«

»

এই লেখাটি 1,299 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকাশনা ও স্বাধীন প্রকাশনা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা

 

আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের হাতে-কলমে প্রকাশনার কথা যদি বলি তা দীর্ঘ বছরের নয় বরং দীর্ঘ দিনের বা মাসের একটি তকমা দিয়ে তাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারি । তবে এই সল্প সময়ে আমরা বেশকিছু উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা পাই যা আমাদের উদ্দীপিত করে সামনের দিকে ধাবিত হবার। কিছু সংক্ষিপ্ত ব্যাখার সাহায্য এই সল্প পরিসরে আমরা সেই বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকাশনা পরিচিতিঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশনা “গৈরিকা” ১৯৩৬ সালে আত্মপ্রকাশ করে। ধারণা করা হয়, চাক্‌মা রানী বিনীতা রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা রাজবাড়ি কেন্দ্রিক এই প্রকাশনাটির প্রচার সংখ্যা চৌদ্দ। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মহকুমা ও বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে ত্রৈমাসিক “ঝরণা” আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বিরাজ মোহন দেওয়ানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম মাসিক পত্রিকা “পার্বত্য বাণী”। এই মাসিক পত্রিকাটি ১৯৭০ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হত।  এছাড়া, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে বেশ কয়েকটি স্বল্পায়ু সাময়িকী চোখে পড়ে। ১৯৪০ সালে “প্রগতি”, ১৯৪৭ সালে “রাঙ্গামাটি নিউজ” ও ১৯৬২ সালে “রাঙ্গামাটি” তাদের মধ্যে অন্যতম[1]

স্বাধীনতাত্তোর সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঠিক কয়টি প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্র মারফত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তার উপর দাঁড়িয়ে এটা বলা বোধ হয় ভুল হবে না যে বিংশ শতাব্দীতে চাক্‌মা রাজবাড়ি থেকে প্রকাশনা ধারাটি আজ সর্বসাধারণের হাত ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আমরা যেমন শোষিত জনগণের মতকে নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মোটাতাজা প্রকাশনাগুলির উত্থান দেখি, তেমনি শোষিত মানুষের কথা বলা বলা বিকল্প প্রকাশনার আবির্ভাবকেও পাশ কাটিয়ে যেতে পারি না। তাই পাহাড়ের মেডিয়াকে জানতে হলে এর স্বরূপ জানা অত্যান্ত জরুরী।

 

১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় পাহাড়ের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা “বনভূমি”। এছাড়া, বিভিন্ন প্রকাশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল- ১৯৮০ সালে প্রকাশিত “সমতা”, ১৯৮১ সালে রামগড় থেকে প্রকাশিত “পার্বতী”।  পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ১৯৮১, ১৯৮২ সালে তিনটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের পর ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিত দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে “গিরিদর্পণ”। এছাড়া, বর্তমানে রাঙ্গামাটি থেকে প্রকাশিত বেশ কিছু দৈনিক সংবাদপত্রের মধ্যে দৈনিক রাঙামাটি, দৈনিক পার্বত্য বার্তা, গিরিপথ উল্লেখযোগ্য। বান্দরবান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে দৈনিক মৈত্রী, দৈনিক যুগরবি, পাকি সাংগু ও নতুন বাংলাদেশ নামক বেশ কয়েকটি পত্রিকা। খাগড়াছড়ি জেলার উল্লেখযোগ্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে দৈনিক অরণ্য বার্তা, প্রতিদিন খাগড়াছড়ি ও সাপ্তাহিক পার্বতী অন্যতম। এই সংবাদ মাধ্যমগুলো জেলাবাসীকে দৈনন্দিন ঘটনাবলী সম্পর্কে তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এ এলাকার যে একটা নিজস্ব লোকজজ্ঞান আছে তার সংরক্ষণ, সাহিত্য গবেষণা ও উন্নয়ন, স্থানীয় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সাহিত্যের প্রকাশ, বিকাশ ও প্রচার ফুটে উঠছে জ্ঞানপিপাসু বিভিন্ন ছাত্র সমিতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক প্রকাশিত প্রকাশনাসমূহের মাধ্যমে। এরাই মূলত অত্র এলাকার স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও শোষিত মানুষের কথা তুলে ধরেছে।

পাহাড়ের সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশ ঘটাতে জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর(জুভাপ্রদ) অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। এই দপ্তর বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংকলন রচনা করে জুমিয়া ভাষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে। প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনাগুলোর মধ্যে বিজু(১৯৭২), জুনি(১৯৭২), বিঝুগুলো(১৯৭৬), ছদক(১৯৭৬), থেঝেরা(১৯৭৬) অন্যতম।[2]

জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল(জাক) জন্মলগ্ন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকশিত করার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছে। ৮১ সালে আবির্ভাবের পর নব্বই দশকে “জাক” যে সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলন তৈরি করতে পেরেছিল, তার মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রজন্ম পাহাড়কে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করে। বর্তমান প্রজন্মের একঝাঁক সৃষ্টিশীল সাহিত্য কর্মী তৈরিতে “জাক” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাক এর প্রগতিশীল কর্মকান্ডের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছিল সমাজের একসময়ের চিন্তাশীল অনেক ব্যক্তিত্ব। ইরুক(১৯৮২), সত্রং(১৯৮২), হিয়াংসিক(১৯৮৩), সঙেত(১৯৮৪), কজ’ফুল(১৯৮৭), গঙার(১৯৯২), জ্বলি যার বুবর বুক(১৯৯৫), তানজাং(১৯৯৬), রাকা(সেতু, ১৯৯৮), লান(১৯৯৯), লামাপ্রা(২০০০), শিঙোর(২০০১), লেবা(২০০২), মা ত্রি চা লু মু খি পা খু ব ত (২০০২), মোন মুরো কানি যার(২০০৩), আমাং(২০০৩), লাঙ(২০০৪), কাওয়াং(২০০৪), হিল ভয়েস(২০০৫), টঙ(২০০৬), ত্যেঠা(২০০৮), সুলাই-প(২০০৯) ইত্যাদি জাক-এর প্রকাশনা। জাক এখনো তার কর্মকান্ড দ্বারা সৌন্দর্য্য পিপাসু মানুষের মনে সাহিত্য-শিল্প সুধা বিলিয়ে যাচ্ছে।[3]

 

মুরুল্যা লিটারেচার গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রামে সাহিত্য চর্চা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক জ্ঞান আহরণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাধামন-ধনপুদী, ক”জলি( ১৯৭৮), বিঝু(১৯৮১), মুরুল্যা লিটারেচার গ্রুপের প্রকাশনা।[4] এই প্রকাশনাগুলো পরবর্তীতে সাহিত্য গবেষকদের জন্য বদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়।

ঢাকা ট্রাইবেল স্টুডেন্ড ইউনিয়ন বিঝু সংকলন হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রকাশনা বের করে। ট্রাইবেল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগুলোর মধ্যে RAY(১৩৯১ বাংলা),  Existence(১৩৯২ বাংলা, SURVIVAL(১৩৯২ বাংলা) অন্যতম। [5]

জুম লিটারেচার ইয়ং সোসাইটি বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু প্রকাশনা প্রকাশ করে যেগুলো ইতিমধ্যে জুম্ম সাহিত্যধারায় নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছে। এই সংগঠনের প্রকাশনা হিল(১৯৯৯), ইজোর(১৯৯৯), বিঝু ও ১০ই নবেম্বর সংখ্যাগুলো সেই সময়ে বেশ আলোচিত হয়। এছাড়া, বর্তমানে এই সোসাইটির অপর আরেকটি প্রকাশনা “জুম” বর্তমান সময়ে অন্যতম একটি ম্যাগাজিন বা আদিবাসী পত্রিকা হিসেবে আলোচিত। এই ম্যাগাজিনটি ২০০৩ সালে আবির্ভূত হওয়ার পর এখনো স্বগৌরবে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে। জুম-এর প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে, এটি বর্তমানে আদিবাসী দিবস, ১০ই নভেম্বর স্মরণে, বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসুক সংকলন, ভাষা দিবস সংকলন সহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে।[6]

বনযোগীছড়া কিশোর-কিশোরী কল্যান সমিতি বর্তমান সময়ের সাংস্কৃতিক চেতনায় পরিবর্তন ঘটানোর গুরুদায়িত্ব পালনকারী অন্যতম সংগঠন হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এটি রাঙ্গামাটি জেলার জুরাইছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া গ্রাম কেন্দ্রিক কিশোর-কিশোরীদের সমিতি হলেও অল্প সময়ে এটি সারা দেশে নিজের পরিচয়-কর্মকান্ড তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার মডেল হয়েছে। এই সমিতি কর্তৃক ২০০১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ত্রিশের অধিক সংকলন বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে- রানজুনি, আদিবাসী, রেং,  স্বরণিকা, লাড়েই, বনযোগীছড়া, হেল মোনর গিরিত্তি, অথংবারে, জুনিপুক, আহ্‌বা, ছাবা, মুখখাত, তোকজিং, জাংফা, খুজুং ইত্যাদি অন্যতম।[7] এই সমিতি আদিবাসী সংস্কৃতিকে মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বনযোগীছড়াতে একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেছে, যা পাহাড়ের বর্তমান সমাজ উন্নয়ের জন্য একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ। নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সমিতির কর্মীরা নীরবে আদিবাসী সংস্কৃতি বান্ধব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

বান্দরবান জেলার বালাঘাটা থেকে প্রকাশিত পাহাড়ের অন্যতম ছোটকাগজ  “সমুজ্জ্বল সুবাতাস” ।  ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই কাগজটির ১৯ তম সংখ্যা বেড় হয়। পাহাড়ের সমতলি ও পাহাড়ি সংস্কৃতি চর্চার এই উর্বরক্ষেত্র থেকে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কথা প্রচারিত হচ্ছে। ১৯ তম সংখ্যায় এই পত্রিকাটির স্লোগান ছিল “বাংলাদেশ প্রচলিত সকল আদিবাসী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি চায়”। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা সমৃদ্ধ এই পত্রিকাটি বর্তমানে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। জানা যায়, এটি কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন গবেষণা কেন্দ্র থেকে পুরষ্কার প্রাপ্ত। [8]

পার্বত্য মানুষের কথা ছড়িয়ে দিতে “হিলি ওয়েবস” নামক একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। পত্রিকাটি ১৯৯৫ সালের দিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হত। এছাড়া, উপজাতীয় সামাজিক ফোরাম থেকে প্রকাশিত বিঝু সংখ্যার নাম সাঙু(২০০৪)। “মোনকধা” মোনঘর পরিবার কর্তৃক প্রকাশিত ম্যাগাজিনের নাম।  রাঙ্গামাটি থেকে হিল উইমেনস ফেডারেশনের কর্তৃক ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় “উত্তরণ” নামের সংকলনটি। এছাড়া, রাঙ্গামাটির ট্রাইবেল অফিসার্স কলোনি থেকে প্রকাশিত প্রকাশিকা(১৯৯৩) সেই সময়ে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে বেশ পরিচিতি লাভ করেছিল।

মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল ২০০৪ সাল থেকে নিজস্ব প্রকাশনা প্রকাশ করছে।  ২০১০ সালে এ সংগঠন থেকে প্রকাশিত হয় “মো লাং নীং” নামক ম্যাগাজিনটি,  এটি মারমা জাতিগোষ্ঠীর স্বকীয় সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ত্রিপুরা কল্যান ফাউন্ডেশন নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এ ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত সংকলনগুলোর মধ্যে লাম্প্রা(১৯৯৬), ইয়াপ্রি(১৯৯৯) উল্লেখযোগ্য।[9] এছাড়া, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশন(টিএসএফ) থেকে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশিত হচ্ছে। “বৈসু” টিএসএফ কর্তৃক সংকলিত এমনই একটি প্রকাশনা।

“পহ্‌র জাঙাল” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক তন্‌চংগ্যা শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক একটি প্রকাশনা। পাহাড়ের প্রধান উৎসব বিঝুকে কেন্দ্র করে ২০০২ থেকে প্রতিবছর এই প্রকাশনাটি প্রকাশিত হয়ে আসছে। ঢাকাস্থ তন্‌চংগ্যা ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা সম্পাদিত আরেকটি ছোট কাগজের নাম “তৈনগাঙ”। এই কাগজটি ২০০৫ থেকে বিঝু অথবা আদিবাসী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়ে থাকে।[10]

 

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জুম্ম ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সম্পাদিত সাময়িকীর নাম “রঁদেভু”। এছাড়াও এখান থেকে “সাহিত্য সাময়িকী” নামক একটি মাসিক পত্রিকাও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। সিলেট থেকে হিলট্র্যাক্ট স্টুডেন্ট ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত ম্যাগাজিনের নাম “পাজোন্‌”। পাজোন্‌-এর বৈসাবি সংখ্যা ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুম্ম ছাত্র কল্যান সমিতি থেকে প্রকাশিত আদিবাসীবিষয়ক সাহিত্য ম্যাগাজিন “হাজলং” প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ২০১১ সালের ৯ আগষ্ট।  পরের বছর একই তারিখে এই সমিতির দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়।[11]

যে কয়টি জাতিতাত্ত্বিক পত্রিকা নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল “চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা” তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০০১ সালে পত্রিকাটি আত্মপ্রকাশ করেই চাক্‌মা জনগোষ্ঠীর মধ্য নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি প্রতি ভালবাসা জাগাতে সক্ষম হয়। চাক্‌মা ও বাংলা অক্ষরে লেখা চাক্‌মা ভাষার ছোট গল্প, কবিতা, স্মৃতিকথা, প্রবাদ বাক্য, ধাঁধাসহ সকল সাহিত্য উপাদানকে একসূত্রে গেঁথে এটি হয়ে উঠেছিল চাক্‌মাদের সাহিত্যের অন্যতম প্রতিনিধি।[12] “চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা” মাসিক পত্রিকা মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হলেও পরে অনিয়মিত হয়ে যায়। বর্তমানে যোগ্য কর্মীর অভাবে চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা হারিয়ে যেতে বসেছে।

তিন পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটগুলোও বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশের মাধ্যমে তাদের গবেষণা পত্রগুলো প্রকাশ ও প্রচার করছে।  রাঙ্গামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট থেকে প্রকশিত গিরিনির্ঝর(১৯৮৭), উপজাতীয় গবেষণা পত্রিকা(১৯৯৫) এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।  বান্দরবান থেকে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলোর মধ্যে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট(বান্দরবান) থেকে প্রকাশিত পইংজ্রা, বোমাং রাজপুণ্যাহ স্মরণিকা প্রভৃতি অন্যতম।[13]

এসব প্রকাশনার পাশাপাশি আরো বেশ কিছু প্রকাশনা পার্বত্য সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতে বেশ আলোচিত-সমালোচিত। এদেরকে মূল্যায়নের জন্য আলাদাভাবে বেছে নেওয়ার কারণ, এই সব ম্যাগাজিন বা কাগজ মানুষের চিন্তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিল। সাহিত্য শুধু গতানুগতিকতার জালে আবদ্ধ থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই, পাহাড়ের বর্তমান সময়ের অসাড়তা ভাঙ্গাতে এমন প্রকাশনা প্রয়োজনীয়, যেগুলো পার্বত্যবাসীকে বিশেষ করে শোষিত জুম্ম নৃতাত্ত্বিক জাতিগুলোকে নতুন সূর্যের আলো দেখাতে সক্ষম হবে। এই ধরণের চিন্তা থেকেই পূর্ববর্তী প্রতিবাদী সাহিত্য কেন বিকশিত হতে পারে নি বা পারছে না, তা অনুসন্ধান জরুরী মনে করে আমার এই লেখার অবতারণা। এখানে আমরা দেখার চেষ্টা করব, আমাদের সমাজে প্রতিবাদী সাহিত্যগুলোর উপযোগীতা এবং কেনই বা এরা টিকতে পারে নি।

 

স্বাধীন প্রকাশনা বিকাশে প্রতিবন্ধকতাঃ

প্রকাশনা প্রকাশ করতে আপনারা কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হন- এই প্রশ্নটি রেখেছিলাম একজন লেখক বন্ধুর কাছে। তিনি জবাব দিলেন, সমস্যা অনেক। তারপর, একে একে সমস্যাগুলোর জট খুলে বলতে লাগলেন- টাকা পয়সার সমস্যা একটা বড় সমস্যা, জেলা পরিষদ টাকা দেবে দেবে করে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে বছর পার করে দেয়, তবুও টাকা মেলে না! ফান্ড নিয়ে তালবাহানা করে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের কথা বলল বন্ধুটি। বন্ধুটির কথার মাঝে আমি আমার প্রশ্নের উত্তর না পেলেও বর্তমান কালের অধিকাংশ প্রকাশনা কর্মীদের সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাটি অর্জন করলাম। বুঝলাম, সমস্যাটা আমাদের চেতনায়।

গতানুগতিক কাব্য, গল্প ও দু-একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখার বাইরে পাহাড়ে খুব কমই রাগী-তেজী প্রকাশনা চোখে পড়ে। সাহিত্যেকর্ম, রাজনীতি, সমাজ নিয়ে দোকানে দোকানে চায়ের কাপে ক্ষোভ, অথচ এ নিয়ে সাহিত্যে তেমন কোন ধারালো সমালোচনা সৃষ্টি হচ্ছে না, নেই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের কোন দিকনির্দেশনা। এর বদলে আমরা যেসব প্রকাশনা দেখতে পাই তাদেরকে শিকড়হীন শেওলাদের ঢেউয়ের তরঙ্গে ভেসে বেড়ানো বললে বোধ হয় অন্যায় হবে না। পাহাড়ে দীর্ঘ জলপাই শাসন ও চুক্তিত্তোর দেড়যুগ ধরে চলতে থাকা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের ফলে সৃষ্ট আড়ষ্ট সমাজের এই অচলাবস্থা ভাঙ্গার দায়িত্ব পালনে সক্ষম, এমন প্রকাশনা পাহাড়ে খুব কমই দেখা গেছে। যে দু-একটি সাহসী প্রচেষ্টা ছিল না তা নয়, তবে সেগুলো বালির বাঁধের মত দানবীয় ক্ষমতার দাপতে ভেসে গেছে কিংবা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমূলে। প্রকৃত অর্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে যা বোঝায়, সেনা শাসনের যাঁতাকলে পীষ্ট পাহাড়ি জনগণের কাছে সেই বাক স্বাধীনতা কোন কালেই ছিল না বা এখনো নেই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রচার মাধ্যম বা প্রকাশনাকে ঘিরে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর রশি টানাটানি, লেখকগোষ্ঠীকে হুমকি প্রদান ও সর্বত্র দলীয়করণ অসুস্থ রাজনীতির ছোবল।  যার ফলে এখন পর্যন্ত ফলপ্রসু রাজনৈতিক সমালোচনামূলক সাহিত্যধারা বিকশিত হতে পারে নি। একইভাবে প্রতিষ্ঠিত লেখক-কবি-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মগুলোর সমালোচনাও গলার কাঁটার মত আটকে আছে।  ফলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ ও নতুনত্ব অনুসন্ধান উপেক্ষিত থেকে গেছে। বিভিন্ন সময়ে আলোচিত কয়েকটি গণমাধ্যমকে তুলে ধরে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করছি, যেগুলো শাসকদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তেজী লেখার মধ্য দিয়ে জনগণের হৃদয় স্পর্শ করেছিল, ভবিষ্যতমুখী চিন্তা চেতনা ও সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় সংকেত জনমনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল অথবা সমাজের গতি-প্রবাহকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। এসব প্রকাশনাগুলোর কার্যক্রম বিভিন্ন সময়ে শাসকগোষ্ঠী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কোপানলে পরে স্তিমিত হয়ে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে প্রকাশনাটি আত্মপ্রকাশ করেই পাহাড়ী ছাত্র-জনতার মুখপাত্র হিসেবে বুক উচিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল, সেটি ইতিহাসে “রাডার” নামে পরিচিত। “রাডার” প্রকাশনাটি “হিল লিটারেচার ফোরাম”-এর অনিয়মিত মুখপাত্র। ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে “রাডার”-এর প্রথম সংকলন প্রকাশিত হয় । ১৯৯২ সালের জুন মাস পর্যন্ত এর প্রকাশিত সংখ্যা ৫ টি। “রাডার” প্রথম সংখ্যা ছাপা হওয়ার পর তৎকালীন স্বৈরাচারী সামরিক সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাডারের আরো চারটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়, কিন্তু প্রকাশনাটি শোষিত জুম্ম জনগনের প্রতিবাদী কণ্ঠ হয়ে উঠায় শাসকগোষ্ঠী আবারো রাডারকে নিষিদ্ধ খড়গ আরোপ করে কণ্ঠরোধ করে। শাসক গোষ্ঠীর বাধার মুখে “রাডার” পরবর্তীতে প্রকাশিত হতে না পারায় এটি ভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করে বলে জানা যায়।  ১৯৯২ সালের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত “সেটেলাইট” ম্যাগাজিনটি রাডারেরই অন্যরূপ বলে দাবী করা হয়েছে। এটিও প্রথম প্রকাশের পরপরই তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার (বিএনপি আমলে) কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। রাডারের কর্মী বাহিনীর অদম্য ইচ্ছায় কিছুদিন পর অপর একটি সংখ্যা “জুম্মকণ্ঠ” নামে প্রকাশিত হয়। “জুম্মকণ্ঠ” প্রথম প্রকাশের পরপরই নিষিদ্ধ হয়।  পরবর্তীতে রাডার গ্রুপ পাহাড়ি গণ পরিষদে যোগদান করে এবং “স্বাধিকার” নামক বুলেটিন প্রকাশ করতে থাকে, এটি চুক্তিত্তোর সময়ে ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র হয়ে উঠে। জানা যায়, বর্তমানে স্বাধিকার প্রচারপত্রটি বন্ধ।[14]

পার্বত্য চট্টগ্রামের গণমানুষের মুখপাত্র হিসেবে “জুম্ম সংবাদ বুলেটিন” অনিয়মিত ইস্যুভিত্তিক সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হত। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এই প্রকাশনাটিও শাসক কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৯৯০ থেকে এ প্রকাশনার মাধ্যমে পাহাড়ের রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস তথা জুম্ম জাতির উপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। এছাড়া, ১৯৮৩ সালে ১০ নভেম্বর জুম্ম জাতির অগ্রদূত এমএন লারমা ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে জনসংহতি সমিতি কর্তৃক ১০-ই স্মরণে বিশেষ বুলেটিন প্রকাশিত হয়ে আসছে। জুম্ম সংবাদ বুলেটিনের বিভিন্ন সংখ্যাগুলো বর্তমানে জুম্ম জনগণের উপর শাসকগোষ্ঠীর চালানো বর্বরতার সাক্ষী, যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠিত হওয়া শোষণ-নির্যাতন-গণহত্যা ইতিহাস পাঠের দলিল। [15]

পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ একসময় যুগের বলীষ্ট কণ্ঠস্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। এই সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক অধিকার আদায় আন্দোলনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে ছাত্র সমাজের চেতনা জাগিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এর বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে শাসকের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের কথা উচ্চারিত হয়ে সুশীল সমাজের কাছে উপস্থাপিত হয়েছিল।

“মাওরুম” বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম আদিবাসীবিষয়ক সাহিত্য পত্রিকা। এটি “হিল রিসার্স এন্ড প্রোটেকশন ফোরাম” এর প্রকাশনা, যা ২০০৪ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। চুক্তিত্তোর পার্বত্য চট্টগ্রামে লিটল ম্যাগাজিন, ছোট কাগজসহ বিভিন্ন প্রকাশনার উপর যে আক্রমন ও বিধিনিষেধ, যা একই সাথে বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা উপর আক্রমন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ ধারণকারী হিসেবে মাওরুমের আবির্ভাব চোখে পড়ার মত। “মাওরুম” বেশ কিছু সংখ্যায় চুক্তিত্তোর পার্বত্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের মুখোশ উন্মোচন করার মত তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে, যেগুলো সমকালীন সমাজে বেশ আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছিল। এক্ষেত্রে, মাওরুম- ৩য় সংখ্যায় ইউপিডিএফ-এর দলত্যাগী লেখক দীপায়ন খীসার “বন্ধু হতে চেয়ে—শত্রু বলে গণ্য হলাম” প্রবন্ধটিসহ বেশ কিছু লেখা আলোচনার দাবী রাখে। এই লেখায় দীপায়নবাবু “মাওরুম” পরিবারের উপর একটি রাজনৈতিক দলের আক্রোশ ও আক্রমন স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। “মাওরুম” পরিবারের সদস্য ও “ফিরে দেখা সংগ্রাম” এর লেখক নিকোলাস চাক্‌মাকে মাওরুমে লেখালেখি করার জন্য নোটিশ প্রদান ও সতর্ককরণ, চট্টগ্রামস্থ মাওরুম প্রতিনিধি পলাশ চাক্‌মার বাড়িতে গিয়ে চেলা-চামুন্ডা দেখিয়ে ভয় প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ইস্যু স্পর্শকাতর হিসেবে উঠে এসেছে।  এই আক্রোশ যে কতটা ভয়ংকর তা দীপায়নের লেখার একটি লাইন পড়লেই বুঝা যায়- “মাওরুম প্রকাশনার সাথে জড়িতদের একটা লিস্টও তৈরি হয়েছে বলে উজ্জ্বলবাবু তার বন্ধুকে জানালেন”।[16] উপরোক্ত বিষয়টি উল্লেখিত সংখ্যার সম্পাদকীয় অংশেও প্রতিফলিত হয়। একইভাবে, মাওরুমের ১৫ তম সংখ্যায় দীপায়ন খীসার অপর একটি লেখায় উপরোক্ত অভিযোগকে আরো জোড়ালোভাবে উপস্থাপন করা হয়- “ভিন্ন মতালম্বীরা মাওরুম নামের একটি কাগজ বের করলে  ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম থেকে পত্রিকাটি ছিনতাই করে। মাওরুম পত্রিকার সাথে জড়িত থাকা ও লেখার অপরাধে তারা নিকোলাস ও জ্যোতিলাল চাকমাকে অপহরণের প্রচেষ্টা চালায়। চলতি রচনার লেখককে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে”।[17]

পাহাড়ে আরেকটি আশা জাগানো ম্যাগাজিনের নাম “উন্মেষ”। “উন্মেষ” ম্যাগাজিনটি ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর হারিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ লিটল ম্যাগাজিন থেকেই আখতারুজ্জামা ইলিয়াসের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, “চাক্‌মা উপন্যাস চাই”; তেমনি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, “চেতনার নিশান কারা বহন করবে?”।[18] একঝাঁক উদ্যমী তরুণ-ছাত্র কর্মী সৃষ্টিশীল ও পরিবর্তনকামী মানসিক শক্তি দ্বারা বলীয়ান হয়ে “উন্মেষ” নামক ম্যাগাজিনটি প্রকাশ করেছিল, যা অল্প সময়ে সারা পার্বত্য চট্টগ্রামে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এই প্রকাশনাটিকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল ও এর স্টুডেন্ট উইং প্রতিপক্ষের এজেন্ট চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পক্ষপাত দুষ্টতার অভিযোগ তুলে। এভাবে, প্রোপাগান্ডা চালতে থাকলে “উন্মেষ” পরিবার একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে এবং বাধার সম্মুখীন হয়; ফলে পাঠচক্রসহ বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা স্থবির হয়ে যায়। ২০০৬/০৭ সালের দিকে উন্মেষ পরিবার তাদের প্রকাশনাটি আবারো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে চাইলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা হয়ে উঠে নি বলে জানা গেছে। উন্মেষ এখন আর প্রকাশিত হয় না।

রাজনৈতিক দল হিসেবে ইউপিডিএফ আত্মপ্রকাশের পরপরই “স্বাধিকার” নামক বুলেটিনটি দলটির মুখপাত্র হয়ে উঠে। একসময় স্বাধিকার পত্রিকাটি হারিয়ে যায়। সম্প্রতিক সময়ে ইউপিডিএফ-এর “জাতীয় বার্তা” নামক পত্রিকাটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় বলে জানা গেছে।  “জাতীয় ডাক” পাহাড়ের স্বায়ত্বশাসনকামী রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত একটি সংবাদ বুলেটিন। ২০১২ সালে এই পত্রিকাটি বিতরণের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিপক্ষ দলের কর্মী দ্বারা পত্রিকাটি ছিনতাই ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে “দৈনিক সংবাদ” পত্রিকার শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(ইউপিডিএফ) মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।[19] অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিপক্ষ দলের কর্মীরা অভিযোগ করেছে, এই পত্রিকা দ্বারা ইউপিডিএফ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের মনে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

এর বাইরেও রাজনৈতিক সমালোচনামুলক লেখালেখি করার কারণে বেশ কিছু লেখক বা কাগজকে সতর্ক করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেছে, রাজনৈতিক সমালোচনা না করার জন্য সব দিক থেকে অদৃশ্য বিধিনিষেধ আরোপিত। তাই বর্তমানে অধিকাংশ কাগজের সম্পাদকেরা রাজনৈতিক লেখা ছাপাতে গিয়ে পিছু হটে আছেন। ফলে, পাঠককে গতানুগতিক অরাজনৈতিক সাহিত্যে গেলানোই হয়ে উঠেছে বর্তমান ম্যাগাজিনগুলোর একমাত্র চর্চা। একারণে, সমাজের ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠান যেমন- বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল, পার্বত্য জেলা পরিষদ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, প্রতিষ্ঠিত এনজিও, সেনা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্যায় ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয় না বললেই চলে। এর আরেকটি অন্যতম কারণ, এ সকল প্রতিষ্ঠানই বর্তমান সময়ের প্রকাশনা-ম্যাগাজিন-কাগজগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষোক ও ফান্ড দানকারী গোষ্ঠী। তাই, সমাজের অন্যায়, দূর্নীতি ও আড়ষ্ট চরিত্রকে ভাঙতে হলে প্রকাশোনাগুলোকে অবশ্যয় সাহসী হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যৌক্তিক প্রতিবাদধর্মী ও সমালোচনামূলক সাহিত্যেধারার জন্ম দিতে হবে। সাহিত্যে এ ধারা তৈরির মধ্য দিয়েই সকল অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচন করে প্রগতিশীল চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। এক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধাকে অতিক্রম করার জন্য যে আদর্শিক শক্তি ও ভিত্তি প্রয়োজন, তা পুনঃপুনঃ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই অর্জন সম্ভব। কেননা, সাহিত্যই পারে বর্তমান অচলাবস্থাকে গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা নির্মানের মহৎ দায়িত্বটি পালন করতে হবে সাহিত্যকেই। পাহাড়ের এই অসুস্থ বাস্তবতা থেকে ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন বুনে দেওয়ার দায়িত্ব কবি-লেখকগোষ্ঠীগুলোর উপরই বর্তায়।

 

একটি ছোট্ট পর্যবেক্ষণ থেকে সঠিক দিক অনুসন্ধানঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবাদী সাহিত্যধারা গণমাধ্যমের সংকট ছিল, বর্তমানেও আছে। যে কয়েকটি প্রকাশনা-ছোট কাগজ প্রতিবাদী সাহিত্যে জন্ম দানের মধ্য দিয়ে সমাজের ঘটে চলা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে “রাডার”, “জুম্ম সংবাদ বুলেটিন” ও “মাওরুম” পথিকৃত হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও, সময়ের সাথে সাথে এ গণমাধ্যমগুলোর মৌলিক চরিত্রের বদল ঘটেছে কিনা তাও খটিয়ে দেখা উচিত। তবুও সময়ের সাহসী ভূমিকা পালনকারী হিসেবে এদের দৃষ্টান্তকে অস্বীকার করা যায় না।

“রাডার” অবিভক্ত শোষিত-নিপীড়িত জুম্মজাতির কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে যে চেতনা জাগিয়েছিল, তা অনেকের মনে গেঁথে যায়। রাডার অচিরেই স্বৈরাচার শাসক কর্তৃক ১৯৭৪ এর সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছে [রাডারের ২য় সংখ্যার সম্পাদকীয়তে উল্লেখ ছিল ১৯৭৪ এর ১৭(১) সি।] [20] তারপরও, রাডারের চেতনা বারবার ফিরে এসেছিল শোষিত-বঞ্চিত গণমানুষের মনে। আবার, সমাজ ও বাস্তবতার রাডার হিসেবে “মাওরুম” সবসময় তার দায়িত্ব পালন করেছে বলে ভাবা হলেও আসলেই কি “মাওরুম” নির্ভীকভাবে এ দায়িত্ব পালন করে গেছে? এই প্রকাশনাটি দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশিত হয়ে সংখ্যা-১৪ তে জানাচ্ছে, “এ বিরতির কোন ব্যাখ্যা নেই”।[21] উল্লেখ্য, নভেম্বর ২০০৭ থেকে আগষ্ট ২০০৮ পর্যন্ত মাওরুমের কোন সংখ্যা প্রকাশিত হয় নি। এ সময়টি দেশে জরুরী অবস্থার সময়। এই সংখ্যায় সম্পাদকীয়তে উঠে এসেছে জরুরী অবস্থা ও এর পরবর্তী পাহাড়ে খণ্ডিত বাস্তবতার কথা। জরুরী অবস্থার মধ্যে “মাওরুম” অপ্রকাশিত থাকাকে সম্পাদক “এ বিরতির কোন ব্যাখ্যা নেই” জানালেও এর ব্যাখ্যা পাঠককেই খুঁজতে হবে। স্বপক্ষ ত্যাগী দীপায়ন সহ দলত্যাগী মাওরুম কর্মীদের লেখায় উঠে আসা তথ্য নিঃসন্দেহে জনমনে ব্যাপক ভাবনা এনেছে, মানুষকে আরো কৌতুহলী করেছে। মাওরুম গোষ্ঠীর লেখায় উঠে আসা ইউপিডিএফ-এর আভ্যন্তরীণ দলীয় কাঠামো ও গণতন্ত্র বর্জিত প্রথা নিয়ে জনগণ যেমন সন্তুস্ত নয়, তেমনি দীপায়ন যে পক্ষে যোগ দিয়ে ভাল মানুষ ভাবটি নিচ্ছেন, সে পার্টির গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েও মানুষ কৌতুহলী। জেএসএস মূলধারা চুত্য অনেক নেতার কণ্ঠ ও ইউপি্ডিএফ ত্যাগী দীপায়নের কণ্ঠ প্রায় একই সুর। তাই দীপায়নের বোমা ফাটানো লেখনীকে সন্দেহবাদী দৃষ্টিতে দেখতেই হয়। প্রশ্ন জাগে, একজন লেখক-সম্পাদক কি নিজেকে দলীয় বৃত্তবদ্ধ রাখবেন, নাকি সমাজের সকল বিষয়কে একজন লেখকের মত ফুটিয়ে তুলবেন। তবুও মাওরুম সাদুবাদ পাওয়ার যোগ্য একারণে যে অন্তত তারা মানুষের মনে এই সমালোচনা করার ভিত গড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, নতুনত্বের স্লোগান উচিয়ে কালের অভাব ঘুচানোর যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে উন্মেষ জন্ম নিয়েছিল, মানুষের মনে “চেতনার নিশান কারা বহন করবে?” এ প্রশ্নটি জাগিয়েও উন্মেষ নিজেই সেই চেতনার ভার বহন করতে অক্ষম অথবা চেতনা বয়ে বেড়ানোর সেই শক্তিকে ধারণ করতে সক্ষম হয় নি। “জাতীয় বার্তা” নিষিদ্ধ হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাস্ট্রে গণতন্ত্রমুখোশ পরিহিত ফ্যাসিবাদী সরকারেরই চরিত্র প্রকাশ করে। “জাতীয় ডাক” পত্রিকাটি প্রতিপক্ষ দলের হাতে ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়াটা অবশ্যয় আমাদের সমাজের জন্য নেতিবাচক, এই কর্মকান্ডে জড়িতরা অপরাধী, তবে একই সাথে এটা লক্ষ্য করতে হবে যে, এই পত্রিকা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে ফায়দা লুটছে কিনা। নিপীড়িত জনতার মুখপাত্র ট্যাগ লাগানো এ গণমাধ্যমটি পাঠ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, গণমাধ্যম চরিত্রের আড়ালে এটি একটি দলীয় প্রচারপত্র ভিন্ন অন্য কিছু নয়। তারপরও এইসব দলীয় গণমাধ্যমের শক্তিশালী দিক হচ্ছে, রাস্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে উচ্চারিত কণ্ঠস্বর হয়ে এগুলো সর্বস্তরে প্রচারিত এবং সর্বাধিক জনগণের দুয়ারে যেতে সক্ষম।

সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতার অপপ্রয়োগ বা সেনাশাসকদের শকুনী আচরণ যেমন প্রতিবাদী সাহিত্য চেতনায় আঘাত হেনেছে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভক্ত জুম্ম রাজনীতি বারবার স্বাধীন মতপ্রকাশ বা স্বাধীন চিন্তা বিকাশের পথে বাধা হয়ে এসেছে। সর্বত্র রাজনৈতিকীকরণ মানসিকতার কারনে ভিন্নমতধারী ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একচোখা কর্মীদের হাতে প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, ফলে স্বাধীন মত প্রকাশের মত কোন ক্ষেত্র গড়ে উঠে নি। রাজনৈতিক দলগুলোর গিলে খাওয়া মানসিকতা সম্ভাবনাময় অনেক ক্লাব, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিকে রাহুগ্রাস করে ফেলেছে। ফলে, প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত স্বদেশের বুক দেখেও মানুষ জাগছে না। কয়েকটি সামাজিক সংগঠন গলা বন্ধক রেখে অন্যের কোলে বসে যে কয়েকটি পাতা উপহার দিচ্ছে, তা যেন রক্তাত রোগীকে চিকিৎসার বদলে ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসির গান শোনানো। আবার এও দেখা যায়, কিছু দলকানা সম্পাদক ও লেখক গোষ্ঠী ক্ষমতাবান কোন দলের ছত্রছায়ায় গুরুভক্তির পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের বুক কাঁপিয়ে সাহস দেখিয়ে বেড়ান! এখানেই আমাদের চেতনার কবর রচিত হয়। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি যে কাজটি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে, তা হচ্ছে এমন এক সাহিত্যধারার আবির্ভাব ঘটানো যা সমাজকে দেখার স্বচ্ছ দর্পন হয়ে উঠবে। যে দর্পনে সকল সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনা ও প্রতিবাদ উচ্চারিত হবে, তথ্য ও জ্ঞানকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার মত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির মধ্য দিয়ে তা সর্বসাধারণের হাতে পৌছুতে সক্ষম হবে। এটা সামাজে এমন এক চিন্তার জন্ম দেবে যেখানে মানুষ অন্ধভাবে নয়, যুক্তিবাদী মনন নিয়ে দেশ, জাতি, সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি সহ দৈনন্দিন জীবনাচরণকে বিচার করবে। আমরা এমন সাহিত্যের মধ্য দিয়ে যেমন অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাবো, বর্তমানকে দেখবো; তেমনি দূর ভবিষ্যতের দিকেও আমাদের প্রখর দৃষ্টি প্রসারিত করবো। বর্তমান বাস্তবতায় আমাদেরকে ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে যেমন শিক্ষা নিতে হবে, তেমনি আমরা যে পথে হাঁটব তার দিক নির্ণয় করতে হবে, স্পষ্টভাবে জানতে হবে কোথায় আমাদের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য। এজন্য আমাদের দীর্ঘদিনের ঘূণে ধরা চেতনাকে জাগাতে হবে, আলো জ্বালতে হবে সেই চেতনার মশালে, নিজে আলোকিত হয়ে অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে সেই আলো, এভাবেই জগতকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখতে হবে। তবেই জগত আলোকিত হবে।  পরিশেষে, উন্মেষের লেখক মিলিন্দ কর্তৃক উত্থিত প্রশ্নটির সুরে বলতে চাই- চেতনার নিশান কারা বহন করবে?

লেখাটি লিটল ম্যাগাজিন “হুচ্‌” ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যাতে প্রকাশিত

 

 



[2] সুদত্ত খীসা, অমিতাভ চাক্‌মা সম্পাদিত, জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর(জুভাপ্রদ) এর বিভিন্ন সংখ্যা।

[3]  মৃত্তিকা চাকমা, রনেল চাক্‌মা, অনুস্মৃতি চাক্‌মা, শুভ্র জ্যোতি চাক্‌মা, রিপন চাঙমা, মুক্তা চাক্‌মা সহ একঝাঁক জাক সদস্যদের দ্বারা সম্পাদিত বিভিন্ন প্রকাশনা।

[4]  সুসময় চাক্‌মা ও সজীব চাক্‌মা সম্পাদিত, মুরুল্যা লিটারেচার গ্রুপের বিভিন্ন প্রকাশনা।

[5] বিপ্লব চাক্‌মা RAY, দেবপ্রিয় চাক্‌মা, Existence, সমীর চা্‌কমা SURVIVAL, ট্রাইবেল স্টুডেন্ড ইউনিয়নের প্রকাশনা।

[6]  হিরন মিত্র চাক্‌মা, নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন, পল্লব চাক্‌মা, জুয়েল চাক্‌মা সহ “জুম লিটারেচার ইয়োং সোসাইটি” একঝাঁক তরুণ কর্মীর সম্পাদনায় প্রকাসিত জুমের বিভিন্ন সংখ্যা।

[7]  সুগম চাক্‌মা, দিলীপ কুমার চাক্‌মা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, মুকেশ চাক্‌মা সহ বনযোগীছড়া কিশোর-কিশোরী কল্যান সমিতির তরুণ কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত বিভিন্ন প্রকাশনা।

[8]  হাফিজ রশিদ খান, চৌধুরী বাবুল বড়-য়া সম্পাদিত, সমুজ্জ্বল সুবাতাস।  এটি বান্দরবান বালা ঘাটা থেকে প্রকাশিত।

[9]  মলয় কিশোর ত্রিপুরা, ত্রিপুরা কল্যান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকাশনা।

[10]  কর্মধন তন্‌চংগ্যা, পহ্‌র জাঙাল(তনচংগ্যা শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশনা)।

ঢাকাস্থ তনচংগ্যা ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সম্পাদিত, তৈনগাঙ।

[11]  জুম্ম ছাত্র কল্যান সমিতি, হাজলং (প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা)

[12]  কাবিদ্যাঙ (দেবপ্রিয় চাক্‌মা, কৃতি চাক্‌মা), চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা (এপ্রিল ২০০১- জুন২০০৯ সংখ্যা)।

[13]  উপজাতীয়(বর্তমানে ক্ষুদৃ নৃ-গোষ্ঠী) সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের প্রকাশনাসমূহ।

[15]  জুম্ম সংবাদ বুলেটিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। সাবেক পিসিপি(জেএসএস) কর্মীর কাছ থেকে জানাওতে পারি বুলেটিনটি শাসক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রন আরোপের কারণে প্রকাশিত হতে পারে নি।

[16]  হিল রিসার্স এন্ড প্রোটেকশন ফোরাম, মাওরুম, প্রথম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা ২০০৪।  পৃষ্ঠা ৪৫

[17]  হিল রিসার্স এন্ড প্রোটেকশন ফোরাম, মাওরুম, ১৫ তম সংখ্যা। সম্পাদকীয়, পৃষ্ঠা ০৫

অথবা, mukto-mona.com/bangla_blog/?p=17563

[18]  উষাটন চাক্‌মা, উন্মেষ (উন্মেষ পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন)। উন্মেষ দ্বিতীয় সংখ্যা, পৃষ্ঠা ০৫, পৃষ্ঠা ০৬

[21]  হিল রিসার্স এন্ড প্রোটেকশন ফোরাম, মাওরুম, পঞ্চম বর্ষ, সংখ্যা ১৪। পৃষ্ঠা ০৫।

About the author

হেগা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1649

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>