«

»

এই লেখাটি 437 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

লংগদুতে বাঙালি কাঠুরিয়া হত্যার জের আদিবাসীদের বাড়িঘরে আগুন

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া ও গুলশাখালী ইউনিয়নের শানি-নগর গ্রামে আদিবাসীদের বেশকিছু বাড়ি পুড়ে দেওয়া ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন বাঙালি কাঠুরিয়া মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে লংগদু উপজেলায় আদিবাসীদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। উপজেলা সদরের অধিকাংশ আদিবাসী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গুলশাখালী ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছাবের আলী (৪৫) পাহাড়ে লাকড়ি কাটতে গিয়ে মারা যান। পরদিন বুধবার ছাবের আলীর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে আদিবাসীরা হত্যা করেছে এ অভিযোগ তুলে গতকাল বৃহষ্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বগাচতর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহিম এবং বাঙালি ছাত্র পরিষদের লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে বাঙালিরা লংগদু সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এসময় আদিবাসীদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তবে রাঙামাটি ও বাঘাইছড়িতে চলাচলকারী লঞ্চের বেশ কিছু আদিবাসী যাত্রীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় এপিলো চাকমা (২০) ও মঙ্গলায়ন চাকমা (১৫) নামের দুই কলেজ ছাত্র আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ বাধা দিলে বাঙালিরা নিজেদের এলাকায় ফিরে যায়। অবশ্য আবদুর রহিম তাঁদের মিছিল ও সমাবেশ শানি-পূর্ণভাবে হয়েছে বলে দাবি করে কোনো আদিবাসীর ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।


এরপর লংগদু উপজেলা সদর থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার দূরে বাঙালিরা বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ বগাচতর ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া গ্রামে হামলা করে আদিবাসীদের ঘর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর পার্শ্ববর্তী গুলশাখালী ইউনিয়নের শানি-নগর গ্রামেও হামলা ও আগুন লাগানো হয়। আদিবাসীরা অভিযোগ করেন, বাঙালিরা তাঁদের বাড়িঘরে আগুন লগানোর আগে ব্যাপক লুটপাট চালায়। আদিবাসীরা জানান, রাঙ্গীপাড়া গ্রামে আদিবাসীদের কমপক্ষে শতাধিক এবং শানি-নগর গ্রামে অর্ধশতাধিক বাড়ি রয়েছে। হামলার সময় পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে কয়টি বাড়িঘর পুড়ে ফেলা হয়েছে তা তাঁরা বলতে পারছেন না। তবে পাহাড় থেকে পুরো গ্রাম জুড়ে আগুনের শিখা দেখতে পেয়েছেন বলে আদিবাসীরা মুঠোফোনে জানান।

About the author

জুম্মো ব্লগার

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/34

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>