«

»

এই লেখাটি 1,157 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

আমাদের শিক্ষাদীক্ষা, প্রগতিশীল চেতনা, জাতপাত প্রেমের হালচাল

লজ্জা করে যখন কোন কিছুর চাপে পড়ে নিজেকে কোন মহৎ বা কল্যাণকর কাজে কুঁকড়ে যেতে দেখি। কখনো কখনো নিজের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গতে ইচ্ছে করে এই ভেবে যে, কেন যে আমি এমন অকর্মা রয়ে গেলাম বা হলাম- যখন দেখি সমাজের চিহ্নিত সুসভ্যরা দিব্যি পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙছেন বা পরকে ঠকিয়ে আপনার তরে সবই লুফিয়ে নিতে চাচ্ছেন বা অহেতুক ঝামেলা হবে ভেবে মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন দেখে! আমরাও তো পারি! আমরা কি পারিনা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিছু বিদ্যালয় বা সমাজের কল্যাণকর তেমন কিছু বিনির্মাণ করতে বা পরিচালনার উদ্যোগ হাতে নিতে? তাহলে কেন আমরা ফ্রান্স বা অন্যান্য বিদেশঅলাদের দিকে চেয়ে আছি? আমরা কেন যে শুধু সরকার বা বিদেশিদের দিকে হা করে চেয়ে থাকি? … এইসব নিয়ে মানুষ হিসেবে আমি যখন আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা বা কর্তব্যবোধ নিয়ে চিন্তা করি তখন আমাকে কেবল লজ্জাই গ্রাস করে ফেলে…।

যখন দেখি পয়সার অভাবে কারোর শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটে না বা কারোর চিকিৎসা হয় না… যখন দেখি বারবার সাহায্য চেয়ে মানবিক আবেদন ফেসবুকের পাতা জড়িয়ে ফেলে… সত্যি বলতে কি, কিছু করতে না পারার ব্যর্থতার জন্য তখন লজ্জায় না পড়ে পারি না। আমরা আর কতটা বা কতকাল দায়হীন হয়ে থাকব?

ঢাকায় এখন জুম্ম চাকুরিজিবি বা ছাত্রছাত্রীর অভাব নেই। আমাদের অনেকের না থাকলেও এখন কারোর কারোর যথেষ্ট অরথবিত্ত হয়েছে। কেউ কেউ যেই সেই কাজে সহায়তার জন্যে এগিয়ে আসছেনও। কিন্তু যেভাবে আসা দরকার, যে কাঠামোর ভিত্তিতে সেসব পরিচালনা করা দরকার আমরা তা করছি না। ফলে আমাদের সব কিছুতেই হানা হুমত পানি ঢালার মত অবস্থা বিরাজ করছে…।

ধর্ম কিংবা রাজনীতি, শিক্ষা কিংবা সংস্কৃতি- প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই আজ আমরা জড়তাগ্রস্ত। আমরা সমালোচনায় আছি, কাজে নেই। ভোগে আছি, ত্যাগে নেই। মোহে আছি মুক্তিতে নেই। হিংসায় আছি, ভালোবাসায় নেই। বিশ্বাসে আছি, যুক্তিতে নেই। জোর জবর দস্তিতে আছি, গণতান্ত্রিক চেতনায় নেই। এই হল আমাদের প্রগতিশীলতার রূপ!

সামনে এগুতে গেলে এইসব অন্ধকারের বাঁধা ভেঙে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে আলোর পথে। তবেই না আমরা মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারব। লড়তে পারব সেয়ানে সেয়ানে। প্রশ্ন হল, আমরা লড়ছি কোথায়? আমরা লড়ছি- যেখানে লড়াই করবার দরকার নেই সেখানে। আমরা সময়, শ্রম বা অর্থ ব্যয় করি সেখানে যার সত্যিকার অর্থে কোন বাস্তবিক উপকার বা গুরুত্ব ও তাৎপর্য নেই। এককথায়, আমরা তাই গড়ছি বা করছি যা আদৌ দরকার নেই। সোজা কোথায়- আমরা জুম্মরা এখনও এই পর্যায়ে রয়েছি। এই হল আমাদের উন্নতি, অগ্রগতি, প্রগতিশীলতার আসল চেহারা! এখানে তারাই টার্গেটে পরিণত হবেন- যারা এইসব ভাঙতে বা বদলাতে চাইবেন। সেদামে ন হুলেলে অরধ্বেকেউরি মারা যাবেন লারমা, কল্পনা, রূপকদের মত করে। সমাজে তাদের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রবাহিত না হলে এই বীরসেনানীরাই হবেন ইতিহাসের একেকটি কলঙ্কিত নাম! ইতিহাস তো তাই বলছে, বইকি! তাই বলছে বলেই তো আমাদের প্রগতিশীল চিন্তা চেতনায় এম এন লারমারা আজ সেলফিশ, জুম্ম জাতির ধ্বংস, দুর্দশার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হন, আর ভণ্ডরা হিরো, ত্যাগী হিসেবে পূজিত হন!

এই সব বিবেচনায় রেখে আমাদের তরুণদের অবশ্যই চিন্তা চেতনার দিক থেকে মুক্ত হতে হবে। আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার মানসিকতা ধারণ করতে হবে, যাতে তারাই আমাদের ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তরুণরাই আমাদের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারেন।
৫।৮।২০১৪

About the author

উৎপল খীসা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2853

1 comment

  1. Dhiman Khisa

    Valo hoyeche. Vratrighati songhat bondhe sobar egiye asha dorkar ekhon. Se bishoye lekhao onek joruri hoye poreche. Jummo torun projonmo rajniti bimukh haoar prodhan karon eti. Somaje ekhon dorkar okyo, shanti, sompriti. Okyo protisthito hole rajniti, shiksha, orthonity o songskritir kormokando eksathe amra sobai mile druto egiye nite parbo.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>