«

»

এই লেখাটি 760 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

ফেইসবুক কচড়া- ফেবু’র জুম্মো নারী

প্রায় বছর তিনেক আগে নিছক মজা করতেই মেয়ের নামে একটা ফেক আইডি খুলেছিলাম। তখন নতুন চাকুরিতে ঢুকেছি- কাজ কম, দায়িত্ব কম। অফিসে আমার কম্পিউটারে ফ্রি হাইস্পিড ইন্টারনেট। একদিন লাঞ্চ ব্রেকে আমার কলিগ জানালো তার নাকি একটা মেয়ের আইডি আছে আর সেটা নিয়ে সে অনেক মজা করে। ছেলেরা সুন্দর সুন্দর ছবি দেখে ক্যামনে পটে যায় আর তাদের কিভাবে বোকা বানিয়ে সে মজা নিয়েছে তার সবিস্তার বর্ণনা শুনে আমরা বেদম হেসেছিলাম।

ফেসবুকে মেয়েরা কোন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যায়- বিশেষ করে আদিবাসী মেয়েরা যারা ইদানীং ফেসবুক ব্যবহার করছে?

আমি নেট ঘেঁটে বার্মিজ মেয়ের ছবি দিয়ে একটা আইডি বানিয়ে ফেললাম। তার জন্যে একটা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রচলিত নাম আর টাইটেল বসিয়ে ফেললাম। ফ্রেন্ড খুঁজতে হলো না, ফ্রেন্ডরাই(!?) আমার এভাটারকে খুঁজে নিলো। মাসখানেকের মধ্যে উপলদ্ধি হলো, আমরা পুরুষরা আসলেই এত্তগুলা খারাপ!!!
একজন তো ইনবক্সে তার গোপন খায়েস জানিয়ে দিলো।
এই ধরনের এক্সপ্রেশানের মোটিভ না হয় বুঝা গেলো যে তারা ‘লাগাইতে চায়’ কিন্তু তাই বলে এমন কুরুচিপূর্ন আমন্ত্রন কি শুধু জংলী-বর্বর-উপজাতের মেয়েরাই এক্সপেরিয়েন্স করে?
পার্বত্য এলাকায় সমতলের লোকেরা পর্যটনে এলে অনেক পার্ভার্টের একটা খায়েস থাকে যে পাহাড়ি ‘মাল’ টেস্ট করবে। আমার এক বন্ধু হোটেলের মালিক। সে আমাকে তার অভিজ্ঞতায় জানায় যে সমতল থেকে প্রায়ই নাকি অনেকে মধুর পর্যটনের জন্য এখানে আসে। তার হোটেলে উঠে ম্যানেজার বা বেয়ারাকে তাদের খায়েসের কথা জানায়।
যাই হোক, সেই প্রোফাইলটা মাসখানেক চালানোর পর আর কখনো চালাইনি।

মানুষের নোংরামি দেখে মজা নেওয়াটাও এক ধরনের নোংরামি।

কিন্তু মাসখানেকের মধ্যে আমার অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হলো। আমার মনে হয় ফেসবুক ব্যবহারকারী সব পাহাড়ি মেয়েরাই এই অভিজ্ঞতা লাভ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে আদিবাসী মেয়েদের প্রতি মানুষের অস্বাভাবিক আকর্ষন দেখেছি যেখানে রুচি-সংস্কৃতির লেশমাত্র নেই। হলের পাশের রুমের কোন স্মার্ট, হ্যান্ডসাম সিনিয়র ভাই চা-বিড়ি খেতে খেতে তার খায়েসের কথা জানায়, “অমুক ফ্যাকাল্টির ওই চাকমা মালটার সাথে আমার লাইন করায়ে দে”

আরে ভাই ! মানুষ তো, পুরুষ মানুষ !! ফর্সা চামড়া আর একজোটিক ফিগার দেখলে কোন পার্ভার্টের তেঁতুলের কথা মনে পড়ে না? সিগমুন্ড ফ্রয়েড সাহেব তো আর আজাইরা কথা লিখে যাননি ! ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি বলেই জানি, হাকুদার (হাদিস, কুরান,দাওয়াহ ডিপার্টমেন্টকে আমরা একত্রে এভাবেই বলতাম) হুজুররা ক্যামন পাজির পাজি হয় যে ছাগলা দাঁড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে চোখ দিয়ে মেয়েদের গিলত প্রায়। কোন জুনিয়র ছোট বোনকে হলে বা মেসে পৌঁছে দিতে গেলে রাস্তার মোড়ের লোলুপ চোখগুলোকে মনে হতো যেন উদ্যত পুরুষযন্ত্র। সেই মোড়ের দোকানের অনেকগুলো লোলুপ চোখের মানুষগুলোর মতো কেউ হয়তো
তুমাচিং, সবিতা বা নাম না জানা সেদিনের ধর্ষিতা মেয়েটাকে ছিন্নভিন্ন করেছিলো। যে দৃষ্টিতে পার্ভার্টেরা মেয়েদের ছবির দিকে তাকায় সেভাবেই তারা পর্ণোছবি দেখে। এখানে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নাই বলেই আমি মনে করি।

সুতরাং বোন, আপনি যিনি আপনার কিউট ছবির প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ করে প্রদর্শন করছেন- ভাবুন তো উচিৎ কাজটা করছেন কি না? আপনার ছবি ডাউনলোড করে কোন শুয়ারের বাচ্চা যদি ফেক আইডি খোলে? যদি আপনারই মাথা ফটোশপ করে সানি লেওনের ঘাড়ে বসিয়ে দেয়? বিশেষ করে পাহাড়ি মেয়েরা যারা বেশিদিন হয়নি ফেসবুক নামের আসক্তিকর একটা পর্দায় সবচেয়ে সুন্দর ছবিটা ঢুকিয়েছেন,
ইতিশ পিতিশ করা ছাড়া ফেসবুকের আর কোন কার্যকর প্রয়োগ খুঁজে পাননি… প্লিজ এখনই আপনাদের ছবির প্রাইভেসি সেটিংস পাল্টে দিন। ‘Public’ থেকে ‘friends except acquaintance’ বা ‘only me’ করে দিন।

কেন বলছি নিশ্চয় বুঝে গেছেন? আরও আছে ! অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করেছি মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা মেয়ের নামে অনেক ফেক একাউন্ট তৈরি হয়েছে। অনেক অনেকগুলো। ফেসবুকে সেটলারদের অসংখ্য ব্যবহারকারী আছে, তাদের অনেক পেজ আছে। সুতরাং সাবধান ! অচেনা কাউকে বিচার বিবেচনা ছাড়া ফ্রেন্ডলিস্টে ঢুকাবেন না। আপনার অজান্তে হয়তো আপনাকে কেউ মানসিক ধর্ষন করছে !
আজকেও একটা চাকমা মেয়ের নামে ফেক আইডি সনাক্ত করেছি। এরকম অসংখ্য মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা মেয়ের নামে ফেক আইডি আছে। যারা এইসব আইডি/প্রোফাইল চালায় তারা এভাবেই আপনাদের সহজলভ্য ছবি ডাউনলোড করে আপনাদের অজান্তে নোংরামি করে চলেছে। উগ্র জাতিবিদ্বেষী, ধর্ষনকামী সেটেলাররা পাহাড়ি মেয়েদের নামে ফেক আইডি খুলে পরিকল্পিতভাবে তাদের কদর্যপূর্ন ইচ্ছা পূরন করছে না- এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। এটাও জাতিগত আগ্রাসনের একটা রুপ হতে পারে। আদিবাসী মেয়েদের নষ্ট করার প্রত্যয় থেকে তারা দীর্ঘকাল ধরে যে পাশবিকতার চর্চা করে আসছে, এসব অনলাইন নোংরামি আসলে তারই ফেসবুকিয় ভার্সন । গত মাসের পনেরো তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত তারা তিনজনকে ধর্ষন করেছে। সাজেকে খোদ আর্মিই ধর্ষনের চেষ্টা করেছিলো।
সুতরাং বোন, তোমার সুন্দর চেহারা গোটা পৃথিবীকে দেখিও কিন্তু কাউকেই সেটা নিয়ে নোংরামি করতে দিও না।

About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2625

1 ping

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>