«

»

এই লেখাটি 950 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

ইউপিডিএফ-এর জন্মদিন ও কিছু চাওয়া

ইউপিডিএফ-এর জন্মদিন ও কিছু চাওয়া

শুরুতে বলে রাখি, আমার আজকের লেখাটা একটু অগোছালো। এলোমেলো ভাবনাগুলো তাড়াহুড়ো করে এখানে তুলে ধরছি ইউপিডএফ-এর জন্মদিন উপলক্ষে।

আজকে ফেসবুক ‍খুলেই চোখে পড়লো আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে ইউপিডিএফ তার ১৩ তম জন্মবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে।কয়েকটা নিউজ লিংক চোখে পড়লো, এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউপিডিএফ-এর সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা ও সাধারণ সম্পাদক রবিশংকর চাকমা বিবৃতি দিয়েছেন। জনগণকে সংগ্রাম শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তারা জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর প্রতি ঐক্য-সমঝোতার আহবান জানিয়েছেন।সাধারণ পাঠক হিসেবে নিউজ লিংকগুলোর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য পাঠ করেছি। অন্যান্য প্রতিবেদন বা বিবৃতির তুলনায় এবারে প্রসিত খীসা ও রবি শংকর চাকমার বিবৃতি অনেক মার্জিত ও গোছানো বলে মনে হয়েছে। অন্যান্য বারের মত এবার তারা অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করে জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর সাথে ঐক্য-সমঝোতার আহবান জানাননি। বরং মৈত্রীপূর্ণ চিত্তে তারা ঐক্য-সমঝোতার ডাক দিয়েছেন এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের ফলে কীভাবে জুম্মজনগণ ভোগান্তির শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই ইতিবাচক মনোভঙ্গি ও সৌজন্যমূলক ভাষা প্রয়োগের জন্যে তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে তাদেরকে আমার ধন্যবাদ বার্তা পাঠিয়েছি।আশা করবো, অন্যপক্ষ অর্থাৎ জেএসএস (সন্ত লারমা)-এর শত প্ররোচনা-উস্কানি ইত্যাদি সত্ত্বেও ইউপিডিএফ ভাবাবেগে উত্তেজিত না হয়ে এরকম ইতিবাচক মনোভঙ্গি পোষণ ও সৌজন্যমূলক ভাষা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

ইউপিডিএফএর জন্ম

১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ ঢাকায় সম্মেলনের মাধ্যমে ইউপিডিএফ আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মলাভ করে।শুরু থেকেই ইউপিডিএফ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবী তুলে চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে (তবে তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন এবং জেএসএসকে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন)।অনেকের হয়তো প্রশ্ন হতে পারে, ইউপিডিএফ-এর জন্ম কেন হলো? ইউপিডিএফ কী অর্জন করতে চায়? কেবল জেএসএস-এর চুক্তি বিরোধিতা করতে গিয়েই কী ইউপিডিএফ গঠনের মূল কারণ? পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন বলতে তারা কী বুঝাতে চাচ্ছেন? পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা কী? ইত্যাদি প্রশ্ন সামনে চলে আসে। কিন্তু সময় ও পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের অভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও ইউপিডিএফ-এর জন্মের হেতু জানার চেষ্টা করেছি তাদের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন জনের লেখা থেকে।

কেন ইউপিডিএফএর জন্ম?

ইউপিডিএফ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমানে সুইজারল্যান্ড প্রবাসী সঞ্চয় চাকমা কিছুদিন আগে ফেসবুক বিতর্কে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। অন্যতম একটি প্রশ্ন ছিলো, ইউপিডিএফ কেন গঠন করা হলো?এই প্রশ্নে উত্তরে সঞ্চয় চাকমা বলেছেন,

“সেই সময়ে ইউপিডিএফ গঠনের কারণ ছিলো জেএসএস (তখনকার জেএসএস)-এর ব্যর্থতা। যদি জেএসএস সেই সময়ে উদীয়মান নেতাদের স্থান দিতে পারতো, তাহলে আরো একটি পার্টি গঠনের প্রয়োজন ছিলো না। এটা ভালো হতো যদি জেএসএস-এর (তখনকার জেএসএস) নেতৃত্ব সকল জুম্মকে পার্টিতে স্থান দিতে পারতো। কিন্তু সেই সময়ে জেএসএস (তখনকার জেএসএস)-এ যুবকদের কোন স্থান ছিলো না”।

সঞ্চয় চাকমার বর্ণনা হতে ইউপিডিএফ গঠনের দু’টো কারণ সনাক্ত করা যায়ঃ ক) জেএসএস-এর ব্যর্থতা; খ) উদীয়মান নেতাদের জেএসএস-এ স্থান দিতে পারা। এখানে জেএসএস-এর ব্যর্থতাগুলো কী কী সেসব ব্যাপারে সঞ্চয় চাকমা কোন ব্যখ্যা দেননি। সম্ভবত তিনি জেএসএস-এর চুক্তি সম্পাদনকে বুঝিয়ে থাকতে পারেন। এদিকে সঞ্চয় চাকমার সুরের সাথে নিরন চাকমার সুরও প্রায়ই একই। তিনিও পক্ষান্তরে প্রসিত খীসাদের জেএসএস-এ স্থান দিতে না পারাকে চিহ্নিত করেছিলেন। একটি লেখাতে নিরন চাকমা বলেছিলেন, সন্তু লারমা প্রসিত খীসাকে জেএসএস-এ যোগদানের জন্যে আহবান জানিয়েছিলেন। তবে প্রসিত খীসা জেএসএস-এ যোগদানের আগে পার্টির (জেএসএস-এর) গঠনতন্ত্র দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রসিত খীসার এই চাওয়াকে সন্তু লারমা বাঁকা চোখে দেখেছিলেন।ফলে প্রসিত খীসার আর জেএসএস-এ যোগদান করা হয়নি।

অন্যদিকে, কেন নতুন দল প্রয়োজন হয়ে পড়েছিলো এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইউপিডিএফ লিখেছে,

It would not have necessary for us to launch a new party, had there existed any other political party in the CHT truly representing the people in terms of giving leadership to the struggle for establishing the rights of the downtrodden masses. The democratic forces of the Hill People’s Council, Hill Student’s Council and Hill Women’s Federation, which emerged through the students upsurge of 1989, would have joined such a party and played their due role in the struggle”.

মূলকথায় ইউপিডিএফ বলতে চেয়েছে, নির্যাতিত-নিপীড়িত জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যদি অন্যকোন রাজনৈতিক দল থাকতো তাহলে নতুন করে কোন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজন হতো না। ’৮৯-এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা রাজনৈতিক শক্তি পাহাড়ী গণ পরিষদ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঐ দলে যোগদান করতো এবং যথাযথ ভূমিকা পালন করতো। অর্থাৎ ইউপিডিএফ-এর বক্তব্য বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট হয়, জেএসএস তার সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন পাহাড়ী গণ পরিষদ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে স্থান দিতে পারেনি। অন্যভাবে বললে, প্রসিত-সঞ্চয়দের জেএসএস তার সংগঠনে স্থান দিতে পারেনি। ফলে তরুণ প্রজন্মের এসব নেতার মনে এক ধরনের ক্ষোভের দানা বেঁধে উঠে।

এদিকে জেএসএস আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংলাপ চালিয়ে অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু সংলাপ প্রক্রিয়ায় জেএসএস এসব “গণতান্ত্রিক সংগঠনসমূহকে” (পাহাড়ী গণ পরিষদ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন) সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে যায়।ফলে তারা নিজেদের অবহেলিত ও উপেক্ষিত বোধ করেছিলেন বলে মনে হয়।এখান থেকেই তাদের মনে ক্ষোভের দানা বেঁধে উঠে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে আমার হয়, এসব তরুণ নেতার ক্ষোভকে আমলে না নিয়ে জেএসএস “অভিভাবকসুলভ” আচরণ করেছিলো। অন্যদিকে, যতই সরকারের সাথে সংলাপ চলছিলো, ততই স্পষ্ট হচ্ছিলো, জেএসএস শুরুতে যে পাঁচদফা দাবীনামা উত্থাপন করেছিলো, সেসব দাবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবী পুরন হবে না। সেই প্রেক্ষিত থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের বহু আগে ১০ মার্চ ১৯৯৭ সালে তারা তিন সংগঠনের ব্যানারে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ডাক দেন (তথ্যসূত্রঃ ইউপিডিএফ-এর লিফলেট, ২০১১)।এভাবে অভিভাবক দাবীদার জেএসএস-এর সাথে তার সন্তান “গণতান্ত্রিক সংগঠন – পাহাড়ী গণ পরিষদ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন”-এর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই দূরত্ব চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিভক্তিতে পরিণত হয়।

পার্বত্য চুক্তি ইউপিডিএফএর আপত্তি

সবার জানা, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্যচুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয় – একপক্ষ হলো চুক্তিপক্ষ আর আরো এক পক্ষ হলো চুক্তিবিরোধী।

চুক্তিবিরোধীরা জেএসএস-এর বিরুদ্ধে “রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার” অভিযোগ আনলো। তারা দাবী তুললো চুক্তিতে ‘পাঁচদফা দাবীনামা’র অনেক মৌলিক দাবী পুরন হয়নি। এসব অপূর্ণ দাবীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

  • আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন পাওয়া যায়নি;
  • জুম্মজনগণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি;
  • ভূমি অধিকার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি;
  • সেনাবাহিনী প্রত্যাহার সম্ভব হয়নি;
  • অনুপ্রবেশকারী প্রত্যাহার প্রশ্নে চুক্তিটি নীরব;
  • গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবাধিকার লংঘনের বিচার নিয়ে চুক্তিতে কোন ব্যবস্থা নেই। একথায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারে কোন জবাবদিহিতার ব্যবস্থা চুক্তিতে রাখা হয়নি।

অন্যদিকে চুক্তিপক্ষের জেএসএস নেতারাও স্বীকার করেন, যা যা দাবী করা হয়েছিলো, সবকিছু অর্জন করা যায়নি।দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে তাদের চুক্তিতে আসতে হয়েছিলো। উপরে উল্লেখিত দাবীসমূহ একেবারে পুরোপুরি উপেক্ষিত থেকে গেছে তাও নয়। তারা যুক্তি দেন, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে চুক্তিতে কিছু লেখা না থাকলেও সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে (তিনটি পার্বত্য জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে) একটি রাজনৈতিক প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে আঞ্চলিক পরিষদ ব্যবস্থা রাখার মাধ্যমে। ল্যান্ড কমিশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজা এবং ভূমি সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যাও সমাধানের বিষয়টিও পরোক্ষভাবে জড়িত। অর্থাৎ পরোক্ষ অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যার সমাধান। তাছাড়া জেএসএস অলিখিত চুক্তির কথাও বলেছিলো। ছয়টি ক্যান্টনমেন্ট বাদে অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার, প্রথাগত ভূমি অধিকার ইত্যাদি বিষয় রয়েছে।

চুক্তির পক্ষবিপক্ষঃ বর্তমান বাস্তবতা

চুক্তি কেন হলো, কেন বাস্তবায়ন হলো না কিংবা পূর্ণস্বায়ত্তশাসন কী – এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। কিন্তু চুক্তিকে ঘিরে জুম্ম সমাজের বর্তমান বাস্তবতা হলো – চুক্তিপক্ষ-বিপক্ষ নামে অনেক ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি। অনেক হয়েছে আর নয়। এ সংঘাতের অবসান হতে হবে অচিরেই। নচেত আমাদের জুম্ম সমাজের আন্দোলন সামনে এগুবে না।

আরো একটি বাস্তবতা হলো, চুক্তিপক্ষের হোক, আর বিপক্ষের লোক হোক, সবার একই দশা এবং একই শত্রু – বাঙাল শাসকগোষ্ঠী।রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। চুক্তি পক্ষ হোক, আর বিপক্ষ হোক সবার মৌলিক দাবী একই

  • জুম্মজনগণসহ দেশে সব আদিবাসী জনগণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায় করতে হবে;
  • ভূমি ও বনজ সম্পদের উপর জুম্মজনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
  • সেনাশাসন প্রত্যাহার করতে হবে;
  • অনুপ্রবেশকারীদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে প্রত্যাহার করতে হবে;
  • জুম্মজনগণের স্বশাসন জোরদার করতে হবে;
  • জুম্ম জনগণের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ইউপিডিএফএর কাছে কিছু চাওয়া

আপনারা ইউপিডিএফ-এর গঠনের পেছনে জেএসএস-এর ব্যর্থতাকে বড় করে দেখেছেন বলে মনে হয়। ঠিক সেভাবে আপনাদের ক্ষোভগুলোও জেএসএস-এর উপর গিয়ে পড়েছে বলে মনে হয়। তবে আমার কাছে এটা কোন রাজনৈতিক দল গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ বলে মনে হয় না। আমার অনুরোধ থাকবে জেএসএস-এর ব্যর্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের পার্টিকে শোধরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। “পার্টির পতাকাতলে আসুন” বললেই লোকজন আসবে না। আপনাদের মেকানিজম সৃষ্টি করে দিতে হবে যাতে আপনাদের দলে মেধাবী ও তরুণ প্রাণের সমাহার ঘটে। এই অনুরোধের সাথে আরো আহবান থাকবে, আপনারা যথাযথভাবে জুম্মসমাজ বিশ্লেষণ করবেন সমাজতাত্তিক, মনস্তাত্তিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও। আপনারা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের নামে যেসব দাবী উত্থাপন করে আসছে সেগুলো সবই রাজনৈতিক। রাজনৈতিক দাবী আদায় হতে দীর্ঘ সময় ও প্রক্রিয়ার ব্যাপার। রাজনৈতিক দাবীর সাথে সাথে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের আশু সমস্যা যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবন-জীবিকা উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদি বিষয়েও আপনাদের মনোযোগ দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে কারিগরি সহায়তা ও বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে হবে। শিক্ষার আন্দোলন করা না গেলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ না হলে এই একবিংশ শতাব্দীতে সেটেলার বাঙালদের সাথে লড়াই করা কঠিন হবে।

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে আপনাদের একতরফা আহবানকে সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে আমার চাওয়া হলো, আপনাদের এই আহবান যাতে সর্বস্তরের কর্মী অনুসরণ করেন সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের প্রতি আপনাদের সব কর্মী বাহিনী ‘না’ বলুন। আপনারা ‘না’ বললে অন্যরাও উৎসাহিত হবে।

চাকমা ভাষায় একটা কথা আছে, “এক ন জিনে নুদি লগে, এক ন জিনে উদি লগে” (পেরে উঠা যায় না ন্যাকামির সাথে, আরো পেরে উঠা যায় না উগ্রতার সাথে)।পেরে উঠা যায় না – এটা কতটুকু সত্য জানি না। তবে রাজনৈতিক ন্যাকামি ও উগ্রতা জনগণ পছন্দ করে না।কাজেই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করার প্রশ্নে যারা ন্যাকামি দেখাবে, উগ্রতা দেখাবে তারা অবশ্যই এক সময় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিপতিত হবে। আপনারা রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই ন্যাকামি ও উগ্রতার পথে যাবেন না, আপনাদের কর্মীবাহিনীকেও সেই পথে যেতে দেবেন না – এইটা কামনা করি।

আপনাদের পার্টির জন্মদিনে আপনাদের সবার প্রতি শুভ কামনা রইলো।

…………………………………………….

অডঙ চাকমা, ২৬ ডিসেম্বর ২০১১

 

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1531

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>