«

»

এই লেখাটি 764 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

জেএসএস-এর অসহযোগ আন্দোলনঃ প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

গতকাল ৩০ এপ্রিল জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের আলটিমেটাম শেষ হয়ে গেলো। পাঁচ মাস আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকার যদি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যে সময়সূচী ভিত্তি রোডম্যাপ ঘোষণা না করে তাহলে ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। নেতার এই ঘোষণার পর থেকে জেএসএস-এর উচ্চ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে নিম্মস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাংখীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। মাঠ ময়দান থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল জগতেও তারা অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে সরব হয়ে উঠেন। আমজনতাকে আহবান জানাতে থাকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে। কিন্তু শুরু থেকেই আমার এ অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে কোন পরিস্কার ধারনা ছিলো না। পত্র পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও এ ব্যাপারে পরিস্কার কোন ধারনা পাইনি। তাই সে সময়ে জেএসএস নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাসের প্রেক্ষিতে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলাম। কেবল বলেছিলাম, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষায় রইলাম জেএসএস-এর অসহযোগ আন্দোলনের রূপ দেখার জন্যে।

৩০ এপ্রিল শেষে আজ ১ মে। আজ থেকে জেএসএস-এর অসহযোগ আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা।কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কর্মসূচী নেই। আর এ ব্যাপারে জেএসএস-এর তরফ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি চোখে পড়েনি।জানিনা তারা কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিবৃতি দেবেন কী না। তবে আলটিমেটাম শেষ হয়ে যাওয়ায় আমজনতার একজন হিসেবে দু’এক কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। আশা করি, পাঠক বন্ধুরা নিজেদের মতামত তুলে ধরে আলোচনাকে আরো সমৃদ্ধ করবেন। প্রথমে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। প্রথম প্রশ্ন, প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ার আগে পার্টিগতভাবে জেএসএস তার উপযুক্ত ফোরামে যেমন, কংগ্রেস বা নীতি নির্ধারণী কোন সভায় অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ করেছে কী? এই অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা কী পার্টি প্রধান হিসেবে সন্তু লারমার নাকি সমষ্টিগতভাবে জেএসএস-এর? শুরুতে এই প্রশ্ন তোলার অন্যতম কারণ হলো এই – উর্ধ্বতন থেকে মধ্যস্তর ও নিম্মস্তরের অনেক নেতা-কর্মীর সাথে বিগত ৪/৫ মাসে বিভিন্ন উপলক্ষে আলাপের সুযোগ ঘটেছে। তাদের সাথে আলাপে মনে হয়েছে পার্টি প্রধান ছাড়া অন্যরা অসহযোগ আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ধরন, পদ্ধতি বা রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত নন। তারা নেতার দিকে চেয়ে রয়েছেন তিনি কী নির্দেশ দেন। জেএসএস-এর সহ-সভাপতি তথা রাঙ্গামাটি আসনের এমপি ঊষাতন তালুকদারকেও বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে আমতা আমতা করতে দেখা গেছে। মনে হয়েছে তিনিও অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন| বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন এই আন্দোলন কোন গোষ্ঠী বা জাতির বিরুদ্ধে নয়, এই আন্দোলন চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে সরকারের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলন অহিংস পন্থায় চলবে।তবে তিনি যাই বলুন না কেন, তাকেও অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয়নি।স্বাভাবিকভাবে এখানে প্রশ্ন জাগে, নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা যদি আন্দোলনের সামগ্রিক রূপরেখা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকেন, তাহলে সেই আন্দোলন কীভাবে সফল হবে? তারা কীভাবে জনগণকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করাবেন? অর্থাৎ নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনগণ যদি আন্দোলন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন, সেখানে কী জনসম্পৃক্ত আন্দোলন রচনা করা সম্ভব? আমাদের সবার জানা কথা, তারপরেও এখন একটু ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। ইতিহাসে পড়েছি অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে।ভারত উপমহাদেশে তথা সারা বিশ্বে এ অসহযোগ আন্দোলনের রূপকার হলেন মহাত্মা গান্ধী। এই আন্দোলনের প্রভাব সুদূঢ় প্রসারী ছিলো। মহাত্মা গান্ধী তথা ভারতীয় কংগ্রেস এই অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন ১৯২০ সালে স্বরাজ অর্জনের লক্ষ্যে। এই আন্দোলন ১৯২২ সাল পর্যন্ত চলে। তবে পরবর্তীতে এই আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠায় মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনের ইতি টানেন। তবে এই আন্দোলনের একটা পটভূমি আছে।ব্রিটিশদের শাসন অত্যাচার তো ছিলোই। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। সেটা হলো জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যা, যেটা ১৯১৯ সালে সংঘটিত হয়।নিরীহ নিরস্ত্র জনতার উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত লোক মারা যায়।এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ব কবি রবি ঠাকুর ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট খেতাব বর্জন করেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী তথা কংগ্রেসও চিন্তা করতে লাগলেন ব্রিটিশদের কাছ থেকে মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করা দূরাশা মাত্র। সেই প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দেোলনের রূপরেখা নিয়ে হাজির হলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, ব্রিটিশদের সাথে মারামারি করার প্রয়োজন নেই। কেবল ভারতবাসী যদি সবাই ব্রিটিশদের পুরোপুরি অসহযোগিতা করেন, তাহলে ব্রিটিশদের পক্ষে এই ভারত বর্ষে থাকা কখনো সম্ভব নয়। তিনি সমগ্র ভারতবাসীকে ব্রিটিশদের পণ্য বর্জন করার আহবান জানালেন। ব্রিটিশদের কাছে জিনিসপত্র বেচাকেনা বন্ধ করা, অফিস আদালত বর্জন করা এবং সর্বতোভাবে ব্রিটিশদের বর্জন করার আহবান জানালেন। মহাত্মা গান্ধীর এই আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের ভিতকে নড়বড়ে করে দিয়েছিলো। তবে সেই সময়েও মহাত্মা গান্ধীর এই অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিলো। অনেকে বিদ্রুপ করেছিলো – ব্রিটিশদের ডান্ডা না মেরে কেবল অসহযোগিতা দিয়ে হটানো সম্ভব নয়। কিন্তু সমালোচনা থাকলেও এই কথা স্বীকার করতে হবে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদ তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। সহজ কথায়, স্বরাজ বা স্বাধীনতার জন্যে আমজনতার চেতনাকে অসহযোগ আন্দোলন ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছিলো। যার ফলশ্রুতিতে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রাম পরবর্তীতে আরো জোরদার হয়েছিলো। ফলে পরবর্তীতে ব্রিটিশরা ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে অনিবার্য পরিণতিতে ভারতের স্বাধীনতা ব্রিটিশদের মেনে নিতে হয়। এই স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে অসহযোগ আন্দোলন ছিলো একটি বড় মাইলফলক। এদিকে আমাদের বাংলাদেশের দিকেও একটু তাকাতে পারি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ’৭১-এ অসহযোগ আন্দোলন এবং সেখান থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং এর অনিবার্য পরিণতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।এখানে লক্ষণীয়, শেখ সাহেব একদিনে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেননি। তিনি সংগ্রামকে যখন একটা পরিণতির দিকে নিতে পেরেছিলেন তখন অসহযোগের ডাক দিয়েছিলেন। অর্থাৎ ’৭০-এর নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ যখন নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলো এবং নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের কাছে পাকি জান্তা যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসি করছিলো, তখনই তিনি অসহযোগের ডাক দিয়েছিলেন। বৈধ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি পূর্ববাংলার সর্বস্তরের জনগণের কাছে আহবান জানিয়েছিলেন পাকিস্তান সরকারের সাথে সর্বাত্মকভাবে অসহযোগিতা করতে।পাকিস্তানিদের পণ্য, অফিস আদালত, শিল্প কারখানা ইত্যাদি বর্জনের আহবান জানিয়েছিলেন। তার অনুমতি ছাড়া পূর্ব-পাকিস্তানের কোন প্রশাসন চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।শেখ সাহেবের কথায় পুরো পূর্ব পাকিস্তান অচল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ পুরো পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন শেখ সাহেব তথা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরে পাকিস্তান সরকার এই আন্দোলন দমন করতে দমন পীড়ন নীতি গ্রহণ করে।এর অনিবার্য পরিণতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তবে এখানে খেয়াল রাখতে হবে, এই অসহযোগ আন্দোলন এমনি এমনি লক্ষিত যৌক্তিক পরিণতির দিকে যায়নি। এখানে বেশ কিছু শর্ত বিদ্যমান ছিলো: স্বাধীনতার প্রতি জন মানুষের আকাংখা তীব্রতর হয়েছিলো; আওয়ামীলীগের সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি; স্বাধীনতার সপক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে ঐক্যমত ইত্যাদি।এককথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামের বস্তুগত শর্ত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ীগত বা চেতনাগত শর্ত পরিপূর্ণ হয়েছিলো।ফলে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। জেএসএস তথা সন্তু লারমা ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে কিছু কথা বলতে গিয়ে উপরে উল্লেখিত দুটি অসহযোগ আন্দোলনের উদাহরণ টেনে আনার উদ্দে্শ্য হলো ইতিহাসের অভিজ্ঞতার সাথে নিজেদের অভিজ্ঞতাটা একটু মিলিয়ে দেখা। জেএসএস তার আন্দোলনের কোন স্তরে এসে এই অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিলেন? ঘোষণার শুরু থেকে মনে হয়েছে, জেএসএসের অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ একটি ঘোষণা। চাকমা ভাষায় এটা হলো “গাজত্তুন উলা পোজ্জে পা”। এর কোন সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক ভিত্তি নেই, অন্তত আমার কাছে পরিস্কার নয়।পর্টির উপযুক্ত ফোরামেও এই বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে মনে হয় না। ফলে শুধু আমার মত সাধারণ জনগণ নয়, পার্টির নেতাকর্মী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অসহযোগ আন্দোলনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে পরিস্কার নন। যেটা পরিস্কার নয়, সেটা কীভাবে নেতাকর্মীরা আত্মস্থ করবেন। নেতাকর্মীরা যদি আত্মস্থ করতে না পারেন তাহলে তারা কীভাবে  জনগণকে আন্দোলনের তরীকা দেবেন?অসহযোগ আন্দোলন বলেন বা অন্য কোন নাম দেন, আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে গেলে প্রথমে আভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিটা শক্তমক্ত করে নেওয়া উচিত। সেটা না হলে বাহ্যিকভাবে কীভাবে লড়াই চলবে? জেএসএস বা সন্তু লারমা কেন অসহযোগ আন্দোলনের নাম দিলেন সেটাও আমার কাছে বোধগম্য নয়।চুক্তি বাস্তবায়ন যদি চান, অসহযোগ দিয়ে হবে না। অন্তত তত্ত্বগতভাবেই তাই বলে। সহযোগিতা লাগবে। সহযোগিতা না করে অর্থাৎ এক পাক্ষিকভাবে চুক্তিবাস্তবায়ন হয় না। চুক্তিবাস্তবায়নের জন্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা লাগবে। তবে হড়বড় করে অসহযোগ আন্দোলনের আলটিমেটাম দেওয়া এবং তার প্রেক্ষিতে কিছু করতে না পারায় তিনি নেতা হিসেবে কতটুকু নিজের মুখ রক্ষা করতে পারছেন সেটা ভেবে দেখার বিষয়। এই অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তিনি সরকার তথা দীপংকর-চিনুদের হাতে আরো একটি মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিলেন কী না আমার ভয় হয়। সরকারের এই মেয়াদেও যদি চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে তার দায়ভার দীপংকর-চিনুরা সন্তু লারমার উপর চাপিয়ে দেন কী না সেটা দেখার বিষয়। অর্থাৎ তারা এমন যুক্তি খাঁড়া করতে পারেন – সন্তু লারমা নিজেই চুক্তি বাস্তবায়ন চান না তার নিজের স্বার্থে। এই অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণার কারণে সন্তু লারমাকে যদি এরকম অপবাদ শুনতে হয় তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না।   এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেএসএসকে আবারও স্মরণ করে দিতে চাই, আত্মঘাতী ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জেএসএস যদি এখনো মনে করে তারা অসহযোহ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে, এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের কারণে পাহাড়ের রাজনৈতিক শক্তি বহুধা বিভক্ত, যা জনসাধারণের কাছে সন্তুজ-গুন্ডুস-ফান্ডুস হিসেবে পরিচিতি। একদিকে গুন্ডুস-ফান্ডুস, অন্যদিকে সরকার, আরো একদিকে সেনাবাহিনী ও সেটেলার। এই অবস্থায় গুন্ডুস-ফান্ডুসদের সাথে একটা সমঝোতায় আসতে হবে; অন্তত সংঘাত বন্ধের ব্যাপারে একটা আপোসরফা হতে হবে। তা না হলে কেবল কয়েকটি অঞ্চলে বা রাঙ্গামাটি কেন্দ্রিক আন্দোলন দিয়ে ‍কিছুই হবে না।এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত যতই প্রলম্বিত হবে, ততই বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। অর্থাৎ জেএসএস, ইউপিডিএফ বা জেএসএস (এমএন লারমা) দলে নতুন নতুন নেতাকর্মীর রিক্রুট হবে না। যদি হয়েও থাকে, তারা হবে পেটের তাগিদে। তাদেরকে কর্মী বলা যাবে না, বড়জোর বলা যাবে মার্সিনারী (ভাড়াটে খুনি)। টাকার বিনিময়ে বা টাকা পাওয়ার আশায় তারা খুন খারাবি করতে দ্বিধাবোধ করবে না।এরকম ভাড়াটে খুনি বাহিনী দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য বা চুক্তি বাস্তবায়ন কখনো অর্জন সম্ভব নয়।বর্তমানে যেটা চলছে সেটার পরিণতি ভয়ংকর বলে মনে হয়। ভাড়াটে বাহিনীর হাতে তিন গ্রুপই অস্ত্র তুলে দিয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে। কিন্তু পরবর্তীতে এসব অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মাৎস্য ন্যায় সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।কাজেই চুক্তি বাস্তবায়ন তথা আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে চাইলে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।অস্ত্রের ব্যবহারে রাশ টানতে হবে।    পরিশেষে একটা অনুরোধ জানিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাই। তিনটি রাজনৈতিক গ্রুপের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ নেতা হিসেবে সন্তু লারমাকে এখনো বিভিন্নভাবে হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয়। কেবল জুম্ম সমাজের মধ্যে নয়, সরকারী মহলেও তাকে গণনার মধ্যে নেওয়া হয়। তিনি কেবল ব্যক্তি নন, একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। সন্তু লারমা মানে জেএসএস আর জেএসএস মানে সন্তু লারমা। জেএসএস পুরনো দল। জুম্ম জনগণের অধিকার আন্দোলনে পুরোভাগে জেএসএস ছিলো এবং এখনো আছে বলা যায়। এই সংগঠনের নেতা হিসেবে সন্তু লারমা ভেবে চিন্তে আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন, ভেবে চিন্তে কথা বলবেন সেটা কামনা করি। তিনি এমন কথা বলবেন না, যেটা তিনি রক্ষা করতে পারবেন না। অনেকবার তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন পুরনো অবস্থায় ফিরে যাবেন, কিন্তু যেতে পারেননি। এবার ঘোষণা দিলেন অসহযোগ আন্দোলনের; একেবারে দিন তারিখসহ। কিন্তু সেই দিন তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে গেলো। অথচ আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কর্ম তৎপরতা নেই। কথায় ও কাজে মিল নেই। নেতা যদি কথা দিয়ে সেটা কাজে পরিণত করতে না পারেন তাহলে নেতার নেতৃত্ব দক্ষতা সম্পর্কে নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ আমজনতার বিশ্বাসে যদি মোচড় খায় তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যের। জনগণের নেতা হিসেবে সন্তু লারমা ‘রাখাল বালকে’ পরিণত হোন, সেটা ব্যক্তিগতভাবে কামনা করি না। তাই যদি হন, তাহলে সেটা হবে চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের জন্যে বড় আঘাত; আর জুম্ম জনগণের আন্দোলনের জন্যে পুরো লজ্জার।  অডঙ চাকমা১ মে ২০১৫

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3030

1 comment

2 pings

  1. Jinius changma

    যে যতই আন্দোলন,সংগ্রামের ডাকুক না কেন সম্মিলিত ঐক্য ছাড়া কোনো আন্দোলনের সফলতা কামনা করা যায় না|তাই আমরা সাধারন জুম্ম জনগণ দ্রুত ঐক্য চাই|নিঃস্বার্থ,ত্যাগী, নির্ভরশীল,(2) ]আদর্শসবান,সর্বগ্রহণ যোগ্য নেতার নেতৃত্বের মাধ্যমে জুম্ম মুক্তি চাই|*ব

  2. Dhiman Khisa

    "আমরা একটা বিভ্রান্তিকর সময় পার হচ্ছি। আমরা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারি না। চলমান বাস্তবতা এবং অপরাজনীতি ছাত্র-যুবসমাজের বিরাজনীতির অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। । আমি মনে করি এই পলিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রাষ্ট্রই করেছে। ছাত্র-যুবসমাজকে বিরাজনীতিকরন এবং বিবশ করেছে। (Depoliticized, apolitical and apathetic)" – Pychingmong wrote in an article, in this blog.

  3. Dhiman Khisa

    "এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত যতই প্রলম্বিত হবে, ততই বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। অর্থাৎ জেএসএস, ইউপিডিএফ বা জেএসএস (এমএন লারমা) দলে নতুন নতুন নেতাকর্মীর রিক্রুট হবে না। যদি হয়েও থাকে, তারা হবে পেটের তাগিদে। তাদেরকে কর্মী বলা যাবে না, বড়জোর বলা যাবে মার্সিনারী (ভাড়াটে খুনি)। টাকার বিনিময়ে বা টাকা পাওয়ার আশায় তারা খুন খারাবি করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এরকম ভাড়াটে খুনি বাহিনী দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য বা চুক্তি বাস্তবায়ন কখনো অর্জন সম্ভব নয়।" – 'I hate politics'-er songkhya-o se karone din din barche. Tai tader dosh dite parina. Shasok gosthi setai ceyechilo ebong chaiche.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>