«

»

এই লেখাটি 452 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

মন্টু, ঝন্টু, রন্টুর সমাজ এবং আমরা

আঠারো তারিখের মানব বন্ধনটা রাজনৈতিকভাবে অরাজনৈতিক ছিলো যেখানে বিরাজনীতিকৃত মানুষেরা অংশ নিয়েছিলো। রাজনৈতিকভাবে অরাজনৈতিক মানে হচ্ছে সেই কর্মসূচির চরিত্র Politically Nonpolitical ছিলো যেখানে Apolitical নাগরিকেরা অংশ নিয়েছে। আমি এমন শত শত মানুষ দেখেছি যারা কোনদিন কোন মিটিং মিছিলে যায়নি কিন্তু সেদিনের তিনশ কিলো লম্বা মানুষের বন্ধনে তারা ঠিকই দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে মিটিং-মিছিল-পোষ্টারিং-সভা-সমাবেশ-“ভাইয়েরা আমার” মানেই হচ্ছে রাজনীতি। সাধারণ মানুষের কাছে দল-পার্টি-ক্ষমতা-টেন্ডার-চাঁদা-সন্ত্রাস-সঙ্ঘাত মানে রাজনীতি।

সাধারণ মানুষ বাজেটে রাজনীতি দেখে না, রাষ্ট্রনীতিতে রাজনীতি দেখে না, সমরাষ্ট্রনীতি ও সমরাষ্ট্রবাহিনীতেও তারা রাজনীতি দেখে না। অথচ রাজনীতির বাইরে দোকানে একটা ম্যাচের বাক্স পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে না। কিভাবে রাষ্ট্রের উৎপাদন-বন্টনের সাথে রাজনীতি জড়িত সেটা বড় বড় পাস দেওয়া পাহাড়ি বাবুরা পর্যন্ত বোঝে না।

এসব বোঝার জন্য খুব বেশি বিদ্যার দরকার- এমন নয়। শুধু একটু গৎবাঁধা পড়ার বাইরে দুই পাতা অন্য কিছু পড়তে হয়।

মুসকিলটা হচ্ছে আমরা সবাই কেরানি হতে পড়ি বা ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পড়ি কিন্তু জীবন এবং জগত কি নিয়মে চলছে তা জানতে পড়ি না। সেই সাথে পড়া, জানা এবং জেনে মানুষকে জানানোর যে অভিপ্রায় সেটাও আমাদের নেই। বড় হতে হতে আমাদের ভেতরে প্রশ্ন করার, কৌতুহলী হবার প্রক্রিয়াটা মরে যায়। আমাদের ভেতরে জানার এবং জানানোর স্পৃহা দিন দিন ক্ষয়ে যায়। সমাজ এবং মানুষ কিভাবে যুগের সাথে সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে, কিভাবে সমাজের ভেতরকার ক্রীয়াশীল বিভিন্ন প্রভাবক শক্তি কাজ করছে তা আমাদের জানতে বুঝতে এবং বুঝাতে ইচ্ছাগুলো মরে যায়। যেখানেই আমাদের জ্ঞান, মনন, সৃজন, বোধনের চর্চা থেমে যায় সেখানেই আমাদের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক ক্ষয় হতে থাকে এবং সামাজিক প্রগতি রুদ্ধ হয়ে যায়। এটা একটা জীবন্ত ও চলন্ত প্রক্রিয়া।

যাই হোক, আজকে আমি অন্য কিছু বলতে এই লেখাটা ধরেছি। আবার আগের প্রসঙ্গেই ফিরবো তার আগে আরেকটা প্রসঙ্গে আলাপ সেরে নিই। আজকের লেখাটা চিরব্রাত্য  জুম্ম লেখক, কবি, ব্লগার, চিন্তক,  ভাবুক এবং  ঝন্টু, মন্টু, সেন্টু,  রন্টু মানে বিভিন্ন দলের পাতি নেতা, এলাকার অভিভাবক এবং তাদের নেতাদের নিয়ে লেখা।

মন্টু, ঝন্টু, সেন্টু আর রন্টুরা সব দলেই আছে। তারা কোন না কোন শাখার নেতা কিংবা কোন না কোন পাড়া-মহল্লা বা ক্যাম্পাসের উঠতি মাতব্বর। এরাই একদিন সমাজপতি হয়, এরাই একদিন বড় নেতা হয়। পাহাড়ের সব দলেই এরা আছে। পাহাড়ের এক দলের সাথে অন্য দলের হাজারটা ফারাক থাকলেও একটা বিষয়ে তাদের খুব মিল। তারা সবাই মুক্তচিন্তা, সমাজভাবনা, সৃষ্টিশীল লেখন চর্চা, মননশীল ভাবনা চর্চাকে অপছন্দ করে। তারা তাদের দলীয় কর্মসূচি/ মেনিফেস্টোর সংগতিপূর্ণ ভাবনা-চিন্তার চর্চাকেই ঠিক মনে করে।

বিশ্বাস না হলে অনলাইন-অফলাইনের লেখালেখি নিয়ে তাদের মতামত কি প্রশ্ন করুন, তারা সবাই এক ঢঙে বিবৃতি দেবে। সবাই নানানভাবে একই বক্তব্য দেবে। সবার বক্তব্য কমবেশি এরকম হবে-

 “আরে এসব বলগার ফলগারের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই খালি ফেইসবুকে বড় বড় কথা বলে। ফেইসবুকে বড় বড় কথা বলা সহজ, মাঠে নামলে টের পাবে হাউ মেনি পেডিতে হাউ মেনি রাইস…”

“এরা সবাই ভীতু, সুশীল- খালি ঘরের মধ্যে বসে বসে লেকচার দেয়… “

“এখন জাতির প্রয়োজনে আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে, আমাদের কর্মী দরকার। এসব কবি, বলগার দিয়ে কি হবে? জাতির প্রয়োজনে আমাদের এখন লড়াকু সৈনিক হতে হবে, এখন এসব লেখালেখির দরকার নাই”

“এগুলা করে কি লাভ? খামাখা নিজের বিপদ ডেকে আনা ছাড়া… “

“লেখালেখি করে কি হয়? দুই পয়সার লাভ নাই। মানুষ কি এসব পড়ে নাকি?”

“সবাই লিখতে পারে। আমিও লিখতে পারি। আমিও এসব বড় বড় আলোচনা, বড় বড় কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি লিখি না। আমি জাতির বৃহত্তর সার্থে এসব ফালতু কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখি”

আমি একদম হলফ করতে পারি, সবাই এভাবেই আমাদের মতো ব্লগারদের নিয়ে এসব বলবে- সে যে দলেরই হোক বা যে স্তরের নেতাই হোক। সবার চোখে আমাদের এসব লেখালেখি মানে ‘আজাইরা কাম’। তাদের সবার মতে- যে কেউই চাইলেই লিখতে পারে; এর জন্য কোন পূর্বপ্রস্তুতি, অধ্যয়ন, শিল্পবোধ, দৃষ্টি, মনন, বীক্ষা, সৃষ্টিশীলতা এসবের দরকার নেই।

যে সমাজ লেখক, ভাবুকদের নিয়ে এমন ভাবে সেই সমাজে লেখক-চিন্তক-ভাবুক জন্ম নেবে কি করে? যে সমাজে  আমাদের জ্ঞান, মনন, সৃজন, বোধনের চর্চা থেমে যায় সেই সমাজ কিভাবে সামনে আগাবে?

এবার আবার আঠারো তারিখের মানবন্ধনের প্রসঙ্গঃ সেদিনের মানববন্ধনের প্রধান আয়োজক ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি। একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সমাজে সিভিল সোসাইটি এবং হুইসল ব্লোয়ার যেমন পাঃচঃ নাগরিক কমিটির মতো সংগঠন- এরা সমাজের সংবেদনশীল ইন্দ্রিয়ের মতো কাজ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই সংগঠনকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোন কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের সব সময় সন্দেহের চোখে দেখেছে প্রধান দলগুলো। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিরোধিতা পর্যন্ত করেছে। ২০১৪ সালে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কমিউনিটির মধ্যে দাঙ্গা লাগার উপক্রম হলে জাতিগত সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এই সংগঠনই মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলো । তাছাড়াও পাহাড়ি দলগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত নিরসন করা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করা এবং সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে মেলবন্ধন রচনা করতে এই সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই সংগঠনের মতই সম্মিলিত ছাত্রসমাজ, আদিবাসী ছাত্র সমাজ, হিল এডুকেশন সাপোর্ট ক্যাম্পেইন, জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক পরিষদ ইত্যাদি সব সংগঠনকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

পাহাড়ি দলগুলো কখনো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের Pulse ধরতেই পারলো না। তারা তাদের জনবিচ্ছিন্নতাকে অস্বীকার করে। তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ফলে মধ্যবিত্তরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যায় মানে ডিপলিটিসাইজড হয়- এটা তারা কখনই স্বীকার করে না। যথারীতি পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি করে তারা বিবৃতি দেয় “জনগন আমাদের সাথে আছে। আমাদের কর্মসূচি সফল। আমরা জনগনের দল… ইত্যাদি…”

সিভিল সোসাইটির মতো সামাজিক-সাংস্কৃতিক-কমিউনিটি সংগঠনগুলোকেও তারা দলীয় প্রভাবাধীন করতে চায়। তারা ছাত্র-গন সংগঠন বা যে কোন গনজমায়েতকেই দলীয়করন করতে চায়। যেমন চট্ট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাহাড়ি ছাত্ররা কোন সংগঠন করতে গেলেই আগে ‘পার্টির’ অনুমোদন লাগে।

“ম্যাগাজিন বের হবে? নেতার সাথে কথা বলো।”

“এডুকেশন ক্যাম্পেইন হবে? নেতার সাথে কথা বলো”

“সায়েন্স ক্লাব হবে? নেতার সাথে কথা বলো।”

“কমিউনিটি অরগানাইজেশন হবে? নেতার সাথে কথা বলো।”

“এই চিন্তা হচ্ছে, ঐ ভাবনা হচ্ছে, সব দলীয় চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী হতে হবে”

এইভাবে কি মানুষ স্বাধীন চিন্তা করতে পারে? এভাবে কি মানুষের চিন্তার বিকাশ হয়?

-না।

আমি এক দুই তিন করে কয়েক ডজন জায়গা দেখাতে পারি যেখানে আমাদের কাজ করা দরকার। এসব ক্ষেত্রে আশু গবেষণা দরকার। যেমন-

-এই নিও কলোনিয়াল যুগে আদিবাসিত্বের মূল্য কি? আন্তর্জাতিক আদিবাসী আন্দোলনের সাথে আমাদের আদিবাসী আন্দোলনের

যোগসূত্র কতটা কার্যকর হবে?

-রাষ্ট্রের আইডেন্টিটি পলিটিক্সের বিরুদ্ধে আমাদের আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের তত্বীয় ভিত্তি কি হতে পারে?

-যে সময়ে জুম্ম জাতীয়তাবাদের উত্থান হয়েছিলো, তার সাথে এখনকার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। এই ভিন্ন বাস্তবতায় জুম্ম জাতীয়তাবাদের কার্যকারিতা বা প্রয়োজনীয়তা কি?

-কিভাবে সব কমিউনিটিকে এক কাতারে লড়াইয়ে আনা যায়- কোন মতাদর্শে?

-কিভাবে বাংলাদেশের চলমান গনমুক্তির সংগ্রামের সাথে তার যোগাযোগ করানো যায়?

-রাষ্ট্র যে উন্নয়নের নামে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তার স্বরূপ উন্মোচন কিভাবে হবে?

-আওয়ামীলীগ সামনের দিনে আরও ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ একটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে। আওয়ামীলীগ আর্মির সাথে গাঁটছড়া বেঁধে দেশ চালাবে। সামনের দিনে মিলিটারি নিপীড়ন এবং তার সাথে ফ্যাসিস্ট এর বিরুদ্ধে জুম্ম জনগনের প্রতিরোধ সংগ্রামের গতিমুখ কেমন হবে?

-রাষ্ট্রীয় এথনোসাইড বা কালচারাল জেনোসাইডের প্রতিরোধী পাল্টা সাংস্কৃতিক সংগ্রাম কেমন হবে?

-কালচারাল রিভাইটালাইজেশন বা সাংস্কৃতিক পূণঃর্জাগরন কিভাবে হবে…? ????????

ইত্যাদি ইত্যাদি………

এভাবে অনেক অনেক সেক্টর আমি দেখাতে পারি যেখানে আমাদের বুদ্ধি ও মননের প্রয়োগ আবশ্যক। একটা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছাড়া একটা জাতির কিছুতেই বুদ্ধির মুক্তি হতে পারে না। উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর কারা খুঁজবে?

দলের ষণ্ডা-মার্কা কর্মীরা? বিদেশি ফান্ডের কাছে বুদ্ধি ইজারা দেওয়া এনজিওরা? ক্যাডার হওয়া জড়ভরত কেরানীরা? ক্যাডার হতে চাওয়া গৎবাঁধা মুখস্ত করা ছাত্ররা? মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুরা? মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুর নেতারা?

আমি মনে করি না।

যদি তারা এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতেন তাহলে আমার প্রশ্নের অবকাশ থাকতো না।

যদি আমাদের নেতারাই আমাদের মুক্তির পথ দেখাতে পারতেন আজ আমাদের এমন দুরবস্থা হতো না।

এটা খুব সিম্পল অংক। সরল অংক করার মত। কিন্তু যেখানে যোগ করা দরকার সেখানে বিয়োগ করলে বা যে অংকে বার বার একই সূত্র প্রয়োগের ফলে বার বার ভুল হচ্ছে সেখানে অংক মিলবে কি করে? আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এভাবেই বারবার সূত্র প্রয়োগে ভুল করে আসছে কিন্তু কেউ অংক জানা কারোর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করছে না, এই ফর্মুলাটা কাজে লাগবে তো?

এখন সময়টা অন্যরকম। রাষ্ট্রের আগ্রাসনের রুপ পাল্টেছে। আশির দশকের মত আর নেই। আমাদের প্রতিরোধ সংগ্রামটাও যুগোপযোগি হওয়া দরকার। আর তাই এখন মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুর সাথে সাথে আমাদেরও একসাথে হাতে হাত ধরে মিছিলে যাওয়ার সময়। কিন্তু সবার আগে তো ভাই মিছিলের স্লোগান ঠিক করতে হবে। মিছিলের গতিমুখ ঠিক করতে হবে। সেদিনের মানবন্ধনটাই প্রমান করে যে মানুষ রাস্তায় নামতে চায় কিন্তু তাদের সামনে সঠিক দিশা না থাকায় তারা নামতে পারে না। তেমনি আমরা বার বার প্রমান পেয়েছি- যতবার আমরা সম্মিলিত ছাত্রসমাজের ব্যানারে বা সেন্টার ফর সিএইচটি  স্টাডিজ এর ব্যানারে কর্মসূচি নিয়েছি ততবার ছাত্রসমাজ সাড়া দিয়েছে। ছাত্র সমাজ সাড়া দিয়েছে কারন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাথে সাধারণ ছাত্রদের একটা বিশাল গ্যাপ আছে তাই। কারন সবাই বিকল্প কিছু চায়- নতুন কিছু চায়।

মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুরা অভিযোগ করে যে ব্লগার লেখকেরা খালি বড় বড় কথা বলে, ফিল্ডে নামে না। আরে ভাই, ফিল্ডে নামার আগে তো কোন টিমের হয়ে ফিল্ডে নামবো সেটা ঠিক করা দরকার। কোন ইস্যুতে, কোন লক্ষ্যে ফিল্ডে নামবো সেটা ঠিক না করে খামাখা ফিল্ডে নেমে কি গোল খাবো নাকি? কার হয়ে ফিল্ডে নামবো- জেএসএস এর হয়ে ফিল্ডে নামলে ইউপিডিএফ লাল কার্ড দেখায়, বামপন্থীর মিছিলে স্লোগান দিলে ডানপন্থীরা গোসসা করে… এমন সব হেপা নিয়ে কে মিটিং-মিছিল করবে?

একবার কারোর গায়ে জেএসএস বা ইউপিডিএফ এর মার্কা লেগে গেলে তো কাম শ্যাষ !

অনেকদিন ধরেই দেখছি, তারা সবাই শুধু জেগে উঠো জুম্ম জনতা… বলে স্লোগান দিয়েই যাচ্ছে! আরে ভাই, জাগো বললেই কি মানুষ জাগে নাকি? জাগার মতো কন্ডিশন কি লাগে না? মানুষের মনে বিভ্রান্তির কুয়াশা। এই ভ্রান্তি না কাটলে মানুষ লড়বে কি করে? এই ভ্রান্তি দূর করতে হবে না? মানুষ এখন ভীত, ত্রস্ত, বিভ্রান্ত, আপদ্গ্রস্ত… তাদের সামনে একটা মতাদর্শের শক্তি না থাকলে আর আত্মত্যাগের ইচ্ছা না জাগলে মানুষ কি করে ঘর থেকে বের হবে?

কিন্তু

আমরা সবাই নিপীড়নে নির্যাতনে এতটাই দিশেহারা যে আমরা আর কেউই Apolitical নই। শুধু আমাদের মুক্তির তত্ত্ব, মুক্তির মন্ত্র, মুক্তির দিকনিশানা ঠিক করা দরকার। আর মুক্তির দিকনাশানা, মুক্তির তত্ত্ব ঠিক করতেই আমাদের সবার একসাথে কাজ করা দরকার। সুতরাং সব লেখক-ব্লগার-এক্টিভিস্টদের দূরে না ঠেলে বরং তাদের মগজটাকে কি করে গণমুক্তির হাতিয়ার করা যায় সেটাই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর আশু কাজ হওয়া দরকার। কেননা লেখক-বুদ্ধিজীবি-চিন্তকেরা সমাজ বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। কতটা কান্না  থাকলে কবিতা লেখা যায়, কতটা অন্তর্দহন থাকলে মানুষের জন্য লেখা যায়, কতটা সংবেদনশীলতা থাকলে মননশীল প্রবন্ধ লেখা যায়, কেমন অন্তর্দৃষ্টি থাকলে গল্প লেখা যায় তা কেবল কবি, লেখক, ভাবুকেরাই বোঝে।

এখন সময়ের প্রয়োজনেই  মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুদের আমাদেরকে বুঝতে হবে। তার সাথে সাথে মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টুর নেতাদের সময়ের প্রয়োজনকে বুঝতে হবে। আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক-সম্পূরক হতে পারি। অর্থাৎ রাজনৈতিক নীতি নির্ধারক আর গনমানুষের বুদ্ধিজীবি-লেখক-কবিঃ সবাই বাঁচার প্রয়োজনে এক প্লাটফর্মে কাজ করা। এখন এমন দুঃসহ কালবেলা যে বাঁচার তাগিদেই আমাদের এখন এক কাতারে মিলতে হবে। মন্টু-ঝন্টু-সন্টু-রন্টু সহ আমরা সবাই যদি এক হয়ে কাজ করি তাহলে একদিন আমরা সবাই এক মিছিলেই স্লোগান দেবো। আমরা স্লোগান লিখবো, আমরা গনমানুষের মুখে মুক্তির উচ্চারণ তুলে দেবো আর সেই বিদ্রোহের মন্ত্রই একদিন শোষক-নিপীড়কের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3094

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>