«

»

এই লেখাটি 2,011 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

মুড়ির ঠোঙা অথবা দ্রোহের মন্ত্রনা-২

(১) গড়াচ্ছে রাত আর দিন/ বাড়ছে আমার পোড়া মাটির ঋণ।

 

“আপনাদের আর কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করতে পারেন”

আমার কথার উত্তরে একজন মধ্যবয়স্ক বললেন,

“আচ্ছা বাবাজি তোমার সাহায্য সহযোগিতায় আমরা নাহয় চাষ করলাম। ভালো ফলন হলো কিন্তু তারপর আমার ফসলি জমি যদি বাঙালিরা দাবি করে বসে? যদি আমার ওই জমিটা তারা দখল করে নেয় তার সমাধান কি হবে?

আমি টক শোয়ের উপস্থাপকের মতো স্মিত হেসে বললাম, “এক্ষেত্রে আমার বা আমাদের সংস্থার কিছু করার নেই- হে হে। এটা রাজনৈতিক সমস্যা আর সরকার, থানা-পুলিশের ব্যাপার। আর কোন টেকনিকাল সমস্যা থাকলে বলতে পারেন।”

পাশ থেকে আরেক মুরুব্বি প্রশ্নকারিকে বকে দেয়, “ তুই এসব সমস্যা কাকে বলছিস? যাদের বলা দরকার তাদের বল।”

প্রশ্নকর্তার ছেঁড়া গেঞ্জি, জীর্ন ধুতির মতো জীর্ণ মুখের মলিনতা গাঢ় হয়। চোখে জুমপোড়া ধোঁয়াশা।

 

আমি আমার কাজ শেষে ফেরার পথ ধরি। বামাচরন কার্বারিপাড়া থেকে দিঘিনালার রাস্তায়। মাঝখানে কিলোখানেক হাঁটতে হবে। আমাকে পথ চিনিয়ে এনেছে চিত্তরঞ্জন ত্রিপুরা। আশেপাশে কোন পাহাড়ি বসতি নেই। পথের দুপাশে বাঙালি বসতি। সেই বুড়োর মলিন মুখের অনিশ্চয়তার মেঘ আমার মাথার উপরে ঘুরপাক খাচ্ছে। যা শুনে এসেছি, যা রাঙ্গামাটি আর চট্টগ্রামের রাস্তায় এক ঝলক দেখেছি তা দিনকে দিন প্রকট হচ্ছে আমার সামনে।

আমি চিত্তরঞ্জনকে প্রশ্ন করি, “ আচ্ছা এখানে বাঙালিরা কবে এসেছে?

“ছিয়াশির দাঙ্গার পরে”

“এখানে যারা ছিলো তারা এখন কোথায়?”

“তারা আরো গভীরে চলে গেছে; মাচালং, সাজেক… ”

“ব্যাপারটা কিভাবে হলো?

“আমি তখন ছোট। এখানে সেটেলাররা হামলা করে। অনেক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। সবাই প্রানভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমাদের বাড়িও আগে এখানে ছিলো। আমরা ঘটনার পর নয় মাইল এলাকায় চলে যাই। এখানে আগে ত্রিপুরা আর চাকমারা ছিলো। এই জমি-পাহাড় সব এখন সেটেলারদের দখলে।

যারা লংগদু এলাকায় পালিয়ে গিয়েছিলো তারা সেখানেও বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। সেখানে অনেক সমতল জমি আছে, লেক আছে। পাহাড়িদের মেরে তাড়িয়ে সব দখল করে নিয়েছে সেটেলাররা। ওখানকার লেকে অনেক মাছ হয়। সব দখল হয়ে গেছে। ”

 

কর্মসূত্রে আরেকদিন ইলেক্ট্রিক অটোতে চড়ে বাবুছড়া থেকে ফিরছিলাম দীঘিনালায়। রাস্তায় এক সহযাত্রীর সাথে কথোপকথনঃ

“নদীর এপারে-ওপারে এত তামাক চাষ কারা করছে? এরা কি বাঙালি?”

“এরা সবাই জুম্ম।”

“এই তামাক কারা কেনে?”

“তামাক-সিগেরেট কোম্পানীর লোকেরা কিনে নিয়ে যায়”

“এই অঞ্চলে কি বাঙালি নেই?’’

“নেই বললেই চলে। যদি বড় ধরনের গন্ডগোল লাগে তাহলে গোটা পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়িরা মারা যাবে। আমাদের দিকে দেরি হবে।”

 

আমরা যারা পাহাড়ের আদিবাসী আমাদের অবচেতনে একধরনের বড় বিপর্যয়ের ভয় আছে। এটা ঠিক অনেকটা মৃত্যু ভয়ের মতো। কোন একদিন দাঙ্গা লাগবে। সেদিন আর্মি, পুলিশ, বিডিআর, আনসার সহ প্রশাসন চুপ করে থাকবে অথবা মদত দেবে যেভাবে আগে আদিবাসীদের গনহত্যার সময় এরা করেছিলো। সেদিন সেটেলাররা হামলা করবে, হামলে পড়বে আদিবাসী জনপদের উপরে।

চা দোকানে, শোবার ঘরে, কর্মক্ষেত্রে, খাওয়ার টেবিলে অনেক কথার ফাঁকে এই শংকার কথা উঠে আসে। দাঙ্গায় পড়ে যারা বেঁচে যায় সারা জীবন ধরে দাঙ্গার ভয় তাদের তাড়া করে। এখানে দাঙ্গা বাঁধার মতো সব কন্ডিশন বিদ্যমান। এখানে যেকোন সহিংস ঘটনা দ্রুত সাম্প্রদায়িক রূপ লাভ করে বা তাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হয়। যেমন গত বছর রাঙ্গামাটির ঘটনা। সেদিন সেটেলাররা দাঙ্গা বাঁধানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলো। কলেজ পড়ুয়া দুজন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ছাত্রের মধ্যে বিবাদ লাগতেই পারে। কিন্তু সেদিনের সেই ছাত্রদের সংঘাতে জাতিগত বিদ্বেষের দমকা হাওয়া দেওয়া হলো। তারপর কি হয়েছে সেটা সবাই জানেন।

কিন্তু আশ্চর্য বিষয়টা হচ্ছে আমাদের অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা, স্বাভাবিকতা। দীর্ঘদিন প্রচন্ড অস্বাভাবিকতায় বেঁচে থেকে অস্বাভাবিকতাকে জীবনের অনুষঙ্গ করে নেওয়ার অভ্যাস। ইজরায়েলের প্যালেস্টাইন আগ্রাসনের কথা পড়েছিলাম। আমি সেই আগ্রাসন রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আদিবাসীদের সেই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট জানার কোন আগ্রহ নেই। দেশে দেশে উপনিবেশিক শক্তি স্পেন, বৃটেন, আমেরিকানদের দাপটে আদিবাসীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দক্ষিন আমেরিকার ইনকা, মায়া, এজটেক সভ্যতা; মার্কিন আমেরিকার নেটিভদের (যাদের রেড ইন্ডিয়ান বলা হয়) হাজারে হাজারে মেরে উজাড় করে সেখানে গড়ে উঠেছে মার্কিনী সভ্যতা। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের (এবঅরিজিনদের) মেরে কেটে সাফ করে সাদা চামড়া ছেয়ে ফেলেছে গোটা মহাদেশ।

আমি এই আগ্রাসনের অশনি সঙ্কেত শুনতে পাই।  আমরাও কি গোটা বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসীদের ঐতিহাসিক নিয়তির অপেক্ষায় আছি অচেতনে?

 

আমি সেদিনকার মতো অফিসে ফিরে আসি। আমার সহকর্মী সতী চাকমা উচ্ছাসের সাথে জানালো যে সে আজকে “তাদের”  দেখেছে। তাহারা হলেন জুম্ম জাতির চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধারকারী। ত্রিধারায় বিভক্ত জুম্মদের অধিকার নিয়ে “লড়াই করার পার্টি” । একথা তারাও স্বীকার করেন যে রাষ্ট্র “Divide and rule” পলিসিতে কাউকে উসকে দিয়ে এবং কাউকে অবদমিত করে নানান কায়দায় জুম্ম অধিকারের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে বিভক্ত করে রেখেছে। সতি তাদের দেখেছে ক্যামোফ্লেজ পরিহিত আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত  অবস্থায়। আমি শুনলাম নির্বিকারভাবে। তারপর ক্লান্তিতে হাই তুললাম। তারপর হাতের কাজ সেরে খাগড়াছড়ির বাস ধরে ফিরলাম বাড়ীতে।

আমি পড়াশোনা করেছিলাম কুষ্টিয়ায়। চরমপন্থার রাজনীতি আমি দেখেছি। এখানকার পার্টিদের কথা উঠলে আমার তাদের কথা মনে পড়ে।

 

সেদিনকার মতো ক্লান্ত শরীর আর অবসন্ন মন নিয়ে আমি খাগড়াছড়িতে ফিরি।

প্রতিদিন এভাবেই কাটে। সব স্বাভাবিক। পাড়ায় পাড়ায় উৎসব হয়। উচ্চৈঃস্বরে হিন্দি গান বাজে। রোজকার মতোই সব ঠিকঠাক চলছে- শাহবাগ আন্দোলন, আলু-নুন নিয়ে দম্পতির আলাপ, দাম্পত্যক্রিড়া, প্রেমিক প্রেমিকার জান-জান্টুশ আদর, গ্রামের ছোট্ট ব্রিজের উপরে ছেলে-ছোকড়াদের সাট্টা-আড্ডা, তরুনের ঘাড়ে বাদামী চিনির জ্বালা, অগণিত সুন্দরীর প্রোফাইল পিকচারের পিছনে স্তাবকের স্তাবকতা, অগণিত আদিবাসী স্নাতকের এম সি কিউ মুখস্ত করা…

সবাই ভালো আছে। ভালো থাকার নানান চালাকিতে সবাই ভীষণ ব্যস্ত। সবাই এতো ভালো আছে কেন? ভালো থাকার অসুস্থতা জেঁকে ধরেছে আমাদের জাতিকে। আমি মাথা থেকে সেই বুড়োকে তাড়াতে পারিনা। কিছু করা দরকার কিন্তু কি করবো??

যাদের করার কথা তারা দলাদলি-গুম-হত্যায় মত্ত। কিন্তু আমিতো কিছু না করে থাকতে পারবো না। অন্তত লিখতে তো পারবো আমার কথা। মানুষকে জানাতে পারবো…

গোটা জুম্ম জাতিকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়, সামাজিক দায়বোধহীন, উদাসীন, ডি জুস প্রজন্ম বানানোর দায় এড়াতে পারবেনা পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো। যাদের রাজনীতি করার কথা, যাদের মিছিলে যাওয়ার কথা, যাদের ভাবার কথা তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, “রাজনীতি নিয়ে তোমার কি ভাবনা?” এক কথায় সে বলবে “পলিটিক্স সাক্স ! পলিটিক্স মানে মারামারি, অপহরণ, গালাগালি। আই হেট পলিটিক্স।”

রাষ্ট্র চায় আমাদের গ্রাজুয়েটরা অধিকার সচেতন না হয়ে ক্যারিয়ার সচেতন হোক; চাকুরিজীবি হোক, ব্যাংকার হোক, প্রফেশনাল হোক, বিসিএস ক্যাডার হোক। তারপর প্রজাতন্ত্রের অধম সেবক হোক তরুণ মেধা। রাষ্ট্র চায় আমাদের তরুন তরুনীরা অন্যায়ের প্রতিবাদের কথা ভুলে গিয়ে একেকটা চাকুরি বাগিয়ে আর সবার মতো আপোষী-পাপোষী জনতার মিছিলে ভিড় বাড়াক। রাষ্ট্র চায় আমাদের তরুণেরা প্রেমে-কামে কানা হয়ে যাক। রাষ্ট্র চায় আমরা হেজেমনির শিকার হয়ে ধীরে ধীরে চেতনায়, মগজে আর জীবন যাপনে মূলধারার জনগোষ্ঠীর মতো হয়ে যাই। চাকমা, মারমা থেকে বাঙালি হয়ে যাই। ঢাকায় যারা আছেন গারো, সান্তাল তাদের দিয়ে কি আর কোনোদিন লড়াই-সংগ্রাম হবে? আমি বিশ্বাস করি হবেনা। যে সান্তাল সান্তাল বিদ্রোহ করেছিলো, তেভাগা আন্দোলনে সামিল ছিলো তাদের আর কোন লড়াই এই যুগে হওয়া সম্ভব না। লড়তে হলে লড়াকু চেতনা, আত্মসম্মানবোধ, আত্মচেতনার বোধ দরকার। যদি সে জাতি তার শেকড় হারিয়ে মহিরুহের সমান বৃহৎ কায়েমি জনগোষ্ঠীর আশ্রয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, পরাশ্রয়ী হয়ে পড়ে তাকে দিয়ে গোলামী হতে পারে লড়াই নয়। নিজেদের স্বার্থে মারামারিতে ব্যস্ত পার্বত্য দলগুলো তাদের আত্মঘাতী কর্মকান্ডের কারণে পরোক্ষে আসলে রাষ্ট্রের পারপাজ সার্ভ করছে।

 

(২) অফ টপিকের অফ টপিকঃ

 

উপরের কথাগুলো এই সময়ে অফ টপিক। ইন্টারনেট সহ সারাদেশে শুধু একটাই আলোচনার বিষয়ঃ রাজাকারের সাজা, শাহবাগের আন্দোলন এবং জামাতী তান্ডব। দিনের বেশিরভাগ সময় আমি এসবের অনেক দূরে অবস্থান করি। কর্মসূত্রে রোজ আমাকে অনেক দূর্গম জায়গায় যেতে হয়। এমন অনেক জায়গা যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, দুয়েকটা অপারেটর ছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। আমার কাছে বিদ্যুতের আলোয় টিভিতে দেখা এবং নেটে পাওয়া খবরগুলোই এখন অফ টপিক। এই দূর্ভেদ্য অরণ্যকে বাসযোগ্য করেছে আদিবাসীরা। তারপর…

প্রতিদিন যা দেখছি তা আমার মগজ, চেতনাকে পেরিয়ে অবচেতন মনকে খোঁচায়। দূঃস্বপ্ন হয়ে ঘুমের মধ্যে হানা দেয়। যা ভাবছি তা না বলে, রাষ্ট্রীয় বৈষম্য-নিপীড়নের কথা না বলে, অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা না বলে নাগরিক বিপ্লবিয়ানা আমি করতে পারবোনা।

 

এসব বলার জন্য মানবিক বোধ-গনতান্ত্রিক চেতনার মানুষ, জুম্ম জনতা ছাড়া আর সবাই আমাকে দুয়ো দুয়ো করবেন। আমি আমার জীবন থেকে বুঝেছি, “At the end of the day I am a Marma and you are what you are. At the beginning I was A Marma and you were so.”

এসব কথা কোন মিডিয়াতে কোনদিনও আসেনি। যদি কোনদিন তার কনামাত্র আসে রাষ্টযন্ত্র তার কণ্ঠরোধ করে দেয়। তানভীর মোকাম্মেল “কর্নফুলির কান্না”য় দুয়েকটা কথার কিছু বলেননি তাতেই সেই ছবি লাল ফিতায় সেন্সরড হয়ে গিয়েছিলো। কখনো কোন টিভি চ্যানেলে পাহাড়ে থাকা সেটেলারদের বিষয়ে কিছু দেখানো হয়েছে কি? কোন দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন? পাহাড়ে ঘটে যাওয়া আদিবাসী নিধনের কথা? তেরোটা গনহত্যার কথা?

পাহাড়ে তো আদিবাসীদের থাকার কথা- কিভাবে এরা আসলো? এরা যারা সেটেলার এদের সংখ্যা এখন আদিবাসীদের সমান। স্থানবিশেষে এরাই সংখ্যাগুরু। তিন দশক আগেও তারা  ছিলোনা। কিভাবে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মূলধারার জনগোষ্ঠী আগ্রাসন চালাচ্ছে? হ্যাঁ একে আগ্রাসনই বলতে হবে। কেন?

আপনারা যারা আমার বন্ধু, আমাকে আগে থেকে চেনেন আপনাদের কিছুটা জানার কথা। যারা জানেননা তাদের আজ সেই কথা খুব সংক্ষেপে বলবো।

এসব বলার জন্য আমার পেছনে রাষ্ট্রীয় ইন্টেলিজেন্সের লোক লাগবে, সেটেলারদের নজর লাগবে। আমার প্রোফাইলে লোক লাগাবে রাষ্ট্র। জাতীয়বাদী জয় বাংলার লোকেরা আমাকে অনলাইনে আক্রমন করবে। রাষ্ট্রদ্রোহের তকমা লাগাবে। আক্রমন আসবে সেটেলারদের পেজ থেকে। যেকোন উছিলায় রাস্তায় সেটেলাররা আমাকে হেনস্থা করতে পারে। যারা প্রগতির কথা বলেন, বিপ্লবের কথা বলেন তাদের অনেকে আমার সঙ্গ ত্যাগ করতে পারেন। জয় বাংলা’র ধ্বজা ওড়াতে বা রাষ্ট্রীয় সেন্সরের কারণে তারা অজ্ঞাত বিষয় বলে চুপ থাকবেন বা আমাকে উপজাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী, সংকির্নতার ধুয়া তুলে গালমন্দ করবেন। কেননা শেষ পর্যন্ত “At the end of the day……”

শান্তি-সম্প্রীতির ধুয়া তুলে অনেক শান্তি সুশীলতার লোক আমাকে চুপ করতে বলবেন। তবু আমাকে বলতে হবে। বলতেই হবে।

কেননা আজ যদি সত্যকে তুলে না ধরা হয় কাল সেটা মিথ্যা হয়ে যাবে। মিথ্যার ডামাডোলে প্রকৃত ইতিহাস হারিয়ে যাবে। আর বাংলাদেশে ইতিহাস পাল্টে যাওয়ার অসংখ্য নজর আছে।

আমাকে বলতেই হবে কেননা কেউ বলছে না। কেউ বলেনা। সবাই ভয় পায়, সবাই ভালো থাকার জন্য সব ভুলে থাকতে চায়। এক আত্মঘাতী বিস্মৃতির সুখে থাকতে চাই আমরা।

আপনাদের কাছে মিনতি যদি প্রগতি, গনতন্ত্র এবং সত্যনিষ্ঠার ন্যুনতম আপনারা ধারন করেন তাহলে আপনারা চুপ থাকবেন না।

আপনারাতো পাহাড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন। আপনারা পাহাড় দেখেন, সবুজ দেখেন, পাহড়িদের দেখেন কিন্তু পাহাড়িদের কান্না দেখেন না। পাহাড় দেখবেন, পাহাড়ে সেটেলারদের গ্রাম দেখবেন না? আদিবাসীদের রক্তে ভেজা পাহাড়ে, বেদখল হয়ে যাওয়া জমিতে সেটেলারদের বসতি দেখবেন না? সেটেলার এবং সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর হামলার মুখে যারা ভারতে শরনার্থী হয়েছিলো তাদের দেখবেন না? বাধ্য হয়ে অনেকে শরনার্থী আশ্রয় কেন্দ্রে আছে এখনো। দিঘীনালায় ঢোকার মুখে এরকম একটা আশ্রয় কেন্দ্র আছে। একবার দেখে আসুন।

এই শরনার্থীরা ফিরে এসে দেখে তাদের বাপের ভিটা বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে এখন সেটেলারদের বাড় বাড়ন্ত বসতি। সেখানে এখন সেটেলারদের বাজার, মসজিদ, বিশাল লোকালয়। সেটেলার যারা এসেছিলো তারা তাদের বংশীয় আত্মীয়দের ডেকে এনেছে আরো বসতি স্থাপন করতে। কেননা এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা আছে।

শোনেন শহরের বাবুরা,

অরণ্য ভ্রমন মানে দোচুয়ানী মদ আর আদিবাসী মেয়েছেলে না। পাহাড় আপনার সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির জায়গা না। আপনারা গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনে অরণ্য ভ্রমনে যাওয়া এক তরুনকে দেখিয়েছেন। শহরের মাখন পোলা। পথ হারিয়ে এক অজানা আদিবাসী সুন্দরীর পিছে ল্যাদায়া পড়ছিলো। আরেকটা বিজ্ঞাপনে দেখিয়েছেন অরণ্যের আদিবাসীরা ক্যানিবাল, বর্বর। চ্যানেল আই সহ কর্পোরেট মিডিয়া আমাদের দেখাতে চায় আমরা খুব আমুদে, ফুর্তিবাজ। আমাদের ফর্সা মেয়েরা নানান ঢঙয়ে নাচে। তারা কক্ষনো দেখায়না আমরা কেমন আছি। যে শিল্পীর নাচ টিভিতে দেখানো হচ্ছে হয়তো তার দাদা, মামা, কাকা বা আত্মীয় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে দেশান্তরী হয়েছিলো-হয়তো তাদের পূর্বপুরুষ কাপ্তাই বাঁধের ফলে উদ্বাস্তু হয়েছিলো- হয়তো তাদের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় কেননা তাদের আর পাহাড় নেই, জমি নেই।  এসব কথা কখনো মিডিয়াতে আসেনা। আদিবাসী নিধনের উদ্দেশ্যে তেরটা গনহত্যা পাহাড়ে সংঘটিত হয়েছে। তার একটাও কি মিডিয়াতে এসেছে? আপনারা তাকে জনসম্মুখে নিয়ে আসুন। যুগ যুগ ধরে যে কান্না পাহাড়ের অন্দরে কন্দরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যে কান্না রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপের আড়ালে রয়ে গেছে তার কথা শোনান দেশবাসীকে।

 

(৩) যে ইতিহাস সবসময়ই অফটপিক এবং সেন্সরড

 

 

আদিবাসীদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়নি। যে সমস্যা রাজনৈতিক তাকে সামরিক কায়দায় এবং অমানবিক উপায়ে দমন করা হয়েছে। পাহাড়ে যে কয়েক হাজার সামরিক-বেসামরিক ক্যাম্প-ব্যাটালিয়ন-ব্যারাক আছে তার শতভাগের একভাগ যদি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শেখার স্কুল থাকতো, চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসালয়, আদিবাসীদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে স্বীকার করে তার বিকাশের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মান এবং কৃষি শিল্পে সহায়তা সহ কাজের অধিকার, আদিবাসীদের তাদের মতো করে বাঁচার অধিকার – এসব যদি রাষ্ট্র আয়োজন করতো তাহলে পাহাড়ে এত হানাহানি হতো না। রাষ্ট্র যতো টাকা সেটেলারদের রেশন-পূনর্বাসন এবং সামরিকায়নে খরচ করেছে তার সিকিভাগ যদি আদিবাসীদের উন্নয়নে খরচ করতো তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে এত রক্ত ঝরতো না।  স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র স্বকীয়তার স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিকে বিচ্ছিন্নতাবাদের ভূত মনে করে দমন করতে চেয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের “বাঙালি হয়ে যেতে” বলেছিলেন। অথচ পাশের দেশ ভারতের কাছে শিক্ষা নেয়নি। ভারত বহুজাতিক, বহুভাষিক এবং বহু সংস্কৃতির রাষ্ট্র। সেখানেও বাঙালি আছে। সেখানকার বাঙালিরা কেন্দ্রীয় শাসনের সমালোচনা করতে পারেন কিন্তু কখনোই “দিল্লি বাঙালিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়” এই অভিযোগ করতে পারবেন না। আমাদের প্রতিনিধিত্বশীল পার্বত্য দলগুলো কখনোই বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র চায়নি। চেয়েছে স্বকীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনায় মানবিক বিকাশের আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার। রাষ্ট্র যত নিপীড়ন করেছে ততোই প্রতিরোধ শানিত হয়েছে অস্ত্রে। ফলে পাহাড়ে যুগের পর যুগ ধরে রক্ত ঝরেছে। রক্ত তো রক্তই। তার আবার কিসের জাত? কিন্তু না, রাষ্ট্র আমাদের ‘উপজাতি’ (অর্থাৎ জাতি নয়) জ্ঞান করে “জাতির বিশুদ্ধ রক্তকে রক্ষার্থে উপজাতদের রক্তক্ষয়কে” আইনসিদ্ধ করে আসছে। আমাদের বৃহত্তর জাতি বাঙালি বানাতে চেয়েছে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। একজন বাঙালি কখনো চাকমা বা মারমা যেমন হতে পারেন না, তেমনি আমিও আমি বাংলাদেশী হতে পারি বাঙালি নয়। রাষ্ট্র যদি কল্যাণকামী এবং গনতান্ত্রিক হতো তাহলে পশ্চাৎপদ জাতিসমূহের অধিকার নিশ্চিত করে তাকে মানুষ হিসাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতো। তাকে সামরিক কায়দায় দমাতে চায়তো না। তাতে আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্রের চরিত্র ক্ষুন্ন হতো না। রাষ্ট্র চাইলে অনেক আগেই পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, হানাহানি, রক্তপাত বন্ধ করতে পারতো। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় এক যুগের সামরিক শাসক এবং দুর্বৃত্তায়িত বুর্জোয়া শাসকেরা কখনোই আদিবাসীদের প্রাণের দাবিতে কর্নপাত করেনি। হয়তো রাষ্ট্র আমাদের ঠিক মানুষ মনে করেনা তাই মানবিক অধিকার না দিয়ে দানবিক শক্তি দিয়ে আমাদের দমন করতে চায়। বেসিক্যালি এই বিশ্বায়নের যুগে সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া দেশে দেশে যেভাবে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে কর্পোরেটের স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ চুষে চলেছে  তার বদলে রুগ্ন অর্থনীতির বাংলাদেশের অর্থনীতি-রাজনীতির নিক্তি সমান রাখতে গিয়ে রাষ্ট্র সংখ্যাগুরুর ভাগে সব ওজন দিয়ে ফেলেছে।

কানাবাজারে ঠকিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, পেয়াদা দিয়ে বেদম পিটিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরার জন্য ফেলে রেখেছে।

 

আদিবাসীদের অবদমিত করে রাখতে এবং নিশ্চিহ্ন করে দিতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান। মোক্ষম রনকৌশল প্রয়োগ করেছিলেন তিনি। রীতিমত ক্লাস্টার বোমা। গুচ্ছ বোমার মতো সেটেলারদের গুচ্ছগ্রাম। জুম ঘরের ছনের ভিতরে সেঁধিয়ে দিয়েছিলেন গুচ্ছবোমা-কে জানে কোনটা কোনদিন ফাটে! কোন কোন দিন যখন একেকটা ক্লাস্টার ফেটে যায় সেদিন আদিবাসীরা ঘরছাড়া হয়। যেমন মাটিরাঙ্গার ক্লাস্টারগুলা প্রায়ই ফাটে। তখন ত্রিপুরা বা মারমারা গ্রাম শুন্য করে পালায়। তাদের বাড়ি পোড়ে। সেখানে মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ এখন সেটেলার বাঙালি। বাঘাইছড়িতে ফেটেছিলো। বাঘাইছড়ির শক ওয়েভ ধাক্কা দিয়েছিলো খাগড়াছড়ি শহরে। সেবার শহরের আদিবাসীদের বাড়ী পুড়েছিলো। খোদ রাঙ্গামাটি শহরেই ফেটেছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। দোকানপাট-ঘরদোর ভাঙা হলো। রাস্তায় নাকচ্যাপ্টা-চোখ ছোট যাকেই পাওয়া গেলো তাকে ঠ্যাঙানো হলো।

বছর বছর সম্পদের ক্ষতির চাইতে বড় ক্ষতিটা মানসিক। আদিবাসীরা ভয়ে ভয়ে থাকে “এইরে দাঙ্গা বাঁধবে” বলে। আর সেটেলার সহ ভোটের রাজনীতির কায়েমী গোষ্ঠী তক্কে তক্কে থাকে দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য।

সেটেলার ধরে মারো টান-আদিবাসী হবে খান খান! দারুন মিলিটারি বুদ্ধি।

জিয়াউর রহমান আদিবাসী জনপদের ভিতরে ভিতরে সেটেলার বাঙালি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তার ক্ষমতাকালে। এর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এই সেটেলাররা বংশ বিস্তার করবে। একদিন তারা সংখ্যায় আদিবাসীদের ছাড়িয়ে যাবে। দুইটা লাভ। এরা যারা সেটেলার-এরা দারিদ্রপিড়িত মানুষ। এরা বেকারের ভিড় বাড়াবে না। মঙ্গা-শীতে মরবে না। দারিদ্র থেকে তৈরি হওয়া সামাজিক নৈরাজ্য হবেনা। এরা পাহাড়ে তাদের ভোট ব্যাংক হবে। কেননা রাষ্ট্রীয় পার্টি তাদের রিজিকদাতা। এখনো তারা বি এন পির গডফাদার ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে পূজা করে। এদের জমি আর রেশনের লোভ দেখিয়ে আনতে হবে পাহাড়ে। নেংটি পড়া বর্বর “উপজাতিগুলা” অধিকার-অধিকার করে আর আন্দোলন করতে পারবে না। পাহাড়ের ভূমিজ আদিবাসীরা-যাদের অধিকারে একদিন পাহাড় ছিলো, যাদের অধিকারে জীবন ছিলো- তাদের জীবন আর তাদের অধিকারে থাকবে না, তাদের অধিকারে পাহাড় থাকবে না। তখন রাষ্ট্রের এথনিক ক্লিনজিং পলিসি বাস্তবায়ন সহজতর হবে। যেমন খুশি নীতি প্রনয়ন করা যাবে, চাপিয়ে দেওয়া যাবে, নিপীড়ন করা যাবে। একসময় গোটা পাহাড়ে  তারা নিজের পিতৃভূমিতে ভিনদেশী হবে। আদিবাসীরা পাহাড়-প্রকৃতির উপরে নির্ভর করে বেঁচে আছে যুগের পর যুগ ধরে। জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ তারপর খালেদা জিয়া সেটেলারদের পূনর্বাসিত করলেন পাহাড়ে। এই সেটেলারদের পোষা মানুষের মতো রেশন দিয়ে আর খাস জায়গাতে পাঁচ একর জমি বন্দোবস্তির লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসলো সরকার। তারা এখনো রেশন পায়। পাহাড়ে মানুষ বাড়লো কিন্তু পাহাড় তো বাড়েনা। সীমিত সম্পদের মালিকানা নিয়ে শুরু হলো জাতিগত সহিংসতা। যে পাহাড়ে আদিবাসীরা যুগের পর যুগ ধরে হেডম্যানদের কাছ থেকে স্বত্বাধিকার নিয়ে চাষ করে আসছে সেটেলাররাও ঐ জমির দাবী তুললো। আগুন লাগালো রাষ্ট্র, হাওয়া দিলো সামরিক-আধাসামরিক বাহিনী। তারা সেটেলারদের লেলিয়ে দিয়ে পিছনে পাহারা দিলো মেশিনগান নিয়ে। রাষ্ট্রীয় মেকানিজমে এক সর্বাহারাকে লেলিয়ে দেওয়া হলো আরেক সর্বহারার বিরুদ্ধে। ছড়ানো হলো জাতিগত বিদ্বেষ, বিভক্ত করা হলো জুম্ম জাতিকে। এবার ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি দিয়ে আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বাঁধিয়ে চমৎকার খেলা দেখছে সামরিক, ধার্মিক, রেসিস্ট রাষ্ট্র। বাংলাদেশ নামের সো কল্ড গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাহাড়ের ক্ষেত্রে ন্যাংটো হয়ে যায়। রাষ্ট্রের ভূজঙ্গি চরিত্র পাহাড়ে যতটা প্রকট সমতলে তেমনটা নয়। রাষ্ট্রের হিপোক্রেসির একটা নমুনা বলিঃ উত্তরবঙ্গের দারিদ্রপীড়িত মানুষ যখন মঙ্গায় না খেয়ে মারা যায় তখন এখানকার ৩-৪ লাখ সেটেলার সরকারের কাছ থেকে রেশন পায়।

রাষ্ট্র ঢাকার ফুটপাতের অনাহারী মানুষ, দৌলতদিয়া-মংলার যৌনদাসী, গার্মেন্টসের মানবেতর জীবন যাপনকারী শ্রমিক,  উত্তরবঙ্গের দারিদ্রপীড়িত মানুষের দায়িত্ব নেয় না অথচ পাহাড়ে পূনর্বাসিত সেটেলারদের খাদ্য নিরাপত্তা, সামরিক-আধাসামরিক-বেসামরিক বাহিনীর পাহারা- পাহাড়িদের কাছ থেকে বেদখলী জমি সব দিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে। কেন রাষ্ট্র সেটেলারদের রেশন দিয়ে পুষে রেখেছে ?

 

 

 

 

About the author

পাইচিংমং মারমা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1584

5 comments

6 pings

Skip to comment form

  1. Trivium Turja Chakma

    সুজাত দা, আপনার কথার সাথে আমিও একমত|
    খুব ভালো লিখেছেন|

  2. Sujat Tanchangya

    অরণ্য ভ্রমন মানে দোচুয়ানী মদ আর আদিবাসী মেয়েছেলে না। পাহাড় আপনার সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির জায়গা না। আপনারা গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনে অরণ্য ভ্রমনে যাওয়া এক তরুনকে দেখিয়েছেন। শহরের মাখন পোলা। পথ হারিয়ে এক অজানা আদিবাসী সুন্দরীর পিছে ল্যাদায়া পড়ছিলো। আরেকটা বিজ্ঞাপনে দেখিয়েছেন অরণ্যের আদিবাসীরা ক্যানিবাল, বর্বর। চ্যানেল আই সহ কর্পোরেট মিডিয়া আমাদের দেখাতে চায় আমরা খুব আমুদে, ফুর্তিবাজ। আমাদের ফর্সা মেয়েরা নানান ঢঙয়ে নাচে। তারা কক্ষনো দেখায়না আমরা কেমন আছি। যে শিল্পীর নাচ টিভিতে দেখানো হচ্ছে হয়তো তার দাদা, মামা, কাকা বা আত্মীয় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে দেশান্তরী হয়েছিলো-হয়তো তাদের পূর্বপুরুষ কাপ্তাই বাঁধের ফলে উদ্বাস্তু হয়েছিলো- হয়তো তাদের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় কেননা তাদের আর পাহাড় নেই, জমি নেই। এসব কথা কখনো মিডিয়াতে আসেনা। আদিবাসী নিধনের উদ্দেশ্যে তেরটা গনহত্যা পাহাড়ে সংঘটিত হয়েছে। তার একটাও কি মিডিয়াতে এসেছে? আপনারা তাকে জনসম্মুখে নিয়ে আসুন। যুগ যুগ ধরে যে কান্না পাহাড়ের অন্দরে কন্দরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যে কান্না রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপের আড়ালে রয়ে গেছে তার কথা শোনান দেশবাসীকে।

  3. Tandra Chakma

    Osadharon ek lekha.

  4. Tandra Chakma

    tagg me at Facebook please.

  5. Tandra Chakma

    tagg me at Facebook please.

  6. Tamjang Changma Tamjang

    আজ দীঘিনালার রসিক নগর নামক এলাকায় গিয়ে দেখলাম সেটেলার আর সেটেলার!এখানে পাহাড়ী জায়গায় সেটেলাররা বসতি দিয়েছে! মেরং টু লংগদু রাসতা দিয়ে আসা যাওয়া করলে মনটা আর ভাল থাকে না। কিনতু যখন সদর থেকে বাবু ছড়ার দিকে আসা যাওয়া করি তখন ভাবি যে, চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত!! এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হয়তো সাত জনম লাগবে!!!!

  7. জ্যোতি চাক্‌মা

    পাই দা@ লেখাটি খুব ভালো হয়েছে।

  8. পাইচিংমং মারমা

    লেখাটা একদম ‘র’ অবস্থায় ছাপানো হয়েছে। এডমিনের অব্যাহত চাপের মুখে কোন কলম না চালিয়েই লেখাটা পাঠিয়েছিলাম। নতুন ওয়েবসাইটকে সমৃদ্ধ করতে লেখা দরকার তাই এডিটিং ছাড়াই এখানে পোস্ট করা হয়েছে। প্রেসের জন্য ফাইনাল লেখাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে লেখায় বেশ কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে “মঙ্গলধ্বনি” ম্যাগাজিন এবং ওয়েবসাইটে লেখাটা পাওয়া যাবে। এই ব্লগসাইটের জন্য লেখা রেডি হচ্ছে।

  9. হেগা

    পুরো লেখাটি পড়লাম এক পলকে। এখনো চোখ থেকে পোড়া ভিতের শুকনো রক্তের গন্ধ পাচ্ছি। ভাবছি, গড়াচ্ছে রাত আর দিন/ বাড়ছে আমার পোড়া মাটির ঋণ…

    গোমতী-মাটিরাঙ্গা থেকে উচ্ছেদের পর ত্রিপুরাদের যে বিশাল অংশ আরেকটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে খাগড়াছড়ি-দীঘীনালা সড়কের জঙ্গলগুলোতে বসতি গড়েছিল, আপনি হয়তো তাদেরই কথা বলছেন। যারা ৯০ দশকে দুবার উচ্ছেদ হতে বাধ্য হয়েছিল, তারা যে সবসময় উচ্ছেদ আতংকে ভুগবে- আপনার অভিজ্ঞতা এটায় প্রমান করে। আর দীঘীনালার মেইনী কূলের উর্ভর শস্য ক্ষেত যে আজ তামাকের বিষক্ষেত হয়ে উঠল, এটা তো পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামেরই চিত্র…

    এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিষ্ঠুর ভ্রাতৃঘাতী ও পারষ্পরিক অবিশ্যাসের বিষ। দেখছি, শুনছে এবং বুনছি শুধুই হতাশার জাল…

  10. Jimi

    Oshadaron lekha….aaro lekha chai

  11. salit

    valo likhechen. likhte thakun.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>