«

»

এই লেখাটি 841 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

ফেইসবুক-ব্লগের ফ্যালনা লেখা

ডিসক্লেইমারঃ এই নোটটা পড়ে সময় নষ্ট করার আগে সতর্কবানী হিসাবে এই অংশটা পড়ুন।  বেশ একটু আবেগের বশেই ০৭ই আগস্টে ফেইসবুক নোট হিসাবে প্রথম এই লেখাটি লিখেছিলাম। প্রয়োজন মনে করে কিছুটা সম্পাদিত এবং অনেকখানি সংযোজিত করে আবার প্রকাশ করলাম। মূল লেখায় কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। কেবল কিছু ‘বাগাড়ম্বর’ বাড়ানো হয়েছে। এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের কনটেক্সটে লেখা। আর হ্যাঁ, এটা নেহাতই আমার ব্যক্তিগত মতামত সুতরাং জ্ঞানগর্ভ কিছু প্রত্যাশা না করলেই ভালো। পাঠকের সুবিধার্থে চার ভাগে লেখাটা লিখেছি। প্রত্যেক ভাগের প্রাসঙ্গিকতায় অন্ত্যমিল আছে। তবে কেউ যদি সরাসরি লেখার মূল প্রসঙ্গে যেতে চান তাহলে (৪) নাম্বার অংশে চলে যান। আরেকটু বিশদ করে পড়তে হলে (২) নাম্বার থেকে ধরুন। (১) নাম্বারটা আসলে আত্মকথন এবং মূল লেখার ব্যাকগ্রাউন্ড।

যেসব অংশের উপর আমি বেশি জোর দিতে চেয়েছি সেগুলো অর্থাৎ কেবল সার অংশগুলো পড়তে চাইলে সরাসরি মোটা কালি, ইটালিক এবং আন্ডারলাইন করা লাইনগুলোয় নজর দিন।

                                                                                (১)

এবারের বিষয় ফেইসবুক ব্লগের লেখালেখি। অনেকদিন ধরেই খেয়াল করছি বাংলাদেশের আর্মি অফিসারেরা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ইন্টারনেটে লেখালেখি করছেন। তাঁরা ইতিহাস, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এমনকি নৃবিজ্ঞান পর্যন্ত টেনে এনেছেন তাঁদের লেখায়। পাহাড়ে  ইনসার্জেন্সি না থাকলেও তাঁরা ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়িদের টার্গেট করে সামরিক অপারেশান থামেনি। কয়েকদিন আগে মুস্তাফা জব্বার সাহেব, যিনি বিজয় কিবোর্ড এবং বাংলা লেখার সফটওয়্যারের জনক, তিনিও পাহাড়িদের আদিবাসীত্ব নিয়ে লিখে বেশ নৃতাত্ত্বিক হবার চেষ্টা করেছেন। শুধু তাঁরা নন, অনেকদিন ধরেই একাডেমিশিয়ান নন, রাজনীতি বিশ্লেষক নন, বুদ্ধিজীব নন এমন অনেক লোকজন পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লেখালেখি করছেন। পক্ষান্তরে যাদের নিয়ে এত তাঁদের মাথাব্যথা, তাঁরা, মানে পাহাড়িরাই তেমন কিছু বলছেন না। কিন্তু ব্রাত্যদের মধ্যে আরও ব্রাত্য কিছু উৎসাহী ছাত্র-তরুন ফেইসবুক ব্লগে অনলাইন এক্টিভিজম চালিয়ে আসছেন। আমিও সেই ব্রাত্যদের মধ্যে পড়ি। আমার-আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। আমরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই। আমরা মুখ্যু সুখ্যু ফালতু পোলাপান, খালি অনলাইনে লাফালাফি করি, আমাদের ‘ফিল্ডে’ পাওয়া যায় না। আমার নিজের কমিউনিটির থেকেই আমার ফেইসবুকে লেখালেখি নিয়ে অভিযোগ বেশি। এমনই তাদের রাগ যে দেশ ছাড়ার দিন তারা কেউ আমার সাথে কথা পর্যন্ত বলেনি!

আজ একটু পিছনটান দিয়ে শুরু করা যাক। একটু রেট্রোস্পেকটিভ দিয়ে শুরু করি…

পাহাড়ের ইস্যু নিয়ে অনলাইন এক্টিভিজমের বয়েস বেশি নয়। আমি লেখালেখি শুরু করেছি ২০১২ সাল থেকে। আমার আগে দু চার জন অনলাইনে লিখতেন। আমি কিছু ভিন্নতা, নতুনত্ব নিয়ে লেখা শুরু করি। আমার পরে আরও অনেকে এখন লিখছেন। আমরা সবাই এখনো ছাত্র, কেউ কেউ দু চার বছর ধরে চাকুরী করছি। অর্থাৎ আমাদের বয়েসের সীমা ১৮-৩৮ পর্যন্ত। দুয়েকজনের বয়েস বেশি হতে পারে কিন্তু তাঁরা ছদ্মনামে লেখেন বলে কেউ তাঁদের নাম-ধাম-বয়েস জানে না। আমরা একটা ব্রেক থ্রু আনতে নিজের নামেই লিখে আসছি। রাষ্ট্রীয় বাহিনী ছাড়াও দলকানা পেটোয়া বাহিনীর ভয়ে এতদিন ছদ্মনামে সবাই লিখে আসছিলো। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের এখন একটা ব্রেক থ্রু আনা দরকার। মিথ্যেমিথ্যি তো আর কিছু বলি না। যা বলি সত্য বলি। সত্য বলতে গিয়ে যদি বেঘোরে প্রানটা যায় যাক। তবু মানুষ সত্য জানুক। সত্য বলার সাহস করুক।

আমি মনে করি আমার মতন অসংখ্য অনলাইন এক্টিভিস্ট, ব্লগারের মনেও এমন অনেক মনের কথা আছে বলে তাঁরা লিখে চলেছেন। পাশ্চাত্যের রেওয়াজ অনুযায়ী সুখী মানুষের মতন শুধু কি খাচ্ছি, কি দেখছি, কি শুনছি, কেমন ভালো আছি সেটা জানানোর মতন সুখ আমার নেই। আমার অন্তর্দহনই আমার লেখার প্রেরণা।

আমি, আমরা কেন লিখি? আর সবার খবর জানি না, আমি বরং আমার কথাটাই বলি। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন-অনাচার-বৈষম্যের পরিবেশে আমি বেড়ে উঠেছি। সেখানে মিডিয়া ব্ল্যাক আউট এবং রাষ্ট্রীয় সেনসরশিপের কারণে পাথুরে পাহাড়ের ভিতরের কান্না দেশ-দুনিয়ার মানুষ জানে না। কোন মিডিয়াতেই কখনো পাহাড়ের বাস্তবতা দেখানো হয় না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা যেমন Amnesty Int., IWGIA, Survival Int. সহ বিভিন্ন একাডেমিক লিটেরেচার সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচরে আসে না। সেইসব বইয়ের প্রকাশনা সাধারন পাঠকের জন্যও নয়। হাজার টাকা দাম দিয়ে কেউ নিশ্চয় কোন রিপোর্ট পড়বেন না। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত খুব পড়ুয়া নয়। এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) দেখি বাসে বা ট্রামে উঠলে দশ মিনিটে যাত্রাপথেও মানুষ ব্যাগ থেকে বই বের করে পড়ে। হরেক রকমের বই। ইতিহাস থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, থ্রিলার, রোমান্স পর্যন্ত। দেশে এক সময় বাস বা ট্রেন স্টেশনে রবীন্দ্রনাথ, সুনীল, শীর্ষেন্দুর বই পাওয়া যেত। এখন গিয়ে দেখুন, রগরগে যৌনগন্ধি চটি থেকে শুরু করে ‘কেন ভালোবাসলাম’ টাইপের সস্তা কাহিনী পাওয়া যাবে।

এখন দেশের মানুষ কি পড়ে?

দেশের মানুষ বাসে যাওয়ার সময় তিন টাকা, চার টাকা দিয়ে ট্যাবলয়েড পড়ে, বাংলাদেশ প্রতিদিন পড়ে বা প্রথম আলো পড়ে। এখন এন্ড্রয়েডের যুগে সবাই ফেইসবুক পোষ্ট পড়ে। এটা খুব বিষ্ময়কর একটা ব্যাপার যে ফেইসবুক সেলিব্রেটি বলে একটা পদার্থ বাংলাদেশ পাওয়া যায় যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে দেশের জন্য ভালোবাসা থেকে মায়ের জন্য ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধ থেকে প্যালেস্টাইনের মুসলিম হত্যা, মুসলিম ফ্যানাটিজম থেকে মার্ক্সইজম সব বিষয়ে ফেইসবুক পোষ্ট পাওয়া যায়। এখানে বুদ্ধিবৃত্তি থেকে হৃদয়বৃত্তি, আঁতলামি থেকে জনসচেতনতা সব উদ্দেশ্য পূরণে ফেইসবুকের অভিনব ব্যবহার দেখা যায়।

কেননা এটা বাংলাদেশ। এটা ব্রিটেন, আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের দেশ নয় যেখানে গণতান্ত্রিকতার চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে। পশ্চিমের রাস্তায় মানুষ গ্রাফিটি (এক ধরনের দেওয়াল চিত্র) আঁকে আর বাংলাদেশের দেওয়ালে আজও ” বাঁচার মতো বাঁচতে চাই!” এমন চিৎকার করা আবেদন দেখা যায় দেওয়ালে দেওয়ালে।

কেন?

কেননা মানুষ বাঁচার মতো বাঁচতে চায়। দেশে মানুষের দাবী দাওয়া চাহিদার কথা জানানোর রেওয়াজ এমনই।

এখন, আমি যদি কিছু বলতে চাই তাহলে কোথায় বলবো? যেখানে মানুষ আছে সেখানেই তো বলবো তাই না? মানুষ যেখানেই থাকুক চা দোকানে বা রেলের বগিতে, যেখানেই মানুষ থাকবে সেখানেই আমি আমার মনের কথা বলতে চলে যাবো। কলেজে পড়ার সময় থেকে আমি  বাম আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলাম। তেল, গ্যাস রক্ষার লং মার্চের সময় বাসে বাসে, দোকানে দোকানে, হাটে বাজারে আমি লিফলেট হাতে দেশের সংকটের কথা মানুষকে বলেছি।

আমার ফেইসবুক-ব্লগে লেখালেখির ব্যাপারটা অনেকটা লিফলেট ছড়ানোর মতই

যেখানে মানুষ আছে সেখানেই আমি প্রাণের কথা বলবো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, কেউ যদি কিছু প্রকাশ করতে চায়, জনমত গড়ে তুলতে চায়, মানুষকে কোন বিষয়ে সচেতন করতে চায়, নিজের মত প্রকাশ করতে চায় তাহলে তাকে ফেইসবুকে আসতেই হবে। আর তাই জনমতকে প্রভাবিত করতে এবং পাহাড়িদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াতে সেটলার সহ রেইসিস্ট বাঙ্গালীরা বিরামহীনভাবে ফেইসবুক-ব্লগে ঘৃণার বিষ ছড়াচ্ছে। একটা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার (এথনিক ক্লিনজিং পলিসি) প্রক্রিয়াকে বৈধ করতে হলে তাদের দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো দরকার। তারা তাদের প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে। আর ফেইসবুক যে একটা মিডিয়া, সেটাই আমরা আজ পর্যন্ত বুঝলাম না। হ্যাঁ, ফেইসবুক একটা মিডিয়া এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই মিডিয়া যে কোন টিভি চ্যানেলের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী। সমাজ মননে এর প্রভাব এত বেশি যে ফেইসবুক পোষ্টের সূত্র ধরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। অনেক পজিটিভ ঘটনা ফেইসবুক থেকেই হয়েছে। সম্প্রতি সিলেটে রাজন নামের যে শিশুটিকে আরব প্রবাসী জনৈক কামরুল হত্যা করেছিলো, তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে কারণ প্রবাসীরা ফেইসবুক পোষ্ট দেখে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। যে দেশে আনন্দ-বেদনা-দাবি-দাওয়া-চাহিদায় অনলাইন মিডিয়ার এমন অভূতপূর্ব প্রয়োগ দেখা যায়, সেখানে আমি আমার কথা বলতে কেন সেই মিডিয়াকে ব্যবহার করবো না?

(২)

আমাদের মধ্যে (পাহাড়ী-জুম্ম) একটা অনেক বড় শ্রেণী আছে যারা অনলাইনে লেখালেখিকে বিরাট পাপাচার বলে মনে করেন । তাঁদের নানান রকম যুক্তি আছে। অনলাইন-অফলাইন, ভার্চুয়াল-একচুয়াল, ঘরে-উঠানে-রাস্তায় কোনখানেই তাঁরা কোন প্রকারের ‘এক্টিভিজমের’ পক্ষে নন। তাঁরা সবাই চিন্তা-আচরণে-মননে প্যাসিভ (Passive). তাঁরা আর কেউ নন, আমাদেরই আপনজন, বা স্পষ্ট করে বলতে গেলে তারা আর কেউ নন, তারা আমরাই। হ্যাঁ আমরাই, কেননা আমরা  মাত্র গুটিকয়েক মানুষ যারা ফেইসবুক-ব্লগ-ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, দু চার কলম বিদ্যা শিখেছি-

আমরাই পাহাড়ের প্রিভিলেজড গ্রুপ। আমাদের প্রিভিলেজ (Privilege) নেওয়ার ইতিহাসটা আর এখানে আনছি না। এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

আমাদের সমাজের ভালোমানুষেরা নির্বিরোধী ‘ক্ষ্যান্তিবাদী’, ‘অহিংস’, ‘মৈত্রীভাবাপন্ন’ হতে সদুপদেশ দেন। সমাজের চোখে ভালোমানুষেরা ফেইসবুক-ম্যাগাজিনে উল্টাপাল্টা কিছু লেখে না।

ঠিক আছে তাদের কথাই ঠিক মানলাম। ফেইসবুক-ব্লগে ভালোমানুষেরা লেখেনা। ভালোমানুষের পো
প্যাঁ পো করে গাড়ি চড়ে আর সংসার পালে। করে নাকো ঠুস ঠাস মারে নাকো ঢুশ ঢাশ।
তাহলে কারা লেখে?
আমাদের মতো অল্প বিদ্যার নমঃশূদ্র লিখিয়েরা লেখে। আমাদের মতো দু পয়সার লিখিয়েরা-
আমরা এই দরজায় ওই দরজায় পয়সা চেয়ে ঘুড়ি। তারপর ফান্ড না পেয়ে বেতনের পয়সা দিয়ে আমরা ম্যাগাজিন বের করে লিখি। আমরা দুই পয়সার লোক দুই গিগাবাইট ডাটা কিনে শত অভাবে তবু লিখে যাই।
ব্রাহ্মন লেখকেরা কোথায় লেখেন? তাঁরা বড় পত্রিকা, সাময়িকী, জার্নাল ইত্যাদিতে লেখেন।
ব্রাহ্মণ লেখক, স্কলার, থিসিস লিখিয়েরা কদ্যপি ফেইসবুকে লেখার কথা ভাবেন না। তবে তাঁরা যেখানেই লেখেন, সেটা শেষ অব্দি আমাদের মতো দুই পয়সার লিখিয়ে বা এক পয়সার পাঠকের কাছে পৌঁছায় না। সেইসব প্রকাশনা গবেষকের টেবিলে যায় আর বাবুসাহেবদের ড্রয়িংরুমের শোভা বাড়ায়।

এবার ভাবুন তো,
প্লিজ এবার সিরিয়াসলি ভাবুন-
দেশের টেকনোক্রাট, মিলিটারি আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাত-বিএনপি ঘরানার শিক্ষক, সরকারী পাচাটা বুদ্ধিজীবি এবং সেটলার ছানাপানারা,
সবাই কেন আমাদের বিরুদ্ধে লেখে? তারা তো বিরামহীন ভাবে লিখেই যাচ্ছে। তারা বিরামহীনভাবে আমাদের কথা ভাবে, আমরাই শুধু আমাদের কথা ভাবি না।

তারা ‘ইনকিলাবে’ লেখে, ‘নয়া দিগন্তে’ লেখে, পাহাড়২৪ ডট কমে লেখে, পার্বত্য নিউজে লেখে,  ‘পূর্বকোনে’ লেখে, ‘আমার দ্বেষে’ লেখে, ট্যাবলয়েডে লেখে, দৈনিকে লেখে, ব্লগে লেখে, ফেইসবুকে লেখে।

কেন লেখে? কিসের ঠ্যালায় লেখে? তারা যে ঠ্যালা অনুভব করে আপনারা কেন তেমন অনুভব করেন না? একজন আর্মি ব্রিগেডিয়ারের কি ঠ্যাকা পড়েছে আমরা আদিবাসী কি না এই আলোচনা ওয়েবে লেখার? তিনি তো দিব্যি আছেন- খেয়ে পড়ে লাঠি ঘুড়িয়ে, গোলা উড়িয়ে চমৎকার আছেন। তবু কেন তিনি আমাদের রাষ্ট্রদ্রোহী বানানোর তালে কিছু না কিছু লেখেন আর আপনারা কিসসু লেখেন না?
প্লিজ… ভাবুন, তাঁরা কেউ নৃবিজ্ঞানী নন তবু অপবিজ্ঞানী হয়ে তাঁরা ভাবেন, আর আপনারা নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে পড়েও কিসসু ভাবতে চান না।
কেন ভাবেন না আপনারা? কেন ????

একজন আর্মি অফিসার যে লেখালেখির ঠ্যালা অনুভব করে আপনারা কেন অনুভব করেন না? কি হবে বড় বড় পাস দিয়ে আর বিদেশী ডিগ্রী দিয়ে? যে বিদ্যা মানুষের হৃদয়বৃত্তিকে অবশ করে দেয়, বিবশ করে দেয় সেই বিদ্যার চাইতে বরং মুর্খ হওয়াটা কি মঙ্গল নয়? যে শিক্ষা আমাদের সমাজবিমুখ-আত্মকেন্দ্রীক-ভোগবাদী করে তোলে সেই শিক্ষা শিক্ষা নয়, সেই শিক্ষা কুশিক্ষা।
আপনাদের লেখার দক্ষতা নেই বলবেন তাই তো? এত বড় পাস দিলেন কি করে তাহলে?

আমি বিজনেস-ইকোনমিক্সের ছাত্র হয়েও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে লিখছি। আর যে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র সে গ্রাজুয়েশানের সাথে সাথে সব ভুলে গিয়ে দাসত্বের পড়া মুখস্ত করছে। আমি মনে করিনা যে এদের দু পাতা লেখার ক্ষমতা নেই। অবশ্যই আছে। যা নেই সেটা হচ্ছে স্পিরিট, দায়বদ্ধতা আর সংবেদনশীলতা। দাসবৃত্তির জীবনাভ্যাস আর রাষ্ট্রীয় ভাবাধিপত্য (হেজেমনি) সবাইকে এমনভাবে অবশ, বিবশ করে ফেলেছে যে এই বাবুসমাজ নিজের চেনা গন্ডির বাইরে আর কিছু ভাবতেই পারে না। কেবল ক্ষুন্নিবৃত্তিই যদি জীবন হয় তবে সেটা জীবনের অপমান- বড় বড় পাস দিয়েও কেউ এ কথাটা  উপলদ্ধি করতে পারলো না। এটা এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্দিতা
খালি মানুষ মারার বিদ্যা জানা একজন সামরিক কমান্ডার যদি নৃবিজ্ঞানী সেজে কলাম লিখতে পারে, যে ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করেছে সে কেন লিখতে পারে না? কারণ সে লেখার দায় অনুভব করে না। আমি জানি আমার লেখার মান ভালো নয়, তবু আমি লিখি- কারণ আমাকে ভিতর থেকে কেউ টেনে বসায় কি বোর্ডের সামনে।

(৩)
বছর দুয়েক আগে ‘আমাদের’, মানে আমাদের মতন নমঃশূদ্র লিখিয়েদের কটাক্ষ করে একজন ‘স্কলার’ আমাকে বলেছিলো, “তোদের কোন হুঁশ জ্ঞান নাই। তুরা কিছুই জানিস না খালি ফেইসবুকে ফাল পারিস।” তার বিদেশী ডিগ্রী আছে। বিদেশী ডিগ্রী আর বড় চাকুরির জোরে তার কথার ওজন বেড়ে গেছিলো দুইশ’ টন। আমার ওজন তখন মাত্র ষাট কেজি। আমি তবু লিখে গেছি, এখনো লিখছি। ওজন দিয়ে আমি লেখা মাপি না।
তিনি বা তাঁরা অনেক কিছুই জানেন কিন্তু তাঁদের জানাবোঝার কোন সামষ্টিক পারপাস (Purpose- উদ্দেশ্য, অভিমুখ) নেই।

তাঁদের পারপাস শুধু মগজ বেচে সংসার প্রতিপালন করা পর্যন্ত।
তাঁদের কোন পারপাস না থাকলেও
যে নিপীড়ক সে কিন্তু সেইসব স্কলারদের ঠিকই নিজের পারপাসে কাজে লাগায়। কেননা, “If you are silent in a situation of oppression, you have chosen to the side to the oppressor. ” আমরা নিরব আছি অথচ তারা ঠিকই সরব। যে নিপীড়ন করছে, সে নিপীড়নের যুক্তিগুলো বেশ ভালো করে ফলাও করে প্রচার করছে। তারা একের পর এক তত্ত্ব হাজির করছে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, অবদমনের তত্ত্ব, নিপীড়নের তত্ত্ব, নির্মূলের তত্ত্ব। যেমন-
“বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নাই, বাঙালিরাই আদিবাসী।” এটা একটা দমনমূলক তত্ত্ব। এটা পলিটিক্সও বটে- আইডেন্টিটি পলিটিক্স।
“পাহাড়ি মানেই রাষ্ট্রদ্রোহী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, ষড়যন্ত্রকারী- সুতরাং এদেরকে মাইরের উপ্রে রাখতে হবে।” এটা একটা নিপীড়নের তত্ত্ব, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কনস্পিরেসি থিওরি। তারা এমন হাজারটা তত্ত্ব তাদের গয়েবলসীয় (Joseph Goebbels) মিডিয়াতে প্রচার করছে।
বিশ্বাস না হলে উপরে যেসব পত্রিকা আর ওয়েবসাইটের উল্লেখ করেছি সেখানে গিয়ে দেখুন। এইসব কনস্পিরেসি থিওরি দিয়ে তারা তাদের দমন-পীড়নকে জাস্টিফাই করে।

জুম্মদের সমাজে খুঁজে দেখলে হাজার হাজার গ্রাজুয়েট পাওয়া যাবে। কি করছে তারা?
তারা সব হাত-পা পরিস্কার করে তামাশা দেখছে। ড্রয়িংরুমে বসে আমার মতো নমশূদ্র ব্লগারদের নিয়ে মশকরা করছে, টিপ্পনী কাটছে। আবার জাত গেল জাত গেল করে বিলাপ করছে। এত বড় বড় ডিগ্রী নিয়েও সরল সত্যটা কেউ ধরতে পারে না। একটা স্টেট ম্যাকানিজমে কেউ নিউট্রাল থাকতে পারে না। প্রতিটা সত্তাই হয় অথরিটির পক্ষে নতুবা তার বিপক্ষে।

(৪)

আমি আপনাদের সামনে আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় ফাঁকিটা দেখাচ্ছি-
আমাদের সবচেয়ে বড় অভাবটা হচ্ছে আমাদের ‘পিপল’স ইন্টেলেকচুয়াল’ নেই। মানে হচ্ছে গনমানুষের চিন্তক নেই। এমন বুদ্ধিজীবি নেই যে গণমানুষের বেদনা অনুভব করে এবং যুগসন্ধিক্ষনের ডাক শুনতে পায়। এমন মুক্তচিন্তক নেই যে বিশ্ব, রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জগৎ-জীবনের স্বরূপ তুলে ধরে। আমাদের হাজার হাজার গ্রাজুয়েট আছে কিন্তু মুক্তচিন্তা-মুক্তবুদ্ধি চর্চার লোক নেই। আমাদের নিস্ক্রীয়, নির্বিরোধী, নিঃসার বাবুসমাজ আছে কিন্তু কর্মী, স্রষ্টা, দ্রষ্টা নেই।
ফলে আমরা আজ দিশহীন হয়ে অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।

অথচ-
পার্বত্য চট্টগ্রাম যে বাংলাদেশের একটা উপনিবেশ একথা সাহস করে আজ অবধি কেউ উচ্চারণ পর্যন্ত করেনি।
গত তিন দশকে বাংলাদেশের শোষণমূলক পুঁজিবাদের সাথে পাহাড়ের আধা-সামন্তীয় পশ্চাৎপদ অর্থনীতির মিথস্ক্রীয়ায় কিভাবে আদিবাসীরা আরও প্রান্তিক হয় সেই অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ আমাদের নেই।
আমাদের জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস নিয়ে আরও অনেক কাজ হওয়া দরকার।
জুম্ম জাতীয়তাবাদের একাল-সেকাল এবং বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় তার প্রায়োগিকতা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা দরকার।
বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় আমাদের নির্ধারণ করা দরকার কোন পথে লড়ে বা কোন উপায়ে গড়ে আমাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং সমাজ বিকাশের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়া দরকার।
শোষক-নিপীড়কের প্রত্যেকটা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের শাণিত কলম ধরা দরকার।
ভাববার মতন, লেখার মতন, পড়ার মতন, গবেষণা করার মতন অনেক অনেক ক্ষেত্র পড়ে আছে। অনেক কিছু করা বাকী কিন্তু আমরা কেউই কিচ্ছু করছি না।

আমরা  সবাই দু কলম পড়ে দুটা সার্টিফিকেট ধরে শুধু জীবন পোষার আপোষী-পাপোষী পথ বেছে নিয়েছি। এভাবে একটা জাতি, একটা সংগ্রাম বিকশিত হয় না। এভাবে মানুষের মুক্তি হয় না। এভাবে বিকাশ হয় না। এভাবে ক্ষয় হয়।

ভাবুন তো, কয়েক বছর আগে, সন্তু লারমা মহোদয় একটা তত্ত্ব দিয়েছিলেন। শ্রেণী শত্রু খতমের তত্ত্ব। তাঁর মতে ইউপিডিএফ হচ্ছে শ্রেণী শত্রু সুতরাং তাদের নির্মূল করতে হবে। তাঁর এই তত্ত্বের বিপরীতে কেউ কিছু বললো না। জেএসএস কি শ্রেণী সংগ্রাম করছে? না। তাদের সংগ্রাম জাতীয়তাবাদী এবং তার অভিমুখ সর্বহারার একনায়কত্ব নয়। তাদের পার্টি একটা পেটি বুর্জোয়া পার্টি। যে পার্টি নিজেই একটা সংশোধনবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল পার্টি সে কি করে আরেকটা পার্টিকে শ্রেণী শত্রু ঠাউরে নির্মূল করতে চায়? তার মানে এটা আর কিছুই নয়, প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার তত্ত্ব।
ইউপিডিএফ তার জন্ম লগ্ন থেকে পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। বস্তুত তাদের চুক্তিবিরোধী আন্দোলনের ফলে জুম্ম জনতার ক্ষতি ছাড়া লাভ হয়নি। অথচ সেদিন থেকে যদি একটা সচেতন মহল সাহস করে যুক্ত আন্দোলনের যৌক্তিকতায় তাদের তাত্ত্বিক অসাড়তা দেখিয়ে দিতে পারতো তবে চুক্তির অনেকখানিই আজকে  পূরণ হতো।

জুম্মদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর যদি মধ্যবিত্ত সমাজকে ধরি, সেই মধ্যবিত্তের চিন্তার অনগ্রসরতা  কেমন সেটা বিচারের সময় কি আমাদের হয় নি?

সেই মধ্যবিত্ত সমাজটা কখনোই সংবেদনশীল ছিলো না। যদিও সমাজের সবচেয়ে শিক্ষিত অংশটা তারাই ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করার মতন একটা প্লাটফর্ম, যেমন হুইসল ব্লোয়ার বা সিভিল সোসাইটির প্রয়োজনীয়তা তখনো ছিলো, আজও আছে। আজ তার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। কিন্তু আমাদের কাউন্টার ইনসারজেন্সির পরিপূরক বাবুসমাজটা চিরকাল বাবুসোনার মতো সুবোধ বালক বা লক্ষী মেয়েটা হয়ে থাকতে চায়। সেই আশির দশকে কাউন্টার ইনসারজেন্সির টনিক খেয়ে বেড়ে উঠা বাবুসমাজের চরিত্র আজও তেমনি রয়ে গেছে। তখন আর্মির প্রত্যায়িত চাকুরী নিয়ে বাবুসমাজ চুপ থাকতো আর আজ সরকারী প্রত্যায়নের চাকুরী নিয়ে চুপ থাকে।

আজও যদি সেই বাবুসমাজ বাবুসোনা হয়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতের দায় এই বাবুসমাজকেও নিতে হবে। সেই সেদিনের বোবা-কালা-কানা বাবুসমাজের বাবুসোনাটা এখন মস্ত বড় হয়েছে। আজ যদি সেই বাবুসোনাটা প্রচন্ড সাহসে গা ঝাড়া দিয়ে না উঠে তাহলে ভবিষ্যতে আর কোনদিন উঠে দাঁড়াতে পারবে না।


About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3063

3 comments

4 pings

  1. Dhiman Khisa

    Rudhro Tandob, apni somvoboto UPDF-er sathe jukto. Ami kintu JSS ba onnyo kono doler rajniti korina. Somoshya holo apnara, mane paharer rajnitibidera ekhon sobkichukei bivajito (compartmentalized) format-e dekhe thaken ba dekhte chan. Ami bolini je JSS-er rajniti valo ba ta-ke support kori. Ami jeti bujhate cheyechi seti holo, dolgulo alada alada vabe valo kaj korleo tar sufol amra pacchina, amader nijeder modhye bivajito sohingso rajnitir karone. Tai sufol pete hole 'amar dol valo kaj korche', 'ami valo kaj korechi' jatiyo vabona theke sore ase 'amra korechi' 'jummora sobai mile koreche' jatiyo vabona ba mononer sto-re neme aste hobe. Ami apnader moto kore jummoderke bivajito vabe dekhte chai-na. Jummo holei ami ta-ke amar nijer rokto bole bibechona kori. Jummo/manush keu nihoto holei mon kende othe. Chakma vashai 'chit pure'. Hoito amader moto boka manusherai sevabe vabe!!

    Sob doler oneker sathe amar kichuta jana-suna thakar subade bolte pari, songhat bondho korar kajti-ke je sorol rekhar moto kore ami/apni vabchi (mane JSS chacchena bole songhat bondho hocchena), se rokom sohoj sorol bishoy seti hoito noi. Eti ekhon gota sub-continental, emonki global geo-politics-er sathe somporkito. Bishwayoner challenge bolte ami sedik-tar proti ingit korechi. Agami dui dosoker moddhye regional connectivity-r (i.e. Asian highway, silk route etc.) karone ei oncholer geo-politics je natokiyo gotite poribortito hote jacche, sekhane amader jummoder obosthan kothai giye thekbe, sesober dike nojor dewa ektu proyojon bole mone kori. Rajnoitik dolgulo sevabe na vable amar moto sadharon publicder seti vava kototukui ba foldayok hobe? Tokhon hoito dekhben 'vumi bedokhol, bangali jatiyotabadi agrason, ethnic cleansing, marginalization, militarisation' ityadi 'prodhan somosya'ke mathai rekhe amader je bortoman rajniti, seti oproyojonio hoye geche. Karon amader nijeder maramari ba jar jar tatwik obosthaner karone (ba aladavabe nijer dolke protisthito korte jawar karone) itimoddhye amra hoito sobkichi hariye felbo. Jevabe development/tourism etc. karone amader onek jummo ma-bon ekhon ponnye porinoto hote (hariye jete) badhyo hocchen.

    Asole songhat bondher jonno ekhon dorkar ekti boro hridoy/mon, political will, sahos ebong brihottor jatiyo swarther bibechona. Upore sub-continental insurgency mechanism ba amader moto durvaga choto jatigulor kayemi swartho/shoktir sathe aste-prishte joriye jawar je bastobota ba swartho-jal, seti-ke chinre amra ki eto sohoje beriye aste parbo? Apni apnar doler sorboccho moholer sathe govirvabe alochona kore amader sobar jonno ekti uttoroner upai khunjte paren.

    Apnar dol andolone ache, thakbe. Kintu amader andoloner sob sufol kara pacche? Amader narira-shishura dhrshito hocche, bhumi bedokhol jothariti cholche, sohor theke pahar/bonanchol sorbotro 'ora' dhuke jacche, road/highway paharer sob onchol-kei ekakar kore dicche, Amader sobar baper sadhyo ki ache sesob rodh korar? Keno parchina? Seti ki sudhumatro ekjon Santu Larmar Karone? Naki bohujon Santu Larmar sonmilito byorthotar karone? Ektu vebe dekhar onurodh korchi.

    Dhonyobad apnake apnar uthsaho-byonjok govir motamot uposthapon ebong amar boktobyo sonar udarotar jonnyo. Apnar doler jonno ontor theke suvokamona roilo. Apnara jekhanei thaken, sobai valo thakben.

  2. Dhiman Khisa

    Rudhro Tandob, apni somvoboto UPDF-er sathe jukto. Ami kintu JSS ba onnyo kono doler rajniti korina. Somoshya holo apnara, mane paharer rajnitibidera ekhon sobkichukei bivajito (compartmentalized) format-e dekhe thaken ba dekhte chan. Ami bolini je JSS-er rajniti valo ba ta-ke support kori. Ami jeti bujhate cheyechi seti holo, dolgulo alada alada vabe valo kaj korleo tar sufol amra pacchina, amader nijeder modhye bivajito sohingso rajnitir karone. Tai sufol pete hole 'amar dol valo kaj korche', 'ami valo kaj korechi' jatiyo vabona theke sore ase 'amra korechi' 'jummora sobai mile koreche' jatiyo vabona ba mononer sto-re neme aste hobe. Ami apnader moto kore jummoderke bivajito vabe dekhte chai-na. Jummo holei ami ta-ke amar nijer rokto bole bibechona kori. Jummo/manush keu nihoto holei mon kende othe. Chakma vashai 'chit pure'. Hoito amader moto boka manusherai sevabe vabe!!

    Sob doler oneker sathe amar kichuta jana-suna thakar subade bolte pari, songhat bondho korar kajti-ke je sorol rekhar moto kore ami/apni vabchi (mane JSS chacchena bole songhat bondho hocchena), se rokom sohoj sorol bishoy seti hoito noi. Eti ekhon gota sub-continental, emonki global geo-politics-er sathe somporkito. Bishwayoner challenge bolte ami sedik-tar proti ingit korechi. Agami dui dosoker moddhye regional connectivity-r (i.e. Asian highway, silk route etc.) karone ei oncholer geo-politics je natokiyo gotite poribortito hote jacche, sekhane amader jummoder obosthan kothai giye thekbe, sesober dike nojor dewa ektu proyojon bole mone kori. Rajnoitik dolgulo sevabe na vable amar moto sadharon publicder seti vava kototukui ba foldayok hobe? Tokhon hoito dekhben 'vumi bedokhol, bangali jatiyotabadi agrason, ethnic cleansing, marginalization, militarisation' ityadi 'prodhan somosya'ke mathai rekhe amader je bortoman rajniti, seti oproyojonio hoye geche. Karon amader nijeder maramari ba jar jar tatwik obosthaner karone (ba aladavabe nijer dolke protisthito korte jawar karone) itimoddhye amra hoito sobkichi hariye felbo. Jevabe development/tourism etc. karone amader onek jummo ma-bon ekhon ponnye porinoto hote (hariye jete) badhyo hocchen.

    Asole songhat bondher jonno ekhon dorkar ekti boro hridoy/mon, political will, sahos ebong brihottor jatiyo swarther bibechona. Upore sub-continental insurgency mechanism ba amader moto durvaga choto jatigulor kayemi swartho/shoktir sathe aste-prishte joriye jawar je bastobota ba swartho-jal, seti-ke chinre amra ki eto sohoje beriye aste parbo? Apni apnar doler sorboccho moholer sathe govirvabe alochona kore amader sobar jonno ekti uttoroner upai khunjte paren.

    Apnar dol andolone ache, thakbe. Kintu amader andoloner sob sufol kara pacche? Amader narira-shishura dhrshito hocche, bhumi bedokhol jothariti cholche, sohor theke pahar/bonanchol sorbotro 'ora' dhuke jacche, road/highway paharer sob onchol-kei ekakar kore dicche, Amader sobar baper sadhyo ki ache sesob rodh korar? Keno parchina? Seti ki sudhumatro ekjon Santu Larmar Karone? Naki bohujon Santu Larmar sonmilito byorthotar karone? Ektu vebe dekhar onurodh korchi.

    Dhonyobad apnake apnar uthsaho-byonjok govir motamot uposthapon ebong amar boktobyo sonar udarotar jonnyo. Apnar doler jonno ontor theke suvokamona roilo. Apnara jekhanei thaken, sobai valo thakben.

  3. Dhiman Khisa

    Rudhro Tandob, apni somvoboto UPDF-er sathe jukto. Ami kintu JSS ba onnyo kono doler rajniti korina. Somoshya holo apnara, mane paharer rajnitibidera ekhon sobkichukei bivajito (compartmentalized) format-e dekhe thaken ba dekhte chan. Ami bolini je JSS-er rajniti valo ba ta-ke support kori. Ami jeti bujhate cheyechi seti holo, dolgulo alada alada vabe valo kaj korleo tar sufol amra pacchina, amader nijeder modhye bivajito sohingso rajnitir karone. Tai sufol pete hole ‘amar dol valo kaj korche’, ‘ami valo kaj korechi’ jatiyo vabona theke sore ase ‘amra korechi’ ‘jummora sobai mile koreche’ jatiyo vabona ba mononer sto-re neme aste hobe. Ami apnader moto kore jummoderke bivajito vabe dekhte chai-na. Jummo holei ami ta-ke amar nijer rokto bole bibechona kori. Jummo/manush keu nihoto holei mon kende othe. Chakma vashai ‘chit pure’. Hoito amader moto boka manusherai sevabe vabe!!

    Sob doler oneker sathe amar kichuta jana-suna thakar subade bolte pari, songhat bondho korar kajti-ke je sorol rekhar moto kore ami/apni vabchi (mane JSS chacchena bole songhat bondho hocchena), se rokom sohoj sorol bishoy seti hoito noi. Eti ekhon gota sub-continental, emonki global geo-politics-er sathe somporkito. Bishwayoner challenge bolte ami sedik-tar proti ingit korechi. Agami dui dosoker moddhye regional connectivity-r (i.e. Asian highway, silk route etc.) karone ei oncholer geo-politics je natokiyo gotite poribortito hote jacche, sekhane amader jummoder obosthan kothai giye thekbe, sesober dike nojor dewa ektu proyojon bole mone kori. Rajnoitik dolgulo sevabe na vable amar moto sadharon publicder seti vava kototukui ba foldayok hobe? Tokhon hoito dekhben ‘vumi bedokhol, bangali jatiyotabadi agrason, ethnic cleansing, marginalization, militarisation’ ityadi ‘prodhan somosya’ke mathai rekhe amader je bortoman rajniti, seti oproyojonio hoye geche. Karon amader nijeder maramari ba jar jar tatwik obosthaner karone (ba aladavabe nijer dolke protisthito korte jawar karone) itimoddhye amra hoito sobkichi hariye felbo. Jevabe development/tourism etc. karone amader onek jummo ma-bon ekhon ponnye porinoto hote (hariye jete) badhyo hocchen.

    Asole songhat bondher jonno ekhon dorkar ekti boro hridoy/mon, political will, sahos ebong brihottor jatiyo swarther bibechona. Upore sub-continental insurgency mechanism ba amader moto durvaga choto jatigulor kayemi swartho/shoktir sathe aste-prishte joriye jawar je bastobota ba swartho-jal, seti-ke chinre amra ki eto sohoje beriye aste parbo? Apni apnar doler sorboccho moholer sathe govirvabe alochona kore amader sobar jonno ekti uttoroner upai khunjte paren.

    Apnar dol andolone ache, thakbe. Kintu amader andoloner sob sufol kara pacche? Amader narira-shishura dhrshito hocche, bhumi bedokhol jothariti cholche, sohor theke pahar/bonanchol sorbotro ‘ora’ dhuke jacche, road/highway paharer sob onchol-kei ekakar kore dicche, Amader sobar baper sadhyo ki ache sesob rodh korar? Keno parchina? Seti ki sudhumatro ekjon Santu Larmar Karone? Naki bohujon Santu Larmar sonmilito byorthotar karone? Ektu vebe dekhar onurodh korchi.

    Dhonyobad apnake apnar uthsaho-byonjok govir motamot uposthapon ebong amar boktobyo sonar udarotar jonnyo. Apnar doler jonno ontor theke suvokamona roilo. Apnara jekhanei thaken, sobai valo thakben.

  4. rudra tandab

    ধীমান খীসা, আপনি ভ্রাট্টিঘাটি সংঘাতের কথা তুলে ধরেছেন,যেখানে ইউপিডিএফকে দোষারোপ করছেন।কিন্তু ইউপিডিএফকে দোষারোপ করা কতটুকু যুক্তিসংগত?প্রকৃত পক্ষে ভ্রাট্টিঘাটি সংঘাতের জন্য দায়ি কারা এবং কারা তা বন্ধ করছে না তা বিবেচনা-বিচার বিশ্লেষণ না করে ঢালাও ভাবে ইপিডিএফকে সমালোচনা করছেন যা অযুক্তিক।ইউপিডিএফ কখনো ভ্রাট্টিঘাতি সংঘাতের পক্ষে ছিল না।কিন্তু জেএসএস শুরু থেকে ইউপিডিএফের ওপর হামলা করে ভ্রাট্টিঘাতি সংঘাট শুরু করেছিল।এই সংঘাট বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকবার ইউপিডিএফ জেএসএসকে প্রস্তাব দিয়েছে,কিন্তু তারা বার বার তা প্রত্যাখান করেছে।এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজও এ সংঘাট বন্ধ করার জন্য সন্তু লারমার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু সন্তু লারমা তাদের প্রস্তাবও প্রত্যাখান করেছিলেন।তাই প্রকৃত সচেতন মানুষ জানে ভ্রাট্টিঘাতি সংঘাতের জন্য দায়ি কারা,জানেন না শুধু আপননি এবং আপনারমত “অতিপন্ডিত” ব্যক্তিরা!
    আপনি প্রশ্ন করে আরো বলেছেন,“আগামি দিনের বিশ্বায়নের মূল চ্যালেঞ্জ ও মুসলিম জাতীয়তাবাদকে মোকাবেলা না করে শুধু চুক্তি ভালো-মন্দ নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি কি তাতে বাঁচবে?” আপনি এখানে মূল সমস্যা হিসেবে বিশ্বায়নের আগ্রাসীর ভূমিকা তুলে ধরেছেন।এটা ঠিক বিশ্বায়ন যে কোন দেশ,সমাজ,জাতি,সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলছে।কিন্তু তা সত্বেও তা পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক বা প্রধান সমস্যা নয়;এখানে প্রধান হচ্ছে,জাতিগত নিধনের চক্রান্ত,সেনা-সেটলার সমস্যা ভূমিবেদখল,বাঙালি জাতীয়তাবাদ আরোপ প্রভৃতি।এসব সমস্যা বাইরের অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে।আপনি বিএনপি জামাতের মুসলিম জাতীয়তাবাদকে উল্লেখ করলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তুলে ধরেন নি।বিশ্বায়নকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে আপনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যাই চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
    অন্যদিকে আমাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রধান সমস্যা ভ্রাট্টিঘাতি সংঘাত।আপনার মতে মূল সমস্যা মোকাবেলা না করে ইউপিডিএফ শুধু চুক্তি ভাল মন্ধ নিয়ে পড়ে আছে যা একেবারে সঠিক নয়।ইউপিডিএফই একমাত্র পাহাড়ে যে দমন-পীড়ন,ভূমি বেদখল,সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও আন্দোলন তথা মিটিং মিছিল করে যাচ্ছে।ইউপিডিএফ লাগাতার আন্দোলনে রয়েছে,অথচ আপনি তা দেখেন না!জেএসএস আন্দোলন না করে সরকারের সাথে আঁতাত করে প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকান্ড করে যাচ্ছে,কিন্তু তাতে আপনি নিরব রয়েছেন!

  5. Dhiman Khisa

    UPDF chuktike osompurno mone koreche, tai alada dol gothon kore purboton JSS-ke tyag koreche. Erpor dui pokkhe onek songhorsho hoyeche ebong tate prai 1000 jon jummo bhrata-vogni-sontan okale pran bishorjon diyechen. Tahole chukti monoputo na howar 'end result'-ta kee? Nij jatir etosob torun manush/bhai/swajan-ke hariye kaar kee lav hoyeche? Agami dine biswayoner mul challenge aar agrasi muslim jatiyotabad-ke na mokabila kore sudhu chukti valo ki mondo – ta niye pore thakle ai jati ki banchbe? Kotodin banchbe? Jekhane asol somoshya-gulokei aamra akhono chinlam-na?

  6. Dhiman Khisa

    UPDF chuktike osompurno mone koreche, tai alada dol gothon kore purboton JSS-ke tyag koreche. Erpor dui pokkhe onek songhorsho hoyeche ebong tate prai 1000 jon jummo bhrata-vogni-sontan okale pran bishorjon diyechen. Tahole chukti monoputo na howar 'end result'-ta kee? Nij jatir etosob torun manush/bhai/swajan-ke hariye kaar kee lav hoyeche? Agami dine biswayoner mul challenge aar agrasi muslim jatiyotabad-ke na mokabila kore sudhu chukti valo ki mondo – ta niye pore thakle ai jati ki banchbe? Kotodin banchbe? Jekhane asol somoshya-gulokei aamra akhono chinlam-na?

  7. rudra tandab

    পাইচি মং মারমা আপনি ৮ আগস্টে chtbd ব্লকে “ফেসবুক-ব্লগের ফেলনা ” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন যেখানে বাবুসমাজ, জেএসএস ও ইউপিডিএফের সমালোচনা করেছেন।আপনি বাবুসমাজ ও জেএসএসের প্রতি যে সমালোচনা করেছেন,সেটি যুক্তিকতা আছে বলে মনে করি।কিন্তু আপনি ইউপিডিএফকে নিয়ে যে সমালোচনা করেছেন সেটি কোন যুক্তিকতা দেখি না।আপনি লেখার শেষের দিকে লিখেছেন “ইউপিডিএফ তার জন্মলগ্ন থেকে পার্বত্য চুক্তি বিরোধীতা করে আসছে।বস্তুত তাদের চুক্তি বিরোধী আন্দোলনের ফলে ক্ষতি ছাড়া লাভ হয়নি।অথচ সেদিন থেকে যদি একটা সচেতন মহল সাহস করে যুক্ত আন্দোলনের যৌক্তিকতায় তাদের তাত্ত্বিক অসারতা দেখিয়ে দিতে পারতো তবে চুক্তি অনেকখানিই পূরণ হতো।”
    আপনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলতে চাই,প্রথমত ইউপিডিএফ চুক্তি বিরোধী আন্দোলন করছে না, পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে।চুক্তি দূর্বল ও অসম্পূর্ণ এবং এটির মাধ্যমে অধিকার অর্জন হওয়া সম্ভব নয় বলে ইউপিডিএফ চুক্তিকে সমালোচনা করে,কিন্তু তাই বলে চুক্তি বিরোধীতা করে কিংবা বাতিলের দাবিতে কথনো আন্দোলন করেনি। কিন্তু আপনি বলেছেন, ইউপিডিএফ “চুক্তি বিরোধী আন্দোলন” করে ক্ষতি হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।দয়া করে প্রমাণ দিন কখন চুক্তি বিরোধীতা করে কিংবা বাতিলের জন্য ইউপিডিএফ কবে আন্দোলন করেছে?ইউপিডিএফ চুক্তি সমালোচনা করে কি ক্ষতি হয়েছে তা ব্যাখ্যা দিন।
    দ্বিতীয়ত,ইউপিডিএফ তৎকালীন সময়ে চুক্তিকে যে সমালোচনা করেছিল সেটিকে আপনি তাত্ত্বিক অসারতা খুজে পেয়েছেন।যেহেতু আপনি সেই সমালোচনার মধ্যে অসারতা খুজে পেয়েছেন,সে কারণে সেই অসারতার ব্যাখ্যা দেয়া উচিত ছিল, কিন্তু আপনি ব্যাখ্যা দেন নি।দয়া করে চুক্তি বিষয়ে ইউপিডিএফের সমালোচনা কি কারণে অসার তা ব্যাখ্যা দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>