«

»

এই লেখাটি 906 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

আদিবাসী ও ইনডিজেনাস পিপলস: বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্তত চলমান আলোচনায় আদিবাসী বা ইনপিজিনাস পিপলস বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক কথাবার্ত আমাকে এ বিষয়ে আমার অবস্থান বা মতামত প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আমারা কোন না কোন স্থানীয় অধিবাসী(indigenous or native)কিন্তু তাই বলে আমরা সকলেই আদিবাসী নই। আদিবাসী হওয়াটা নির্ভর কর প্রথমত, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় কর্তৃক ও প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষিতে জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক অবস্থনের উপর। অ-উপনিবেশায়নের ফলে সৃষ্ট রাষ্ট্রসমূহ, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশ রয়েছে মোটামুটিভাবে ঔপনবেশিক সময়ের সীমানা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাষ্ট্রসমূহ প্রথম থেকেই স্থানীয় জনগণের ইচ্ছা বা প্রয়োজন নয় বরঞ্চ ঔপনিবেশিক ও সামরিক যুক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
অধিকাংশ ঔপনিবেশিক এলাকাসমূহে বাংলাদেশসহ অন্যান্য নতুন ওবং স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহকে এ ধরণের সীমানা মেনে নিতে ও রক্ষা করতে হয়েছে। বাছবিচাররে কোন সুযোগ সেখানে ছিল না কেননা রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সংবিধান ইত্যাদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অথবা ন্যুনপক্ষে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করতো। বংলাদেশের ১৯৭২ এর সংবিধান প্রথমত এবং স্বভাবতই বৃহত্তর বাঙালি সংখ্যাগরষ্ঠি জনগোষ্ঠীর ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করেছে। ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার হিসেবে এ প্রক্রিয়া কিছু জনগোষ্ঠীকে নব্যরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তিক করে রেখেছে। ফলে যে সমস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের সনাতন বা পরম্পরাগত এলাকা ও ভূ-খন্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তারা ধর্ম, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্তৃতিক ভিন্নতার কারণে বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো প্রভৃতি এবং দেশের উত্তরের গারো, খাসিয়া প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর এর নমুনা।দেশের সংবিধানের উপর ও সমস্ত জনগোষ্ঠীর কোন প্রভাব ছিল না এবং এ সংবিধানে এদের ইচ্ছার প্রতিফলনও ঘটেনি। এর ফল হল একটি একক-সংস্কৃতিমুখী(monocultural)সংবিধান যেখানে গারো, সাঁওতাল, চাকমা, প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয় ধারণের কোন সুযোগ নেই। উল্লেখিত এ জনগোষ্ঠীরাই একদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় অধিবাসী এবং এরাই আবার তাদের নিজস্ব এলাকায় ও অঞ্চলে আদিবাসী। কাগজে কলমে বাংলাদেশের অন্যান্য অধিবাসীদের অনুরূপ এদেরও একই ব্যক্তিহত অধিকার থাকতে পারে কিন্তু কার্যত কিংবা বাস্তবে তারা বৈষম্যের শিকার।
১ এ প্রবন্ধটি গত ২৬ জানুয়ারী ২০১১ ইং তারিখের নিউ এইজ নামক ইংরেজি পত্রিকাঙ প্রকাশিত হয়। এটির অনুবাদ করেন প্রফেসর মংসানু চৌধুরী।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিনামে এবং অ-উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার উত্তর আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকায় নব্য রাষ্ট্রসমূহ সীমান্ত এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের সুচনা করেছে যার খুব সামান্যই সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছেছে। কানাডার কুইবেক রাজ্যে ক্রী ও ইনুইট জনগোষ্ঠীর এলাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে প্লাবিত হয়েছে। অনরূপভাবে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে কাপ্তাই বাধেঁর ফলে হাজার হাজার মানুষ তাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু এর জন্য এ সমন্ত অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি, তাদের স্বর্থের বিষয়ও বিবেচনায়আনা হয়নি। রাষ্ট্র এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার স্বার্থ পূরণ ও জাতীয় সংহতির বিষয়ে অধিক আগ্রহী ছিলেন। সেখানে যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে,যারা সংবিধানে প্রায়ই বিবেচিত হন না এবং যারা অবহেলিতই থেকে যান।
অ-উপনিবশায়নের যুগ শেষ হলে জাতিসংঘের উপলব্ধি হল যে, সারা পৃথিবীতে কিছু জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা তাদের নিজেদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অংশ নয় এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিবেচনায় সংখ্যালঘু না গওয়ার কারণে যাোদর অধিকাংশ স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘ এ সমস্ত জনগোষ্ঠীর নাম দিয়েছে আদিবাসী।মোট জনসংখ্যার তুলনায় ও সব সংখ্যালঘু,প্রায়শই ক্ষুদ্র, জনগোষ্ঠীর প্রান্তিকতা ও বৈষম্য পর্যবেক্ষণ রীতিমত সহজতর; কারণ এ সমন্ত জনগোষ্ঠীর ভাষা স্কুলে পড়ানো হয়না, ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তাদের জমি কেড়ে নেয়া হয়েছে, আদিবাসী এলাকায় তাদের সংক্যালঘু করার উদ্দেশ্যে মূলধারার জনগোষ্ঠীর পূর্ণবাসন, তাদের সাথে কোন পরামর্শ ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে যেগুলো সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কোন উপকারই করতে পারেনি বা করলেও সামান্যই কারতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বাংলাদেশে রাষ্ট্র তাদের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে বসবাসরত সমন্ত মানুষের আত্তীকরণ চেয়েছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু মানুষের প্রতি ভিন্ন আচরণ করা হয়েছিল। এটা বেশ কৌতুহল উদ্দীপক যে, এ মানুষগুলো প্রায় একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ল্যাটিন আমেরিকা , কানাডা ও এশিয়ায় যেটাকে তারা মানবাধিকারের লংঘন হিসেবে দেখছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নিজেদের সংগঠিত করেছে। তারা আদালতে কিংবা সংবিধানের কাছে আবেদন জানাতে পারেনি কারণ সেখানে তাদের বিবেচন করা হয়নি। শাসক মহলে, যেমন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রের বিদ্যমরন বহুত্ববাদী চরিত্রকে বিলুপ্ত করে একটি এককসত্ত্বা (monolithic) বিশিষ্ট রাষ্ট্র নির্মাণে একটি সাধারণ প্রবণতা ছিল এবং আছে। রাজনৈতিক দলসমুহ এ ক্ষেত্রে উৎসাহী নয়, কারণ তাদের সমর্থনে কোন ভোট নেই। অপরপক্ষে খবরের মাধ্যমগুলোর হয় এ বিষয়ে আগ্রহ নেই অথবা তাোদর সেন্সারশীপের খড়োগর নিচে রাখা হয়েছে। এ ধরণের অবস্থা নিশ্চিতভবেই সংঘাতের দিকে নিয়ে যায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও এরূপ পরিস্থিতিতে ২০ বছরেরও বেশ সময় ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলেছিল। সমাধানের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের অপরাপর আদিবাসীরা জাতিসংঘের মুখাপেক্ষী হয়েছে। তারা সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত একই প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছে এমন মানুষদের সাথে কথা বলেছে।
জাতিসংঘে আদিবাসীরা জানতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে অনেকগুলো প্রচেষ্টায় মামিল হয়েছিল। তিন দশকব্যাপী বিচার বিবেচনা শেষে সরকাসমূহ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছুতে পেরেছে এবং পরিনামে ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষনপত্র গৃহতি হয়।এখন ইটকে একটি আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে বিশ্বের সকল সরকারসমূহ স্বীকার করে নিয়েছে বলে প্রতয়িমান হয়। এখানে আদিবাসী অধিকারের স্বীকৃতি্ই হল মুখ্য বিষয়, অধিকাংশ ্আদিবাসীদের কাছে যার অর্থ সাংবিধানিক স্বকিৃতি।
সংবিধান পরবির্তন করা কঠিন তাই এটি খুব্ই গুরুত্বপূর্ণ যে সযবিধানে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। উপনিবেশকবাদকে আমরা অনেক পেছনে ফেলে এসেছি । এখন দৃশ্যপট চল্লিশ বছর আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।১৯৮৯ সনে নরওয়ে যখন তাদের সংবিধন সংশোধন করে তারা সামি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অন্তভূর্ক্ত করে। আমার নিজের দেশ ডেনমার্ক ১৯৫৩ সন থেকে আজ আবধি সংবিধনে কোন পরিবর্তন আনেনি কিন্তু কয়েক বছর ধরে পরিবর্তনের সংবিধানিক প্রক্রিয়া চলে আসছে। যখন সংবিধানে পরিবর্তন আসবে তখন নি:সন্দেহে গ্রীনল্যান্ডে বসবাসরত ইনু্ইটদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যানিশ সরকার আন্তর্জাতিক আইনানুসার গ্রীনল্যান্ডের ইনুইটদের জাতি হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছ। এত বৈসাদৃশ্যের দেশ নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে এবং বরুন্ডি, তাদের আইন সভায় আদিবাসীদের জন্য আসন সংরক্ষিত রেখেছে। ফিলিপাইন এবং নেপালে ভিন্নভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০০৮ সালে জাপানের পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে হোক্কাইডু দ্বীপে বসবাসকারী আ্ইনুদের তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির জন্য আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছ্ মালেশিয়ার সংবিধান আদিবাসদের জন্য বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ করেছে।বস্তুত: একাধিক জাতি ও ধর্মের বৈচিত্রময় দেশে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবিধানিক স্বীকৃতিকে এক ধরণের সমঝোতা বা সমন্বয় হিসেবে স্বাধীনতা অথবা বিচ্ছিন্নতার বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ ধরণের স্বাধিীনতা বা বিচ্ছিন্নতা অতীতে যে সমস্ত দেশে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আদিবাসী ছিল কেবল তারাই দাবী করেছে। এদিক থেকে সম্ভবত: কেবল পূর্ব তিমুরই এ ধরণের একমাত্র দেশ এবং যে সকল দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে কতিপয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীোদর বাস সেসব দেশের ক্ষেত্রে তা কোনভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়। আদিবাসী যাদের জায়গা ও ভূ-খন্ড তাদের সম্মতি বা পরামর্শ ছাড়া নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে সেখানে সাংবিধানিক স্বীকৃতি রাষ্ট্র এবং আদিবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে সংলাপের দারজা খুলে দিতে পারে। সাংবিধানিক স্বীকৃতি তাদের জন্য এক নতুন পখের সন্ধান দিতে পারে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কার্যত যে জাতির সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করেছে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি চূড়ান্তভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, ভূমি এবং জীবিকার সুরক্ষা দেয় যা অন্যথায় অরক্ষিত খাকতো।
অনেক দেশে যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবী করে, সেখানে এরা কারা এবং কীভাবে এদের সনাক্ত করা হয়েছে তার উপর আলোচনা হয়। প্রথমত, আমাদের দেখা দরকার যে, তারা নিজেদের ইন্ডিজিনাস বলছে, বাংলাদেশে বলা হচ্ছে আদিবাসী। ্আদিবাসীদের কোন সংজ্ঞা নেই। আদিবাসী অধিকারের দারী করার অধিকার কার আছে তার সংজ্ঞা খোঁজার চেষ্টা করা বৃথা যেহেতু আদিবাসীর কোন সংজ্ঞা নেই। জাতিসংঘও কখনই এটাকে বিকল্প হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি। আমাদের শুধু স্মরণ রাখা দরকার যে, বিশ্ব সমাজ যদি কাদের স্বধীন হবার অধিকার আছে তার একটি সবৃসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাহলেও আজ এশিয়া ও আফ্রিকার খুব কম দেশই স্বাধীন হবে।যে কোন সংজ্ঞা ক্ষমতাবানরাই নির্ধারণ করে এবং তা একটি প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে ব্যবহ্নত হতে পারে। কাজেই এটি সমাধানের পথ হতে পারে না।
আমরা বেশ কিছু সূচকের দেখা পাই যা কিছু জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে রাখে যার কিছু কিছু নির্দিষ্ট ঘটনা এবং নিদির্ষ্ট সমাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
প্রথমত : বেশ কিছু জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদেরকে রাষ্ট্র এবং সংখ্যাগুরু লোকেরা স্বতন্ত্র ধর্ম, সংস্কৃতির কারণে আলাদা করে রাথে। বাংলাদেশে যারা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবী করে তারা অমুসলমান (বৌদ্ধ, খ্রীষ্ট ধর্মালম্বী ইত্যাদি)।বাংলা থেকে ভিন্ন ভাষায় কথা বলে এবং এমন ঐতিহ্য ধারণ করে যা ঐতিহাসিকভাবে র্বামা ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলে। এর অংশ হিসেবে এ জনগোষ্ঠীদের কারোর নিজস্ব রাজনৈতিক বা আধা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সমান্তরালে বিরাজ করছে।ভূমির সাথে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির প্রকৃতি অনুযায়ী নিজেদের ভিন্নভাবে মানিয়ে নেয়ার যোগ্যতাও থাকতে পারে যেমন, জুম চায়। আদিবাসীদের অভিন্ন ইতিহাস রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক সাংস্কৃতিক ব্যঞ্জনা ও আবেগের সহভাগিতা হয় এবং রা্ষ্ট্রের সংঙ্গে সংঘর্ষের অংশভাগী হিসেবে তারা ঐক্যবদ্ধও থেকেছে।
দ্বিতয়ত : যারা নিজেদের আদিবাসী বলে তাদের সঙ্গে তাদের নিজস্ব ভূ-খন্ডের যোগসূত্র রয়েছে। এ যোগসুত্র উপনিবেশপূর্ব ও স্বাধীনতাপূর্ব সময়ের।আদিবাসীদের নৃ-পরিচিতি পিতৃ-পুরুষের ভূ-খন্ডের সঙ্গে যুক্ত। অতীতের সঙ্গে পারস্পর্য রক্ষা করার অর্থ এ নয় যে, আমাদের আদি অপরিবর্তনীয় এবং সেটিই যথার্থ । কিন্তু কথা হল এই যে, আদিবাসীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রথানুসার বাস করে কারণ এগুলো রাষ্ট্রের কিংবা ঔপনিবেশিকোদর প্রতিষ্ঠানের সংস্পর্শে গড়ে উঠেছে ও বিকশিত হয়েছে।
তৃতয়িত : আদিবাসীদের দলগতভাবে তাদের ঐতিহ্র ও পিতৃ-পুরুষের ভূ-খন্ডের সাথে যোগসূত্র রাথতে চায়। রাষ্ট্রের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংগে পারস্পারিক সহাবস্থানের শর্ত হিসেবে তারা তাদের অস্তিত্বের ভিত্তি স্বরূপ তাদের নৃ-পরিচিতি বজায় রাখতে চায়। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে অমিলটা এথানে যে সংখ্যালঘুদের সাথে নিদির্ষ্ট ভূ-খন্ডের সম্পৃক্ততা নেই। এরা ব্যক্তি পর্যায়ে নিজেদের সংখ্যালঘুর অধিকার বজায় রেখে রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত হতে চায়। সংখ্যালঘু অধিকার হল ব্যক্তিগত অুধকার ।
চতুর্থত : আজকে বাংলাদেশে আদিবাসী তারাই যারা বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সীমানা প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে নিদির্ষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের উত্তরসূরী।
পঞ্চমত : যারা নিজেদের আদিবাসী কলছে তারা হল ঐসব জনগোষ্ঠী যারা বর্তমান যে জায়গা এবং ভূ-খন্ডকে নিজেদের বলে দাবী করে সেখানে তারা বর্তমানে বসবাসরত অন্য মানুষোদরও আগে এসেছে। এটি কিন্তু আমরা এখানে প্রথমে এসেছি তা বুঝাচ্ছে না। অধিকংশ দেশেই এটি নির্ধারণ করা খুব কঠিন। এশিয়াতে তো নয়ই । কারণ আমরা কি ইতিহসের ৫০, ১০০, ১০০০ বছর পেছনে যাবো? এবোরজিনালিটি বা প্রাচীন অধিবাসীত্ব যে একটি অসাধ্য মানদন্ড তার জন্য আমাদেরকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে মনে করতে হবে। কিছু কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে কিন্তু তাই বলে তাদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ব্যক্তি হিসেবে অন্যরা নিজের জন্মস্থানের বাইরে ঢাকায় বা অন্য শহরাঞ্চলে বাস করছেন; তার অর্থ এই নয় যে, আদিবাসী হিসেবে তিনি তার অধিকার হারাবেন। ঔপনিবেশিক যুগে এক দেশের লোকজনকে অন্যদেশে ক্ষেতে নতুন দেশে সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে থেকে গেছে। এ ধরণের লোকেরা সংখ্যালঘু সিসেবে সুরক্ষা পেতো এবং অধিকার ভোগ করতো। কিন্তু তারা আদিবাসী নয়।
মেট্রোপলিটান এবং অন্যান্য শহরাঞ্চলে যে সব আদিবাসী অভিবাসিত হয়েছে তারা প্রায়ই তাদের আদিবাসী ভাষা হারিয়েছে। তারা শহরাঞ্চলের বিভিন্ন পেশায় কাজ করে থাকে এবং শহরাঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঐতিহ্যকে গ্রহণ করেছে।তারা আর কোন ভাবেই তাদের পিতৃ-পরুসের জায়গায় বসবাস করেনা কিন্তু পিতৃ-পুরুষের ভূমি তাদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে থেকে যায় এবং প্রতীকি, ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিকভাবে তাদের স্বতন্ত্র পরিচিতি দেয়।
আরও সূচক রয়েছে যেগুলো আদিবাসীদের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে ঠিক এ লোকগুলোকেই নিদির্ষ্টভাবে ‘আদিবাসী’ এবং ভরতে তপশিলীভূক্ত উপজাত নামে আখ্যায়িত করা হয়, যে কারণে তাদের সঙ্গে দেশের অবশিষ্ট জনগণের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করা হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে মাথা না ঘমানোই ভাল।
ঔপনিবেশিক এবং উপনিবেশ উত্তর ইতিহাসে বেশ কিছু আইন ও বিধান রয়েছে যেগুলোত ঔপনিবেশিক ও বাংলাদেশ সরকার যারা নিজেদের আদিবাসী বলে তাদের জন্য জন্য বিশেষ অধিকারকে স্বীকার করে নিয়েছে। অথবা সরকার তাদের অবশিষ্ট জনগণ থেকে আলাদা করে রেখেছে(পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অর্ধ-আবদ্ধ অঞ্চল এবং সামরিক বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত Semi-closed area, controled by the army ) এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলের জন্য বিশেষ বিধান চালু করেছে। যেমন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ মন্ত্রী নিয়োগ করে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে, আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেছে অথবা কোন না কোনভাবে এ অঞ্চলে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রহিত করা হয়েছে যেমন, জেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত হয়ে আছে।
সংবিধানে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের স্বীর্কতির অন্তর্ভূক্তিকে ১৯৯৭ সনের শান্তিচুক্তির যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে দেখা যেতে পারে যা চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন প্রণোদনা দেবে। সাংবিধানিক স্বীকৃতি সমগ্র ও দেশের আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বতন্ত্র্যের স্বীকৃতি দেবে, যা অনেক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বিদ্যামান।
 
ইয়ান্স ডাল
এডজাক্ট প্রফেসর. ইউনির্ভাসিটি অব কোপেনহেগেন
ডিপার্টমেন্ট অব রিজিওনাল এন্ড ক্রস-কালচার‌্যাল স্থাডিজ

About the author

Mongshinu mogh

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2869

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>