«

এই লেখাটি 94 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

বিশ্বাসের ভাইরাস-২

লেখকঃ জুম্মো এডিসন   

 

চারদিকে হৈ-চৈ পরে গেল | এক কান, দুই কান করতে করতে ঘটনাটি এখন সবার মুখে মুখে | কেউ মোমবাতি, আগরবাতি নিয়ে ছুটছে আর কেউবা ছুটছে বিভিন্ন ধরনের দানীয় সামগ্রী হাতে নিয়ে ! সবাই একনজর দেখতে চাই, “দেবতার পায়খানা” !

দিনটি ছিল রবিবার | তিগিন্যে বাপ, তার নতুন কাটা জুমের বটগাছটির তলায় দেখল, বিশাল এক “গুও পুজো” (পায়খানা) | গুও পুজোটি থেকে গু এর কোন দূর্গন্ধ নেই, তার বদলে আছে মনকে পবিত্র করা এক সুগন্ধ | সবাই বলছে, এ নিশ্চই কোন দেবতার গু ! তানাহলে এমন সুগন্ধযুক্ত গু কোন মানুষের হতেই পারেনা | প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসছেন, দেবতার গু দর্শনে | কেউ কেউ মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে পুজো করছেন, আবার কেউবা মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালানোর পাশাপাশি কাঁচ দিয়ে ঘেরা “গুও পুজোটির” পাশে রাখা “দান বক্সটিতে” টাকা দান করে যাচ্ছেন |

তিগিন্যে বাপ একজন সাধারন জুম চাষী | এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে জুম চাষ করেই, চলে তার পরিবার | তিগিন্যে বাপ প্রতিবছর জুম চাষের আগে স্বপ্ন দেখে তার ছেলে- মেয়েরা স্কুলে পড়বে, চাকরি করবে, বাবুদের মত করে মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুড়ে বেড়াবে | কিন্তু, তিগিন্যে বাপের এই স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায় | জুমে অনেক কষ্টে ফলানো ফসলের নায্য মূল্য সে পায় না, সিন্ডিকেটের হাতে সে বন্ধি | তার উপর আছে, বিভিন্ন দলকে টোল দেওয়া, এলাকার বিহারটির জন্য বাৎসরিক চাঁদা দেওয়া | এই দান, সেই দান, এই চাঁদা, সেই চাঁদা দিতে দিতে তিগিন্যে বাপের স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায় ! তিগিন্যে বাপ প্রতিদিন ভাবে, ভেবে কোন কূল কিনারা পায় না | বিহারের জন্য নির্ধারিত চাঁদা দেওয়ার আগে, মনে মনে গালি দেয়, কুত্তার বাচ্চারা বিহার পরিচালনা কমিটি হইছে ! এদিকে আমার যে সকালে খেলে বিকেলে নাই, বিকেলে খেলে রাতে নাই অবস্থা অথচ ওরা এমনভাবে চাঁদা নির্ধারন করে, শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় | আর পার্টিগুলির কথা কি বলব, নিজে কোনদিন তাগলের এক বেজা ( দা দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ ) দেইনাই, তাই আমাদের কষ্টটিও বুঝেনা | তিগিন্যে বাপ, শুধুমাত্র নিভৃতে চোখের জল ফেলে আর ভাবে, কিভাবে ওর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে|

নতুন জুমটি পোড়ানো হয়েছে | এখন ধান, গুচ্ছে গুজে দেওয়ার পালা | কাজ করতে করতে তিগিন্যে বাপের পায়খানা চাপে এবং জুমের বটগাছটির তলায় পায়খানা করে দেয় | পায়খানা শেষে তিগিন্যে বাপের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলে যায় | বড় ছেলের পারফিউমটি নিয়ে এসে ছিটিয়ে দিতে থাকে, সেই গুও পুজোটির উপরে | সে দেখল, দুর্গন্ধের বদলে এখন হালকা হালকা সুগন্ধ বের হচ্ছে | তারপরের দিন বাজারে গিয়ে হারপিক, পাউডার, বডি স্প্রে, গোলাপজল সহ আরো অনেক ধরনের সুগন্ধি নিয়ে এসে ছিটিয়ে দিতে থাকে “গুও পুজোটির” উপরে | এখন গু এর গন্ধ তো থাকলোই না, উল্টো বের হচ্ছে এক চমৎকার সুগন্ধ !

সবাই এখন সেই গুকে পুজো করে, “দেবতার গু” মেনে | এই গু এর কিছু অংশ চড়া দামে বিক্রি করে সে অনেক টাকা কামিয়েছে | নীলগঞ্জের ইঞ্জিনিয়ার বাবুটি এক চিমটি গু কিনেছে ১০ হাজার টাকায় | রামদেব বাজারে চাউলের বড় ব্যবসায়িটি এক চামচ গু কিনেছে ৫০ হাজার টাকায় | সেই গু খেয়ে এখন ইঞ্জিনিয়ার বাবুটির বহু দিনের পুরনো বাতের ব্যথাটা সেরেছে, চাউলের ব্যপারির পুরো পরিবার দেবতার গু খেয়ে রোগ মুক্ত হয়েছে ! তিগিন্যে বাপের এখন অবস্থা ফিরেছে ! সে তার ছোটছেলেকে স্কুলে পড়াচ্ছে, বাড়িতে সবার হাতে হাতে মোবাইল হয়েছে, সোলার হয়েছে | সর্বোপরী, তিগিন্যে বাপকে আর জুম চাষ করতে হয়না | এখন শুধুমাত্র “দেবতার গু” এর রক্ষনাবেক্ষন আর প্রতিরাতে সবার অলক্ষে, সুগন্ধী দ্রব্যগুলি ছিটিয়েই আরামছে দিন কেটে যাচ্ছে !!!!!!

 

About the author

ব্লগ লেখক

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3134

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>