নিরন চাকমার জবাবে

প্রিয় নিরনবাবু

অনেক দিন পর আপনি আবার ফেসবুক আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন।সেজন্যে আমার ব্যক্তিগত তরফ থেকে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্যে।আপনার লেখা পড়ে খুশি হলাম আপনার পার্টির সভাপতি বাবু প্রসিত বি খীসা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।আমিও আপনার মাধ্যমে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আমি খুব মনোযোগ সহকারে আপনার লেখাটা পড়লাম। ইতিপূর্বেও আপনার সাথে অনেক বিষয়ে এ ফেসবুকে আলোচনা হয়েছিলো। তাই আপনার লেখার সব বিষয়ে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছি না।আগেও বলেছিলাম, এখনো বলছি আমি কোন রাজনীতিবিদ নই। রাজনীতি আমার কোন নেশাও নয়, পেশাও নয়। আর আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িতও নই। সে কারণে রাজনীতির পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আমার জ্ঞান আছে সেটা দাবী করবো না। সাধারণ জুম্ম হিসেবে পাহাড়ে যে রাজনীতির হালচাল চলছে তা দেখলে খুব ব্যথিত হই। সেই বেদনাবোধ থেকেই এই ফেসবুকে কিংবা ব্লগে একটু আধটু লেখার চেষ্টা করি মাত্র। এতে পাহাড়ের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হবে কি না জানি না। তবে লেখার মাধ্যমে আমার ভাবনাগুলো সবার সাথে ভাগাভাগি করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন ধারনা আসতে পারে। যে ধারনাগুলো ভালো সেগুলো আমরা গ্রহণ করতে পারি। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় টিভির একটি বিজ্ঞাপনের ভাষা আমার খুব মনে লাগে, “simply an idea can change life”. কেবল একটি নতুন ধারনাই জীবন বদলে দিতে পারে। সেই নতুন ধারনার সন্ধানে আমরা বিতর্ক করতে পারি, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে আলোচনা করতে পারি।আমার ইচ্ছা করলে পাহাড়ের রাজনীতির সংঘাত ও তার কার্যকারণ নিয়ে সেরকম একটি সুষ্ঠু বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারি। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1411

শ্রদ্ধেয় স্যার প্রসিত বিকাশ খীসা,

শ্রদ্ধেয় স্যার প্রসিত বিকাশ খীসা,

অনেকদিন হয়ে গেলো, অনেকে হয়ত আশাব্যহৃত হয়েছেন । অঙ্গীকার করেছিলাম স্যার সন্তু লারমাকে খোলা চিঠি দেয়ার পর আপনাকে ও একটা পাঠাবো । অনেক দিন গড়িয়েছে, সাথে মাস; এরই মধ্যে অনেক রক্ত ঝরেছে, পাহাড় কেঁপেছে, অনেক মা সন্তানহারা হয়েছেন, সন্তান বাবা হারা হয়েছে । পাহাড়ের ঝরে পড়া প্রতিরক্তবিন্দুর মাঝে আমি ছিলাম, আজীবন থাকবো । তবুও আক্ষেপ থেকে যাচ্ছে, আমার ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক ময়দানে বজ্রকন্ঠ বাজানোর সুযোগ হয়ে উঠেনি । এরজন্য আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী । ছোটকাল থেকে রাজনৈতিক চেতনায় বেড়ে উঠেছি, ভেবেছিলাম একদিন স্বজাতির মুক্তিকল্পে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করবো । কিন্তু, সে সুযোগতো হরণ করে নেয়া হয়েছে । ১৯৯৮ সালে সেই খাগড়াছড়ির স্টেডিয়ামে আমি ও উপস্থিত ছিলাম । আপনাদের পক্ষ থেকে (যদিও সেসময় ইউপিডিএফ-এর জন্ম হয়নি) শান্তিবাহিনী কর্মীদের উদ্দেশ্য “আফোসচুক্তি মানি না, পূর্ণস্বায়ত্বশাসন চাই” অনেক রকমের শ্লোগান উচিয়ে দেয়া হয় । আমি সেপাশে হতভম্বভাবে নীরব দর্শকের ভুমিকায় ছিলাম । ভ্রাতৃহত্যার বীজ সেখানে দেখতে পেয়েছি, যা একযুগের অধিক হতে চলেছে । বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1406

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে প্রসিত খীসার স্পষ্ট অঙ্গীকার শুনতে চাই

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে প্রসিত খীসার স্পষ্ট অঙ্গীকার শুনতে চাই

‘তেনারা’ কারা? আমাদের দুই নেতা, জুম্মজাতির ভাগ্যবিধাতা।একজন হলেন জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা ও অন্যজন হলেন ইউপিডিএফ প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা। ‘তেনারা’ কী বলেন সেগুলো আমাদের শোনা দরকার, আর বিশ্লেষণ করা দরকার। দু’জনের মধ্যে  সন্তু লারমার বক্তব্য প্রায়ই শোনার সৌভাগ্য হয়। কিন্তু প্রসিত খীসার বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য হয় না। অনেক দিন পর চুক্তির ১৪ তম বর্ষপূর্তির আগে প্রসিত খীসা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমকে সাক্ষাৎকার দিলেন। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ হলো। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ইউপিডিএফ-এর জন্ম, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, চুক্তি, জেএসএস-এর সাথে ঐক্য ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রসিত খীসার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশেষকরে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত প্রশ্নে কিছু কথা না বলে পারছি না। (সন্ত লারমার বক্তব্য নিয়ে ইতিপূর্বে লিখেছিলাম। তাই তার বক্তব্য নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই আজকের লেখায়)। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1376

এক স্মৃতিচারণঃ ফেলে আসা সংগ্রাম-মুখর দিনগুলি

এক স্মৃতিচারণঃ ফেলে আসা সংগ্রাম-মুখর দিনগুলি

১৯৮৩ সাল । চারদিকে মিশিনগানের বিকট শব্দ । মানসিক চাপ আর মৃত্যুর আশংকা সর্বত্র । রাত হলে পুরুষদের পালিয়ে থাকতে হতো ঘরের বাইরে, জঙ্গলে অথবা ঝোঁপে । এমন পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্রগ্রাম হয়ে উঠেছিল ভয়ানক যু্দ্ধের রণক্ষেত্র । আমাদের পরিবারের বেশ কয়েকজন শান্তিবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়াতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই অজান্তে মধ্যেরাতে আমাদের ঘরকে ঘিরে ফেলতো । মা' তখন…… ৪-৫ মাসের অন্তঃস্বত্তা । মানসিক চাপ মাকে ভীষনভাবে আঘাত দেই । একদিকে সেনাদের হয়রানি, ভীতিকর পরিস্থিতি অন্যদিকে শান্তিবাহিনীদের পরিবেশন । দৈনিক কমপক্ষে ১৫-২০ জন শান্তিবাহিনী সদস্যর জন্য ভাত রান্না করে দিতে হতো । সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতে ভাল এক ঘুম যাওয়ার আশাটুকু পর্যন্ত থাকতো না । রাত হলেই সেনাবাহিনীদের ভয়ে পুরুষবিহীন হয়ে যেতো গ্রামটা । রাতে মা থাকতেন শুধু দাদীমাসহ কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে । এভাবে মানসিক যন্ত্রণা মা'কে ভোগায় । প্রতিদিন নতুন নতুন পরিস্থিতির সাথে সংগ্রাম করতে হয় । মাঝেমধ্যে শান্তিবাহিনী এবং সেনাবাহিনীদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যেতো । সেসময় মায়ের প্রতিটি আবেগ -অনুভূতির ভাগিদার আমি ও হই । মনস্তাত্বিক পীড়ন আমাকে ও ভোগায় । কারণ তখন মা'র ব্রেন সেলের সঙ্গে আমার ব্রেন সেলগুলোও ওতোপ্রোতভাবে নির্ভরশীল ছিল । সেহেতু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় হতে আমাকে ও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে । অবশেষে আমার জন্ম হয় কিন্তু জন্মের পরপরই গোলাবারুদের গন্ধ এবং মিশনগানের বিকট আওয়াজে আমাকে হতভম্ব করে চোখের লোনাজলের স্রোতে ভাসায় । এভাবে চলতে থাকে সময় । শরনার্থী জীবন … হারানো আপনজন এবং বুকভরা ব্যথা । বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1361

অর্থনীতির সঠিক মূল্যায়ন এবং ভালোবাসা'র বিলাসিতা রোধ

“অর্থনীতি” হচ্ছে সমাজের জীবনধারণের চাহিদা মেতানোর মূল চালিকাশক্তি স্বরুপ । বিশ্বায়নের যুগে অর্থনীতির  ভার যারদিকে বেশি সেইদিকেই ক্ষমতার ধারণ-বাহনের ক্ষমতা ও বেশি । অর্থনীতিহীন জাতি দেশগুলোকে কেউ সহজে কর্ণপাত করতে চাই না । অর্থ দিয়ে মেধা/বুদ্ধিসহ সবকিছু কেনা যাই তবে অর্থের অভাবে নিজের আপন ঘরের মানুষগুলো ও বিপরীত মেরুতে অবস্থান করতে বাধ্য । তাই বলা হয়ে থাকে “অর্থই অনর্থের মূল” । পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে যদি তাকাই আমরা দেখতে পাই অর্থনীতির স্থিতিশীলতা দরুণ তাদের রাজনীতির স্থিতিশীলতা ও সংঘর্ষবিহীনভাবে বিরাজ করে । দেখা গেছে যখন একবার দেশের অর্থনীতি দস নেমেছে তাহলে সংঘর্ষ অনিবার্য, সম্প্রতি গ্রীসে এমন অবস্থার উদ্ভব হয়েছে । অর্থনীতি প্রভাবের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে মানবাধিকার লংঘনকারী দেশ চীন' নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে নিষেধাজ্ঞাহীনভাবে । যদিও বার্মার মতো কম অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অনেকক্ষেত্রে অমানবিক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণীত । দেশের সংখ্যালঘু জাতিসমূহের ক্ষেত্রে ও এমন রাষ্ট্রীয় ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় । বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1348

চুক্তিবাস্তবায়ন ও কিছু কথা

আজকে চুক্তির ১৪ বছর পূর্ণ হলো। জেএসএস (সন্তু লারমা) ও জেএসএস (এম এন লারমা) চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যার যার অবস্থান থেকে কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। জেএসএসকে দুইভাগে কল্পনা করতে চাই না, এক হিসেবে দেখতে চাই। চুক্তিস্বাক্ষরকারী দল হিসেবে অবশ্যই জেএসএস-এর ভূমিকা অগ্রগণ্য এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক কথা হয়েছে এবং হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। আজকে ১৪ বছর পরে এসে চুক্তি নিয়ে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।তবে সাধারণ নাগরিক হিসেবে দু’এক কথা বলতে চাই।

স্মরণ করছি, ১৪ বছর আগে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সন্তু লারমা দুধুকছড়াতে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “চুক্তি করা যতটা কঠিন, বাস্তবায়ন করা তার চেয়ে কঠিন”।তার এ কথা শুনে তখন মনে হয়েছিলো, তিনি বিজ্ঞ দূরদর্শী রাজনীতিক। মনে মনে বিশ্বাস হয়েছিলো, অন্তত তিনি জানেন, চুক্তিপরবর্তী সময়ে সমাজ পুনর্গঠনে কী কী কাজ করতে হবে। তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আজ ১৪ বছর পরে আমার সেই বিশ্বাস পুরোপুরি ধুলিস্যাত হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে তিনি যেভাবে কথাবার্তা বলছেন এবং কাজ করছেন, তাতে আমার মনে হয়, সন্তু লারমা তার জীবদ্দশায় আর চুক্তির পুরো বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারবেন না। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1342

বিপ্লবী

বিপ্লবী

জুমল্যান্ডে “বিপ্লবী” নাম তার

চেহারায় মারকুটে ভাব তার

সে ধারে না কো কারো ধার

নাজি, ফ্যাসি, বলশেভিক নাকি জার

মতাদর্শ ধারন করে কে কার?

চে, ফিদেল,সূর্যসেন, কিষানজী নাকি লারমার! বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1328

“আমিই প্রকৃত দেশপ্রেমিক” -কমরেড কিষানজী

“আমিই প্রকৃত দেশপ্রেমিক” -কমরেড কিষানজী

[লেখটি খুব ভালো লাগল। তাই বন্ধুদের জন্য নিজের নোট এ হুবুহু কপি করে রাখলাম। সেলুট কিষনজী…তোমার মৃত্যুও তোমার লক্ষ্যকে বিচলিত করতে পারবে না। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1325

আদিবাসী নাকি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি, এবং আমরা কি চাই ?

আদিবাসী নাকি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি, এবং আমরা কি চাই ?

১।

ফেইসবুকে আদিবাসী নিয়ে যে পরিমান আলোচনা হয় তা দেখে অনেক সময় খুব ভালো লাগে! সংবিধানে চাপিয়ে দেয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’র পরিবর্তে আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য আমাদের ভাই-বোনেরা প্রায় আসম লড়াই চালিয়ে যাছেন প্রতিপক্ষ ক্ষমতাবান শাসকগোষ্ঠীর সাথে। নিসন্দেহে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চেয়ে আদিবাসী শব্দটি অনেক প্রগতিশীল এবং অনেক যৌক্তিক ও গ্রহনযোগ্য। আদিবাসী সংজ্ঞায়নে আছে মানবিকতার ছোঁয়া, সত্য ও ঐতিহ্যকে স্বীকৃতির সরল উচ্চারন, সংরক্ষন ও উন্নয়নের তাগিদ। তাই আমাদের মত আশাবাদীরা স্বপ্ন দেখে চলে অবচেতন মনে অথবা ছবি আঁকি সচেতন মনে আবচেতন স্বপ্নকে। তারপরও যারা এই মহান পরিচয়ের নির্ধারক-নির্নায়ক বা চালক তাদের দ্বৈত ভুমিকা অনেক সময় ভাসা ভাসা মনে দূঃস্বপ্নের গভীর দানবীয় ছাপ ফেলে যায়। তাই স্বপ্নময় কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও অনেক সময় সংসয় চিত্তে পুরোপুরি মেনে নিতে পারি না।কারন তাতে যে ফুটে উঠা দ্বন্দ দেখি তা আমার কাছে অগ্রহনযোগ্য বলে মনে হতে থাকে অবচেতন মনের সজাগ দৃষ্টিতে। বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন.. »

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1322

চিঠি

blockquote>

বিলাসী মনের ভালোবাসা কেউ বুঝে না !+!

প্রতি সকালে এখনো খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি । নাস্তা করি রাস্তার পাশে জমানো রেস্টুরায় । সোনালি সূর্যের সম্মুখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ভিটামিন ''ডি'' আহরণে । এখনো প্রতি সপ্তাহে পড়ন্ত বিকেলে কাছাকাছি সমুদ্র সৌকতে ঘুরতে যাই । অনেক সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শরীরকে লবণাক্ত করে তুলি । শরীরের লোমগুলো আমার ফাঁক হয়ে যায় । তবে সমুদ্রের লবণাক্ত ভাব শরীরকে সতেজ করে । এই ব্যস্ততম জীবনে ও ব্যস্ততা আমাকে ভোগাতে পারে না শুধু বাস্তবতাকে নীরবে গ্রহণ করি বলে । অচেনা মুখগুলোর ভীরে খুব সহজে মিশে যাই । শ্রান্ত-ক্লান্ত শরীরে অফিস থেকে ফিরে নিজের জন্য রাতের খাবার রান্নাকরি । শনি-রবিবার অফিস বন্ধ থাকে । অবসরে বাইরে বেরুতে না গেলে কিছু বই পড়ি । আজ ভাবছি একটা আবেগময়ী লেখা লিখবো । আবেগের সঞ্চার করতে আমাকে সকাল থেকে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল । জানি, অনেক শক্তির ক্ষয় হয়েছে । নিউরণগুলোর গতি সঞ্চালন বাড়াতে হয়েছিল । তাই আপেল এবং গাঁজরের জুস পান করেছি দুবার ।

সে যাহোক ।

প্রিয় “অচেনা” (ছদ্মনাম);

আজ রবিবার । বহুবছর পর তোমার কথা মনে পড়ছে । সেদিন তোমার মার সাথে কথা হয়েছিল বহুক্ষণ । তিনি আমার কন্ঠ শুনে অনেক আবেগ অনুভব করেছেন বলে ধারণা করেছি । কথার কাঠিরে অনেক কথা উঠে । নানা সমস্যা/বাস্তবতার কথা উঠে আসে । এক সময় তোমার মায়ের মৃদুকন্ঠে চেঁপে রাখা কান্নার শব্দ শুনি । আমি ও ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই । তোমার মা'র নাকি অনেক আশা ছিল আমাকে উনার পুত্র বানাবেন । কিন্তু তোমাকে নিয়ে যে আশাটুকু ছিল এখন সব ছিন্নবিন্ন । তিনি জানান, তোমার ঘটনার কথা, এক বয়ষ্ক বাঙালী পুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার কথা । পরে তুমি ফিরে আসলে ও এখনো তোমাকে নিয়ে অনেক সংশয় কাজ করছে উনাদের মনে । সমাজে মাথা উঁচু করে আর কথা বলতে পারেন না । বর্তমানে ও যে ছেলের সাথে তোমার সম্পর্ক তাতে ও তোমার মা সন্তুস্ত নন কিন্তু তবুও একমাত্র মেয়ে হিসেবে তোমার চাওয়ার বিরুদ্ধে কোন চাপ দেয়া হচ্ছে না । তুমি হয়ত এখনো বুঝতে পারবে না, মায়ের যে অবর্ণনীয় ভালোবাসা তার সন্তানদের প্রতি । সেজন্য তোমাকে ভালোবেসে এখনো প্রতিবছর লক্ষ টাকার খরচ যোগাচ্ছেন । তুমি হয়ত আদৌ আনমনা । পরিবেশে তুমি হারিয়ে গিয়েছো হয়তো, তুমি নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারনি । বয়সে তুমি বুঝে উঠবে ।

“দৈহিক সৌন্দর্য” প্রেমকে আগলিয়ে রাখতে পারে না । প্রেমের জন্য প্রেমই দরকার পড়ে । জানি না তোমাকে কিভাবে বুঝাবো ? ভালোবাসা/প্রেমের যে আবেদন সময়ে বদলাবে । অল্প বয়সে সবাই ভুল করে দৈহিক সৌন্দর্যের উপর ঝুঁকে পড়লে ও বয়সে আবেদনের যে ধারা তা বদলিয়ে যায় । এক সময় দৈহিক সৌন্দর্য নয় মানুষের স্বভাব/চরিত্র অথবা সামাজিক স্ট্যাটাসটা আসল চাওয়া হয়ে দাঁড়ায় । জানি এখন তোমার অনেক আবেগ, তুমি এই কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করবে না । কিন্তু একদিন তুমি নিজের ভুলের জন্য প্রায়চিত্ত করার চেষ্টা করবে, সময়টা হয়ত অনেক এগুবে তখন । আমি ও তোমার ভালোবাসার প্রতি সরাসরি আঘাত করতে চাই না । জানি না, তোমাকে কিভাবে স্বান্তনা দেবো । তোমার মাকে কি বলে উত্তর দেবো, আমার জানা নেই । আমার চোখ ভিজে যাচ্ছে এই ভেবে যে, তোমার মা'র মতো অনেক মা'ই সন্তানের এমন দূঃখ-কষ্টকে নীরবে সহ্য করে যান । সমাজটা বুঝি অনেক বদলিয়েছে, আগেকার শান্তপ্রকৃতির পাহাড় আর মানসিক সুখগুলো যেন আর নেই ।

আমি আদৌ একা হাতি সুখগুলো কুঁড়াতে । রোডের পাশে অনেক কিছু দেখলে ও সুখটাই কুঁড়িয়ে নিই । জীবনে আসলে একাকীত্বটাকে সহজে সঙ্গী বানানো যাই না, প্রথমে বড় কঠিন লাগলেও পরে দেখি সব ঠিক হয়ে যায় । সেই ভীনদেশি মেয়েটি আদৌ খবর নে রীতিমতো, ই-মেইল/ফোন করে । আমরা তবুও আবেগ নিয়ে খেলি না । বাস্তবতাকে মেনে নিতে প্রস্তুত । তাই, আমাদের কোন আক্ষেপ থাকবে না যদিও কোনসময় একে অপরের কাছ থেকে হারিয়ে যাই । তোমাকে নিয়ে ভাবছি । মা-বাবাদের এভাবে বেশি কষ্ট দেয়াটা ঠিক নয় ।

পরিশেষে আশারাখি, তুমি বুঝে উঠবে ।</blockquote

zp8497586rq

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1313

Page 20 of 27« First...10...1819202122...Last »