«

»

এই লেখাটি 684 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

প্রসঙ্গঃ সম্ভাবনার পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়নের স্বপ্ন ও বাস্তবতা

১।

গত ২৯-০৭-১৫ ইং “দৈনিক পূর্বকোণ”, “বাংলাদেশ প্রতিদিন”, “ দৈনিক নয়াদিগন্ত”, “দৈনিক ইত্তেফাক” এবং “ পার্বত্যনিউজ ডট কম” এর অনলাইন সংষ্করনে “সম্ভাবনার পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়নের স্বপ্ন ও বাস্তবতা” শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশিত হয় । লেখাটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে http://www.bd-pratidin.com/open-air-theater/2015/07/30/96574 । লেখাটি লিখেছেন, গুইমারা রিজিওন এবং ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ( ব্রি. জে. মো. তোফায়েল আহমদ, পিএসসি )। পার্বত্য চট্টগ্রামের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে যারা এক-আধটু জ্ঞান রাখেন তারা লেখাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে জলপাইওয়ালাদের মনোভাব । আর যারা এইসব ব্রিগেড কমান্ডারদের দ্বারা ধর্ষণকৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সঠিক ইতিহাস বলে ঠাওর করেন তাদের না জানি কি কি মনোভাবের উদয় হয় ! লেখাটিতে মি. ব্রিগেড কমান্ডার পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে এমন একটি বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, যা পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন এমন মানুষের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী পাহাড়িদের সম্পর্কে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাই দেবে ।

লেখকের এই লেখাটি শুধুমাত্র বাস্তবতা বিবর্জিতই নয়, অনেক ক্ষেত্রে মনঃপুতও ! এদেশে মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধিকে রাষ্ট্রিয় শাসনতন্ত্র দ্বারা দাবীয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে । মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তার চর্চা না থাকার ফলে ব্রি. জে. মো. তোফায়েল আহমদের মত রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তিও তাই ইতিহাস বিকৃতির ফায়দা লুটে নিচ্ছেন !

২।

লেখক তার লেখনির প্রথমেই উল্লেখ করেছেন, “ সুপ্রাচীন কাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্দ অংশ ” সুপ্রাচীন কাল বলতে আমরা সাধারনত হাজার বছর বা ততোধিক ইতিহাসকে বুঝে থাকি । কিন্তু এখানে লেখক, পার্বত্য চট্টগ্রাম কিভাবে বাংলাদেশের সুপ্রাচীন ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্দ অংশ তা উল্ল্যেখ করেননি এমনকি পুরো লেখাটির কোথাও কোন রেফারেন্স বা তথ্যসূত্রও উল্ল্যেখের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেননি ! অথচ বাংলাদেশের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস হল, কাছাকাছি সমান্তরাল আলাদা লাইনে প্রবাহিত আলাদা আলাদা ইতিহাস । লেখক তার লেখাটিতে ইনিয়ে-বিনিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, বাঙালিরাই হল পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি ভুমিপুত্র বা অধিবাসী ( আদিবাসী নয় ) । এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১১ সালের আদমশুমারির ( বাঙালি ৪৭%, চাকমা ২৬%, মারমা ১২% এবং অন্যান্য ১৫% ) তথ্যও উল্ল্যেখ করেছেন । কিন্তু লেখক সুচতুরভাবে এড়িয়ে গেছেন পূর্ববর্তী আদমশুমারিগুলির ( ১৯৪১ সালঃ পাহাড়ি-৯৭.০৬% বাঙালি-২.৯৪%, ১৯৫১ সালঃ পাহাড়ি-৯৩.৭১% বাঙালি-৬.২৯%, ১৯৬১ সালঃ পাহাড়ি-৮৮.২৩% বাঙালি-১১.৭৭% ) প্রসঙ্গ । তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই, বোম ইত্যাদি জাতিগুলির পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস প্রসঙ্গে বলেছেন, “ সিনলুন, চীন, আরাকান, ত্রিপুরা, বার্মা এবং অন্যান্য এলাকা থেকে আনুমানিক মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে আবাস স্থাপন করেছেন । ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় প্রথমে আসেন কুকিরা । পরবর্তীতে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে আসেন আরাকানি গোত্রভুক্ত চাকমা ও মার্মা সম্প্রদায় ” ) । এখানেও লেখক কোনপ্রকার তথ্যসূত্র উল্ল্যেখ করেন নি । তিনি ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে চাকমা এবং মারমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আগমনের কথা তুলে ধরেছেন । সত্যিই কি আসলে চাকমা এবং মারমাদের আগে বাঙালিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি ভুমিপুত্ররুপে বসবাস শুরু করেছে ? ( তথ্যসূত্রঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতার উৎসমূখ, বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন http://chtbd.org/archives/2379 ) ।

৩।

লেখক তার লেখনিতে ইনিয়ে-বিনিয়ে বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি ভুমিপুত্ররুপে প্রমাণের যেমন চেষ্টা করেছেন তেমনি প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিদের কন্ঠে যেভাবে উচ্চারিত হয়, “ বাঙালিরাই আদিবাসী” ! সেই একই সুরের পুনরাবৃত্তি পরিলক্ষিত হয় লেখকের উক্ত লেখনিতে । এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “ বর্তমানে যেসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আছেন তারা ইদানিং নিজেদের আদিবাসী বলে দাবী করেন এবং এ দেশের কিছু মিডিয়া এবং বুদ্ধিজীবি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন না করে, জেনে অথবা না জেনে বিভিন্ন সময়ে এ শব্দের প্রতিধ্বনি করে যাচ্ছেন ” । ইংরেজি শব্দ Indigenous এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, “ আদিবাসী ” । যদিও বাংলা শব্দ আদিবাসী শব্দটির দ্বারা সাধারনত (আদি + অধিবাসী) বলে ধরে নেওয়া হয় কিন্তু আসলে এক্ষেত্রে “আদিবাসী” শব্দটি শুধুমাত্র Indigenous এর প্রতিশব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে শুধুমাত্র । বাংলায় আদিবাসী ( আদি + অধিবাসী ) শব্দটির দ্বারা যেভাবে আদি হতে বসবাসকারী অধিবাসী বুঝানো হয়ে থাকে কিন্তু এক্ষেত্রে Indigenous ( আদিবাসী ) শব্দটির দ্বারা তা বুঝানো হয় না । Indigenous হওয়ার জন্য আদি হতে বসবাস করতে হবে এমন কোন ব্যাপার নেই । আইএলও কনভেনশন-১৬৯ ( ILO CONVENTION-169 ) এর ইন্ডিজেনাস পিপলস ( Indigenous Peoples ) এর সংজ্ঞায় এই ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনে দেওয়া হয়েছে । তবুও মি. ব্রিগেডিয়ার জেনেও যদি না জানার ভান করে আগ্রাসনমূলক কাঠামোর পক্ষে কথা বলেন তবে বলতে হয়, “ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন এখনো সুদূরপরাহত !” )

৪।

লেখক তার লেখনিতে টেনে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গও । লেখক উল্ল্যেখ করেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চাকমা রাজা ত্রিদিপ রায় এবং বোমাং রাজা মংশৈ প্রু চৌধুরীর পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষালম্বন এবং মং রাজা মং প্রু সাইন এর পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষালম্বনের কথা । পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষালম্বন করায় চাকমা রাজা ত্রিদিপ রায় এবং এবং বোমাং রাজা মংশৈ প্রু সাইন অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য নিন্দনীয় অপরাধ করেছেন কিন্তু লেখক যেভাবে কতিপয় পাহাড়ির পশ্চিম পাকিস্তানপন্থী হওয়ার কারনে অধিকাংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে পশ্চিম পাকিস্তানপন্থী হিসেবে এবং রাজাকার ভুমিকায় আখ্যায়িত করেছেন এটাই বা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?

৫।

এরপর লেখক টেনে এনেছেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে চলা ইনসার্জেন্সির প্রসঙ্গ । এখানেও লেখক সুচতুরভাবে পাঠকের পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে তথ্যের অপর্যাপ্তটাকে ব্যবহার করে পাঠকের মননে পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে একপাক্ষিক এবং নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন । তিনি বলেছেন, “ শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছিল অসংখ্য নিরীহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের । বর্তমানে একই ধরনের কার্যক্রম ইউপিডিএফ, জেএস এস এবং সংষ্কারবাদী দলের সন্ত্রাসীরা মিলে করছে তথ্যমতে, ৩০ জুন, ২০১৫ পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে ২ হাজার ৯৬ জনকে হত্যা, ১ হাজার ৮৮৭ জনকে আহত এবং ২ হাজার ১৮৮ জনকে অপহরণ করেছে । শুরু থেকে জুন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫৩ জন প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৫২ জন এবং ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২৫৫ জন ” । এখানেও লেখক কোনপ্রকার তথ্যসূত্র উল্ল্যেখ করেননি । তার চেয়ে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যেকার দীর্ঘ ২১ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত, নিহতের সংখ্যা এবং ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরের মধ্যেকার সময়ে পার্বত্য তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের আন্তঃসংঘাতে আহত, নিহতের সংখ্যাটিও মিশিয়ে একটি জগাখিচুড়ি মূলক তথ্য উপস্থাপন করেছেন । নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আহত-নিহতের যে সংখ্যা তিনি প্রকাশ করেছেন, তা কি ১৯৯৭ পূর্ববর্তী ইনসার্জেন্সির সময়কাল নাকি ১৯৯৭ পরবর্তী সময়কাল তা তিনি উল্ল্যেখ করেননি, এবং পাহাড়িদের যেই আহত-নিহতের সংখ্যা তিনি উল্ল্যেখ করেছেন তা কি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে ইনসার্জেন্সির সময়কালের সংখ্যা নাকি ১৯৯৭ পরবর্তী পাহাড়ি তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের আন্তঃসংঘাতের সময়কালের সংখ্যা ? আর এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে আহত, নিহত হয়েছে কতজন পাহাড়ি ? উত্তর দেবেন কি, মি. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ?

৬।

শান্তিচুক্তি প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন, “ চুক্তি অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক ক্যাম্প ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে অথচ সন্ত্রাসীরা তাদের সব অস্ত্র এখন পর্যন্ত সমর্পন করেননি ” । এখানেও লেখক পূর্বের লেখনির ধারার অনুরুপ শব্দ ব্যবহার করেছেন । একদিকে তিনি চুক্তি পূর্ববর্তী শান্তিবাহিনীর কার্যক্রমকে আখ্যায়িত করছেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে, আবার অন্যদিকে বলছেন চুক্তি বাস্তবায়নের কথা । তবে প্রশ্ন থেকে যায়, সরকার কি তাহলে সন্ত্রাসীদের সাথে চুক্তি করেছে ? কেনই বা করেছে ? লেখাটির আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন, “ শান্তিচুক্তির জটিল যে বিষয়টি তা হচ্ছে ভুমি ব্যবস্থাপনা ” । হ্যা, ভুমি সমস্যা অবশ্যই পার্বত্য সমস্যাগুলির মধ্যে একটি বিশাল বড় সমস্যা । কিন্তু এই ভুমি সমস্যা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারন হিসেবে তিনি একপাক্ষিকভাবে পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির ( লেখকের ভাষায় সন্ত্রাসী সংগঠন ) দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন । অথচ তিনি কোনভাবেই উল্ল্যেখ করেননি, পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলি কেন ভুমি কমিশনের কার্যক্রমের বিরোধীতা করছে । পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুমি প্রসঙ্গে জানতে এখানে ক্লিক করুন http://chtbd.org/archives/2885

৭।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজী প্রসঙ্গে লেখক বেশ কিছু নির্ভেজাল সত্যের অবতাড়না করেছেন কিন্তু এসব চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি বন্ধ না হওয়ার পেছনের কারন হিসেবে সেনা প্রশাসনের ভুমিকার কথাও যে শোনা যায় অনেক সময় ! এ বিষয়ে একটি ঘটনার কথা শোনা যায় । ঘটনাটি এমন…………

বেশ কিছু বাঙালি ব্যবসায়ী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির আশায় গিয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তার কাছে । সেই সেনা কর্মকর্তা তাদের ধমক দিয়ে বললেন, “ চাঁদা দেবেন না কেন ? অবশ্যই দেবেন । বেশি বেশি দেবেন । আপনারা যদি চাঁদা না দেন তবে ওরা ( তি পার্বত্য আঞ্চলিক দল ) অস্ত্র কিনবে কিভাবে ? আর অস্ত্র কিনতে না পারলে ওরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে মরবে কিভাবে ?” চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজির ব্যাপারে উর্দিওয়ালাদের ভুমিকা কি এটাই ? নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি বন্ধ হয়ে গেলে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান, সন্ত্রাসী ধরা অভিযানের নাটকগুলি বন্ধ হয়ে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই তৃতীয়াংশের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে ?

৮।

তিনি রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধিতা করাকে আখ্যায়িত করেছেন, “ এ এলাকার মানুষদের পশ্চাৎপদ করে রাখার চেষ্টা হিসেবে ” । যেই এলাকার অধিকাংশ শিশু প্রাইমারির গন্ডি পেরোনোর আগে ঝড়ে পরে যায় সেখানে স্কুল, কলেজের শিক্ষার ভিট মজবুত না করে মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কার স্বার্থে ? যোক্তিকতাই বা কতটুকু ? নাকি স্কুল, কলেজের গন্ডি না পেরিয়ে পার্বত্যবাসীরা মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে ? এমনটি হলে কি চমৎকারটিই না হত !

৯।

এরপরে তিনি উল্ল্যেখ করেছেন, “ স্বাধীন জুম্মল্যান্ড ” প্রতিষ্টার প্রসঙ্গটি । তিনি বলেন, “ পার্বত্য সন্ত্রাসীদের তৃতীয় দিবা কিংবা অলিক স্বপ্ন হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্বশাসিত প্রকারান্তরে স্বাধীন একটি দেশ প্রতিষ্টা করা, যার নাম হবে জুম্মল্যান্ড ” । লেখক সম্ভবত এই পর্যায়ে এসে চুক্তির কথাটি বেমালুম ভুলে গেছেন অথবা চেপে গেছেন ! তা নাহলে স্বায়ত্বশাসন আর স্বাধিনতার প্রসঙ্গ এক করে গুলিয়ে ফেলতেন না । পাহাড়িরা যদি এখনো স্বায়ত্বশাসনের দাবীও করে থাকে তবুও লেখক কোন দৃষ্টিতে স্বায়ত্বশাসন আর আলাদা স্বাধিন দেশ সৃষ্টিকে এক করে দেখছেন তা বোধগম্য নয় । নাকি শুধুমাত্র জুজুর ভয় থেকেই এই ধরনের দৃষ্টিকোণের উৎপত্তি ?

১০।

লেখাটির পরবর্তী অংশে তিনি উল্ল্যেখ করেছেন, “ এখানকার স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আরেকটি স্বপ্ন এখানে বসবাসরত অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অর্থাৎ বাঙালি সম্প্রদায়কে এখান থেকে বিতারিত করা ” । আসলেই কি তাই ? নাকি সামরিক ছত্রছায়ায় আশির দশক থেকে বর্তমান পর্যন্ত পাহাড়িদেরকে নিজ ভুমি থেকে উচ্ছেদ করে অভিবাসন করানো বাঙালি ( সেটেলার ) এবং আদি স্থায়ী বাঙালিদের প্রসঙ্গ এক পাল্লায় উপস্থাপন করে পুরো দেশবাসীর কাছে পাহাড়িদের সম্পর্কে কি ধরনের নেতিবাচক তথ্য পৌছাতে চান, লেখক ?

 

পরিশেষঃ
ব্রি. জে. মো. তোফায়েল আহমদ, পিএসসির লেখনির সূত্র ধরে আমিও বলতে চাই, হ্যা একমাত্র সঠিক শিক্ষাই পারে পাহাড়ি-বাঙালি, মানুষের সাথে মানুষের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিতে । কিন্তু এই শিক্ষা শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে নয়, বরং সারা দেশের জন্যই প্রয়োজন এবং প্রয়োজন এদেশের শিক্ষা কাঠামোর আমূল সংষ্কার । এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেই কাঠামোতে থাকবেনা শোষন, বঞ্চণা, নিপীড়ন, আগ্রাসন ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ । মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে করা হবেনা আইনের দ্বারা বাধাগ্রস্থ । ধর্ম, বর্ণ, জাতির আগে সবাই হবে মানুষ । তবেই বইবে কাঙ্ক্ষিত সেই শান্তির সুবাতাস ।

About the author

জুম্মো এডিসন

আমি বস্তুবাদী নাস্তিক ।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3056

1 comment

1 ping

  1. Rannya Fool

    এই লেখা‌টি দৈ‌নিক প‌ত্রিকায় লেখার জন্য লেখক কে আনু‌রোধ জানা‌চ্ছি।

  2. Guosille buli

    হুব গম লাগিলো দা, ত লেগাআন পুরিনেই | মগদা মোবোই জিদিক্কেন গুরিনেই লিক্কে সিয়ান পুরিনেই জানে হেনা নজায় | দা আর দোল অব, যুদি তুমি এয়ানি পত্রিকাদ ছাবে পার |

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>