«

»

এই লেখাটি 601 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

হাঁটতে হাঁটতে যা দেখি

১।

আমরা অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলেছি অসংখ্য সূর্যাস্তের পরে। আমাদের সবার গন্তব্য ঘর্মাক্ত গুহার দিকে যেখানে আলোহীন সমস্ত জগত বর্তমান-অতীত-ভবিষ্যত থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। পথ চলতে আমরা অনভ্যস্ত, তাই এই পিছিল পথে আমাদের চলা সতর্ক হলেও কাদা না মাড়িয়ে সম্মুখযাত্রা অসম্ভব। আমরা সকলেই ভদ্রতার চশমা পড়ে নর্দমায় নামি এবং ভোরের আলো ফোঁটার আগেই ছিঁড়ে ফেলি আমাদের নিজস্বতা; লোকজ সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠির জীবনধারায় লালিত চেতনা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবাহী পোষাক- পিনোন, খাদি, থামি। এবং চাষ করি অন্যতার সংস্কৃতি, গায়ে জড়িয়ে নিই পাশ্চাত্যের দামী পোষাক; হতে চাই পণ্যের বাজারের একেকটি প্রাণবন্ত ডামী। ফলে আমাদের মাঝে “আমরা”র বদলে খুঁটি গেড়ে বসে থাকে “আমি”। এই মানসিকতা সর্বত্র- জরায়ু থেকে রূভোঘর(লাশ বাহন) পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। তবুও স্বপ্নিল শূন্যগর্ভে ভেসে বেড়ানোর অক্ষমতা আমাদের নেই, যেমনটা পাখিদের সহজাত প্রবৃত্তি ও উড়ার ক্ষমতাকে বন্দী করা যায় না কোন শাসনে।
লোহার পিঞ্জরে বন্দী পাখি ও সভ্যতার চেতনায় আবদ্ধ মানুষ মাত্রই পরাধীন ও আড়ষ্ট। সভ্যতার যে ধারা যুগে যুগে সমাজকে এগিয়ে নিয়েছে, তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে সমকালীন সভ্যদের কঠিন পিঞ্জরকে ভেঙ্গে মুক্তান্বেষার মধ্য দিয়ে। পৃথিবীতে স্বাধীনতাকামীদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রনের জন্য যেকোন নিয়ম-নীতি সংবিধান কর্তৃত্বকারী শক্তি কর্তৃক রচিত বলে সেখানে সেচ্ছাচারীতা থাকবেই; ফলে শোষিতরা বারবার শোষণের শিকার হবে। অধিকারহারা মানুষকে না-খাইয়ে হার্ডিসার বানিয়ে গৃহকোন কিংবা ফ্যাক্টরীর আবর্জনায় ফেলে রাখার সমস্ত আয়োজন আজ উন্মোচিত হয়েছে। তবুও ক্ষুদার্ত ঘুমন্ত জনতাকে জাগানো যাচ্ছে না, বুঝানো যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে, দেশি-বিদেশী চক্রগুলোর আয়োজনে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড উচিয়ে নগরে-গ্রামে মগজ কেনাবেঁচার হাট বসেছে। ফলে, মাথা ও মানুষ প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপূর্ণ চাকরী থেকে বিয়ের বাজারের পাত্র-পাত্রী, সর্বত্র। সমাজে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা মানুষের সামাজিক অবস্থান ও শ্রেণীচরিত্র নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে, একই সাথে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। ফলে, সুবিধাবাদী মানুষ মাত্রই আদর্শহীন ভদ্রবেশী আপোষকামী সমাজসেবী।

 

চিরদিন কুম্ভকর্ণও ঘুমিয়ে থাকতে পারে না বলে মানুষ জেগে উঠতে বাধ্য। মুক্তাকাশে জন্মাধিকারের চেতনা পাখিকে পিঞ্জর ভাঙ্গার প্রেরণা দেয়। মানুষের মধ্যেও স্বাধীনচেতা প্রবৃত্তি আছে বলেই শোষিত মানুষের মুক্তির চেতনাকে কোনদিনও স্তব্দ করে রাখা যায়নি, যাবে না।

 

২।

অন্ধকারে হাঁটতে গিয়ে আমরা না জেনে হোঁচট খাই অপরিচিত পথে। একটি আলোকিত প্রদীপের নীচেও যেমন অন্ধকার থাকে তেমনি দেশের জ্ঞানের মশাল উচিয়ে ধরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও আলোর পাশাপাশি অন্ধকার আছে। দলবাজী রাজনীতি ও ক্ষমতার দাপত, দলাদলি, মাস্তানি, মাদক, বিভিন্ন ডিসকোর্স চাপিয়ে দিয়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক শোষণসহ প্রভৃতির অস্তিত্বকে অস্বীকার করলে সত্য থেকে অনেক কিছুই খসে পড়ে। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গা ছিল, যা পরবর্তীতে কিছুটা চেনা হয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে সেই অভিজ্ঞতাকে বিশ্লেষণ করা যেত। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তা হচ্ছে না। এখানে সামান্য কয়েক কথায় একজন জুম্ম ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঞ্চিত অভিজ্ঞতার সিকিভাগ তুলে ধরছি-

ক।  সেদিন মেহের চত্ত্বরে আড্ডারত কয়েকজন জুম্ম ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে আমিও ছিলাম। দুজন মারমা ছাড়া বাকিরা সবাই চাক্‌মা। মারমা দুজন চাক্‌মা ভাষায় সাবলীল বলে আড্ডায় চাক্‌মা ভাষায় বাক্য আদান-প্রদান চলছিল। আমাদের আলাপের মধ্যে হঠাৎ দুজন ব্যাচমেট উপস্থিত হল, এবং কিছুটা ফ্যাজলামী ও রাগত সুরে কটাক্ষ করে বলল “তোরা চুংচাংফুংপাং করে কি সব বলাবলি করছিস কিছুই তো বুঝতে পারছি না, গালি দিচ্ছিস নাকি? যা বলার বাংলায় বল। এখানে এসব চাইনিজ চলবে না”। এ অভিজ্ঞতাটি এখনো অনেক অবাঙালি বন্ধু মাঝে মাঝে বটতলা, ট্রান্সপোর্ট কিংবা টারজানে পেতে পারেন, যদি তারা একজন বাংলাভাষী বন্ধুকে পাশে থাকা অবস্থায় বাংলা ভিন্ন তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে চেষ্টা করেন। দীর্ঘ ছ’বছরের ক্যাম্পাসে আমার এ অভিজ্ঞতাটি অসংখ্যবার হয়েছে, যা বারবার আমার স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে আহত করেছে। স্বজাতির সাথে মাতৃভাষায় ভাববিনিময় করতে গিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে, আমাকে বাঙালি বন্ধুদের কেউ না কেউ গলা চেপে ধরতে আসছে!

 

খ।  প্রেম স্বর্গীয়। তারুণ্যে নারী-পুরুষের প্রেম কখনো জাতিগত পরিচয়ে অবদ্ধ থাকেনি বা আবদ্ধ করে রাখার প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সাধারণত যারা বেধর্মী, বেজাতি অথবা সামাজিক স্তর বিন্যাস বিচারে নীচু শ্রেণীর সাথে প্রেম-বিবাহে আবদ্ধ হয় তাদেরকে সমাজ ও পরিবার অস্বীকার করে সামাজিক রীতি মেনে। সমাজের এই রীতিকে প্রতিটি পরিবার ধারণ করে এবং মেনে চলে। সে স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের বাঙালি হিন্দু-মুসলমান হোক বা শালবনের মাণ্ডি কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-ই হোক, এটা অনেকটা সামাজিকভাবে আরোপিত নিয়ম। কিন্তু এ ধরণের প্রেমের বিপরীতে অবস্থান নেয়া লোকদের আধুনিক সমাজে আমরা প্রতিক্রিয়াশীল-সাম্প্রদায়িক-গেঁয়ো বলে চিহ্নিত করি। জাতি হিসেবে পাহাড়ি আদিবাসীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশি হওয়ার কারণ  তারা কয়েক দশক ধরে বিভৎস ১৪ টি গণহত্যা ও  রাষ্ট্রীয় মদদে অসংখ্য সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে টেনে নিয়ে তাদের নারীদের অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে। সেনা অফিসারের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে কঠোর নির্দেশ- “দশ বছরের মধ্যে পাহাড়ি নারীদের পেটে বাঙালি সন্তান দেখতে চাই”। ফলে বাঙালির সাথে প্রেম বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে কোন অস্তিত্বসচেতন পাহাড়ি মেনে নিতে পারে না। এটাকে পাহাড়িরা জুম্ম জাতির উপর “সেক্সচুয়াল হেজিমনি” হিসেবে বিচার করে। বিষয়টি এভাবে বলা কারণ, এই বিষয়টি অস্বীকার করে উদারনৈতিকতার চর্ম পড়ে সভ্য আধুনিক ছদ্মবেশ নেয়া যায়, কিন্তু স্থানীয় সমাজে বিরাজমান সত্যকে অস্বীকারের দায় এড়ানো যায় না।

ক্যাম্পাস জীবনে এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী ছিলাম যেখানে একজন পাহাড়ি আদিবাসী হিসেবে অনেক সময় নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শংকিত হয়েছি(আমার মত এখনো অনেকে হচ্ছে), লজ্জ্বিত হয়েছি স্বগোত্রীয় বেশ কিছু বোনের কর্মকাণ্ড দেখে এবং শুনে। একসময় নিজের মনের ভাষা অন্যদের(সিনিয়র-জুনিয়র) সামনে যৌক্তিক ও প্রতিবাদী কণ্ঠে তুলে ধরেছি দ্বিধাহীনভাবে; ফলশ্রুতিতে একজন নারী বিদ্ধেষী পুরুষতান্ত্রিক ব্যক্তি হিসেবে তকমা পেয়েছি, পেয়েছি সাম্প্রদায়িকতার লেভেল, আবার অনেক জুনিয়রের কাছে এই সামাজিক সমস্যাকে মোকাবেলা করতে না পারায় একজন প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নিন্দিতও হয়েছি। অনেকের সাথে কথা বলতে গিয়ে যা খুব বেশি উঠে এসেছে তা হচ্ছে “ব্যক্তি স্বাধীনতা”, যদিও বহুজ্ঞানতাত্ত্বিক তর্কের পরও কখনোই নির্ধারিত হয়নি ব্যক্তি স্বাধীনতার সীমানা। ফলশ্রুতিতে, এমন এক বৃত্তে উদারনৈতিকতার লেবাস পড়ে দীর্ঘদিন বসবাস করতে হচ্ছে যেখানে ভিতরটা চিকিৎসাহীনভাবে পঁচে গেছে, এবং আমাদের পরিচিতি স্থান পেতে যাচ্ছে কোন এক সংরক্ষিত যাদুঘরে অথবা কোন নৃবিজ্ঞানীর থিসিস পেপারে।

এ যাত্রায় ক্যাম্পাসে দেখা কয়েকজনের পরিনতি একই সূত্র গাঁথা। একজন বয়ফেন্ড নিয়ে বান্দরবানে হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে বেড়ানোর অপরাধে সেখানকার স্থানীয় মারমা ছেলেদের হাতে ধরা পড়ে এবং ঐ রূপ অসামজিক কর্মকাণ্ডে কখনোই জড়িত হবে না, এই মর্মে মুসলেকা দিয়ে পরিবারের হাতে সোপর্দ হয়। অপর আরেকজন, খাগড়াছড়ি উদ্দেশ্যে নৈশকোচে চড়ে যাত্রার সময় আপত্তিজনকভাবে তরুণদের হাতে ধরা পড়ে বলে জানা যায়। পরে তার পারিবার মুচলেকা দিয়ে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনে বলে জানা যায়। এ বিষয়গুলো যতটা আবেগী ও হৃদয় ঘটিত ভাবা হোক না কেন, এই বিষয়ের ব্যাপকতা বর্তমানে অস্তিত্বসচেতন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বগুলোর জন্য ভাবনা বিষয় হয়ে উঠেছে। সমাজে একশ্রেণীর তরুণ ভিন্ন উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিতদের মধ্যে এ বিষয়ে উদাসীনতা কি এটাই প্রমান করে যে আমরা রাষ্ট্রীয় সকল ব্যবস্থা দ্বারা আসলেই “হেজিমনি” স্বীকার?

 

গ।   মাষ্টার্স শেষ করে কি করবি? –এই প্রশ্নটি করেছিলাম আমার এক কাছের বন্ধুর কাছে। বন্ধুটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত বিভাগে পড়ে বলে ম্যাগাজিনে আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ বা নিবন্ধ লেখার জন্য বেশ কয়েকবার ধরণা দিয়েছি। না, দু-তিন দিন বই ঘেটে ফাও কাজ করার সময় তার নেয়। সে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে! কোন না কোনভাবে তাকে প্রথম শ্রেণীর সেই চাকরীটি পেতেই হবে! একইভাবে, বাংলা বিভাগের এক আদিবাসী ছাত্রকে অনুরোধ করেছিলাম, উত্তরাধুনিক আদিবাসী সাহিত্য কিংবা উত্তরাধুনিকতার আলোকে কলোনিয়াল আদিবাসী সমাজ নিয়ে কিছু লিখতে। এখানেও আমাকে হতাশ করা হল। ভদ্রভাবেই, সবাই প্রতিষ্ঠিত হয়েই তারপর সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করবে, তার আগে নয়! বর্তমান সময়ের অনেক তরুণ এরশাদ আমলে সার্কিট হাউস বা বৈঠকখানায় গিয়ে চাকরী লাভকারীদের ঘৃণা করলেও নিজেরাও সেই পথ বিমুখী হবে না তা অনুমান করা কষ্টসাধ্য। অর্থাৎ, আমার মত লুম্পেন-লম্পট হয়ে কেউ সাহিত্য বা জাতির জন্য কিছু করার তাড়না অনুভব করছে না, ফলে আমারা কি বলতে চাই তা স্পষ্ট হচ্ছে না। সকলের কাছে এটি অযৌক্তিক, অনেকের কাছে কয়েক বছর ড্রপ দেয়া ছাত্রের পাগলামী ভিন্ন এটি কিছুই নয়। ম্যাগাজিনের শেষপর্যায়ে রাগ থেকে এ লেখাটি যখন লিখছি, তখন মনে হল ম্যাগাজিনের জন্য বুড়োরা হতাশ করলেও শেষ পর্যন্ত কিছু নবীন পাওয়া গেল, খোঁড়া পায়ে হলেও এবার কিছু হতে যাচ্ছে!

আমাদের আদিবাসীরা নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশে কি করেছে বা করছে, এই প্রশ্নটির উত্তরটি দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা শাষকের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে কেউ আর গরম হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। অথচ, তারুণ্যকে গরম করার উপাদান চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রতিনিয়ত পরিচয় সংকটে থাকা জাতিগুলো আজ অচেতন, যদিও এখান থেকেই সাহিত্যের তেজী ঘোড়ায় চড়ে আত্মপরিচয় নির্মানের চেষ্টা করা যেত। বর্তমানে জুম্ম জাতীয়তাবাদের উপর বহুমুখী আক্রমন শুরু হয়েছে, চলছে জাতিসত্ত্বাসমূহকে বিভাজনের মধ্য দিয়ে শোষণকে পোক্ত করা ষড়যন্ত্র। পাহাড়ে আদিবাসীরা আজ চুক্তির পক্ষে ও বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত, এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ভবিষ্যত নির্মানের রূপরেখা সাহিত্যকর্মীরাই রচনা করতে পারত। বর্তমানে “আদিবাসী” টার্মটির ব্যাপকমাত্রার বানিজ্যিক ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে- শিল্প-সাহিত্যে, পর্যটন বিকাশে, সাংস্কৃতিক উৎসব, মেডিয়ার বিজ্ঞাপনে; সর্বত্র। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সুশীল ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইদুর দৌঁড় প্রতিযোগীতা আদিবাসী কবি, সাহিত্যিকদের পেয়ে বসেছে বলে মনে হচ্ছে! এই সংকট থেকে একঝাঁক তরুণ সাহিত্যকর্মীর রাগী সাহিত্যই হয়তো পারবে আমাদের আড়ষ্ট সমাজের ঘুম ভাঙ্গাতে। আমাদের অসময়ের স্বপ্নযাত্রা স্বার্থক হবে তখনই যখন তা অন্যদের জাগরণকে বিলম্বিত করবে না।

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন- “আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী”। বর্তমান সময়ে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আমাদের আন্দাজ নির্ভর যাত্রা। এই সংকটাপূর্ণ সময়ে পরস্পরের সন্দেহজনক চাহনি বলছে, পার্বত্য চুক্তির ১৪ বছর পরও এখনো বিশ্বাসের ঘ্রাণে বিষের ভ্যাবসা গন্ধ আমাদের অচেতন করে দেয়। ফেলে আসা পথে আমাদেরকে ক্ষীণ আলো দেখিয়েছেল ইতিহাসের মৃত শ্মশানের বুড়ো গেঙ্ঘুলিরা, এখন প্লাজমা মেডিয়ার কোলাহলে তাদের সুরেলা কণ্ঠ পাহাড়ের সবুজ দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় না। এর অভাব বর্তমান আধুনিক সমাজ হাড়ে হাড়ে থের পাচ্ছে যার ফল ডুবন্ত টাইনিকের মত সমাজ ব্যবস্থাকেই ডুবিয়ে দিচ্ছে। এ থেকে বাঁচার জন্য আদিবাসীদের নিজস্ব ধাঁচের সাহিত্যক্ষেত্র তৈরি করে নিতে হবে। ভিক্ষারীর মত দূর্নীতিবাজ ও এনজিওদের ক্যাস গ্রহনকারী সাহিত্য “বিকাশ” ভাবনা ছুড়ে ফেলে শক্তিশালীভাবে মেরুদন্ড উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। এই সময়ে আদিবাসী সাহিত্য ভূমিতে শক্তিশালী হাতে মাশাল ধরে অন্ধকারের যাত্রীকে আলোর পথে নেবার মত যোগ্য ব্যক্তির বড়োই প্রয়োজন।

 লেখাটি “কর্ণফুলী” নামক কাগজে প্রথম প্রকাশিত হয় এপ্রিল-২০১৩ ইং সালে।  CHT BD গ্রুপের ব্লগ সাইটটি নতুন উদ্দ্যোমে কাজ শুরু করায়  আমিও এই লেখাটির মাধ্যমে গ্রুপের সাথে শরিক হলাম।

 

About the author

হেগা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1578

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>