«

»

এই লেখাটি 800 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ সংঘাত- ভাতৃঘাতি না আদর্শিক ?

লিখেছেন- দীপঙ্কর ত্রিপুরা

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ একটি সংঘাত চলছে। কখনো থেমে আবার কখনো বা এক নাগাড়ে। এ সংঘাত এখন সকলের কাছে প্রকাশ্যে । অনেক তরুণ তাজা প্রাণকে এ সংঘাতের বলি হতে হয়েছে। এবং আরো কত তাজা পরিচিত কিংবা অপরিচিত জনকে এ সংঘাতের বলি হতে হবে কে জানে ? এ সময়ে এসে এ সংঘাতকে আমি আর কিছুতেই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বলব না । এটা দুটি দলের আদর্শের সংঘাত ! রাজনৈতিক আদর্শ ও সংকটের সংঘাত ! সুবিধাবাদী আপোষকামী ও লড়াইয়ের চেতনাধারী আপোষহীনদের মধ্যে সংঘাত। ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত এতো দীর্ঘ হওয়ার কথা নয় । উভয় দলের রাজনৈতিক আদর্শের ধারা এখানে বিদ্যমান আছে।

 

 

সুবিধাবাদী ধারাকে রাজনৈতিক একটি অবস্থান বলে আমি মনে করি।  তাই এ সংগ্রাম এবং লড়াই  সুবিধাবাদী ধারা এবং প্রকৃত আন্দোলনকারী আপোষহীন চেতনাধারী শক্তির মধ্যে লড়াই ।

এ সংঘাতে উভয়ের দলে নবীন প্রাণ যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তা সুবিধাবাদী তরুণ আর আপোষহীন তরুণ প্রাণ শক্তি দুটি’র মধ্যে হতে পারে। তাই এ সংঘাত থামার কোন লক্ষণ নেই । যে চুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক দ্বিধাবিভক্তি তা এখন মূখ্য নয়। রাজনৈতিক আদর্শই এখন প্রধান মূখ্য বিষয়।

অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তারাই এগিয়ে নিতে পারবে যাদের রাজনৈতিক আদর্শ শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্খাকে যারা ধারণ করতে পারবে।

আমার মতে এ সংঘাত থামানোর শক্তি সাধারণ মানুষের হাতে নেই। উভয় দলের সংঘাতে সাধারণ মানুষ আজ হতাশ। এ সংঘাত কবে থামবে করোর জানা নেই। এবং এ সংঘাতের ফলে কোন দল বা পার্টি বলতে পারবে না যে, তারা নিজেরা লাভবান হচ্ছে। এর ফলে সমাজের কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণী ও শাসক গোষ্ঠিরাই বেশিই লাভবান হচ্ছে। প্রকৃত লড়াকু, সংগ্রামীচেতনা ধারণকারী যারা কখনো এর ফলে লাভবান হবে না। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এ সংঘাত থামানোর দায়িত্ব বা বন্ধ করার দায়িত্ব উভয়ই দলের প্রকৃত লড়াকু, সংগ্রামীচেতনা ধারণকারীদের হাতে। উভয় দলের প্রকৃত লড়াইয়ের নেতৃত্বকেই বুঝতে হবে এর ফলে তারা কাদের লাভবান করছে। হতে পারে উভয় দলে কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠি গাঠতি মেরে বসে আছে। যারা আদতে এ সংঘাত জিইয়ে রেখে আন্দোলন এগুতে দিচ্ছে না । প্রকৃত লড়াইয়ের সৈনিকদের আড়াল করে রাখছে। এখানে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

আমাদের সমাজের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকেও বুঝতে হবে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে কাদের দ্বারা আন্দোলন সম্ভব। এটা বুঝতে হবে জনগণের পক্ষে কথা বলা মানে এ নয় যে, এটা জনগণের পার্টি। আজকে লোক দেখানো মেকি আন্দোলনও আমরা দেখি। প্রকৃত অর্থে এটা রাজনৈতিক বেল কি বাজি। যা সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য করে থাকে। বিষয়টি সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। এ না বুঝার সংখ্যার মানুষেরা ভারী হওয়ার কারনে সুবিধাবাদী শ্র্রেণীটি বার বার পাড় পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে তাদের হা হুতাশকেও আন্দোলন মনে করে। এটা করার দিন সুযোগ আমরা কি দেখেও না দেখার ভান করব ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা আশু প্রয়োজন। এ জায়গা গুলো থেকে বিষয়টি সামনে এনে আলোচনার আহবান জানাচিছ।

About the author

জুম্মো ব্লগার

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2766

1 ping

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>