«

»

এই লেখাটি 1,026 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

সন্তু লারমার মুখে সেনাবাহিনীর প্রশংসা ও কিছু প্রশ্ন

এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ইউপিডিএফ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সঞ্চয় চাকমার একটি মন্তব্য চোখে পড়লো Jumma Wikileaks-এ। সেখানে তিনি কিছু প্রশ্ন ও প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। বিশেষ করে, সন্তু লারমার সেনাবাহিনী প্রশংসা করার পেছনের উদ্দেশ্য কী – সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেছেন। কেবল সঞ্চয় চাকমা নন, আরো কয়েকজন এ বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছেন বিভিন্নভাবে।সঞ্চয় চাকমার বিশ্লেষণ দেখে আমারও কিছু বলতে ইচ্ছে হলো।

তবে সংঘাতময় রাজনীতির প্রেক্ষিতে পাহাড়ের রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলা ও লেখা অনেক সময় খুবই বিপদজনক। তারপরেও কিছু বলার ইচ্ছা থেকে আমার এ লেখা। এটা কারোর কাছে পছন্দ হতেও পারে, নাও হতে পারে। তবে না হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। যদি কারোর পছন্দ নাও হয় তাহলে আমার উপর রাগ করবেন না। তখন ধরে নেবেন, আমার কথাগুলো হলো “নেই গাজ বাল টুৎটুবি চেদবাল” (এই শব্দগুচ্ছটি ফেসবুক বন্ধু জয়ের কাছ থেকে ধার করলাম)।অর্থাৎ, কারোর পছন্দ না হলে আজগুবি গল্প হিসেবে উড়িয়ে দেবেন।

সন্তু লারমার মুখে সেনাবাহিনীর প্রশংসাঃ কেন?  

প্রথম আলোর সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপিয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিগণের সাথে সন্তু লারমার বৈঠক হয়। ঐ বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গও এসেছিলো মনে হয়। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, সন্তু লারমা চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে সেনবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১১ সাল থেকে সেনাবাহিনী চুক্তি বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমার জানামতে, এই প্রথম বোধয় সন্তু লারমার মুখ থেকে সেনাবাহিনীর ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্য বের হয়ে এলো। জানি না, তিনি কীসের ভিত্তিতে বলছেন সেনাবাহিনী “চুক্তি বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা” পালন করছেন?সেনাবাহিনী যে চুক্তি বাস্তবায়নের সপক্ষে কাজ করছে তার নির্দেশকগুলো কী কী? সেনাবাহিনী চুক্তি বাস্তবায়নে যদি সহযোগিতা করে থাকে, তাহলে সেই ক্ষেত্রগুলো কী কী? অর্থাৎ, কোন কোন জায়গায় সেনাবাহিনী সহযোগিতা করছে সে বিষয়গুলো আমার চোখের সামনে স্পষ্ট নয়। যেহেতু আমার কাছে চুক্তিবাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কোন তথ্য উপাত্ত নেই, তাই আন্দাজের উপর মন্তব্য দেওয়াও ঠিক নয়। তারপরেও কিছু কথা তুলে ধরতে চাই।

১) আমরা মানি আর না মানি, অপ্রিয় সত্য হলো –  চুক্তিবাস্তবায়ন তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বড় কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে সেখানে সেনাবাহিনীর একটা ভূমিকা থাকে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে। ভবিষ্যতেও থাকবে কম আর বেশি। কাজেই চুক্তিবাস্তবায়নে সেনাবাহিনী সহায়তা করুক বা না করুক, তাদের ভূমিকা অন্তত নিরপেক্ষ রাখা প্রয়োজন ছিলো এবং প্রয়োজন আছে। সেনাবাহিনী জুম্মজনগণের বন্ধু না হোক, অন্তত শত্রু না হোক –চুক্তিবাস্তবায়নের পথে এটা অন্যতম নীতি বা ডিপ্লোম্যাসি হওয়া উচিত ছিলো এবং এখনো উচিত হবে।কিন্তু এতদিন সন্তু লারমার মুখ থেকে সে রকম কিছুই দেখিনি।প্রতিনিয়ত তিনি সেনাবাহিনীর তুলোধুনো করে এসেছেন। আজকে ১৪ বছর পরে এসে দেখি – তিনি হঠাৎ সুর পাল্টিয়ে সেনাবাহিনীর ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করলেন। জানি না, এর পেছনের কারণগুলো কী কী হতে পারে। তবে চানক্য নীতি অনুসারে (যার সাথে পেরে উঠা যায় না, তার সাথে মিশে যাওয়া; তবে নিজেকে বিসর্জন দেওয়া নয়) তিনি যদি সত্যিকারভাবে চুক্তিবাস্তবায়নের জন্যে সেনাবাহিনীর ব্যবহার করতে চান, তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন তাতে খারাপ কিছু দেখি না। আর সরকারের অঙ্গ হিসেবে চুক্তিবাস্তবায়নে সহযোগিতা দিতে সেনাবাহিনী বাধ্য। তবে সেনাবাহিনী চুক্তিবাস্তবায়নে সহযোগিতা না করলেও অন্তত তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক সেটা একান্তভাবে কাম্য। সরকারের অংশ হিসেবে এবং চুক্তিস্বাক্ষরকারী পক্ষ হিসেবে সন্তু লারমা সেটা করতে কতটুকু সক্ষম সেটা অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। অন্যতম একটি শর্ত হলো সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সাথে সুসম্পর্ক থাকা এবং সহায়ক কর্মদল (working groups)। তা না হলে, সন্তু লারমা একা কিছুই করতে পারবেন না।

২) এদিকে সেনাবাহিনীর অতীত ভূমিকার কারণে পাহাড়ীরা কখনো সেনাবাহিনীকে আস্থার মধ্যে নিতে পারেনি, সহজে পারবে বলেও মনে হয় না। চাকমা প্রবাদ হলো, “চিবিদি খেইনে জিল ঘা অলে দোই পিলা দেগিলেও চিবিদি মনে অয়” আর বাংলা প্রবাদ হলো, “ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়”। ঠিক সেরকম সেনাবাহিনী নিয়ে জুম্মদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার উপর আছে চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ দ্বন্দ্ব।এই অবস্থায় সন্তু লারমার হঠাৎ প্রকাশ্যে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সন্তু লারমা সত্যি সত্যি সেনাবাহিনীর চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকার কারণে এ মন্তব্য করেছেন কী না জানি না, কিন্তু তার এ মন্তব্যকে ‘চুক্তিবিরোধীদের দমনের অংশ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যেমন সঞ্চয় চাকমা তার ফেসবুক মন্তব্যে লিখেছেন,

“What [appreciating the military] does it mean? Do you all believe that the military of Bangladesh can work for implementing the CHT Accord? If that is so, why they are still in their makeshift camps?…I am trying to calculate the matter in my own experiences. The answer has come out automatically within a week; when the news of fighting came out between the two groups in Barkol. The secret of such a ‘Lying’ is the new connection with the military!”

 

(অনুবাদঃ এটার (সেনাবাহিনী প্রশংসা) মানে কী? আপনারা সবাই বিশ্বাস করেন কী সেনাবাহিনী চুক্তিবাস্তবায়নে কাজ করতে পারে? যদি তাই হয়, তাহলে তারা কেন এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পে আছে?…আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাপার হিসেব করার চেষ্টা করছি। এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তরটা আপনাআপনি এসে গেলো, যখন দেখা গেলো বরকলে দুই দলের মধ্যে লড়াই বাঁধলো। মিথ্যা বলার এরকম গোপন রহস্য হলো সামরিক বাহিনীর সাথে নতুন যোগসাজস)।  

      সঞ্চয় চাকমার স্পষ্ট অভিযোগ, “হত্যা খেলায়” (killing game) সেনাবাহিনী সন্তু লারমাকে সহযোগিতা দিচ্ছে। অর্থাৎ, এরকম সহযোগিতার জন্যে সন্তু লারমা সেনাবাহিনীর প্রশংসা করছেন। এটা কেবল সঞ্চয় চাকমার অভিযোগ নয়, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ-এরও।সঞ্চয় চাকমা বিশ্বস্তসূত্রের বরাত দিয়ে আরো বললেন, বরকলে যেখানে বন্দুকযুদ্ধ হলো সে এলাকার অধিকাংশ জায়গা ইউপিডিএফ দখল করে নিয়েছে, যা সন্তু লারমার অস্তিত্বের জন্যে হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে সন্তু লারমাকে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করছে (…that presently the UPDF has captured maximum areas of CHT which is a clear threat of Mr. Santu Larma’s existence! That’s why the military are helping Mr. Santu Larma’s cadres in Barkol, Jurachari and Bilaichari etc. so that the fratricidal conflict last long). এ ধরনের অভিযোগ কেবল সন্তু লারমার বিরুদ্ধে নয়, ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধেও জেএসএস একই অভিযোগ করে থাকে। অর্থাৎ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে উভয় দলই সেনাবাহিনীর কাছে যায় এবং তারা নিজেরাই পরস্পরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগগুলো এনে থাকে।

জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর এ অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমার প্রশ্ন হলো, কেবল “অন্য জায়গায়” দোষ খোঁজা কেন? জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর নিজেদের দোষ ত্রুটিগুলো কেন শুধরে নিতে পারে না? দুই পার্টি কেন নিজেদের অস্তিত্ব সংরক্ষণের ভার “বানরের” (সেনবাহিনীর)উপর অর্পন করতে যায়? সঞ্চয় চাকমা সন্তু লারমা ও সেনাবাহিনীর যোগসাজসকে জোর দিয়েছেন, কিন্তু অন্য বিষয়গুলোতে একটু কম জোর দিয়েছেন বলে মনে হয়। একটু একটু বলেছেন বটে তবে বিশ্লেষণ নেই। একটা হলো “অধিকাংশ জায়গা দখল” (captured maximum areas of CHT) আর অন্যটা হলো “রাজনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি” (economic purpose)। সঞ্চয় চাকমা অভিজ্ঞ মানুষ। আমি বিশ্বাস করি এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানেন। জায়গা দখলের রাজনীতি কেন? ‘মানুষের মন’ দখল না করে ‘জায়গা দখল’ করে কী বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে? কার স্বার্থে জায়গা দখল? আর অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো কী কী এবং কার বা কাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ সেখানে জড়িত আছে? কাদের প্রাণের বিনিময়ে ‘জায়গা দখল’ করে রাখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখা?

সেনাবাহিনীর “ভাল হওয়ার” কারণী কী? আসলে “ভালো” হয়েছে কী?

১) সন্তু লারমার কথা অনুসারে সেনাবাহিনী সত্যি সত্যি চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে কী না জানি না। যদি করেও থাকে, তাতে উচ্ছসিত হওয়ারও কারণ দেখি না। আর সন্তু লারমার মত নেতার সেনাবাহিনীর এরকম প্রকাশ্য প্রশংসাও কেমন যেন মনে হয়। এটা ডিপ্লোম্যাটিক বক্তব্য নয়, বরং এটা হলো খুব naïve মন্তব্য।নেতা হিসেবে সন্তু লারমার কথাবার্তার ব্যাপারে আরো সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করি। কারণ তার এ বক্তব্য বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ হবে; manipulation-ও হতে পারে।সেনাবাহিনী যদি সত্যি সত্যি ভালো আচরণ করে থাকে, তাহলে তার পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণের মধ্যে রাখা দরকার।

তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ হলো, সেনাবাহিনী যদি সত্যি সত্যি ভালো আচরণ করে থাকে, সেটার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে সেনাবাহিনীর কৌশল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে – গত বছর জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগদানের আগে মানবাধিকার রেকর্ড পর্যালোচনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত।এই সিদ্ধান্ত কখনো বাতিল হবে না। বরং প্রতিনিয়ত গবেষণা হবে, পর্যালোচনা হবে – সঠিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কী না।অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সৈন্য পাঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে। স্বাভাবিকভাবে সেনাবাহিনীও এখন চায় – নিজ দেশের মধ্যে মানবাধিকার লংঘনের দায় হতে মুক্ত হতে। নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চা্য়। এসব কারণে, সেনাবাহিনী ভালোমানুষি দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।

২) পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে সেনাবাহিনীর নীতি কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে জানি না। তবে সম্প্রতি খাগড়াছড়ির ব্রিগেডিয়ার (ইতোমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন) এ এফ জগলুল আহমেদ ধারাবাহিকভাবে তিন কিস্তিতে ডেইলি স্টার পত্রিকায় লেখা দিয়েছিলেন। তার লেখাতে তিনি সেনাবাহিনীর ভূমিকা, মিডিয়ার ভূমিকা ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন। তার বক্তব্যগুলো পুরো সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিনিধিত্ব না করলেও সেনাবাহিনীর সাধারণ ভূমিকাকে তিনি তুলে ধরেছেন।জনাব জগলুল আহমেদ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেক কথা বলেছেন। অন্যতম বিষয়গুলো হলো:

ক)তিনি সেনাবাহিনীর সফলতাকে বড় করে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে চুক্তি-উত্তর সময়ে (post-accord situation)  কী কী দিয়ে ‘সফলতা’ নির্ধারিত হবে সেটা তাদের কাছে স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন।ফলে ‘শান্তি’ কাছে নাকি দূরে, কঠিন নাকি সহজ –এ প্রশ্ন নিয়ে সেনাবাহিনীকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে;

খ)উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।এমনকি এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় চুক্তির “বৈধতা” নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

গ) তিনি পার্বত্য সমস্যার জন্যে চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন: ’৮০-এর দিকে বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের প্রত্যাহার; সেনাবাহিনী প্রত্যাহার; পাহাড়ীদের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বাঙালিদের ভোটের অধিকার। এই চারটি বিষয়ে কোন সমাধানে পৌঁছা না গেলে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।সেই সাথে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অন্য সম্প্রদায়কে” [সোজা কথায় সেটেলার বাঙালীদেরকে] বাদ দিয়ে কীভাবে “উপজাতিদের” সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া যায় কী না?

ঘ)জগলুল আহমদ দোষারোপ করেন, ‘উপজাতীয় এলিটরা’ সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি এও অভিমত ব্যক্ত করেন, যতদিন এই এলিটরা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে থাকবেন, ততদিন পার্বত্য সমস্যার সমাধান হবে না। সে কারণে তিনি শান্তি স্থাপনের জন্যে বিকল্প পদ্ধতির কথা সুপারিশ করেন। কিন্তু এই বিকল্প পদ্ধতি কী হতে পারে? জগলুল সাহেব জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিস্থাপনে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে সেনাবাহিনী উন্নয়নের প্রধান অংশীদার (the main partner) হতে পারে।সেই সাথে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, পাহাড়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে হবে।তার ভাষায়,

“Midlevel leadership must be allowed to grow and establish local contact to avoid the rigid and old-fashioned leadership, which impedes instead of facilitates peace. Regional politics must be allowed to grow to add plurality in national politics”. (শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন একরোখা ও পুরনো ধ্যান-ধারনা সম্পন্ন নেতৃত্ব এড়ানোর জন্যে স্থানীয় পর্যায়ে সংযোগ স্থাপন করতে হবে এবং মধ্যবর্তীস্তরের নেতৃত্বকে এগিয়ে আনতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে বহুত্ব আনার লক্ষে আঞ্চলিক রাজনীতিকে গড়ে উঠার সুযোগ দিতে হবে)।

 

জগলুল সাহেবের লেখা থেকে এটা স্পষ্ট, সেনাবাহিনী এখনো সেটেলার বাঙালিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। সে কারণে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় ‘চুক্তি’ ও ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার (জেলাপরিষদ) বৈধতার প্রশ্ন তুলছেন। সংসদে পাসকৃত আইনের মাধ্যমে পাহাড়ের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারপরেও তিনি কীভাবে ‘বৈধতার’ প্রশ্ন তোলেন? তাও আবার তিনি কর্মরত সেনা কর্মকর্তা। “অন্য সম্প্রদায়কে” অর্থাৎ  সেটেলার বাঙালীদেরকে বাদ দিয়ে কীভাবে “উপজাতিদের” সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া যায় – এ রকম প্রশ্ন তোলার অর্থ হলো সেনাবাহিনী সেটেলারদের পক্ষে সংলাপ চালাতে চায়। সেই সাথে শান্তিপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন পুরনো ধাঁচের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে  মধ্যবর্তী স্তরের নেতৃত্বকে সামনে আনতেও চায়। এটার অর্থ হলো, সেনাবাহিনী রাজনীতিতেও নাক গলাতে চায়।

 

এই অবস্থায় সন্তু লারমা কীসের ভিত্তিতে বলছেন সেনাবাহিনী চুক্তিবাস্তবায়নে সহায়তা করছেন? সন্তু লারমা সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেটা খুব খারাপ বলছি তা নয়, বরং সেই সন্তোষ প্রকাশের বস্তুনিষ্ঠ কারণগুলো কী সেগুলো জানতে চাই।কারণ, চুক্তি বাস্তবায়ন কেবল সন্তু লারমার একার বিষয় নয়; কী হচ্ছে না হচ্ছে সেসব বিষয়ে জনগণেরও জানা থাকা দরকার। বলার অধিকার থাকা দরকার। কাজেই জেএসএস-এর কেউ অথবা কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তি যদি এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তাহলে খুব খুশী হবো।

……………………………………………

অডঙ চাকমা, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১২

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2982

1 comment

  1. জিত্তো

    সেনাবাহিনী যে এখানে আঞ্চলিক তিনটা দলের পারষ্পরিক সংঘাতে প্রভাবক কিংবা catalyst হিসেবে কাজ করছে তা সুস্পষ্ট।একে টার্ম হিসেবে ধরলে দাঁড়ায় Bait and Bleed এর সমকক্ষ।যা কিনা একটি মিলিটারি স্ট্র্যাটেজি।তোপ পেতে একাধিক শিকারকে রক্তাক্ত কিংবা জখম করা,এখানে তোপ প্রদানকারী “মিলিটারি” আর “শিকার” হচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলো।তিনটা দলের প্রধানদের মধ্যে সুবুদ্ধির উদয় না হলে রক্তপাত চলবে,আর সুবিধা নেবে “মিলিটারি” তথা “শাসকগোষ্ঠী”।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>