«

»

এই লেখাটি 760 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সংকট বিশ্লেষণ ও উত্তরণে ভাবনা

অহিংসা নীতি বুদ্ধ দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আমরা যদি এ দর্শনের গহীনেঅবগাহন করি তাহলে সেখানে দেখতে পাই যে, এদর্শনের অন্যতম মুলনীতি হল বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘ। সংক্ষেপে  যেগুলোর অর্থ দাঁড়ায়- বুদ্ধ শব্দের অর্থ জ্ঞানী,ধর্মের মর্মার্থ হল মানবতাবাদ ধারন ও লালন করা এবং সংঘ মানেই হল সমাজের সব জায়গায়একতাবোধ স্থাপন করা, একতার ভিত্তিতে সবকিছু পরিচালনায় নিয়োজিত থাকা।

বলা দরকার যে, এ দর্শন চারটি আর্যসত্য সন্ধানেরমধ্য দিয়ে দুঃখ হতে মুক্তি বা নির্বাণ লাভের প্রচেষ্টায় উদ্ভুত হয়েছে। অর্থাৎ চারটি আর্যসত্যের মধ্যে দিয়েই বুদ্ধ দর্শনেরপরিব্যাপ্তি ঘটেছে- যার মধ্যে আমরা চারটি মুল বৈশিষ্ট্য বা দিক খুঁজে পাই। সেগুলোহল কর্মবাদ, পরিবরতনবাদ, কার্যকারণবাদ ও জন্মজন্মান্তরবাদ। কর্মবাদে সদা সৎ কর্মসম্পাদনে নিয়োজিত থাকবার কথা বলা হয়েছে, পরিবরতনবাদে জগত ও জীবনের সমস্ত কিছু যেপরিবর্তনশীল তার জয়গান করা হয়েছে, কার্যকারণবাদে জীবন ও জগতের সমস্ত কিছু উদ্ভবেরমূলে নানা কারণ থাকার কথা বলা হয়েছে এবং জন্মান্তরবাদে ইহ জীবনের কামনা বাসনারপুনঃ পুনঃ জন্ম বা উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে।

আমরা যদি বুদ্ধ দর্শনের সমস্ত কিছুকে সুক্ষভাবে পর্যালোচনাকরে দেখি, তাহলে আমাদের সামনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠে।যেমন- যে কোন ব্যক্তি, দল, সমাজ, প্রতিষ্ঠান বাস্তব জ্ঞানের ভিত্তিতে পরিচালনারলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মনোযোগী হওয়া, মানবিক ভালোবাসা, সততা, স্বচ্ছতা,পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা, গণতান্ত্রিক একতাবোধ প্রভৃতির ভিত্তিতে সেসবপরিচালনা করতে সদা তৎপর, নিয়োজিত থাকার কথা বলা হয়েছে। পূজনীয় ব্যক্তিকে পূজাঅর্থাৎ শ্রদ্ধা বা মান্য করার শিক্ষা দিয়ে, পারস্পরিক সমঝোতা বা একতার ভিত্তিতেমানবিক, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি কর্ম সম্পাদনের উপদেশ দিয়ে, ঘরের সমস্যা ঘরেরমধ্যে সমাধানের পরামর্শ সহ প্রভৃতি জনহিতকর দিক নির্দেশনা দিয়ে এ দর্শন মানবসভ্যতার ইতিহাসে অনন্য মর্যাদায় অভিসিক্ত হয়েছে।

কথা হল, গৌতম এর উল্লেখিত জনহিতকর, অহিংসা ও সততারমহান মর্মবাণী গুলোকে অনুসরণ করে গঠিত কথিত সমাজ হিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোর ভুমিকানিয়ে। একথা আর অবিদিত নয় যে, অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মত পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ আজনানা কারণে গভীর সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে। এক সময় এটি ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত হলেওসময়ের প্রেক্ষাপটে সেটির  আওতায় পরিচালিতশাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার ও তৎকেন্দ্রিক গড়ে উঠা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমুহেরপরিচালনা, ক্ষমতা এবং স্বার্থগত বিষয়গুলো ঢাকায়  অবস্থানরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়, বিশেষ করে জুম্মশাসক শ্রেণীর কাছে  একটি বিশেষতাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে আবিরভুত হয়েছে। যে কোন  প্রতিষ্ঠান গঠিত বা পথ চলা শুরু হয় একক বাএকাধিক ব্যক্তির উদ্যোগে কিন্তু সেটার অগ্রযাত্রা বা সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় অনেকেরঅংশগ্রহন, অবদানের মধ্যে দিয়ে। যেখানে যত বেশি লোকের সচেতন অংশগ্রহণ থাকবে সেখানে  ততবেশি সমৃদ্ধি ঘটবে।

আমার মনে হয়, শুরু থেকে এটি পরিচালনায় ক্ষেত্রেগণতান্ত্রিক  নিয়ম নীতিগুলো কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় অনুসৃত না হওয়ার কারণে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়েসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা বিবাদ, দ্বন্দ স্পষ্ট ভাবে দেখা দিয়েছে। বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আর্থিক, পরিচালনা সহ অন্যান্যস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে প্রধানত পরিচালক মণ্ডলীর মধ্যে দ্বন্দের ঘটনাকালক্রমে তাদের নিজেদের, অন্যদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, সংশয় তৈরিকরেছে। নিজেদের ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে পরিচালক মণ্ডলী আজ অব্দি কেবল নানাভাবেজল ঘোলা করেছেন অন্যদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে। এখানে হতাশার   ব্যাপারটিহল- একটি ঘর বা পরিবারের ক্ষুদ্র একটি সমস্যাকে সংশ্লিষ্ট পরিচালক মণ্ডলী অহেতুকঅন্যদের মাঝে বিস্তৃতি ঘটিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেন। নিজেদের স্বার্থেরউদগ্র তাড়নায়  ঢাকায় পড়ালেখা করতে আসা কোমলমতিছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী সহ অন্যদের জড়িয়ে ফেললেন। রাঙ্গামাটি, সাভার সহ অন্য জুম্মবৌদ্ধদের জড়ালেন। তাতেও স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হবার কারণে পার্বত্যচট্টগ্রামের রাজনৈতিক দল জেএসএস, সরকার, আদালতকে জড়ালেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেওপ্রত্যক্ষ পরোক্ষ  ভাবে জড়িয়ে ফেলার নানা প্রচেষ্টাচালানোর দৃষ্টান্ত ইতোমধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সত্যিই জঘন্য। কোন কোন পর্যবেক্ষক মনে করেন, এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্যে তোবটেই, যে কোন সুষ্ঠু মানুষের পক্ষে মেনে নেয়া নিঃসন্দেহে অসন্মানের, অপমানেরতুল্য।  যেমন একপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারাআজ ভান্তেকে চায় না তারা দায়িত্ব নিলে বৌদ্ধ বিহারের জায়গায় মার্কেট/শপিং মলনির্মাণ বা ভাড়া দেয়া হবে, সেসব হতে অর্জিত অর্থ লুটপাট করা হবে, বিদ্যমান স্কুলকলেজ উচ্ছেদ করে স্কুল কলেজে নিয়োজিত শিক্ষক কর্মীদের কর্মসংস্থান, রুটি রুজির পথরুদ্ধ করা হবে। স্কুল, কলেজ উঠিয়ে দেয়া হলে অনেক দরিদ্র জুম্ম বা আদিবাসী শিক্ষারসুযোগ হতে বঞ্চিত হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে ইউপিডিএফ এর সাবেককর্মীরা। যার মানে  হল ইউপিডিএফই এর মুলহোতা।যার বাস্তবিক আদৌ কোন ভিত্তি নেই।

অন্য পক্ষ বলছে সভাপতি/ভান্তে একক ক্ষমতাবলে সবকিছুপরিচালনা করেন, যেখানে অন্যদের অংশগ্রহণের কোন সুযোগ বা পরিবেশ নেই। তিনি নিজেরইচ্ছেমত ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক, সম্পদের অপচয় করছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানকেজিম্মি করে রেখেছেন। তিনি সারা জীবন জেএসএস এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান করেওনিজের ক্ষমতা, স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার মানসে সম্প্রতি জেএসএস কে ব্যবহার করছেন। তিনিকলেজ প্রশাসনে বাঙালীদের ডেকে নিয়ে এসে  ভবিষ্যতেবৌদ্ধ বিহারের পরিবেশকে বিনষ্ট করছেন- নিজের সুবিধাবাদকে কায়েম রাখার মানসে। চলমানধারা অব্যাহত থাকলে অদুর ভবিষ্যতে একসময় এখান থেকে বৌদ্ধ বিহারটি সমূলে উচ্ছেদ হয়েযাবে। বাঙালীরা সেটা দখল করে ফেলবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রশ্ন হল, উল্লেখিত অভিযোগ গুলো বাস্তবে আসলেকতটা সঠিক? কারা এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন? আমার মনে হয়, যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরসামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক চেতনা, সততা, আদর্শ, নৈতিকতার অবস্থান বা ভিত্তি,উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখলে অতি সহজেই সংকটের অন্তনিহিত কার্যকারণ, তাৎপর্য, গুরুত্ব অন্যদেরকাছে স্পষ্ট হবে…। এখানে কেবল একটি কথাই  বলব- এই দ্বন্দের বিবাদমান দুটো পক্ষের জয়পরাজয়ের সাথে পরিচালক মণ্ডলীর লাভ ক্ষতির স্বার্থ জড়িয়ে থাকলেও অন্যদের মানেসাধারণ জুম্ম বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বা রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষতি ছাড়া কল্যাণকর কিছুইনেই। কারণ যারা এই দ্বন্দে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা প্রকৃতপক্ষে জেএসএস বা ইউপিডিএফকাউকেই পচ্ছন্দ করেন না। এটি উভয় দলের নেত্রিত্বকে বুঝতে হবে।

তাই আমি বলব, আমাদের জুম্মদের মধ্যে কোন কোন লেখকসহ সংশ্লিষ্টরা  পরিচালক মণ্ডলীর স্বার্থগতদ্বন্দটির সাথে অন্যদের জড়িয়ে ফেলে অহেতুক নিজেদের জুম্মদের মধ্যেকার সংঘাতকে পাকাপোক্তকরে চলেছেন। কতটা নির্বোধ হলেপরে কোন বুদ্ধ অনুরাগী ব্যক্তি, শান্তিপ্রিয় প্রগতিশীল লেখকের পক্ষে এমন কাণ্ডঘটানো সম্ভব তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ বুদ্ধ নীতি এই ধরণের কীর্তিকলাপসমর্থন করে না- যা শুরুতেই স্পষ্ট করা হয়েছে।

এই সবকিছু জানা বুঝার পর আমার লজ্জা এবং খারাপলাগছে এই ভেবে যে, আমিও নিজের মাথার ঘামে কামানো টাকা দিয়ে এমন একটি অস্বচ্ছ,অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়েছি। যে প্রতিষ্ঠান বা তার পরিচালক মণ্ডলী স্বচ্ছতারসাথে কাজ করতে পারে না, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, কল্যাণে ভুমিকা না রেখে ব্যক্তিরহীন স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ- সংঘাতকে বাড়িয়ে তোলে সেটার সাথে শান্তিকামীমানুষের জড়িয়ে ফেলার কোন মানে হয় না।

এই মুহূর্তে কত্রিপক্ষের উচিত- পারস্পরিক আলোচনাসমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানকে অহেতুক আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে অধিকতরমজবুত, গতিশীল করতে যথাশীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। কাউকে ভাড়াতে না খাটিয়ে একটিগণতান্ত্রিক শান্তিকামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড় করাতে সমবেত অগ্রণী ভুমিকা রাখা।আমাদের সকলের বুঝা উচিত- অস্বচ্ছতা থেকে অস্বচ্ছতায় সৃষ্টি হয়। নিজেরা অস্বচ্ছথেকে শিক্ষার নামে কিছু মানুষকে ডিগ্রী কামানোর ব্যবস্থা করলে সেটা বা সেপ্রতিষ্ঠান পুতপবিত্র হয় না। সেসব তথাকথিত শিক্ষিত ডিগ্রিধারী নতজানু, তোষামুদেশ্রেণী দিয়ে কখনোই সমাজ বা জাতির সত্যিকার কল্যাণ সাধিত হয় না। এরা বরং সব সময়ইসমাজের আনাচে কানাচে নানা জায়গায় প্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তাদের শিক্ষিতহিসেবে সম্মান না করে অমানুষ হিসেবে তাচ্ছিল্য করা যে কোন বিবেকবোধ সম্পন্নমানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। মনে রাখতে হবে যে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সংকটঘনীভূত হয়েছে তাদের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ দিয়েই। ভান্তে কিংবা অন্যদের অবশ্যইঅতীত থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার। মনে রাখতে হবে যে, নিজের দুধ, কলা দিয়ে পোষা সর্পের দংশনেওঝার মৃত্যু হয়, অন্যদের দিয়ে নয়। এই পর্যন্ত বিশ্বের যত প্রতিষ্ঠান, দল, সমাজ,জাতি বা দেশ গভীর সংকটে  নিপতিত হয়েছে নিজেদেরইঅগণতান্ত্রিক, অনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে আলিঙ্গন করবার কারণে।

আমাদের সকলের বুঝা উচিত পারস্পরিক অংশগ্রহণ,মরজাদার নিশ্চিত করার ভিত্তিতে কেবল একটা প্রতিষ্ঠান সামনে অগ্রসর হতে পারে।অস্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে বিজয় অর্জন করা যায়, কিন্তু চূড়ান্ত বিচারেতাতে করে যে কোন প্রতিষ্ঠান, দল, সমাজ কেবলই পিছিয়ে পড়ে থাকে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোরউচিত- কোন ব্যক্তির কথায় বা সুবিধায় প্রলুব্ধ না হয়ে সমাজের  সমস্যা সমাজকে দিয়েই সমাধানের প্রচেষ্টা চালাতেউৎসাহ দেয়া, উদজিবিত করা, দিক-নির্দেশনা দেয়া। কারণ যে কোন ধরণের অগনতান্ত্রিকপদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কেবলই হতাশা ডেকে নিয়ে আসতে পারে। তেমনটি হলে সেটার কালিমাথেকে অহেতুক নিজেদেরও সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলব- এক সময় আমিও ছাত্র ছিলাম।আমারও নানা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল। সেসব দিয়েই আমি সমাজ, জাতি, দেশ গঠনে নিজেরযথাসাধ্য ভূমিকা পালনে সদা তৎপর ছিলাম। কিন্তু নিজের মান সম্মানকে বিসর্জন দিয়েজ্ঞাতসারে কখনো অন্যের ব্যক্তি স্বার্থের পুতুল হয়ে নাচানাচি করিনি। তেমনটি করা যেকোন আরতমরজাদা সম্পন্ন ছাত্র বা যে কোন পেশার মানুষের জন্যে অত্যন্ত লজ্জাজনক গর্হিতকাজ। নিজের ভাত খেয়ে পঞ্চ বা ষষ্ট ইন্দ্রিয়ের অধিকারী হয়ে কারোর ইশারা ইঙ্গিতেকিছু সুবিধা পাওয়ায় বা লাভের আশায় যে কারোর পদলেহনে বেকুব বনে যাওয়া কখনোইবিচক্ষণতার পরিচায়ক নয়।  কি দরকার পড়েছেএঁদের নিজের পকেটের টাকায় তোমাদের ভোটার/সদস্য বানিয়ে নিল? কই, তাদের তো জাতীয়সংকটে কিংবা  জুম্মদের উপর যখন সরকারেরসেনা সেতেলার বাঙালীদের দমন পীড়নের ষ্টীম রোলার চালানো হয় তার প্রতিবাদ বা বিহিতকরতে তো তাদের কখনো দেখা যায় না…

ছাত্রছাত্রী, যুবকযুবতী, কর্মজীবী প্রভৃতি তরুণ প্রজন্মেরবুঝা উচিত অন্যের হাতের পুতুল হয়ে ব্যবহৃত হতে থাকলে তারা কেবলই হতাশা উপহার পেতেপারে। এখন বুদ্ধিমত্তার যুগ। সকলকে নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাছবিচার করে নিজেকেএগিয়ে নিতে হবে এবং অন্যদের এগিয়ে যেতে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রেপ্রগতিশীল ভুমিকায় অবরতিরন হতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে নিজেদের প্রত্যকেরসাধ্যমত কল্যাণকর কিছু না কিছু উপহার দিয়ে যেতে হবে।   অন্যথায়,নিজেদের গায়ে কলঙ্কের তিলক পড়বেই। সমাজও কলুষিত অবস্থায় থাকবে। তাতে  নেতৃত্বের সংকট আরও ঘনীভূত হবেই। কাজেই কারোদ্বারা ব্যবহৃত না হয়ে তরুণ প্রজন্ম সহ প্রগতিশীল সকলের সচেতন ভূমিকায় অবরতিরনহওয়া অতিশয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About the author

উৎপল খীসা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2764

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>