«

»

এই লেখাটি 723 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

চেতনাবোধঃ ভেজা লাল রক্ত শুকিয়ে যখন তাজা রক্ত আবার ভিজে !

লিখেছেন- অমিত হিল
যুগ এবং কালের আর্বতে পাহাড়বাসীরা ও রোবটিক হয়ে উঠছে বলার অপেক্ষা রাখে না । বিশ্বায়নের যুগে পুঁজিবাদের চেতনা যেমন গ্রাস করছে দিনদিন,  অন্যদিকে জীবনধারণের ওপর পড়ছে বিরাট পরিবর্তনশীল প্রভাব । বর্তমানের প্রান্তিক গ্রামীন অবকাঠামো বড় একটা হুমকির সাথে লড়ছে । সময়ের সাথে সাথে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ও দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে । আগের চাইতে যুবক ছেলেদের মধ্যে আরো বেশি রক্ষণশীলতা দেখা গেলেও বেশিরভাগ নারীরা হয়ে উঠছে জাতীয় চেতনাহীন । এই রুঢ় বাস্তবতার জন্য রাজনৈতিক দিকটা খুববেশি গুরুত্ব বহন করে । আমার দাদু, বাবা, বড় দাদা, এবং কি আমার সময়েও নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতা ছিলো খুব কমল এবং সম্বন্ধযুক্ত । কিন্তু পার্বত্য চুক্তির পরবর্তীতে অবাধ হেরোইন, ফেন্সিডেল, গাঁঞ্জা ব্যবসা তরুণ প্রজন্মের ভিতরে এক ভয়ংকর পোকা ঢুকিয়ে দেয় । এসব ব্যবসার প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা । যুব প্রজন্মকে নেশার পোকা ঢুকিয়ে মারার যে স্ট্রেটেজি তারা বানিয়েছিলেন, অনেকটা সফল ও হয়েছেন । ৯৫-৯৬ সালের সেনা মদদপুষ্টে মুখোশ বাহিনীরা ছিলো প্রথম পরীক্ষামূলক পাহাড়ী যুবক, সেসব বিপদগ্রস্থ পাহাড়ী যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো হেরোইন, ড্রাগ, গাঞ্জাঁর পাহাড় । বদলে তাদেরকে ব্যবহার করা হতো পাহাড়ী ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে লাশ বানাতে, আর সেনাবাহিনীরা সরাসরি অর্থ যুগিয়ে এমন এক সন্ত্রাসী দল পুষেছিলো । তবুও রাষ্ট্র এর কোন জবাবদিহীতা দেয়নি । সেসময়ই পাহাড়ী যুবকদের মধ্যে মানসিকভাবে ভ্রাতৃদ্বন্ডের নতুন ভ্রুণ গজিয়ে দেয়া হয়েছিলো ।

৮০’র দশকে লাম্বাবাদির দ্বন্ড হলেও পারিবারিক, এলাকাভিক্তিক দ্বন্ড কখনো দীর্ঘস্থায়ী ছিলো না । কিন্তু পার্বত্য চুক্তির পরবর্তীতে বিদ্যমান ইউপিডিএফ এবং জেএসএসের দ্বন্ড ক্রমশ বেড়ে চলেছে । এযাবৎ দুদল থেকে কমপক্ষে ৫০০ এর অধিক পাহাড়ী যুবক-পুরুষ অকালে বলি হয়েছে । আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলদের ব্যর্থটা সমাজের মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গিকে ক্রমশ একটা নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে । যার ফল ভোগ করার জন্য সেনাবাহিনীরা মরিয়া হয়ে ওঠছে । সাম্প্রতিককালের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্র্গ্রামের প্রতি যে এক বিরাট ঝোঁক দেখা যায় তাতে অনুমিয় যে, সেনাবাহিনীরা সেটেলার বাঙালীদের সাথে কতটা সখ্যটা গড়ে নিয়ে পাহাড়ী নিধনের নীতি বাস্তবায়ন করছে । গতবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনীদের প্রত্যক্ষ অবস্থান আমাদের না বুঝার নয় । সেনাবাহিনীরা প্রকাশ্য সেটেলার বাঙালীদের বাধ্য করে আওয়ামিলীগকে ভোট দিতে, কারণ বিএনপির সাথে টানাহেঁচরা হলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটি ভোটে জেতার সম্ভাবনা ছিলো এমন আশংকা সেনাবাহিনীকে তনক নাড়িয়েছে । এসবকিছুর পর ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর অদূরদর্শী ভ্রাতৃসংঘাত সমাজকে অনগ্রগামী করে তুলছে ।

বিশেষ করে ৮০ এবং ৯০ দশকের সময়ে পাহাড়ের যুবক ছেলে মেয়েদের মধ্যে যে একটা জুম্ম-পাহাড়ী জাতীয়তাবাদের চেতনার প্রবলতা দেখা যেতো তা এখন প্রান্তিক পর্যায়ে, মৃতপ্রায় । এখনকার সময়ের জাতীয়তাবাদ অনেকটা হাইব্রিড টাইপের হয়ে গেছে । ‘জুম্ম-পাহাড়ী-আদিবাসী-উপজাতি-ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী’ এর মাঝামাঝিতে মনমানসিকতার অবস্থান । রাষ্ট্রযন্ত্র চায় যে, সংখ্যালঘুদেরকে ডমিনেট করার জন্য যুবক ছেলে মেয়েদের মননে হীনমন্যটাকে ঢুকিয়ে দেয়া । সংখ্যাগুরুদের ভাষা-সংষ্কৃতিকে বিরাট পরিসরে প্রেসেন্ট করা । ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে তা করা হয়েছিলো । বাংলাদেশের দৃষ্টিতে পার্বত্য চট্রগ্রামই মূল টার্গেট । অতএব, বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীদের স্ট্রেটেজি ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়নের পথে । পাহাড়ী যুবক ছেলেদের মানসিক অবক্ষয় সমাজের ওপর যেরুপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অন্যদিক পাহাড়ী নারীদের জাতীয় চেতনাহীন উচ্চ চিন্তা চেতনা বেড়েই চলেছে । আল্ট্রা আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাহাড়ী উচ্চশিক্ষিত নারী সমাজ পাহাড়ী যুবকের মাঝে যোগ্যতা খুঁজে পায় না । ঠিক পাহাড়ী যুবক সমাজের মধ্যে জাতীয় চেতনা লোপ পেয়ে চলেছে । উচ্চ শিক্ষাদীক্ষারক্ষেত্রে পাহাড়ী যুবকেরা নারীদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে । যুবকদের নেশাগ্রস্থতা এবং উদাসীন দৃষ্টি তাদেরকে আরো বেশি অযৌক্তিকভাবে রক্ষণশীল হয়ে তুলছে, এবং নারীদের ওপর ব্যক্তি আক্রোশে ফেঁটে পড়ছে, সমাজ অবক্ষয়ের যা একটা বড় অশনি সংকেত ।
নারীরা শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে গেলেও এখনো বড় সামাজিক বাঁধাধরা নিয়মকে ডিঙাতে পারেন না । পারিবারিক ক্ষমতায়ন এখনো পুরুষ কর্তৃক ন্যস্ত বিধায় পড়াশুনার পর নারীদের অন্য একটি পুরুষের উপর পরনির্ভরশীল হতে হয় । অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য থেকে নারী পুরুষ কেউই রেহায় পাচ্ছে না । শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে এখনো পাহাড়ী নারীদেরকে নানারকম শারিরীক এবং মানসিকভাবে নিপীড়নের শিকার হতে হয় । তাই অনেক পাহাড়ী নারী পরিবেশ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অপাহাড়ী মূলধারার জনস্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে । শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মাঝে বোধদয় ঘটানোর জন্য সমাজের বুদ্ধিদীপ্ত মহলের তৎপরতা দরকার, আর রাজনৈতিক দলদের মধ্যে সুবোধ ও জরুরী হয়ে পড়েছে ।

সাম্প্রতিক তান্ডংয়ের ঘটনাটি প্রথম এবং শেষ ও নয় । এর আগে ৮৬ সালে ও একই জায়গায় লাল রক্ত ভিজে শুকিয়ে ছিলো । সেসময় কমপক্ষে ২০০ পাহাড়ী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষকে অমানবিকভাবে হত্যা করা হয়েছিলো ।  এলাকাটি ছিলো বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ৩১ ব্যাটালিয়নের অন্তর্ভুক্ত । বিডিআর সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে গুলি করে সে গণহত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো ।

কিন্তু পুণরায় ভুলে যাবো নাতো …. ? তাই ভ্রাতৃসংঘাতের থাবা থেকে মুক্তি মেলা জরুরী হয়েছে ।

About the author

সংবাদদাতা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2657

1 comment

2 pings

  1. Dhiman Khisa

    Besh Valo Hoyeche alochotana. Kintu bhalo bishoy manuch eto kom pore keno bujhina.

  2. Dhiman Khisa

    Besh Valo Hoyeche alochotana. Kintu bhalo bishoy manuch eto kom pore keno bujhina.

  3. Dhiman Khisa

    Besh Valo Hoyeche alochotana. Kintu bhalo bishoy manuch eto kom pore keno bujhina.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>