«

»

এই লেখাটি 2,581 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

পার্বত্য চট্রগ্রামে উদ্ভাস্তু বাঙালীদের সাথে একসাথে বসবাস করা কি আদৌ সম্ভব ?

পার্বত্য চট্রগ্রামে উদ্ভাস্তু বাঙালীদের সাথে একসাথে বসবাস করা কি আদৌ সম্ভব ?

পার্বত্য চট্রগ্রামে যেসব বাঙালী সরকারের সহযোগিতায় এসেছেন, সবাই উদ্ভাস্তু বাঙালী । রাগ করবেন না । সত্য মেনে নিন যে আপনাদেরকে উদ্ভাস্তু করা হয়েছে । আপনারা সরকারের বরাদ্ধকৃত জায়গায় বসবাস করছেন । ‘উদ্ভাস্তু’ শব্দটি নিশ্চয় তাদের জন্য নয়, যারা নিজেরা এসে জায়গা কিনে ঘর করেছেন। বরং যারা জোড়পূর্বক অন্যের দখলি জায়গা কেড়ে নিয়েছেন, অথবা সরকারের সাহায্য এসেছেন ।

 

পার্বত্য চট্রগ্রামে উদ্ভাস্তু বাঙালীরা নিরীহঃ

 

অনেক রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রগতিশীল/জাতিবাদী/মৌলবাদীরা একটা কথা প্রায়ই বলে থাকেন যে, “পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত উদ্ভাস্তু বাঙালীরা ও আসলেই নিরীহ” । কিন্তু একটা কথার উত্তর তারা দেন না যে, কোনভাবে/কোনদিক দিয়ে পার্বত্য উদ্ভাস্তু বাঙালীরা নিরীহ -রাজনৈতিকভাবে/অর্থনৈতিকভাবে/শিক্ষায়/অধিকারের দিক দিয়ে ? কোন অধিকার থেকে পার্বত্য উদ্ভাস্তু বাঙালীরা বঞ্চিত/অবহেলিত ? এখন উপামা দিয়ে তাহলে বুঝানো যাক, ধরুণ “এক টেলেফিয়া মাছ বহুবছর যাবৎ এক সমুদ্রে বসবাস করছে, চারদিকে সে বড়মাছের আস্থানা দিয়ে ঘেরা । ভয়ে সবসময় সীমিত পরিসরে ঘুরেঘুরে খাবার খেতে হয়; অনেক সময় নিদির্ষ্ট সীমিত ক্ষেত্রতে খাবার না জুটলে উপবাস থেকে জীবনধারণ করতে হয় । একদিন এক জেলে টেলেফিয়া মাছটি জালে ধরেছে । জেলেটি মাছটিকে মৃত না করে জীবিত অবস্থায় বাড়িতে এনে নিজের এক পুকুরে ছেড়ে দিয়েছে । এখন দেখা যাচ্ছে পুকুরের রাজা হলো সেই টেলেফিয়া মাছটি । একবছর পর দেখা গেছে টেলেফিয়া মাছটি খুব দ্রুত বংশবিস্তার করেছে । পুকুরে বসবাসরত অন্যমাছগুলো আস্তেআস্তে নিরীহ হয়ে পড়ে, আর অন্যদিকে টেলেফিয়া মাছটি হয়ে উঠে সেই পুকুরের রাজা ।” ঠিক একইভাবে বলতে চাই উদ্ভাস্তু বাঙালীরা সমতলভূমিতে থাকাকালীন হয়ত বা নিরীহ ছিলেন কিন্তু পার্বত্য চট্রগ্রামে তারা কোনভাবে নিরীহ নয় । পার্বত্য চট্রগ্রামে তারাই রাজা এবং পুকুরের খাবার নিয়ন্ত্রক । তারা এখন ভূমিদস্যু/কোটি টাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী/ক্ষমতাধর । তারপর ও তারা নিরীহ হয় কোন দূঃখে ?

 

পার্বত্য চট্রগ্রামে উদ্ভাস্তু বাঙালীরা সুবিধাবঞ্চিতঃ

 

এই মূর্খ্যযুক্তিগুলো শুনলে আমার হাসি পায়, আবার মনে কষ্ট ও লাগে । পৃথিবীতে গরীব এক দেশের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ । সেই গরীব দেশে যেসব সুবিধাদি দেয়া সম্ভব তাই কিন্তু পার্বত্য উদ্ভাস্তু বাঙালীরা ভোগ করছেন । সন্ত্রাসী গড ফাদার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার শাসনামলে ‘পার্বত্য বাঙালী পরিষদ” গঠন হয়েছিল এসব সুবিধাদি অর্জন করতে, তাদের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নাকি পাহাড়ীদের সমসংখ্যক কোটার ব্যবস্থা করা । কোন দূঃখে তারা এই দাবীকে যৌক্তিক মনে করেন আমার জানা নেই । পার্বত্য চট্রগ্রামে যাওয়ার ফলে তারা কি অন্যভাষা/সংষ্কৃতির চর্চা তথাপি ব্যবহার করছেন, নাকি মূলস্রোতের বাঙালী জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে পড়েছেন ? আমি বলবো -না, বরং পার্বত্য চট্রগ্রামে এসে তাদের জীবনের চাকা ঘুরেছে, তারা জীবনকে এখন বিলাসবহুলভাবে কাটাতে পারছেন । হিংসা করে বলছি না, তবুও সত্যকে বলতে হয় সমতলভূমিতে থাকলে তাদের হয়ত দুবেলার খাবার ভালোভাবে জুটতো না কিন্তু এখানে এসে তিনবেলা খাচ্ছেন আর সরকারের রেশন উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্নরকম ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন । ১০০% না হোক অন্ততপক্ষে বলবো ৮০% উদ্ভাস্তু বাঙালীর জীবন পরিবর্তন হয়েছে পার্বত্য চট্রগ্রামে আসার ফলে । আর পার্বত্য চট্রগ্রামে তাদের জায়গা কেনা নিয়ে ও চিন্তা করতে হয় না, সরকারের বরাদ্ধ জায়গায় তারা অনাবিল আনন্দে বসবাস করে যেতে পারেন, শুধু রীতিমতো ডজনখানেন সন্তান জন্ম দিলে হলো কারণ, সবায়ের জন্য রেশন বরাদ্ধ হবে হবেই । সবাইকে মীন করছি না একটু খেয়াল করবেন । আমি সংখ্যাগুরু সুবিধাভোগীদের কথা বলছি । শিক্ষার কথা যদি বলেন, সরকার পাহাড়ীদের অতিরিক্ত কোন সুবিধা দেয়নি যা উদ্ভাস্তু বাঙালীদের দেওয়া হয়নি বরং, এরা পড়াশুনার চাইতে ব্যবসায়ের মনমানসিকতা বেশি । আইন/অধিকার/শিক্ষা/অর্থনীতি/বাসস্থান/ভাষাগত চাহিদা, কোনদিক দিয়ে পার্বত্য উদ্ভাস্তু বাঙালীরা সুবিধা বঞ্চিত ? বরঞ্চ, পাহাড়ীদের উপরোক্ত মৌলিক অধিকার এখনো অর্জিত হয়নি । তাই “পার্বত্য চট্রগ্রামে উদ্ভাস্তু বাঙালীরা সুবিধাবঞ্চিত” এমন যুক্তি ভিত্তিহীন ।

 

শান্তিবাহিনী/ইউপিডিএফ বাঙালী মারেন তাই আমরা ও পাহাড়ী মারিঃ

কোন মূর্খের দেশে যে জন্ম নিলাম, জন্মটা কি বৃথা যাবে । বৃথা যেতে না হয় দিলাম, আমার এই কথাগুলো যদি একটু শুনতেন । আরে বোকাচোদা, ঠিকইতো বলেন শান্তিবাহিনী/ইউপিডিএফ বাঙালী মারেন আর কোন দূঃখে যৌক্তি খাঁড়ান “তাই আমরা ও পাহাড়ী মারি” । আরে বোকা, শান্তিবাহিনী/ইউপিডিএফ হচ্ছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংঘটন । বাংলাদেশে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামিলীগ/বিএনপি যেমন আছে ঠিক সেভাবে ছোট দল ও আছে, একইভাবে শান্তিবাহিনী/ইউপিডিএফ ও হলো পার্বত্য চট্রগ্রামের চাহিদা এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জন্মানো রাজনৈতিক দল । আপনারা জেএসএস কি ও চিনেন না তাই শান্তিবাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছি । বাংলাদেশের সব মানুষ কি বিএনপি কিংবা আওয়ামিলীগ করেন ? অথবা নোয়াখালির সকল মানুষ কি বিএনপি ? যদি না হয়, তাহলে কোন দূঃখে সকল পাহাড়ীদেরকে কখনো শান্তিবাহিনী, কখনো ইউপিডিএফ বানান ? ধরেন, এক নোয়াখালির বিএনপির কর্মীকে ঢাকায় আওয়ামিলীগাররা পিঠিয়ে হত্যা করেছে, সেপর নোয়াখালি বাসী কি করবেন ? যতজন ঢাকাবাসী নোয়াখালিতে বসবাস করেন সবাইকে কি কোপাবেন/হত্যা করবেন নাকি হত্যাকান্ডের জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ? নিশ্চয় আইনের আশ্রয় নিবেন, কি বলেন ? কিন্তু, পার্বত্য চট্রগ্রামে ঘটে কি কোন এক উদ্ভাস্তু বাঙালী যদি আঘাতপ্রাপ্ত/নিহত হন (হয়ত অনেক সময় দেখা গেছে দ্বন্দতা নিজেদের মধ্যে) তাহলে ডিমের বাচ্চাসহ কুড়াল/দা/রামদা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন পাহাড়ী কোপানোর উদ্দেশ্য । অর্থাৎ, কে করেছে বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে এক উদ্ভাস্তু বাঙালী আহত বা নিহত হয়েছেন । এবার বলুন এমন মূর্খ্যদের সাথে কিভাবে বাস করা যায় ? আর প্রতি ঘটনায় সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্তা/মদদ বিদ্যমান ছিল; আছে; ভবিষ্যতে ও থাকবে । এতে করে উদ্ভাস্তু বাঙালীদেরকে আরো একটি বাড়তি সুবিধাদি দেয়া হয় । তাই, এক জায়গায় ঘটনা হলেও এখন সারা পার্বত্য চট্রগ্রামে আক্রমন করা হয় । আইন এখন সেসব উদ্ভাস্তুদের হাতে । অতএব “শান্তিবাহিনী/ইউপিডিএফ বাঙালী মারেন তাই আমরা ও পাহাড়ী মারি” এই যৌক্তি দিয়ে বুঝা যায় পার্বত্য উদ্ভাস্ত বাঙালীরা এখন বিচারকের আসনে, সময় হলে জ্বালাও/পোড়াও মাধ্যমে সমস্যার সমাধান; যা মূর্খদের অক্ষম যৌক্তি ।

আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, সম্ভব হবে যদি সেনাবাহিনীদের প্রত্যাহার করা হয় । তাদের ক্ষমতায়নকে শিথিল করা হয় । মূলতঃ যেসব সাম্প্রদায়িক ঘটনা পার্বত্য চট্রগ্রামে ঘটছে সবই ঘটছে সেনাবাহিনীদের ছত্রছায়ায় । সেনাবাহিনীর ক্ষমতায়নের বদলে সেখানে পুলিশ বাহিনী মোতায়ন করা যেতে পারে, যাতে করে এক গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মৌলিক আইনগত অধিকারকে সম্মান করা হয় । যতদিন পার্বত্য চট্রগ্রামে সেনাবাহিনীরা ক্ষমতা আসীন হয়ে থাকবে ততদিন পার্বত্য চট্রগ্রামের সমস্যা সমাধান হবে না বরং জিইয়ে রাখা হবে । রাষ্ট্রের জীবদের এ নিয়ে আগাম চিন্তা করতে হবে, না হয় পার্বত্য চট্রগ্রাম যেকোন সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে, আর উদ্ভাস্তুদের সাথে বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়বে । নিজেদের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করার জন্য উদ্ভাস্তু বাঙালীরা সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, যাতে করে দেখা যায় পাহাড়ীদেরকে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয় ।

About the author

অমিত হিল

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1450

3 pings

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>