«

»

এই লেখাটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

এই বাবুসমাজ লইয়া আমরা কি করিবো ?

(১)

এক বড়ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্র ছিলেন। আজন্ম জন্মজ্বালায় জ্বলতে থাকা তাঁর চেতনা তাঁকে স্থির থাকতে দিতো না। তিনি একটু স্থির হলেই আজকে হয়তো ঢাবির শিক্ষক হয়ে যেতেন। আর সবার মতন ক্যারিয়ার, প্রেমিকা, সংসার, সামাজিকতা ইত্যাকার সব আত্মকেন্দ্রিকতার বৃত্তে নিবদ্ধ হতে পারেননি বলে তিনি আমাদের ‘রোল মডেল’ হতে পারেন নি। আমাদের আজকের দিনের রোল মডেল হচ্ছে … বুঝতেই পারছেন কারা।

 

সেই দাদা মিটিং মিছিল নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন বেশি। টিচারেরা তাঁকে খুঁজে এনে বসাতো পরীক্ষার হলে। আমার স্কুলফ্রেন্ড একটা মেয়ের সাথে তাঁর সখ্যতা হয়েছিলো সেসময়। সব ঠিক থাকলে আজ হয়তো তাঁদের বিয়েও হয়ে যেতো। কিন্তু ঐ যে জন্মজ্বালা! কারোর কারোর রক্ত শিরায় সেটা সারাক্ষন জ্বলতে থাকে, আর বেশিরভাগ মানুষের সেই জ্বালার চাইতে পেটের জ্বালা, যৌবন জ্বালা, ঘরের জ্বালা, কাপড়ের জ্বালা, সামাজিকতার জ্বালাটাই বেশি অসহ্য ঠেকে। দুজনের পথ দুদিকে বেঁকে গেলো। সেই বড়ভাইটা আন্ডারগ্রাউণ্ডে চলে গেলেন আর আমার সেই বান্ধবিটা এখন সুখের সংসার করছে।

তাঁর পার্টিটা আবার ব্রাত্যদের সমিতির মতন। কুলীন পার্টি তাঁদের পায়ে ঠেলে আর রাষ্ট্র এখন তাদের বেয়োনেট দিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিচ্ছে। নিশ্চয় বুঝে গেছেন আমি কাদের কথা বলছি? থাক নামগুলো নাই বললাম… কেননা বিষয়টা নামের নয়, বিষয়টা যুগের সন্তানদের যুগকে প্রতিনিধিত্ব করা না করা নিয়ে।

 

সেই বড়ভাইয়ের ব্যাচের আরও এক বড়ভাই এখন ঢাকার মাল্টিন্যাশনালের প্রধান কর্মকর্তা। লাখের উপরে তাঁর বেতন। এলাকায় বিয়েটিয়ে হলে দু জন পাশাপাশি বসলেও কর্মকর্তাটি বেশি খাতির পেয়ে থাকেন। গৃহকর্তা বড় মাংসের টুকরোটা কর্মকর্তার পাতে তুলে দিয়ে ধন্য হতে চান।

আমাদের সেই বড় ভাই, যিনি ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে পিতৃভূমিকে সংকটমুক্ত করতে সবকিছু তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন তিনিই এখন সমাজে তুচ্ছতার পাত্র।

সেই দাদা কি ভুল করেছিলেন?

সত্তুরের দশক এবং আশির দশকে যারা বুয়েট, মেডিকেল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীকে পায়ে ঠেলে দিয়ে পিতৃভূমির ডাকে অস্ত্র হাতে তুলেছিলেন, তাঁরাও কি ভুল করেছিলেন?

আমাদের হিপোক্রেট বাবুসমাজে তাঁরা কখনোই মূল্যায়ন পাননি।

আমরা কি এই বাবুসমাজ চেয়েছিলাম?

এই বাবুদের লইয়া আমরা কি করিবো?

 (২)

 

ভ্যাকসিন দিয়ে যেমন রোগ প্রতিরোধ করা হয় তেমনি সত্তুর দশকের শেষ থেকে

বিদ্রোহের প্রকোপ কমাতে কাউন্টার ইনসারজেন্সির (Counter Insurgency ) ভ্যাকসিন খাইয়ে আমাদের মধ্যবিত্তের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করা হয়েছিলো । সে সময়ের লোকজনের মুখে শুনেছি যে ‘গোলঘরে’ গেলেই নাকি তখন চাকুরী হয়ে যেতো। জিয়াউর রহমানের পর তখন আরেক সামরিক শাসক রাষ্ট্রকে লেফট রাইট করাচ্ছে। দেশের পলিসি ঠিক হচ্ছিলো ক্যান্টনমেন্ট থেকে।

ছাত্র যুবকদের ‘অস্ত্র হাতে জঙ্গলমুখী’ না করিয়ে ‘চাবি হাতে ঘরমুখি’ এবং ‘থলি হাতে বাজারমুখি’ করতে সার্টিফিকেট দেখিবামাত্র চাকুরী বিলানোর বন্দোবস্ত করে সরকার। চাকুরী প্রার্থী যদি জঙ্গলফেরত হয় তো মাশাল্লাহ আরও ভালো ! তার জন্য বড় সড় চাকুরির বন্দোবস্ত ছিলো।

ফলে তখন থেকে গুড্ডি বয়, গুড্ডি গাড়লদের কদর বেড়ে যায় আমাদের সমাজে। ধুতি, লুঙ্গী, ল্যাঙট পরা সমাজপতিরা গুরুত্বহীন হয়ে পড়লো। প্যান্ট পরা বাবুদের উত্থান হল আর তারা পাকা রাস্তা, সেতু, এবং ইঁট, কাঠ, কংক্রিটের উন্নয়ন কে সমাজের উন্নয়ন বলে ডেভেলপমেন্ট থিওরি প্রতিষ্ঠা করে ফেললো।

 

আশির দশকের অগ্নিগর্ভ সময়ে

যখন একটার পর একটা গণহত্যা হচ্ছিলো তখন একদিকে চলছিলো অরণ্যের প্রতিরোধ আর অন্যদিকে সাপের মতন নিঃশব্দে এঁকেবেঁকে পাহাড়ের চুড়োয় উঠছিলো উন্নয়নের রাস্তা। পিচের রাস্তা দিয়ে উন্নয়ন পৌঁছার পর চৌকিদার, সেরেস্তাদার, তহশিলদার, মুন্সেফ, ক্লার্ক, হেডক্লার্ক, সুপারভাইজার, ম্যানেজার, ছোট কেরানি, মেজো কেরানি, সেজো কেরানি, বড় কেরানি ইত্যাদি নানান পদের এবং নানান প্রকরণের কেরানির ‘চাহিদার উন্নয়ন’ হলো। ফলে বাবুসমাজের ভুঁড়ি আরও বড় হয়ে গেলো। ৮১ সালে বান্দরবান আর ৮৩ তে খাগড়াছড়ি জেলায় পরিনত হলো। রাঙ্গামাটি আগেই শহর ছিলো। সকল বাবুদের ঠিকানা হলো এসব শহর। বড় বাবু আর ব্রাত্যজনেরা (গতর খাটা শ্রমিকেরা) চলে গেলেন আরও বড় শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রামে।

সেই বাবুসমাজের পেট থেকেই আমরা বেশিরভাগ বের হয়েছি। আমরা সব সুখী মানুষের ছা বা প্রিভিলেজড গ্রুপ, বা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ। আজ এই পোড়া বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমি মনে করি আমাদের বাবুসমাজের নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া দরকার। হাঁড় পাঁজর বের হওয়া, পলেস্তারা খসা আমাদের বাবুসমাজের ব্যবচ্ছেদ হওয়া দরকার।

 

(৩)

 

রাজনীতি দিয়েই মানুষকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হয় এবং

রাজনীতি দিয়েই মানুষকে রাজনীতিতে  যুক্ত রাখা হয় সক্রিয়ভাবে।

নিজেকে রাজনীতি মুক্ত বা রাজনীতি যুক্ত মানুষ ভাবা দুটোই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল। খেয়াল করুন, রাজনীতি মুক্ত এবং রাজনীতি যুক্ত দুটো শব্দযুগলেই কিন্তু “রাজনীতি” শব্দটা আছে… রাজনীতি থেকে বের হবার কোন উপায় নেই।

 

আমাদের সমাজে রাজনীতি মুক্ত থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং তার প্রকাশটা যেন জীবাণুমুক্ত থাকার Attitude এর মতো। কিন্তু আমি চাইলেই কি রাজনীতির বাইরে থাকতে পারি?

 

আমি যতক্ষন সমাজে আছি, রাষ্ট্রে আছি ততক্ষন আমি রাজনীতিতে ঘেরা একটা পরিবেশে আছি। বিশ্বাস না হলে নাকটা চেপে ধরুন। শ্বাস না নিয়ে কতক্ষণ থাকতে পারেন দেখুন। এবার বলুন, আপনার চারপাশে অক্সিজেন আছে কি নেই? আপনার অক্সিজেন লাগে নাকি লাগে না?

হ্যাঁ। রাজনীতি ব্যাপারটা বায়ুর বলয়ের মতো- আমি না চাইলেও তা বিরাজমান। প্রশ্ন হচ্ছে এই দুনিয়ায় আমার বাতাসে শ্বাস নেবার অধিকার যদি কেউ হরণ করে বা আমাকে শ্বাসরোধ করে আমার তখন কি করা উচিৎ? তার প্রতি সংক্ষুদ্ধ প্রতিবাদ জানানো উচিৎ কি না? যদি আমি তার নিষ্পেষণের প্রতিবাদ করি মানে চিৎকার করে উঠি সেটা তো রাজনীতি করার মতোই। এখানে আমি কারোর অধিকার হরনের প্রতিবাদ করছি স্লোগানের মতো চিৎকার দিয়ে। আর যদি আমি চুপচাপ সহ্য করে যাই বা আর কারোর অধিকার হরণের সময় চুপ থেকে যাই তাহলে আমিও তার পক্ষে চলে গেলাম। আমি যদি প্রতিবাদ না করি তাহলে আমিও নিপীড়কের নিপীড়নে সহযোগী হয়ে গেলাম। সুতরাং আপনি রাজনীতি না করলেও রাজনীতি আপনাকে করবে- শোষিত করবে এবং শোষণের সহযোগী বানাবে অথবা বিদ্রোহী বানাবে। কেননা আপনাদের অজ্ঞানতা, নিস্ক্রিয়তা, মৌনতা, অসারতাই শাসক-শোষকের শক্তি।

কিন্তু যদি তার বিরুদ্ধে আওয়াজ করেন… আমরা আবার তাকেই রাজনীতি বুঝি। রাজনীতি মানে আমরা বুঝি মিটিং, মিছিল, পোস্টারিং… এইসব। এইসব তো রাজনীতির কর্মসূচি মাত্র। রাজনৈতিক সরকারের কোন নীতির পক্ষে চুপ থাকাও রাজনীতি আর তার বিরুদ্ধে আওয়াজ করাও রাজনীতি। রাজনৈতিক সরকারের অনেক নীতি আছে যেমন অর্থনীতি, মুদ্রানীতি, বাণিজ্যনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষানীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনার নীতি, প্রতিরক্ষানীতি ও সমরনীতি, আদিবাসীদের প্রশ্নে রাষ্ট্রনীতি, পাহাড়ের প্রশ্নে রাষ্ট্রনীতি, সরকারী আমলাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি ইত্যাদি । কোন শিক্ষার্থী যখন সেমিস্টারের ফি রশিদ কেটে জমা দেন সেখানেও রাজনীতি আছে। এখানে আছে শিক্ষানীতি যেমনঃ

শিক্ষা প্রদানে রাষ্ট্রের অবস্থান কিঃ শিক্ষার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নাকি ব্যক্তির, শিক্ষা কি পণ্যের মতন বিকিকিনি হবে নাকি অধিকারের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেবে। চাল কিনতে গেলেও রাজনীতি আর বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলেও রাজনীতি।

সুতরাং ভদ্রে এবং সৌম্য, রাজনীতি কিন্তু আপনিও করছেন- সজ্ঞানে হোক বা অজ্ঞানে।

সুতরাং রাজনীতি করা না করার প্রশ্নই অবান্তর; যেমন অবান্তর রাজনীতি পছন্দ করা বা না করার ব্যাপারটা। ব্যাপারটা মিষ্টি পছন্দ নাকি ঝাল পছন্দ, কক্সবাজার নাকি বান্দরবান, ফর্সা নাকি কালো পাত্র পছন্দ… এরকম নয়। রাজনীতি কোন বস্তু বা জায়গা নয় যে পছন্দ-অপছন্দ বা ভালোবাসাবাসি করার অপশন আছে।

“আই হেইট পলিটিক্স” বলে কেউ পার পায় না বরং

যারা এসব বলে তাদের জন্যেই সমাজে অবিচার-অনাচার-অনিয়ম শেকড় গাড়ে।

পাহাড়ের প্রশ্নে রাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্কার। সত্তুরের দশকে  ইনসারজেন্সির সময়ে এক সেনাপ্রধান বলেছিলেন যে তাঁদের পাহাড় দরকার, পাহাড়িদের নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন যে মাত্রায়, যে ব্যাপকতায় সর্বগ্রাসী রুপ নিয়েছে তাতে আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন চলে এসেছে। আমরা কি রাজনীতি করবো নাকি যথারীতি চুপচাপ ভালো মানুষের মতো শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নয়নের নিয়ম মেনে চলবো? এই অংশেই আমি দেখিয়েছি যে রাজনীতি করা না করার ব্যাপারটা খুবই আপেক্ষিক, আমরা সবাই রাজনীতি করি। আমরা চুপচাপ সব মেনে নিলে সেটাও রাজনীতি আর তার প্রতিবাদে কোন না কোন ভূমিকায় নামলে সেটাও রাজনীতি। আমরা রাস্তায় মিটিং মিছিল না করতে পারি অন্তত যারা লড়ছে তাদের নৈতিক সমর্থন এবং যেভাবে সম্ভব সেভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি। আর কিছু না হোক, অন্তত চলমান অস্তিত্বের সংগ্রাম নিয়ে দশটা মানুষকে ভাবাতে পারি এবং সেই দাবির সপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারি।

 

(৪)

আগের কথায় ফিরে যাই আবার…  সেই সময় যাঁরা আপন পিতৃভূমিতে ভূমিপুত্রদের অস্তিত্ব বাঁচাতে অস্ত্র ধরেছিলো, তাঁরা অস্ত্র সমর্পনের পর ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবন পাননি। কোথায় মানুষ তাঁদের সাদরে বরণ করে নেবে তা না, বরং ‘পঞ্চাশ টিক্কা’ অপবাদ দিয়েছে আমাদেরই বাবুসমাজ। এই বাবুসমাজ ছেলেমেয়েদের অবশ, বিবশ, নিঃসার বানায়। ছেলেমেয়েদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর শিক্ষা দেয় কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ার দীক্ষা দেয় না। মাত্র কয়েক যুগ বয়সের আমাদের বাবুসমাজ এমনকি কোন কর্মী, শিল্পী, লেখক, স্রষ্টাকেও মূল্য দিতে অক্ষম। আমাদের সমাজে  ভালোভাবে পড়া মুখস্ত করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। আমাদের সমাজে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা হতে পারাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের সমাজ সবেমাত্র কেরানি হতে শিখেছে তাই কেরানিবৃত্তিকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে পারছে। সমাজের এই দৈন্যতায় কিভাবে বুদ্ধির মুক্তি, চিন্তার মুক্তি, রাজনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, মুক্তির দিক-নিশানা অনুসন্ধান করা যাবে? সমাজের এই অচলায়তন ভাবার কথাও এমনকি আজ পর্যন্ত সেভাবে আলোচনায় আসেনি। বর্তমান বাস্তবতায় এই অচলায়তনের দীনতা নিয়ে ভাবাটা অতি জরুরী।

সেই সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রীয়-জাতিগত নিপীড়ন বর্তমানে বহুগুন বেড়েছে। এই রাষ্ট্রীয় মাৎস্যন্যায়ে  বাবুসমাজ কি ভাবছে- কি তার প্রতিক্রিয়া?

বাবুসমাজ যথারীতি তেমনই অসার, নিঃসার পড়ে আছে আপন বৃত্তে। আশির দশকে মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, নানিয়ারচর, মাল্যে, বরকল ইত্যাদি সব পাহাড়ি জনপদে যখন একের পর গনহত্যায় পাহাড়িদের কচুকাটা করা হচ্ছিলো, তখনও এই বাবুসমাজের সোনাবাবুরা পড়া মুখস্ত করে বড় বড় পাস দিয়েছে আর বড় বড় বাবুসাহেব হয়েছে।

আজও যদি এই বাবুসমাজের বাবুসোনারা তেমনই থেকে যায় তাহলে ভবিতব্য খুব পরিস্কার… সামনের দিনে ঘটিবাটি সমেত রিফিউজি হতে হবে নতুবা অমেরুদণ্ডী প্রাণীর তুচ্ছ জীবন বেছে নিতে হবে।

অনেক দিন ধরেই আমি ফেইসবুক আর ব্লগে চলমান সময় নিয়ে লিখছি। নতুন করে কিছু বলার নেই। অবাক হবার মতো একটা ব্যাপার হচ্ছে যে, নিদারুণ নিপীড়নেও কোথাও কোন ব্যাপক ছাত্র-গন আন্দোলন গড়ে উঠছে না। সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে মরনপণ লড়াই হচ্ছে না। রিয়াকক্টিভ (Reactive) কিছু প্রতিবাদ এবং ইস্যুভিত্তিক মিটিং-মিছিলের মধ্যেই দলগুলোর কর্মকান্ড আবর্তিত হচ্ছে যেখানে সাধারন ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ তেমন নেই বললেই চলে। একদিকে ছাত্র-যুবসমাজের বিভ্রান্তি, হতাশা, নিশ্চলতা অন্যদিকে রাষ্ট্রের এথনিক ক্লিনিজিং পলিসির শেষ পর্বের বাস্তবায়ন- এ যেন চোখ গেলে দেওয়া অন্ধকার!

সম্প্রতি ইউপিডিএফের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বেড়ে গেছে। ওদিকে জেএসএস এর অসহযোগ আন্দোলনের আল্টিমেটাম শেষ হবার পথে। পাহাড়ের বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমি এটুকুই চাই, এই চলমান নিশ্চলতা ভেঙে ছাত্র-যুব সমাজের উত্থান হোক।

আমরা একটা বিভ্রান্তিকর সময় পার হচ্ছি। আমরা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারি না। চলমান বাস্তবতা এবং অপরাজনীতি ছাত্র-যুবসমাজের বিরাজনীতির অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। । আমি মনে করি এই পলিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রাষ্ট্রই করেছে। ছাত্র-যুবসমাজকে বিরাজনীতিকরন এবং বিবশ করেছে। (Depoliticized, apolitical and apathetic)

এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমি মনে প্রাণে চাইছি যে কিছু একটা হোক পাহাড়ে।  প্রবল প্রতিকূলতায় লড়াই সংগ্রামের ঘাত-প্রতিঘাতে গনমানুষের লড়াকু শক্তি কারা তা প্রকাশিত হবে।

সামনের দিনে বাবুসমাজের বাবুসোনাটা যেন কোন রাষ্ট্রীয় আক্রমণের খবরে নির্বিকার, নিঃসার না থাকে! সে যেন ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে দশ দিক ! অফিসের কেরানীটা যেন বাজারের থলি হাতেই মিছিলে নেমে পড়ে। স্টার জলসা অথবা হিন্দি সিরিয়াল বন্ধ করে ঘরের মেয়েরা যেন দ্রোহের মন্ত্রণা শোনে…

না হলে এই বাবুসমাজের কলঙ্ক ঘুঁচবে না। ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/3022

5 comments

17 pings

Skip to comment form

  1. রিটন

    এক্সিলেন্ট

  2. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি।

  3. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  4. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  5. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  6. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  7. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  8. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  9. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  10. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  11. Apple Chakma

    এক্সিলেন্ট, আই সেলিউট ইউ ।এতদিন ঠিকঠাক একটি পোস্ট পেলাম ।শুনো বাবুসমাজগণ, আপনাদের চাকরি পাওয়ার কারণ হচ্ছে, অবহেলিত পাহাড়ি আপনারা বলেন হাপ্পো, তাদেরই আন্দোলনের ফল ।আজ জুম্ম পাহাড়িরা যদি আন্দোলন না করত, সরকার তোমাদের কখনো চাকরি দিত না ।আন্দোলনরত জুম্ম থেকে পৃথক করার জন্য তোমাদের আজ চাকরি ।

  12. Newton Chakma

    খুব খারাপ লাগুছে।সুখানুভূতি পেলাম না।নিজের ধ্বংস যেন নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি।কিন্তু কিছুই করতে পারছি না।তাদের জন্য রাগও হচ্ছে করুনাও হচ্ছে তারা যে আস্তে করে মরে যাচ্ছে সেটাও জানছে না! জানি না কি হবে………।

  13. shwashati Dewan

    somoy upojogi ekti chomotkar lekha.

  14. shwashati Dewan

    এই চলমান নিশ্চলতা ভেঙে ছাত্র-যুব সমাজের উত্থান হোক- eaimuhorte etir bikolpo aar konokichu nai, pai somoy upojogi ekti chomotkar lekha.

  15. Tanchangya Sujat

    নিষ্ঠুরভাবে চরম বাস্তবিক কথা লিখেছেন গুরু # Pychingmong Marma
    আপনার এমন লেখা পড়তে পারলে নিজে আরেকবার মানুষ হবার কঠোর অনুপ্রেরনা পাই।

  16. Pychingmong Marma

    ধন্যবাদ সবাইকে পড়ার জন্য কমেন্ট করার জন্য।

  17. Rannya Fool

    লেখাটা প‌ড়ে অত্যন্ত ভাল লাগ‌লো।বর্তমা‌নে ঘু‌মি‌য়ে থাকা ছাত্র যুব সমা‌জকে জাগ্রত করার জন্য এরকম লেখা অত্যন্ত প্র‌য়োজন।

  18. Utpal Khisa

    পড়লাম। লেখা হোক নিয়মিত- সে প্রত্যাশা করছি…। আমার মনে হয় মূল জায়গা শক্ত না হলে সহায়ক জায়গাগুলো কখনো জমাট বাঁধবে না। সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা মেটাতে লেখকদের বলিষ্ঠ ভূমিকা আবশ্যক

  19. Manon Chakma

    চমৎকার

  20. অলকেশ চাকমা

    সুখানুভুতি পাওয়া গেল ৷

  21. Lalin changma

    “রাজনীতি দিয়েই মানুষকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হয় এবং

    রাজনীতি দিয়েই মানুষকে রাজনীতিতে যুক্ত রাখা হয় সক্রিয়ভাবে।”
    -কথাটি আর একটু ঝাঁকুনি দিলো।
    ধন্যবাদ লেখককে কষ্ট করে এমন বিশ্লেষণমূলক লেখা লেখার জন্য।

  22. Nidarshan Khisa

    আপনার লেখাটি পড়ে কারো মনে যদি কাটা দিয়ে না উঠে তাহলে সে মানুষটি মানুষ নই। আপনার এই লেখাটি এই বর্তমান ঘুনে ধরা শিক্ষিত সমাজে যথোপযোগী হয়েছে। লিখে যান জাগিয়ে তুলুন তথাকথিত শিক্ষিত বাবুসোনাদের বিবেকের বন্ধ দুয়ার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>