ, বিচ্ছেদ, বেদনা, দূঃখকে নিরঞ্জনের দায়িত্ব এই শিল্পের ঘাড়ে যেমন বর্তায়, তেমনি সামাজিক অন্যায়, অসাম্য, বৈষম্যকে তুলে ধরা এবং সমাজের পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার দায়িত্বও এই শিল্পের উপর বর্তায়। এটি একদিকে যেমন সমাজের ঘুণে ধরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, অন্যদিকে সমাজের জৈব ও মানসিক পরিবর্তনের “বার্তা” বা “সংকেত” হিসেবে কাজ করে। ফলে আমরা এই অনাগত পরিবর্তনের আগাম সংকেত থেকে আমাদের আগামী দিনের ভুমিকাকে বুঝতে পারি! স্বাধীনতা পূর্ব বাংলাদেশের কাব্য-সাহিত্যে এই পূর্ব সংকেত দেখা যায় মনির চৌধুরী, শহীদ্দুল্লা কায়সার, জহির বায়হানদের লেখনিতে। তাইতো, বহু আগেই এজরা পাউন্ড শিল্পীকে তার জাতির ও পরিবেশের “এন্টেনা” বলে ঘোষনা করেছিলেন। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1223

স্বার্থক জীবনে নারী/মেয়ে

স্বার্থক জীবনে নারী/মেয়ে

‘মা’ আমার প্রথম নারী যার স্তন পান করে বেড়ে উঠেছি/বড় হয়েছি । মা’ই আমার প্রথম বান্ধবী যার সাথে শেয়ার করেছি আমার সব লুক্কায়িত কথা, চাওয়া -পাওয়া । তারপর আমার ‘দিদি’ যার দুহাতের আদর এখনো শরীরে জড়িয়ে আছে, হয়ত থাকবে সারাজীবন । বিদ্যালয় জীবনে অনেক ত্রিপুরা এবং মারমা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে । কলেজে বাঙালী মেয়ের সাথে গড়ে উঠে ঘনিষ্ঠতা । তারপর ভিনদেশে যখন পড়াশুনা করতে যাই অনেক দেশের মেয়ের সাথে গড়ে উঠে বন্ধুত্বতা এবং ঘনিষ্ঠতা । তারমধ্যে ভারতীয় – (বাঙালী,লাধাকি, তামিল, মনিপুরি), নেপালী, চাইনিচ এবং শ্রীলংকান । তারপর কর্মস্থলে পরিচয় ঘটে জাপানিস, কোরিয়ান, অষ্ট্রেলিয়ান, ভিয়েতনামিস, থাই, মালয়শিয়ান, সিঙ্গাপুরিয়ানসহ বেশ কয়েক জাতি এবং দেশের মেয়ের সাথে ।

কলেজের পর মেয়েদের সাথে কন্ফিডেন্টলি কথা বলেছি, প্লাস মনে স্থান করে নিয়েছি । জীবন সম্পর্কে যাকিছু শেখেছি বেশিরভাগ অংশ মেয়েদেরই অবদান, সেজন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা পেতে হলে তারাই বেশি প্রাপ্য । মেয়েরা সাধারণঃত ছেলেদেরকে কর্মত এবং সৎ হিসেবে দেখতে বেশি পছন্দ করে আর তারা (মেয়েরা) চাই প্রিয়জনটি যাতে বেশি করে দেখাশোনা করে । কোন মেয়েকে ভালোবাসলে রীতিমতো দেখাশোনা করতে ভুলো না । আর কাছাকাছি হলে প্রতিদিন সম্ভব হয় একটা করে উপহার দেয়া অত্যাবশ্যক, যদিও সস্তা দামের কিছু ও হয় তাতে ক্ষতি নেই । প্রিয়তমা দূরে থাকলে বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা কিংবা উপহার পাঠাতে ভুলো না । মেয়েরা স্বভাবগতভাবে নিজের সৌন্দর্যকে বেশি প্রাধান্য দিতে ভালোবাসে তাই রান্না স্বাদ না হলে ও খারাপ মন্তব্য করতে নেই । প্রতিদিন একটা কথাই বলবে “তোমাকে আজকে সুন্দর লাগছে/ খুব বেশি / এবং ইত্যাদি” । প্রশংসা করতে ভুলো না । এটাকে জীবনের সাথে মিলিয়ে নিতে পারলে দেখবে কোন প্রিয়তমা -প্রিয়জনকে ছেড়ে চলে যাবে না । ভালোবাসোতো ভালোবাসবে ।

মেয়েদেরকে শুধু সেক্স সীম্বল হিসেবে ব্যবহার করো না এতে জীবন সুখের হয় না । জীবনকে আজ অনেক স্বার্থক মনে করছি এজন্য যে আজ পর্যন্ত কোন মেয়েকে অপব্যবহার করিনি, পতিতা করিনি, ভিখারিনী করিনি । স্বার্থক এজন্য সকল জাতি এবং দেশের মেয়েদের সাথে ভালো ব্যবহার করে আমার স্বজাতির নাম রক্ষা করেছি । কোন জাতির সকল মানুষদের সম্পর্কে সরলীকরণভাবে খারাপ মন্তব্য করা ঠিক নয়, কারণ ব্যক্তিমাত্রই ইউনিক । আমার ভাইয়েরা হয়ত আমার কথাগুলো গুরুত্বসহকারে হৃদয়জ্ঞম করবেন” এই আশা রাখি ।

আর মেয়েদের সম্পর্কে ভালো ধারণা জন্মাক এটা আমি চাই । মেয়েরা ও ছেলেদের চাওয়াকে বুঝুক সেটা ও আমি চাই । সর্বোপরি দুজনের বুঝাবুঝি বেড়ে উঠে সুখের সংসার হউক এই কামনা রাখি ।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1193

জুম্মদেশে কবে হবে সেই নীতিবান-আদর্শবান লোক?

নীতি-আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলে কারও সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির এসব কোনো কিছুই নেই।…এ সংঘাত ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি নয়, এটা শ্রেণীগত সংঘাত”।  জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা

——————–

“এক দলে না হোক একই প্ল্যাটফর্মে যেন আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন করা যায়, তার চেষ্টা করতে হবে।”, রাজা দেবাশীষ রায়

গতকালকের (১১ নভেম্বর ২০১১) দৈনিক ‘প্রথম আলো’ থেকে উপরের উক্তিগুলো নিলাম।জুম্মজনগণের মহান নেতা এম এন লারমার ২৮তম শহীদ দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত স্মরণ সভায় আমাদের অতি প্রিয় নেতা জেএসএস সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়। পাহাড়ে দুই জুম্ম রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত নিরসন ও ঐক্যের আকাংখা প্রসঙ্গে দুই নেতা ঐ বক্তব্য দিয়েছিলেন।নি:সন্দেহে দু’জনের বক্তব্য দুই মেরুর ব্যবধান। দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এ কথাগুলোর বিশ্লেষণ হওয়া জরুরী। বিশেষ করে সন্তু লারমার বক্তব্য বিশ্লেষণের জন্যে রাজনীতি বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও সমাজতত্ত্ববিদদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছি।আর আমি উক্ত তিন বর্গের মধ্যে কেউ না হলেও অধম ব্লগার হিসেবে কিছু কথা বা বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পাচ্ছি।

মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগে মাননীয় রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই সন্তু লারমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জুম্ম জনতার আকাংখা তুলে ধরার জন্যে।সেই সাথে ড. মানিক লাল দেওয়ানসহ যারা জুম্মদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবী উত্থাপন করেছিলেন তাদেরকেও অভিনন্দন জানাই।

প্রথমে সন্তু লারমার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো, সন্তু লারমা বোধয় ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনের আহবানের প্রেক্ষিতে এই প্রথম মুখ খুললেন। তিনি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন নিজেদের “ভালোমানুষি” দেখানোর জন্যে।তার বক্তব্যের কয়েকদিকের প্রতি আলোচনা করা যেতে পারে।যেমন,

১) ঐক্য আহবান প্রসঙ্গে বলছেন, যার “নীতি-আদর্শ নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই” তার সাথে কারোর (মানে জেএসএস-এর) ঐক্য হতে পারে না।

২) দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে অস্বীকার করতে গিয়ে তিনি বলেছেন “পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির কাছে এসব কোনো কিছুই নেই”।

৩) জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর মধ্যেকার যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে সেটাকে তিনি “ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত” হিসেবে দেখছেন না। বলছেন, “এটা হলো শ্রেণী সংঘাত”।

সন্তু লারমার ‘ভালোমানুষি” বক্তব্যে মধ্যে কী আছে সেসব নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

১) যার নীতি-আদর্শ নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই, তার সাথে কারোর ঐক্য হতে পারে না বলে তিনি যে অভিমত দিয়েছেন সে কথাটা তাঁর বা তার দল জেএসএস-এর বেলায়ও কী প্রযোজ্য নয়? নিজেদের দলীয় সংবিধানে বর্ণিত ‘নীতি-আদর্শগুলোও কী তেনারা পালন করছেন? তেনারা প্যাঁচালো কথাবার্তা বলে কী অর্জন করতে চান? তেনারা কোন নীতির-আদর্শের কথা বলেন? নিজেদের গঠনতন্ত্রে লেখা নীতি-আদর্শ নিজেরাই কী মানেন? নিচে তেনাদের সংবিধানে বর্ণিত নীতি-আদর্শগুলো আবারো একটু দেখা যাক

——————————————————————-

জেএসএস-এর সমাজস্বপ্ন

সমতাভিত্তিক শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা;

জেএসএস-এর আদর্শ ও নীতি

জেএসএস-এর মূল আদর্শ হলো মানবতাবাদ। আর এই আদর্শ পাঁচটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিতঃ

১. জাতীয়তাবাদ;

২. গণতন্ত্র;

৩. ধর্মনিরপেক্ষতা;

৪. সমতা; ও

৫. সামাজিক ন্যায়বিচার।

(তথ্যসূত্র হিসেবে জেএসএস-এর ওয়েবসাইট দেখুন http://www.pcjss-cht.org/about-pcjsss.php)।

——————————————————————-

পাঠকগণ, জেএসএস-এর সংবিধানে বর্ণিত সমাজস্বপ্ন ও নীতি-আদর্শ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কী? জেএসএস তার গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্কার করে বলছে, তারা “সমতাভিত্তিক শোষণহীন সমাজ” প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর এই স্বপ্ন অর্জন করতে গিয়ে জেএসএস বিশ্বাস করে “মানবতাবাদের” আদর্শে। আর “মানবতাবাদ” আদর্শকে সার্থকভাবে রূপায়িত করার লক্ষ্যে জেএসএস-এর কার্যক্রম বা কর্মসূচীতে পাঁচটি নীতির প্রতিফলন থাকবে। যেমন, জাতীয়তাবাদ; গণতন্ত্র; ধর্মনিরপেক্ষতা; সমতা; ও সামাজিক ন্যায়বিচার।

এখন প্রশ্ন হলো, জেএসএস তথা জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা কী এই নীতিগুলো অনুসরণ করছেন কী? আমার দৃষ্টিতে জেএসএস-এর বর্তমান দৃশ্যমান কর্মকান্ডে এসব নীতির কোনটারই প্রতিফলন দেখি না। তার নিজের দল যদি নিজেদের গঠনতন্ত্রে নির্ধারণ করা নীতি অনুসরণ না করেন, তাহলে আমরা তাকে কী বলা পারি?

এ প্রশ্নের সাথে জেএসএস-এর কাছে আরো প্রশ্ন রাখতে চাই:

ক) জেএসএস-এর রাজনৈতিক কর্মসূচী কী কী? নিজেদের কর্মসূচীতে জেএসএস নিজেদের বর্ণিত নীতিগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে উদাহরণ দিয়ে এমন নজির কী দেখাতে পারবে?

খ) ইউপিডিএফ কিংবা সংস্কারপন্থীদের সাথে মারামারি করে জেএসএস কী তার কাংখিত সমাজ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে? খুনোখুনি ও মারামারি করে কী জেএসএস তার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়? খুনোখুনি ও মারামারি করাই কী মানবতাবাদী আদর্শ?

২) সন্তু লারমা আরো বলেছেন, “পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির এসব কোনো কিছুই নেই”। এ কথার মাধ্যমে তিনি কী বলতে চাচ্ছেন?

এ কথাটারও অনেক মানে ও অনেক প্রশ্ন হতে পারে। প্রথমত, জেএসএস তথা সন্তু লারমা “ইউপিডিএফ” ও “সংস্কারপন্থী”র অস্তিত্ব মানেন না। সহজ কথায়, ঐক্যের আহবানকে নাকচ করে দিয়ে সন্তু লারমা “এক জঙ্গলে একাধিক বাঘ থাকতে পারে না” কথাটা আবারও উচ্চারণ করলেন ভিন্ন ভাষায়। দ্বিতীয়ত, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী বলতে যদি কিছুই না থাকে, তাহলে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থীদের নিয়ে তার এত মাথা ব্যথা হওয়ার কোন কারণ দেখি না। সরকারের কাছে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধের দাবী জানানোরও কোন যুক্তি দেখি না।আর ইউপিডিএফ-এর সাথে অস্ত্র দিয়ে মারামারি করে প্রাণহানি ঘটানোরও কোন মানে দেখি না। জেএসএস ইউপিডিএফ-এর সাথে মারামারি বাদ দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিতে পারেন। তখন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের আহবান জানানোরও প্রয়োজন হতো না।

৩) সন্তু লারমা চলমান ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতকে “শ্রেণী সংঘাত” বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন। “শ্রেণী সংঘাত” বলে তিনি জুম্ম জনগণকে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এখানে তিনি কোন কোন শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বলে ধরে নিয়েছেন এবং তিনি কোন শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করছেন?

এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, আমি এখনো জেএসএস-এর জুম্ম সমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ দেখতে পাইনি।জেএসএস বা সন্তু লারমা কীভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে জুম্মসমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ করেছেন? জুম্ম সমাজের মধ্যে তিনি কয়টা শ্রেণী পেয়েছেন? এসব শ্রেণীর মধ্যে কারা কারা জুম্ম অধিকারের পক্ষে সহায়ক আর কারা কারা বিরোধী ইত্যাদি বিষয়ে আমাদেরকে পরিস্কার ধারনা দিলে উপকৃত হবো। দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বললে আমাদের বুঝতে কষ্ট হয়। শ্রেণী সংঘাত বিষয়ে নিজের মত করে ‘ঐশি’ বাণী হাজির করলে কারোর লাভ হবে না। এতে জুম্ম সমাজের প্রকৃত সমস্যারও সমাধান হবে না। তাই আশা করবো, সন্তু লারমা বা জেএসএস-এর তাত্ত্বিকগণ লিখিতভাবে আমাদের মত অধমদের কাছে জুম্মসমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

এখন মাননীয় চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের বক্তব্য সম্পর্কে কিছু কথা বলে আজকের লেখাটা শেষ করতে চাই।

সন্তু লারমা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বলে স্বীকার করুন আর না্ই করুন, চরম বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত হোক কিংবা সন্তু লারমা কথিত শ্রেণী সংঘাত হোক – আজ চরম সত্য কথা হলো জুম্ম সমাজ বহুধা বিভক্ত, সংঘাতে জর্জরিত। এই সংঘাতের ফলে অনেক প্রাণের হানি ঘটেছে এবং ঘটছে। রাজা দেবাশীষ রায় তথা পাহাড়ের সর্বস্তরের জনগণ তা তো দেখতে পাচ্ছেন এবং এ সংঘাতের কুফল প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। তাই জুম্মজাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ সংঘাতের অবসান হতে হবে, ঐক্য হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাজা রায়ের সাথে আমিও একমত হয়ে বলতে চাই, ঐক্য হওয়া মানে নিজেদের দল, নীতি-আদর্শ বিসর্জন  দেওয়া নয়; জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নয়। কেবল প্রয়োজন দু’দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। পরমত সহিঞ্চুতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে  মারামারি ও খুনোখুনির মত জঘন্য অপরাধ থেকে বিরত থাকা।

অনেক আলোচনা হলো, অনেক প্রশ্ন হলো। পরিশেষে, নগন্য ‘আধং’ ব্লগার হিসেবে জেএসএস তথা সন্তু লারমার কাছে আমিও বিনীত আহবান জানাই, জুম্মজাতির বৃহত্তর স্বার্থে আপনার লোকজনকে নলতন্ত্র হতে বিরত রাখুন। আপনি “শ্রেণী সংঘাত” বলেন কিংবা অন্যকোন নাম দেন, তাতে কোন রকমভেদ হবে না। সংঘাত সংঘাতই।আপনার দলের বন্দুক থেকে গুলি ফুটুক আর নাই ফুটুক, এর চরম সত্য হলো জুম্ম সমাজের শত শত তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে অকালে।খালি হচ্ছে অনেক মায়ের বুক, বিধবা হচ্ছে অনেক নারী, অনাথ হচ্ছে অনেক শিশু। এরকম অন্যায় এভাবে চলতে পারে না।

অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ নয়, আপনি নিজের পার্টির গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে প্রমাণ দিন আপনিই মানবতাবাদ অনুসরণ করেন। আপনি নীতিবান, আপনি আদর্শবান, আপনি মানবতাবাদী। আমরা জুম্মজনতা সেই নীতিবান, আদর্শবান ও মানবতাবাদী লোকের অপেক্ষায় আছি।

………………………………..

অডঙ চাকমা, ১২ নভেম্বর ২০১১

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1187

আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের কি করলে হুশ আসবে একটু বলুন !!

blockquote>

আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের কি করলে হুশ আসবে একটু বলুন !!

অনেক দূঃখের দিন অতিবাহিত করার পর ভেবেছিলাম গুচ্ছকিছু সুখ কুঁড়িয়ে নেবো, ভ্রাতৃহত্যা বিরোধী আন্দোলনে থাকবে জোড়ালো সুর । ভেবেছিলাম থাকবে মানবতা আবেদনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীদের “হ্যাঁ-বোধক” প্রতিধ্বনি । ভেবেছিলাম বয়ষ্ক মানুষ জেএসএসের নেতা ( জুম্মনেতা বলে আর লাভ নেই ) সন্তু লারমা আহবানে সাড়া দিবেন । ভেবেছিলাম ইউপিডিএফের নেতা প্রসিত খীসার থাকবে ভ্রাতৃহত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি কিন্তু কিছুই হলো না । ভাবনাগুলো মিশে গেলো জাপানের সুনামির আগ্রাসনে; ব্যাংককের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিহীন বন্যার প্লাবনে । মরুভূমিতে সবুজ গাছের বনাঞ্চল গজিয়েছে যদি কেউ বলেন' হয়ত বিশ্বাস করবো তবুও জেএসএস এবং ইউপিডিএফের ঐক্যতা হয়েছে কেউ বললে আর বিশ্বাস জন্মাবে না -এমন আশংকা কাজ করছে মনে । বাস্তবতা অনেক কঠিন তবুও মেনে নিতে হয় ।

বুদ্ধের শিক্ষাতে যুদ্ধ -সংঘাতের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা কোথাও নেই, সেজন্য ব্লগার অডঙ চাকমা (অডঙ দা) প্রায়ই বুদ্ধের শিক্ষার মাধ্যমে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের সংঘাত নিরসনের কথা বলতেন/লিখতেন । বুদ্ধের শিক্ষা মতে “আত্না বলতে কিছু নেই : তাই অহংকার, ক্ষমতা লোভ, রাজ্যসুখ, রাজ্যবিজয় কোনকিছুই স্থায়ী নয় ! সবকিছুর কারণ এবং কার্য সাপেক্ষে সৃষ্টি এবং বিলয় ঘটে ! জাগতিক সবকিছু যখন সৃষ্টি এবং বিলয়ের নীতিতে আবদ্ধ সেখানে আত্না নিয়ে গর্ববোধ করার কিছু নেই -যেহেতু আত্মা বলতে কিছুই নেই।” তাই বুদ্ধ ধর্মকে শান্তিবাদী ধর্ম হিসেবে অনেকেই অবহিত করে থাকলেও অনেকেই এক জীবনাদর্শন হিসেবেও গণ্য করেন । অন্য অনেক ধর্মে আত্নাকে চিরস্থায়ী অস্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে তাই “পবিত্র যুদ্ধের” সুপারিশ করা হয়েছে । আজ এমনই আত্নাবিশ্বাসী যুদ্ধে লিপ্ত আছেন জুম্মজাতির কলঙ্কধারী কিছু সুবিধাবাদী নেতা । জেএসএসের মতে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া একধরণের “হলি ওয়্যর” । ইউপিডিএফ মুদ্রার ওপিঠ । আর অনেক সুযোগসন্ধানী ভবঘুরে উদীয়মান নেতা যাদের পেশা ভাব দেখানো, বুক উচিঁয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা । রাজনীতির ক্ষমতা আজ সেসব অজ্ঞ মানুষদের হাতে, তাই প্রজাদের দূঃখের দিন আর শেষ হয় না ।

যতদিন সন্তু লারমা আর প্রসিত খীসা আত্মা এবং অনাত্মা নিয়ে জ্ঞান অর্জন করছেন না ততদিন বোধয় ঐক্যতা আর সম্ভব হবে না । সন্তু লারমাকে রিপু গ্রাস করেছে তাই তিনি হয়ত বুঝতে পারছেন না যে তিনি একদিন মৃত্যুর অপরপারে চলে যাবেন । আর অন্যদিকে প্রসিত খীসার বয়স একটু বেশি থাকাতে মাথায় আসছে না যে তাকে ও একদিন সন্তু লারমার মতো হতে হবে ।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের কি করলে হুশ আসবে একটু বলুন !!!!!!!!!!!!!!

zp8497586rq

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1183

দেখা ভার্চুয়াল জগত-বাস্তব জগত ও শান্তিমিচ্ছিলের থেরাপী নিয়ে কিছু কথা

দেখা ভার্চুয়াল জগত-বাস্তব জগত ও শান্তিমিচ্ছিলের থেরাপী নিয়ে কিছু কথা- হেগাবগা চাংমা

১.
সারাটা জীবন যদি ভার্চুয়াল জগতে কাটিয়ে দিতে পারতাম তা হলে কতই না ভালো হত! ভার্চুয়াল জগতে না আছে বাবা-মার শাসন, না ভায়ের হুকুম, না বোনের আবদার, না শিক্ষকের এসাইনমেন্ট-এর প্রেসার, না বসের নজরদারি-জবাবদিহি, না গাড়ির জাম, না বন্দুক যুদ্ধ সহ যা কিছু চাপিয়ে দেয়া, যা কিছু বিরক্তিকর তার কিছুই নেই এই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে! যা আছে তা শুধু বন্ধুদের সাথে আড্ডা-শেয়ারিং-চ্যটিং সহ নির্মল আনন্দ! এখানে কোন পার্থক্য নেয়, নেয় বাবা, মা, ভাই, বোন, শিক্ষক, বস, চাকর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত ভেদ জ্ঞান। সবাই সবার বন্ধু। এখানে চাইলেই বন্ধু পাওয়া যায়, চাইলে বন্ধুকে ছুড়ে ফেলা যায়(!); চাইলেয় সম্পর্ক গড়া যায়, চাইলেয় ভাঙ্গা যায় সব কিছু! এখানে ইচ্ছে হলে পরিবার বদলানো যায় বা পরিবার ত্যাগ করা যায় অথবা একই সময়ে মাল্টিপল ফ্যমেলিতেও অবস্থান করা যায়! চাইলেই পাওয়া যায় নতুন বাবা-মা, আবার বদলানোও যায় খুব সহজেই! এখানে ইচ্ছে হলে নিজেকে ডিএক্টিভেট করে বা সাইন আউট করে রাখা যায় কিছু সময়ের জন্য, কিছু দিন বা বচ্ছরের জন্য তাতে কারো কোন অসুবিধা হয়ও না। বাস্তব জগতের মত একই সময়ে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গতানুগতিক পাঠ নয়, চাইলে হাজার হাজার শিক্ষায়তনে বিচরন করা যায়, একি সাথে অনেক মনীষীর শিসত্য গ্রহন করা যায়। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1162

জুম্ম নারীর বিজ্ঞাপনঃ মাধ্যম ফেইসবুক

বন্ধুগণ, আজকে আমি যে লেখাটি লিখতে বসেছি তা দেখে আমার অনেক ফেইসবুক বন্ধু-বান্ধবী হয়তো চরমভাবে ক্ষেপে যাবেন আমার উপর। অনেকে আমাকে তেতোঁ ভাষায় মন্তব্য করতে পারে, ফেইসবুকের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকেও অনেকে বাদ দিতেও পারে, এমনকি রিপোর্ট করে ব্লগ করে দেয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছি না। তারপরও ঝুঁকি ছাড়া যেমন ব্যবসায় মুনাফা মেলেনা, তেমনি প্রতিক্রিয়া হীন লেখা লিখে মজা পাওয়া যায় না এই ফেইসবুক, ব্লগ জমানায়। প্রথমত বলে নিচ্ছি যে, আমি যা লিখছি তাকে চরম সত্য বলে বিশ্বাস করারও দরকার নেয়; দ্যাহা মিথ্যা চাঁপাবাজি বলেও হেয় করে উড়িয়ে দেওয়াকেও আনুচিত বলে মনে করছি। যথার্থ বুদ্ধিরা তাদের নিজের বিবেচনা, দিয়ে নিজের পর্যবেক্ষন দিয়ে আমার কথাটা বিশ্লেষন করবেন এই অনুরোধ রইল। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1160

Page 21 of 27« First...10...1920212223...Last »