«

»

এই লেখাটি 656 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

মিজানুর রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে কিছু কথা…

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান  মিজানুর রহমান বলছেন সামরিকবাহিনীর প্রতি পাহাড়ি আদিবাসীদের “অবিশ্বাস ও শঙ্কা”  দূর করতে  জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শীঘ্রই আলোচনার উদ্যোগ নেবে ( লিংকঃ প্রথম আলো )।  কমিশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর  আগে আপাতত  একটি  পয়েন্ট টেনে আনতে চাইঃ

মিজানুর রহমান প্রথমে বললেনঃ

পার্বত্য চুক্তির ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীরও অবদান আছে। কিন্তু তাদের বিষয়ে অধিকাংশ আদিবাসীর ভুল ধারণা রয়েছে।

তার কিছুক্ষণ পরে আবার বললেনঃ

আদিবাসী ও সেনাসদস্যদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করতে তাই আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।

 

দুটো  বাক্যের  ফারাক কি কেউ খেয়াল করেছেন? একটি বলে আমরা  (পাহাড়ি) সামরিকবাহিনীর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করি না (অতীতে তাদের কৃতকর্মের জন্যে  আমাদের বিশ্বাসটুকু পাওয়ার যোগ্যতা নেই!) । প্রসঙ্গত, এখানে সামরিক বাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই।

কিন্তু তিনি পরবর্তী বাক্যে বলেছেন আমাদের আর সেনাবাহিনীর মাঝের অবিশ্বাসের কথা । মানে আমরা তাদের বিশ্বাস করি না তারাও আমাদের বিশ্বাস করি না। কারনঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের অতীত।

আমার মূল কথা হল মিজানুর সাহেব মূল সমস্যাকেই ডি-ফোকাস করছেন। তিনি একবার বললেন জনগণ বাহিনিকে অবিশ্বাস করে আবার বললেন উভয়পক্ষই পরস্পরকে অবিশ্বাস করে;  পরিষ্কারভাবে তিনি স্ব-বক্তব্যের বিরোধিতা করলেন সাথে সমস্যার উপর মিডিয়ার দৃষ্টিকে ঝাপসা করার হালকা চেষ্টাও চালালেন! এই  বাক্যযুগলের প্রয়োগ দেখে অন্তত আমি এই ব্যক্তির উপর সুস্থ আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার আস্থা  হারিয়ে ফেলেছি!

মিজানুর রহমান চরিত্রটি আমাদের কাছে বরাবরই রহস্যময়। যিনি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আক্রমণে আহত লিমনের  কাছে  গিয়ে দুদণ্ড কেঁদে দেশ ভাসান বছর ঘুরতে তিনিই সেই বাহিনীর হয়ে লিমনের লড়াইকে থামিয়ে দিতে চান! ফেকি আবেগ দেখিয়ে মানুষের আবেগকে উস্কে  দেয়াটা হয়ত খুবই সহজ কিন্তু তাতে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায় না কারণ কুকুরের ল্যাজ হাজার লুকালেও দু’মিনিট পরে আবার বেড়িয়ে পড়তে  বাধ্য! তাই মিজানুর রহমান কি বলেছেন তা নিয়ে না মেতে আসুন দেখি মিজানুর রহমান আসলে কি করেন! মানুষ চেনাও হোক সরকারের পলিসিও জানা হোক!

পাশাপাশি বলতে চাই, আমাদের রক্তে যাদের হাত লাল তাদের যদি সত্যিই আমাদের আস্থা অর্জন করতে হয় তবে  যে দুঃশাসন এবং দখলদারিত্বের ইতিহাস পাহাড়ে গড়ে তুলে তারা আমাদের অস্তিত্বকে আজ হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন সেই  সেই দুঃশাসনকে  ভেঙ্গেচুরে আমাদের  জন্যে কাজ করতে হবে,  পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি গণহত্যার সাথে  সামরিক বাহিনীর  সম্পৃক্তটাকে স্বীকার করে বাস্তবায়ন করতে হবে সেগুলোর ন্যায়বিচার। সেনাবাহিনী যদি বাংলাদেশের নাগরিক পার্বত্যবাসীর  কাছে   সৎ এবং বন্ধুভাবাপন্ন হতে চায় তবে  উর্ধতন   সামরিক কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট ইতিহাস বিকৃত অপপ্রচার  চালানো বন্ধ করতে হবে। প্রতিমাসে বিটিভির পর্দায় ‘অনির্বাণ’ প্রদর্শন করে নয় কাজ দেখিয়ে সততা প্রমাণ করুন।

ধন্যবাদ।

About the author

সুমেধ তাপস চাকমা

জুম্ম মুই ফাত্তোরাম পধে পধে আদি যাঙ

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/2231

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>