«

»

এই লেখাটি 441 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

উন্নয়ন, উন্নয়ন ধারনা, উন্নয়ন কৌশল-২

আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম সমস্যা, সমস্যা দেখার সমস্যা, মূল সমস্যা, আসল সমস্যা, সমস্যার প্রকাশ এবং সমস্যা বিশ্লেষণের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে । প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সমস্যা এবং সমস্যা বিশ্লেষণে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার পর, স্বভাবতই প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে সমস্যার সেইসব প্রকাশগুলি থেকে মুক্তির কোন উপায়ই কি নেই ? থাকলেই বা কিরূপে ? মূল সমস্যা, আসল সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়টিই বা কি ?

এ বিষয়েগুলি নিয়ে আলোচনার আগে সমাজ বিকাশের ধারা বা সমাজ কিভাবে বিকশিত হচ্ছে সেই বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করে নেওয়া যাক । এতে সমস্যার প্রকাশ, মূল সমস্যা, আসল সমস্যা থেকে উত্তরণের পথগুলি খুজে নিতে সহজ হবে ।

সমাজ বিকাশঃ

নৌকার মাঝি জোয়ার-ভাটা বুঝে নৌকা চালাই । ঠিক তেমনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বা উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সমাজ বিকাশের ধারাটি বুঝতে পারাও গুরুত্বপূর্ন । প্রকৃতি, সমাজ কোনকিছুই স্থির নয়, সবকিছুই পরিবর্তনশীল । কোন কোন পরিবর্তন খুব দ্রুত আর কোন কোন পরিবর্তন খুব ধীরগতির । কিন্তু, পরিবর্তন হবে, হচ্ছেই । তাহলে সমাজের বিকাশ বা সমাজ বিকশিত হচ্ছে ধীর এবং দ্রুত পরিবর্তনের মাধ্যমে । সমাজ কিভাবে পরিবর্তন হচ্ছে বা পরিবর্তনের গতি কোন মুখী এবং সমাজের এই পরিবর্তনের সাথে উন্নয়ন কৌশলটির গতি কি সাংঘর্ষিক ? নাকি একইমুখী তা বুঝতে হলে পরিবর্তনের সূত্রটিও জানা জরুরি ।

পরিবর্তনের সূত্রঃ

                 ১। দ্বন্ধ ( দুই বিপরীতের ঐক্য ও সংগ্রাম )

                 ২। সংখ্যাগত পরিবর্তন থেকে গুনগত পরিবর্তন

                   ৩। নেতিকরনের নেতিকরন

১। দ্বন্ধঃ দ্বন্ধ কি ? দ্বন্ধ বলতে কি মারামারি, সংঘাত ? না, দ্বন্ধ হল দুই বিপরীতের ঐক্য ও সংগ্রাম । যদি এই দ্বন্ধ বিষয়টিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আলোকে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি তবে জাতিয় রাজনৈতিক দলগুলি সারাও তিনটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ( পিসিজেএসএস, জেএসএস (এম এন লারমা), ইউপিডিএফ) নিজেদের দলীয় আদর্শ এবং তত্ব প্রতিষ্টায় যেই সংঘাতে লিপ্ত আছে তা কি দ্বন্ধের পর্যায়ে পরে ? হ্যা, এটাও এক ধরনের দ্বন্ধ তবে ভায়োলেন্সমূলক দ্বন্ধ । দ্বন্ধের অনেকগুলো পর্যায় বা স্থর আছে তার মধ্যে এটি একটি । এক ব্যক্তি বা দলের সাথে অপর ব্যক্তি বা দলের মধ্যেকার যে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে আদর্শিক বা মতাদর্শ প্রতিস্থাপনের ক্রমাগত চেষ্টাটিকেই আমরা দ্বন্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি । কিন্তু, এই আদর্শিক বা মতাদর্শ প্রতিস্থাপনের চেষ্টার ফলে যখন দুই বিপরীত আদর্শিক বা মতাদর্শগত অনড় অবস্থানে চলে যায় তখন সেখানে ভায়োলেন্স বা সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে । সুতরাং, পার্বত্য তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের এই সংঘাতকে শুধুমাত্র দ্বন্ধ নয় একে আমরা সংঘাতমূলক দ্বন্ধ বা ভায়োলেন্সমূলক দ্বন্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করতে করতে পারি ।

২। সংখ্যাগত পরিবর্তন থেকে গুনগত রুপান্তরঃ একটি ধানকে বীজ হিসেবে নিক্ষিপ্ত করা হল । সেই একটি মাত্র ধান থেকে চারা হল, চারা থেকে গাছ হল, চারা থেকে আবার অনেকগুলি ধান হল । এভাবে চলতে চলতে যেই পরিবর্তন হয়, এবং এই পরিবর্তনের মাধ্যমে যেই গুনগত পরিবর্তনের ফল পাওয়া যায় আমরা সেটিকে সংখ্যাগত পরিবর্তন থেকে গুনগত রুপান্তর হিসেবে ধরে নিতে পারি ।

৩। নেতিকরনের নেতিকরনঃ আমরা জানি যে, সিদ্ধার্থ গৌতমের পূর্বপুরুষ সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন । কিন্তু সিদ্ধার্থ গৌতম সনাতন বিশ্বাসের সেই গন্ডি পেরিয়ে বৌদ্ধ দর্শন/বুদ্ধ দর্শন বা বৌদ্ধ ধর্ম নামে নতুন একটি দর্শন বা বিষ্বাসের সন্ধান দিলেন । সনাতন বা পুরাতন বিশ্বাস থেকে নতুন আঙ্গিকে একটি নতুন দর্শন বা বিশ্বাসের জন্ম হল । এই বিষয়টিকে আমরা নেতিকরনের নেতিকরন হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি । মোট কথা, পুরাতন কিছু থেকে নতুন কিছুর উদ্ভবকে আমরা নেতিকরনের নেতিকরন হিসেবে ধরে নিতে পারি । পুরাতন থেকে এমন কিছুর উদ্ভব হবে যা, পুরাতনের বৈশিষ্ট্যগুলিকে সম্পুর্ণরুপে অস্বিকার করবে অথবা পুরাতনের কিছু বৈশিষ্ট্য নতুনের মধ্যে বিদ্যমান থাকলেও তা সময়ের কারনে একসময় বিলীন হয়ে যাবে ।

আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের উনয়ন চাই । কিন্তু, কিভাবে ? উপরের আলোচনায় আমরা জানতে পেরেছি যে, সমাজ বিকাশের ধারাটি বুঝতে পারলে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের কাজটি যেমন সহজ হয় তেমনি কাঙ্খিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহনের কাজটিও সহজ হয়ে যায় । তাহলে, এখন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক………

১। পার্বত্য সমাজের গতিপ্রকৃতি ( অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ) কোন দিকে বা কোন মুখী ?

২। কি কি সম্ভাব্য বাঁধা/ঝুকি ( অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ) রয়েছে ?

৩। কি কি সম্ভাব্য সুযোগ ( অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ) রয়েছে ?

৪। চ্যাল্যেঞ্জগুলি ( অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ) কি কি ?

উপরোক্ত প্রশ্নাবলীর উত্তর গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের আলোকে বিশ্লেষন করে খুজে পেতে কঠিন মনে হলে একটি পাড়া বা গ্রামকে মডেল ধরেও উপরোক্ত প্রশ্নাবলীর উত্তর খুজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারি ।

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সমস্যা বিশ্লেষনের সমস্যা, মূল সমস্যা, আসল সমস্যা, সমস্যার প্রকাশ, সমস্যা বিশ্লেষনে দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজ বিকাশের ধারা, পার্বত্য সমাজের গতিপ্রকৃতি, ঝুঁকি, সুযোগ, চ্যাল্যেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছি । এখন কিছু সময়ের জন্য কল্পনার জগতে ভাসলে কেমন হয় ?

এখন ২০১৫ সাল । আপনাকে বলা হল, ২০৫০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামকে কিভাবে দেখতে চান বা আপনার হাতে যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতৃত্বের দায়িত্বটি ছেড়ে দেওয়া হয় তবে আপনি ২০১৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে কি কি করবেন বা ২০৫০ সালে আপনার কল্পনার পার্বত্য চট্টগ্রামটি কেমন হবে বা সেখানে কি কি বিষয় উপস্থিত থাকবে ?

প্রকল্প বা রুপকল্পটির ( Vision ) নাম দেওয়া হল, “ভিশন ২০৫০” । এই রুপকল্পটি শুরু করার আগে এ-সম্বন্ধীয় কিছু উক্তি জেনে নেওয়া যাক, যা আমাদেরকে “ভিশন ২০৫০” রুপকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে সহায়তা করবে ।

“ The best way to predict the future is to creat it ” –ALAN KAY

“ If you can dream it, you can do it ” –WALT DISNEY

“ The greatest danger for most of us is not that, our aim is to high and we miss it, but that it is low and we rich it ” – MICHEL ANGELO

“ Vision without action is a daydream, action without vision is a nightmare ” -JAPANIS PROVERB

খুব সহজ-সরল ভাষায় সহজপাঠ্য-সহজবোধ্য করে “ উন্নয়ন, উন্নয়ন ধারনা, উন্নয়ন কৌশল ” সম্পর্কিত বিষয়গুলি তুলে আনার চেষ্টা করেছি । আরও বিভিন্ন তত্ব, বিশ্লেষন, সংজ্ঞা যোগ যোগ করা যেতে পারত কিন্তু এতে লেখাটির ব্যপ্তি যেমন বেড়ে যেত তেমনি হয়তো এতটা সহজপাঠ্য নাও হতে পারত । তাই শুধুমাত্র উন্নয়ন সম্পর্কিত মূল কিছু বিষয়ে আলোকপাঠ করার চেষ্টা করেছি । লেখাটির মাধ্যমে যদি কারোর ভাবনার জগতে উন্নয়ন সম্পর্কিত কিছু চিন্তার খোরাক যোগাতে পারি তবেই লেখাটি লেখা স্বার্থক হবে ।

About the author

জুম্মো এডিসন

আমি বস্তুবাদী নাস্তিক ।

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3053

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>