«

»

এই লেখাটি 1,591 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

পাহাড়ে সামরিক স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা এবং আমাদের মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের পথ

আমাদের মনন কাঠামোতে আজ ধরেছে পঁচন, তার প্রতিটি শিরা-উপশিরাতে আজ বিষাক্ত রক্ত প্রবাহমান। ধনে-মানে যত উন্নত হচ্ছি, ততই মননের দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। প্রজন্মের মাঝে যে গ্যাপ সৃষ্টি হচ্ছে সেটার জন্য দায়ি যেমন আমরা নিজেরা আবার আমাদের মনন কাঠামোর ভিতরে সেটা directly বা indirectly পুশ ইন করা হচ্ছে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, “United we stand, divided we fall”- একত্রিকরণ আমাদের জন্য না খেটে খাটছে বিভক্তি। এই বিভক্তির পাল্লায় পড়ে যেমন আমরা নিজেদের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেয়ার চক্রান্তে সহায়তা করছি আবার আমাদের তরুন প্রজন্ম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে সম্পর্কের যে সেতুবন্ধন ছিল তা আস্তে আস্তে ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। পাহাড়কে ঘিরে সামরিক জান্তা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের চক্রান্ত অনেক দিনের। তারা কিভাবে ধীরে ধীরে আমাদের মনন-জগত ও সমাজব্যবস্থার উপর প্রভাব বিস্তার করার মাধ্যমে পাহাড়ে তাদের অবৈধ অবস্থানকে জায়েজ করে নিচ্ছে সেদিকে একটু নজর দেয়া যাক।

আমরা সবাই ব্রিটিশ ভারতবর্ষের মেকলে শিক্ষাব্যবস্থার সাথে কম-বেশি পরিচিত। এই শিক্ষাব্যবস্থার মূলমন্ত্র ছিল “ভারতবর্ষের শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে এমন এক শ্রেণী তৈরি করা যারা শুধু চামড়ায় হবে ভারতীয় কিন্তু মন-মানসিকতায় হবে ইউরোপীয়। শিক্ষার সুযোগ দেয়া হবে উচ্চতর শ্রেণীকে। এদের মাধ্যমে শিক্ষা নীচু শ্রেণীর মধ্যে চুঁইয়ে পড়বে”। এটা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সমৃদ্ধ দেশজ শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার মাধ্যমে তাদের সংগ্রামী আন্দোলনকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার একটা প্ল্যান। এই প্ল্যানটি মারাত্মকভাবে কাজে লেগেছিল এবং দেখা গিয়েছিল যে ভারতবর্ষের বিপ্লবী আন্দোলন চলাকালে এই পা-চাটা কুকুরগুলো তাদের প্রভুদের রক্ত দিয়ে প্রভুর কাজে সাহায্য করেছিল।

এবার, চোখের চশমাটা একটু পরিষ্কার করে দেখুন তো আমাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা। সাদা চোখে সবই ঠিক মনে হবে কিন্তু একটু গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখুন তো চোখে পড়ে কিনা। যদিও এটা চোখে না পড়াটাই স্বাভাবিক। তাই যারা বুঝতে পারেন নি বা যারা ভাসাভাসা ভাবে বুঝছেন বিষয়টা, আসুন সবাই মিলে আলোচনা করি। আমি ব্যক্তিগত দিকে থেকেই আলোচনাটা শুরু করছি।

 

প্রথমে একটু পিছনে ফিরে যাই। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি হওয়ার পরও দেখা গিয়েছে তরুণসমাজের মাঝে আন্দোলনের স্পৃহা। তারা ক্রমাগত অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে, প্রগতিশীল কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে, সমাজের সমস্যা সংকটে ভূমিকা রাখছে। এমন সময় হঠাৎ করে একটা ঝড় এলো এবং সেটা আমাদের তরুনসমাজকে প্রভাবিত করলো। দলে দলে তরুণরা সেদিকে ভিড় করতে লাগল। সমাজে এরপর বেড়ে গেল অন্যায়, রাহাজানি। কি সেই ঝড়?

পাঠক, আপনার বাড়ির পাশের তরুণটি যিনি ২০০০ বা ২০০২ সালের ব্যাচের(মেট্রিক) ছাত্র তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তাদের প্রজন্মকে কে গিলে খেয়েছে? তাদের কর্মস্পৃহাকে কে নিস্তেজ করে দিয়েছে? উত্তরটা আমিই দিয়ে দিই; মাদক ও ড্রাগ। এই সর্বনাশা মাদকের ছোঁয়ায় তরুণ সমাজ তখন একবারে বেসামাল। পূববর্তী প্রজন্ম উত্তরসূরীদের এমন অবস্থা দেখে আস্থা হারিয়ে ফেললো। মাদকের ছোবল আঘাত হানলো সর্বপ্রথম খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় এবং যেসব পাড়ায় আন্দোলনের সূত্রপাত হত বা এসব সামাজিক-প্রগতিশীল কর্মকান্ড পরিচালিত হত সেখানকার তরুণরাই আসক্ত হল বেশি।

এবার আরেকটু পিছনে ফিরে যাই। সময়টা চুক্তিপূর্ব। খাগড়াছড়ি তখন উত্তাল, রাজপথে আন্দোলন চলছে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের। এরপর পার্বত্য চুক্তি হল খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে, এটি কিন্তু খাগড়াছড়ির আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢাললো যেন। পিসিপি’র নেতারা চুক্তিটাকে মানতে পারলেন না, তারা এটিকে চিহিৃত করলেন আপোষ চুক্তি বা কালো চুক্তি বলে। ফলে, পিসিপি’র (যারা পবরর্তীতে আত্মপ্রকাশ করেছিল ইউপিডিএফ নামে) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তুঙ্গে উঠে যায় খাগড়াছড়িতে। এর প্রভাবে খাগড়াছড়ির তরুণদের মাঝে রাজনীতিমুখীনতা, নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা থেকে শুরু করে এসব মনন গড়ে উঠতে শুরু করে। তখনই এলো এই আঘাত, সর্বনাশা মাদকের আঘাত।

এখানে প্রশ্ন হতে পারে, খাগড়াছড়ির মত একটা সংঘাতময় এলাকায় মাদক কিভাবে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়লো? যেখানকার তরুণসমাজ রাষ্ট্র কর্তৃক আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হওয়ার মাধ্যমে পোড় খেতে শিখছে, নিজেদের অধিকার আদায়ের পথ খুজেঁ নিয়েছে সেখানে মাদকাসক্তির মত ভয়াবহ পথে তারা কিভাবে পা বাড়াল?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা আজো পাইনি। তবে, এক্ষেত্রে সরাসরি দায়ি করা হয় আর্মিদের। আর্মিদের সহায়তায় ড্রাগ ডিলাররা পাহাড়ী তরুণসমাজের মধ্যে এই সর্বনাশা সাপ ছেড়ে দেয়। ফলে, তরুণ সমাজ হয়ে পড়ে দিশাহীন, কোন কূল-কিনারা তারা খুজেঁ পায় না।

এভাবে দুই প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান, বিবেচনাবোধ, উন্নত মানসিকতা, নীতি-নৈতিকতা, প্রগতিশীলতার যে সেতুবন্ধন ছিল সেটিকে ভেঙ্গে দেয়া হয়। জ্ঞানপঙ্গুত্ব থেকে শুরু করে সমাজে রাহাজানি, চুরি-চামারি বাড়তে থাকে। অভিভাবকরা সবাই নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যে তরুণদের উপর মুরুব্বিদের আস্থা ছিল সঠিকভাবে নিজেদের পরিচালনা করার, নিজের জীবনকে সকলের কল্যাণের কাজে লাগানোর পথে পরিচালনা করার, সেই তরুণদের এহেন অবস্থার কারণে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। ফলে, আন্দোলন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে।

 

এটা আগের ঘটনার কথা বললাম। এখন বর্তমানে ফিরে আসি। পূববর্তী প্রজন্মকে না হয় ড্রাগ দিয়ে পঙ্গু বানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে? তাকে কিভাবে প্রক্ষালিত করা হবে? কিভাবে মননে ঢুকিয়ে দেয়া যাবে নিজেদের চরিতার্থ করার পথ যে পথে তারা নিজেরাই হাঁটবে?এই ড্রাগ ব্যবসা বা এই পদ্ধতি আর খাটবে না কারণ মার খেয়ে পাহাড়িরা তখন একটু সচেতন হয়ে গিয়েছে। তারা জ্ঞানবিকাশের দিকে ঝুঁকছে, পড়াশুনা করে, চাকরি করে সমাজে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিচ্ছে।

এবার আমরা মেকলে পদ্ধতি প্রয়োগ করি যেমনটা আমরা গণিতে প্রতিস্থাপন করতাম। ভারতীয়দের বদলে আমরা এবং ব্রিটিশদের বদলে আর্মিরা। এটুকু শুধুই পরিবর্তন আর মূল যে চিন্তা সেটা কিন্তু একই।

আমাদের পাহাড়ি মধ্যবিত্ত সমাজে ইগোর প্রভাবটা বেশি। কারও ছেলে-মেয়ে যদি একটু ভাল একটা স্কুলে পড়তে না পারে, সমাজে তার পরিবারকে একটু হেয় করা হয়। বিল্ডিং, টাকা-পয়সা দিয়ে তো হয়ই, এখন ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়ছে, কোন স্কুল-কলেজে সেটা দিয়েও সমাজের অবস্থানকে নির্ণয় করা হচ্ছে। এই সুযোগটাই আজ নেয়া হচ্ছে প্রজন্মকে পঙ্গু করতে।

খাগড়াছড়ির কথাই ধরি কারণ খাগড়াছড়ির ছেলে হওয়ার কারণে সবকিছুই সামনে থেকে উপলব্ধি করেছি। রাঙ্গামাটি আর বান্দরবান আমার লেখায় বারবার বাদ পড়ে গিয়েছে। আসলে, সমাজকে ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমি খাগড়াছড়িকেই কেন্দ্র করে লিখেছি এবং এর মাধ্যমে সমগ্র পাহাড়ের বিষয়টিকে এক সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করেছি।

 

খাগড়াছড়িতে ক্যান্টনমেন্ট কলেজ চালু হয় আমার জানামতে ২০০৬ সালে এবং স্কুল তারও আগে। খাগড়াছড়িতে কিন্তু স্কুল-কলেজের অভাব নেই। খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নতুন কুড়িঁ স্কুলসহ প্রাইমারি স্কুলও আছে অনেক। এসব স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করে অনেক ছেলে-মেয়েই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেখানে নতুন করে এই স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠিত করা হল কেন?

চালু হওয়ার প্রথম দুই বছরের মাথায় ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে এটি সবার পছন্দের তালিকায় চলে আসে। স্কুল এডমিশনে প্রবল প্রতিযোগিতা হয়। ছোট-ছোট বাচ্চাদের জোর করে শিখিয়ে, মুখস্ত করিয়ে তাদের ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে চান্স পাইয়ে দেয় অভিভাবকরা। নিজেদের ছেলে-মেয়েরা ভালো স্কুলে পড়বে এটা সবাই চাইবে। আবার খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজকে টেক্কা দিয়ে তারা ভর্তি করতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি জেলার শ্রেষ্ঠ স্কুল-কলেজে পরিণত হয় এটি।

এখন, আসুন শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নজর দিই। নিয়মিত ক্লাস, কোচিং করানো হয়; সর্বক্ষেত্রে ফলাফল ভালো। এটাই তো সেরা হওয়ার মানদন্ড তাই না? ফলে, এই স্কুলটি খাগড়াছড়ির মধ্যবিত্ত অংশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্কুলে পরিণত হয়েছে যেখানে তার সন্তান পড়াশোনা করলেই ভালো মানুষ হবে।

কিন্তু ছেলেমেয়েরা কি হচ্ছে? ভালো মানুষ হচ্ছে না ভালো মেশিন হচ্ছে? প্রতিদিন ক্লাসের পর কোচিং যা করানো হয় সেখানেও ক্লাসের ছায়া ঘোরাফেরা করে যদিও কোচিং এর জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। সকাল থেকে একটা ছোট ছেলে বা মেয়ে ক্লাস-কোচিং করানোর পর বিকালে বাড়ি ফিরে কিভাবে সে প্রাইভেট পড়ে রাতে আবার পড়াশুনা করবে? ফলে, ছেলেমেয়েরা হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। যারা যন্ত্রের মতো কাজ করে যাচ্ছে, বাইরের জ্ঞান আহরণ করার মতো সেখানে সুযোগ নেই। যারা পারছে না তারা পিছিয়ে পড়ছে।

একটা বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, এই স্কুলের হোস্টেলে মাতৃভাষায় কথা বলার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ বাংলা বলতে না পারে তবে তাকে শাস্তি দেয়া হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একটা ছেলে বা মেয়ে যদি এখানে পড়তে আসে তবে সে কি বাংলা ভালোভাবে বলতে পারবে? এভাবেই মাতৃভাষার যে চর্চা সেটাকে আঘাত করা হচ্ছে ক্রমাগত। যেখানে সরকার মাতৃভাষায়া শিক্ষাদান কর্মসূচী চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছে সেখানে তাদের চিন্তার জগতে বাংলা ভাষাকে ঢুকিয়ে দেয়া কতটুকু যৌক্তিক?

সকালে গিয়ে ছেলে-মেয়েদের পিটি-প্যারেড করতে হয়, জুতা থেকে শুরু করে ড্রেস কোড ঠিকমত মানা হয়েছে কিনা তা দেখা হয়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই অজুহাতে ফি আদায় থেকে শুরু করে শারীরিক শাস্তি প্রদান এগুলো কতটুকু যৌক্তিক? তারা কি করপোরেট অফিসে চাকরি করে যেখানে একদিন ড্রেস কোড মানতে না পারলে বেতন কাটা যাবে? তাদের মমনে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে সামরিক আইন, লোভ দেখানো হয় ভবিষ্যতে সামরিক অফিসার হওয়ার। স্কুল থেকে বহিষ্কারের ভয়, শাস্তির ভয় এগুলো কি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মনে কতটুকু বিকাশে সহায়ক হবে? তারা এখান থেকে শিখবে কি? ভালো মানুষিকতা না সামরিক যন্ত্রের পূজা??

অভিভাবকরা বলেন, এসব স্কুলে পড়ে ছেলে-মেয়েরা নিয়মানুবর্তী হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, যারা ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়েনি তারা কি উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গেছে? ভালো স্কুলে পড়লেই যে ছেলে মানুষ হবে সেটা মনে করার কোন প্রয়োজন নেই। ভালো মানুষের হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছেলে-মেয়েদের স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠার সুস্থ পরিবেশ। ক্যান্টমেন্ট স্কুলের মত একটা সামরিক জায়গায় মনন বিকাশের কোন দাম নেই। ফলে, ছেলে-মেয়েরা গড়ে উঠছে ভালো ছাত্র-ছাত্রী হয়ে কিন্তু মননে তারা হয়ে যাচ্ছে সামরিক। এ যেন আরেক মেকলে পদ্ধতি। আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধীকার আন্দোলনের জন্য এটি মারাত্মক একটি হুমকি। প্রথমে তারা আমাদের প্রজন্মকে পঙ্গু করেছিল ড্রাগের মাধ্যমে এরপর তারা বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে কানা বানাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে।

 

এত কিছুর সারসংক্ষেপ কি? আর্মিরা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তোমরা যদি উন্নত হতে চাও তবে আমাদের ছায়াতলে এসে দাঁড়াও। আমরা তোমাদের সামরিক কায়দায় মানুষ করব। এখানে আমাদের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে, এভাবে ক্রমাগত পার্বত্য অঞ্চলে আর্মিদের উপস্থিতিকে জায়েজ করা হবে। তখন বলা হবে, তারা আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে, উচ্চশিক্ষিত করছে, নিয়মানুবর্তীতা শিখাচ্ছে; পাহাড়ের জংলীদের মানুষ বানাতে আর্মির প্রয়োজন রয়েছে। এভাবে তারা পাহাড়ের মধ্যবিত্ত সমাজের কাছে নিজেদেরকে তুলে ধরছে এক অতিপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে।

About the author

অজল দেওয়ান

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2772

3 comments

15 pings

Skip to comment form

  1. Constant Chino

    আসলেই চরম লেখা পড়লাম| যার সবখানি সত্য |Tnx bro এমন একটা লেখার জন্য (y) #ajal da

  2. Nilomoni chakma

    ধন্যবাদ কাঙ্খিত উত্তরের জন্য

  3. অজল দেওয়ান

    এখানে শৃঙ্খলিত বলতে আমরা কি বুঝি?? আমাদের স্কুল-কলেজে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সেটা কি আসলেই শৃঙ্খলমুক্ত?? এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও??? না আমরা আসলে শৃঙ্খলমুক্ত কোন শিক্ষা পাচ্ছি না। আমাদের গৎবাঁধা কিছু পাঠ্যবই পড়তে হচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা সেগুলো মুখস্ত করে পরীক্ষার হলে বমি করে আসে। এটা একটা দিক হতে পারে।

    আর শৃঙ্খলার শিক্ষাকে আমি অপ্রয়োজনীয় বলছি না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে তবে সামগ্রিকভাবে তার প্রভাব আমাদের উপর কিভাবে পড়ছে তার উপর নজর হারালে তো চলবে না। শৃঙ্খলার শিক্ষার নামে যদি আমাদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে ভুলিয়ে দেয়া হয় আমরাই পাহাড়ের প্রকৃত সন্তান, আমাদের অতীতের গণহত্যাগুলো আর্মিদের হাত কতটুকু ছিল বা আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আর্মিরা কিভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে??? এসব শৃঙ্খলার নামে তাদের মগজ ধোলাই করে দেয়া হচ্ছে যা উন্নত শিক্ষা আমরা পরিবার থেকে পাই তাও পাচ্ছি না কারণ একটু বড় হলেই তাদের শৃঙ্খলা শেখানোর নামে আর্মি পরিচালিত হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
    আমাদের প্রয়োজন উন্নত শিক্ষা, এমন গৎবাঁধা শিক্ষা যেমন আমাদের জন্য বিপদজনক আবার সামরিক স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের জন্য আরো বেশি বিপদজনক।

  4. Nilomoni chakma

    আপনি যে শৃঙখলার শিক্ষাকে সমালোচনা করেছেন,কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই শিক্ষার কি প্রয়োজন নেই?

  5. Chakma Dod

    Thank u so much…….

  6. Kyachinghla Marma Monu

    শিক্ষার ছত্রছায়ায় অন্য পিঠে লোকিয়ে থাকা যুক্তিকগুলো তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।কিন্তুু এই সচেতনতা তরুণদের পাশাপাশি অবিভাবকের সচেতন হওয়াটা সবচেয়ে বেশি যুক্তিকর বলে মনে করি ।

  7. Chailagya Marma Sutalong

    aai to ei ta to ekta koro nio

  8. Ajal Dewan

    Hridoy Hasan আর্মিদের প্রতি আমাদের রয়েছে তীব্র ঘৃণা। পার্বত্য চুক্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ ছিল আর্মিদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো সরিয়ে নিতে হবে। কেন? কারণ তারা পাহাড়ে দাঙ্গাগুলোতে মদদ দিচ্ছিল। সেখানে ক্রমাগত পরিবেশ পাল্টাচ্ছে তাই কিভাবে তারা তাদের অবস্থান জায়েজ করবে? তাই তারা ধরেছে শিক্ষাকে। সর্বক্ষেত্রে তারা এভাবেই সামরিকায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।

  9. Hridoy Hasan

    Ajal Dewan ami mne hoy ai bepare kichu ta jani……. Pychingmong Marma bhiar lekha gula pora hoy prai e 🙂

  10. Ajal Dewan

    করণীয় কি সেটার চেয়ে আমরা কতটুকু তার দিকে নজর দিচ্ছি তা আগে স্পষ্ট করা আমাদের কর্তব্য।

  11. Ajal Dewan

    আপনাকেও ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য….. 🙂

  12. Ajal Dewan

    ভাইয়া, আপনি কোন স্ট্যাটান্ড লাইফের কথা বলছেন সেটা আমি বুঝতে পারছি। তবে, আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমাদের পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে সামরিক আইন খুবই মারাত্মক। আমার লেখায় মাতৃভাষাসহ আরো কিছু ক্ষুদ্র বিষয় উঠে এসেছে। তাছাড়া, আর্মিদের মাঝে রাজনীতির প্রতি তীব্র ভয় কাজ করে আর তাদের আছে ক্ষমতার প্রতি প্রচন্ড লোভ। যার ফলে বাংলাদেশের দুইজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছে এই আর্মিরা।
    আরো অনেক বিষয় এখানে জড়িত। পাহাড় বিষয়ে আর্মিদের কার্যক্রম সম্পর্কিত ধারণা আসলে এখানে বলাটাও কষ্টকর। আপনাকে পাহাড়ের অতীত সম্পর্কে জানতে হবে আগে। আর্মিদের সাথে আমাদের বিরোধ কোথায়, তাদের সাথে সম্পর্ক কেমন। আর মাদক সম্পর্কিত ধারণা দিয়েই তো বুঝা যায় তারা কিভাবে তাদের কার্য হাসিল করবে সে ধান্ধায় ব্যস্ত।

  13. Chailagya Marma Sutalong

    akhon amadar koro nio ki..
    ?

  14. Phaguno Abha

    কি বলবো আমাদের উচ্চ, মধ্যবিত্ত্য মানুষরা তো সেগুলো বুঝেনা একটু টাকা পেলে কিভাবে খরচ করবো সেই চিন্তা সবসময় করে তাদের মেয়ে গুলো শহরে পাঠায় শহরে এসে কি করছে সেদিকে খেয়াল নাই কোন গাইড নাই

  15. Mana Jit Chakma

    ভাই অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি বিশ্লেষনধর্মী লেখা এবং যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য।

  16. Mana Jit Chakma

    ভাই অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি বিশ্লেষনধর্মী লেখা এবং যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য।

  17. Hridoy Hasan

    আচ্ছা, ভাইয়া ক্যান্টমেন্ট স্কুল আমাদের ময়মনসিংহেও একটা আছে, আমি যতদূর জানি এইখানেও একই অবস্থা………আর ক্যান্টমেন্ট যে জায়গায় থাকে অইখানে এইরকম স্কুল কলেজ ও থাকে………এইটা বাংলাদেশের সব জায়গায় 🙂 ওদের স্কুল কলেজে ওরা ওদের মতো করে পড়াবে এটাই স্বাভাবিক, আজকে আপনি বড় বড় কয়েকটা কলেজের প্রিন্সিপালদের দেখেন, দেখবেন তারা সবাই আর্মি পার্সনালিটিস, কি রাজউক বলেন আর কি রেসিডেনসিয়ালই বলেন……..তবে আপনার লেখাটা সুন্দর ছিল (Y) আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি একটা স্ট্যান্ডার্ড লাইফ লিড করতে চাইলে আর্মি খারাপ না 😛

  18. Trackless Chakma Bukku

    চলমান নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপট খুব সুন্দরভাবে ঘুছিয়ে তুলে ধরেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ এই লেখার জন্যে। এসব বিষয়গুলি আমাদের তরুণদের মাথায় ঢুকাতে হবে, তাদের বুঝাতে হবে যে তারা মানুষ হওয়ার পরিবর্তে খোঁয়াড়ে বাঁধা শুধু একটা প্রানীই হচ্ছে…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>