«

»

এই লেখাটি 747 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

ফেইসবুক কচড়া

অরুন্ধতি রায়ের “Capitalism: a ghost story” পড়ে Perception Management কথাটা প্রথম জানতে পারি। এ আবার কি ম্যানেজমেন্ট- ছয় বছর ধরে ম্যানেজমেন্ট পড়লাম তাও জানলাম না? জিনিষটা নিয়ে নেটে ঘাঁটআঘাঁটির পর বুঝতে পারলাম যে, যেটাকে Perception Management বলা হচ্ছে তাকে আমরা ভিন্ন নামে পড়েছি। পারসেপশান ম্যানেজমেন্ট মার্কেটিংএ আছে; ওডি, ওবি, সিবি সবখানেই আছে।
মিলিটারিরা পারসেপশান ম্যানেজমেন্ট কাজে লাগায়ে অপারশান চালালে তখন তার নাম হয় সাইকোলজিকেল অপারেশান (PSYOP)। মিলিটারি বা রাষ্ট্রের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে বলা হয় সাইকোলজিকেল ওয়ারফেয়ার। এর প্রয়োগ বহুমাত্রিক এবং ফলাফল খুবই কার্যকর। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এরকম ফলও দিতে পারে -“…By lowering the adversary’s morale and then its efficiency, PSYOP can also discourage aggressive actions by creating disaffection within their ranks, ultimately leading to surrender.

আজকের পোষ্টটা কি কচলাকচলি মনে হচ্ছে? এসব কথা আমি আগেও বলেছি। খুব ডিটেলে বলিনি- তবে নিজের ঢঙয়ে বলেছিলাম। আমার জ্ঞানবুদ্ধি খুবই কম কিন্তু আমার কাছে কিছু লেখাটা একটা দায়বদ্ধতা আর আমার মূল টার্গেট রিডার হচ্ছে তরুনসমাজ। বুড়োদের কথা বাদ। আর ফেসবুক/ব্লগে লেখার একটাই কারনঃ এর অপূর্ব বিস্তৃতি যা কোন ম্যাগাজিন/জার্নাল দিতে পারেনা।

আমাদের একটা মধ্যবিত্ত সমাজ দাঁড়িয়ে গেছে। যাদের ছেলেমেয়েরা এখন এই যে ফেসবুক ব্যবহার করছে। এই মধ্যবিত্তরা তাদেরই মতো এপেথেটিক (Apathetic) মধ্যবিত্ত তরুন-তরুনী গড়ে তুলছে। প্রত্যেক সমাজের বা সভ্যতার মধ্যবিত্ত শ্রেনী গড়ে উঠার একটা পটভূমি আছে। বুর্জোয়া বিপ্লবের আগে মধ্যবিত্ত ছিলো না কিন্তু বিপ্লবের আগে একটা বৈপ্লবিক ভূমিকায় তাদের উত্থান হয়েছিলো। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের উত্থান হয়েছিলো আঠারো শতকের শেষ দিকে মুৎসুদ্দি পুঁজির বিকাশের মধ্য দিয়ে। আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ বিত্তে মধ্যম কিন্তু চরিত্রে আসলে তার কিসসু নেই- সবটাই নকল। সত্তর দশকের শেষ থেকে এই শ্রেনী নিদারুণ রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রচন্ড বিরাজনীতির সমাজ গড়ে তোলে। এই শ্রেনীই এখন এনজিও নামের উন্নয়নের দোকানদারি করছে। (সরি আবার কথাবার্তা কঠিন হচ্ছে তবে অনুরোধ করবো প্লিজ শেষ পর্যন্ত পড়ুন)

কোন একদিন একজনের ছড়া শেয়ার করেছিলাম,

“চেঙ্গি, মাইনি, কাচালং
চলে বাঁকে বাঁকে
কান্নার ধারা
শুধু একইরকম থাকে
(৪)
গোল করোনা গোল করোনা
খোকন ঘুমাও চুক্তিতে
শান্তি নিয়ে লজেন্স চুষো
পথ খুঁজোনা মুক্তিতে”

এবার লাইনে আসেন।
এখানে প্রতি চল্লিশ জনে একজন সামরিক বাহিনীর লোক রাখার কারন কি? এখানে কি কোন অপারেশান চলছে? হ্যাঁ এখানে সাইকোলজিকেল অপারেশান চলছে এর নাম ‘অপারেশান শান্তকরন’।
★কোথাও হালকা উত্তেজনা হলে একজন ক্যাপ্টেনকে নিয়ে তাদের প্যাট্রোল জিপ পৌঁছে যায় কেন?
★গুরুভান্তের/বনভান্তের মন্দিরে গিয়ে তাদের নৈবদ্য দেওয়ার কারন কি?
★রাজপূন্যায় রাজাকে ইয়াব্বড়ো কেক ভেট দেওয়ার উদ্দেশ্য কি?
★বাবুপাড়ার বাবুদের বাসায় কোন অনুষ্ঠান হলে তারা ফুল নিয়ে আসে কেন?
★শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিতে তারা লাখ টাকা খরচা করে বর্ষফূর্তি করায় কেন?
★ইস্কুল বানিয়ে/কলেজ বানিয়ে ছেলেমেয়েদের নির্বোধ মেধাবী বানাচ্ছে কেন?
★তিনটা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল খুনোখুনি করে মরলেও তাদের হস্তক্ষেপ হয়না কেন?
★পাহাড়ের নিপীড়নের কথা মিডিয়ায় আসে না কেন?
★গোপনে গোপনে নিঃশব্দে আদিবাসিরা দেশ ছেড়ে যায় কেন?
★এত এত এনজিও আর তাদের উন্নয়নের ডামাডোলে তারা কেন ঢোল বাজায়?
★জনসংখ্যার অনুপাত (Demographic Ratio) নাটকিয়ভাবে পাল্টাচ্ছে, ভেতরে ভেতরে সেটলমেন্ট হয়ে যাচ্ছে। বাঘাইছড়ির বাজার এবং সেটলমেন্টে সরাসরি তাদের হাত ছিলো এবং বাঁধা দেবার কারণে তারা আদিবাসীদের গুলি করেছে। শান্তি চুক্তির পরও কেন এসব হবে?
★বছর বছর এত জাতিগত হামলা হবে, নারী ধর্ষিত হবে তবু বিচার হবে না। আমরা দুচার দিন মিছিল করবো আর ভুলে যাবো। বলুন তো আমরা কেন ভুলে যাই? এটাও সাইকোলজিকেল ওয়ারফেয়ারের অংশ। আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের সংবেদনশীল ইন্দ্রিয় ভোঁতা হতে হতে মারা যায়। আমরা শুধু দেখে যাই আর ফেসবুকে আমাদের ভোগবাদী অশ্লীলতার চর্চা করি। আমরা প্রতিবাদ ভুলে যাই। কেন???
★আদিবাসী জনগোষ্ঠিগুলোর মধ্যে বিভেদের দুরত্ব বাড়ছে কেন?

প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও তো জানা। আমি গত পোষ্টে বলেছিলাম যে গেরিলা বাহিনীর ইনসার্জেন্সি বা বিদ্রোহের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কাউন্টার ইনসারজেন্সি নিয়ে এসেছিলো। ‘অপারেশান দাবানল’ আর ‘অপারেশান উত্তরণ’ কাউন্টার ইনসার্জেন্সির অপারেশান ছিল। এখন আর তা হবে না। তবে এথনিক ক্লিনজিং বা আমাদের নির্মূলের জন্য এখন ‘অপারেশান শান্তকরন’ চালিয়ে যাবে যা আসলে একটা সাইকোলজিকেল ওয়ারফেয়ার বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।

এবার আপনারা অংক মেলান। আমি এইজন্যেই দীর্ঘ, পরিকল্পিত, সংহতিপূর্ন গণআন্দোলন করতে প্রস্তাব করেছিলাম যাতে ব্যাপক গনমানুষ যুক্ত হয় এবং গোটা দেশে তা ছড়িয়ে যায় এবং তা রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মূলের শ্রেনি সংগ্রামের সাথে যুক্ত হয়। দ্যাখেন আমি কোন পার্টি করিনা কিন্তু রাজনীতি করি। আমার মতো আপনারাও সবাই রাজনীতি করেন। সময় থাকতে লাইনে আসেন।
আমার যা বলার আমি তা বলবো। কারোর পছন্দ হলেও বলবো না হলেও বলবো। রাষ্ট্র চাইলে আমাকে সময় থাকতে চুপ করাতে পারে। হাত দিয়ে না খেয়ে চামচ দিয়ে খাওয়ার মতো আমাদেরই কাউকে দিয়ে মেরে ফেলতে পারে আর তা দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি করাতে পারে। কিন্তু আর না…
আমি জানি আমি আর একা নই। আমার মতো সবাই মুক্তিপিয়াসী কিন্তু পথ জানে না। আমার মতো সবাই একদিন মুখ খুলবে।
সেদিন শুধু আর ব্লগে নয়, রাজপথেই সবাই বাঁচার দাবী তুলবে স্লোগানে স্লোগানে…

About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2622

1 comment

1 ping

  1. লেলিন চাকমা

    Yes!!!
    পথে হয়তো বিভীষিকা খেলতে চায় রক্তের হলি,
    ভয় নেই সহস্র প্রাণ আমরা একসাথে চলি|

    এগিয়ে যান দাদা, আমরা আছি আপনার সাথে

  2. Odong Chakma

    পড়লাম লেখাটা। ভালো লেগেছে। পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট, হ্যাঁ এটা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিন দিন আমাদের জুম্মদের পারসেপশন কীভাবে ম্যানেজড হয়ে যাচ্ছে তা বড়ই চিন্তার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>