«

»

এই লেখাটি 941 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

নিরন চাকমার জবাবে (২য় পর্ব) এবং নিরন চাকমা’র জবাব

নিরন চাকমার জবাবে (২য় পর্ব)

প্রিয় নিরনবাবু

আমার জবাবের প্রেক্ষিতে আপনার জবাব চোখে পড়লো। তার জন্যে আপনাকে আবারো ধন্যবাদ। তবে সত্যি বলতে কী আমি একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম আপনার লেখার জবাবে আরো জবাব লিখবো কী না, পাছে “তর্ক” হয়ে যায়। পরক্ষণে মনে হলো, তর্ক হোক তাতে অসুবিধে নেই, কিন্তু যাতে ঝগড়া না হয়। অন্তত আপনার সাথে ঝগড়া হবে না এই বিশ্বাস আমার আছে। সেই বিশ্বাস থেকে আবারো জবাব লেখা। জবাব লেখার আগে চাকমাদের সম্পর্কে আমার অভিমতটা আগে বলে নিই। ব্রিটিশদের কথামত চাকমারা “তর্কপ্রিয়” কি না জানি না। তবে আমার পর্যবেক্ষণ মতে, আমরা চাকমারা যুক্তি দিয়ে তর্ক করতে জানি না। যা করি তা হলো ঝগড়া। যেমন এই ফেসবুকে কতই না গালিগালাজ করে তর্ক হয়েছিলো এবং এখনো হয়।

১) ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের আহবান প্রসঙ্গে

আপনার উদ্ধৃতি দিচ্ছি,

“সবচেয়ে বড় কথা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের জন্য আমরা ব্যর্থ হওয়ার পরও বার বার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমাদের দিক থেকে।এ ব্যাপারে আগে দীর্ঘ আলোচনা করেছি।নতুন করে আর বলতে চাই না।তাই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের প্রশ্নে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতি সন্দেহ পোষণ করা হবে চরমতম অন্যায়ের মধ্যে একটি”।

আপনার উপরের বক্তব্যের সাথে কোন দ্বিমত নেই।ইউপিডিএফ-এর দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধের আহবান নিয়ে কখনো দ্বিমত পোষণ করেছিলাম বলে মনে নেই। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য আরো স্পষ্ট করতে চাই – ১)কোন এক লেখাতে বলেছিলাম, সংঘাত বন্ধ করা বা বিবদমান সশস্ত্র দলের মধ্যে reconciliation (দুঃখিত সঠিক বাংলা শব্দ মনে পড়ছে না) স্থাপন করা সহজ সরল প্রক্রিয়া নয়।পাঠ্যপুস্তকের তত্তের আলোকে সমাধান খোঁজাও সহজ নয়। সহজ সরল পথও নেই। তবে যারা reconciliation বা শান্তি নিয়ে কাজ করেন, গবেষণা করেন তারা সাধারণ কিছু শর্তের কথা বলে থাকেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সব সময় সৃষ্টিশীল বিকল্প খোঁজা, প্রতিনিয়ত সংলাপ, পারস্পরিক বিশ্বাস-আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ। একবার, দুইবার, তিনবার আলোচনা করে ঐক্য হবে তা নয়। বার বার আলোচনা-সংলাপ লাগতে পারে, এবং অব্যাহত প্রচেষ্টা লাগবে।আপনারা ইউপিডিএফ-এর তরফ থেকে চেষ্টা করছেন সেজন্যে আপনাদের ধন্যবাদ। ২) এক পাক্ষিকভাবে সমঝোতা বা ঐক্য হতে পারে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সন্তুবাবু নাছোড়বান্দা। এই প্রেক্ষিতে করণীয় কী হতে পারে? এ প্রশ্নের আলোকে, আমি আগের একটি লেখাতে বৌদ্ধ দর্শনের অহিংস নীতির কথা বলেছিলাম (জানি, আপনাদের পছন্দ হবে না। হয়তো হাসিও পেতে পারে)। তিনটি অকুশল কর্ম হতে বিরত থেকে নিজেদের পার্টির আভ্যন্তরীন ভিত্তিকে সুদৃঢ় করা এবং ঐক্যের পক্ষে সহায়ক শক্তিগুলোকে একত্রিত করা। এটাকে reconciliation বা conflict resolution-এর পরিভাষায় বলা হয় “horizontal and vertical integration”. এখন নেতা হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব হলো horizontal and vertical integration-এর কৌশলগুলো ঠিক করে কাজ করা। ৩) ইউপিডিএফ-এর ঐক্যের আহবানের প্রতি কখনো সন্দেহ পোষণ করিনি। বরং যা বলতে চেয়েছি তা হলো ইউপিডিএফ যে ঘোষণা দিয়েছে সেটাকে জোরদার বা বাস্তব রূপায়িত করার জন্যে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আর কার্যকর পদক্ষেপ কী হবে সেটা ২ নং পয়েন্টে আছে।

২) কেবল লেখালেখি নয়, মিটিং মিছিলের আহবান

এখানেও আপনার উদ্ধৃতি দিচ্ছি

“আপনার লেখাগুলো পড়লে মনে হয় আপনি ছাড়া বুঝি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে আর কেউ আন্তরিক নয়। তাই বলি কি, যদি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে আপনি এতই আন্তরিক হন, তাহলে কেবল কথা না বলে, কেবল ফেইসবুকে লেখালেখিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মিছিল মিটিং সভার আয়োজন করুন, মানববন্ধন করুন, লং মার্চ ইত্যাদি করুন। জানি আমার কথা শুনে আপনি আপনার অপারগতা প্রকাশ করতে নানা অজুহাত খুঁজবেন।

আপনার উপরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কী জবাব দেবো বুঝতে পারছি না। কেননা, আপনি নিজেই উত্তর দিয়েছেন। “অপারগতা” প্রকাশের জন্যে নাকি নানা অজুহাত খুঁজবো। অজুহাত দাঁড় করাবো না। শুধু একটা ইংরেজী বাক্যের কথা মনে পড়ছে, “When the only tool is hammer, everything looks like nails” (হাতের কাছে যদি একমাত্র হাতিয়ার হাতুড়ি হয়, তাহলে সবকিছু পেরেকের মত মনে হয়)। আপনারা রাজনীতিবিদ। রাজনীতিবিদ হিসেবে আন্দোলন বলতে মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন, লং মার্চ ছাড়া অন্যকোন বিকল্প আপনাদের মনে আসে না বলে মনে হয়।অন্যদিকে যেহেতু আমি রাজনীতিবিদ নই, সেহেতু আমার হাতে কোন hammer নেই, এবং মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন, লং মার্চ এসবকে nails হিসেবেও দেখি না।কেবল মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন, লং মার্চ করলে ঐক্য হবে সেটা বিশ্বাস করি না। আর আমি কখনো দাবী করিনি কেবল আমিই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে আন্তরিক।এটা আপনি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন আমার বক্তব্যগুলো।    

৩) সমালোচনা প্রসঙ্গে

“কারণ অন্যের সমালোচনা করা সহজ, বাস্তবে নিজে করা বড়ই কঠিন। এটা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।”

জানিনা, আপনি আমার লেখাগুলো সমালোচনা হিসেবে দেখছেন কেন। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, পাহাড়ের রাজনীতির হালচাল সম্পর্কে আমার ভাবনাগুলো আমি প্রকাশ করছি। সাধারণ নাগরিক হিসেবে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে থেকে আমার কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি মাত্র।আপনারা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমার বা আমাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন এবং কাজ করছেন, আমরা আপনাদের বেনিফিসিয়ারী (যদিও আপনারা বলেন জনগণ) হিসেবে আপনাদের কাজেকর্মে আমাদের কী কিছুই বলার অধিকার নেই? আমাদের ভাবনা, আমাদের ক্ষোভ ও আমাদের আকাংখাগুলো কী বলতে পারবো না?

বলা সহজ, বাস্তবে নিজে করা কঠিন।খুব বেশি দ্বিমত নেই আপনার সাথে। কঠিন বলেই নেতৃত্বের প্রশ্ন আসে, দলীয় ম্যানেজম্যান্টের প্রশ্ন আসে, পরিকল্পনার প্রশ্ন আসে, কৌশলের প্রশ্ন আসে। এসব বিষয় সঠিক থাকলে মোটামুটিভাবে গোছালোভাবে কাজ করা যায় – এটা আমি বিশ্বাস করি। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের একটা স্লোগান আছে, “train hard, fight easy”. ঠিক সেভাবে বলা যায়, do plan well, advance well. বুকে হাত দিয়ে কী বলতে পারেন, আগামী ১০ বছরে ইউপিডিএফ কী কী অর্জন করতে চায় সে ব্যাপারে আপনাদের কোন plan আছে? যেখানে সঠিক ভিশন নেই, সঠিক পরিকল্পনা নেই সেখানে আপনাদের চলার পথ একটু কঠিন হবেই। একথাটা কেবল আপনাদের বেলায় নয়, জেএসএস-এর বেলায়ও একই।যাক, বিস্তারিত গেলাম না।একথা শুনে হয়তো আপনি আরো প্রশ্ন করতে পারেন, “এতই যদি সহজ হয়, আপনি কেন বাস্তবে নামেন না?” আমার একটাই কথা, “শোনার ধৈর্য থাকতে, শোনার মন থাকতে হবে”।সবাই প্রসিত বিকাশ খীসা হয় না, সবাই সন্তু লারমা হয় না। তবে প্রসিত খীসা ও সন্তু লারমাদের আমাদের মত বেনিফিসিয়ারিজদের (জনগণ) কথা শুনতে হবে।এটাকে বলে নিচের দিকে জবাদিহিতা (downward accountability). কাজেই নিচের দিকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রসিত খীসা ও সন্তু লারমাকে কিছু কথা শুনতে হবে, তবে এটাকে সমালোচনা হিসেবে (নেতিবাচক অর্থে) নেবেন না।

৪) পার্টির গঠনতন্ত্রে সবকিছু লেখা থাকে না

বেশ ভালো কথা সবকিছু পার্টির গঠনতন্ত্রে লেখা থাকে না। দেশের সকল আইন, সকল নীতি, সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড যদি দেশের সংবিধানের সাথে সংগতি রেখে করতে হয়, তাহলে একটি পার্টির সকল নীতি, কর্মসূচী বা কার্যক্রম কেন গঠনতন্ত্র অনুসারে হবে না? সংবিধানের আলোকে যদি ডিফেন্স পলিসি করতে হয়, একটি দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে সংসদের অনুমোদন লাগে সেখানে কেন একটি রাজনৈতিক দলের সেলফডিফেন্স-এর জন্যে গঠনতন্ত্রের নীতি-আদর্শ অনুসরণ করতে হবে না? পার্টির সবাই সাধু সজ্জন নয়। সেলফডিফেন্স-এর নামে যদি অরাজকতা সৃষ্টি হয়, খুন খারাবি, মারামারি হয়, সেগুলোর দায়দায়িত্ব কে নেবে? সেসব অন্যায় বা অপরাধের জন্যে কী বিচার হবে? পার্টি কীভাবে ভুক্তভোগীদের জন্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে? সেলফ ডিফেন্স কখনোই অতি “সাধারণ ও স্বাভাবিক” ব্যাপার নয়।

আমার সাধারণ পর্যবেক্ষণ, ইউপিডিএফ বলেন আর জেএসএস বলেন, কোন পার্টিই নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুসরন করে চলেন না।গঠনতন্ত্রে বর্নিত নীতি-আদর্শ অনুসরণ করেন না। যদি সেই নীতি-আদর্শগুলো অনুসরণ করতেন এবং সেই নীতি-আদর্শগুলো আপনাদের কার্যক্রম ও কর্মসূচীতে প্রতিফলিত করতেন তাহলে আমার মনে হয় এরকম ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত হওয়ার প্রশ্ন আসতো না। আপনাদের ‍দু’দলের গঠনতন্ত্রে এরকম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার কোন বিধান নেই।

প্রিয় নিরনবাবু, আপনার সাথে অনেক আলাপ হলো। আশা করি, আমার কথাগুলো তর্ক হিসেবে নেবেন না। আমি অত্যন্ত খোলামনে আমার কথাগুলো বলেছি। আপনাদের সাথে এরকম রাজনৈতিক আলাপে অংশগ্রহণ করি বলে, ব্লগে ফেসবুকে লেখালেখি করি বলে অনেক সময় গালিও খেয়েছি। এগুলো নিয়ে আমি কিছু মনে করি না। আমি মনে প্রাণে চাই, উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হোক, নতুন নতুন আইডিয়া বের হয়ে আসুক এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ হোক।

ধন্যবাদ।

……………………………………………..

অডঙ চাকমা, ১৩ ডিসেম্বর ২০১১

অডঙ চাকমার ২য় পর্ব জবাবের প্রেক্ষিতে

প্রিয় অডং,

আপনার ‘নিরন চাকমার জবাবে(২য় পর্ব)’ পড়লাম। আপনি লিখেছেন:

‘দেশের সকল আইন, সকল নীতি, সকল রাষ্ট্রীয় র্কমকান্ড যদি দেশের সংবিধানের সাথে সংগতি রেখে করতে হয়, তাহলে একটি পার্টির সকল নীতি, র্কমসূচী বা র্কাযক্রম কনে গঠনতন্ত্র অনুসারে হবে না? সংবিধানের আলোকে যদি ডিফেন্স পলিসি করতে হয়, একটি দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে সংসদের অনুমোদন লাগে সেখানে কেন একটি রাজনতৈকি দলের সেলফডিফেন্স-এর জন্যে গঠনতন্ত্রের নীতি-আর্দশ অনুসরণ করতে হবে না? পার্টির সবাই সাধু সজ্জন নয়। সেলফডিফেন্স-এর নামে যদি অরাজকতা সৃষ্টি হয়, খুন খারারি মারামারি হয়, সেগুলোর দায়দায়িত্ব কে নেবে? সেসব অন্যায় বা অপরাধরে জন্যে কী বিচার হবে? র্পাটি কীভাবে ভুক্তভোগীদের জন্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব?’

বলবো অন্যকে জব্দ করতে আপনি চমৎকার কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন। আপনার এ বিরল গুণের তারিফ করতে হয়। এ প্রসঙ্গে একটি বুদ্ধ জাতকের কথা মনে পড়ছে। একদিন ধর্ম সেনাপতি সারিপুত্র ধর্মসভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধ ভিক্ষু তাকে জব্দ করার জন্য একটি অন্তঃসারশুন্য, অর্থহীন প্রশ্ন করে(অর্থাৎ সেই প্রশ্নটার কোন উত্তর হয় না)। সারিপুত্র সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ধর্মসভা থেকে উঠে নিজ শয়ন কক্ষে চলে যান। এতে ধর্ম কথা শ্রবণে ব্যাঘাত ঘটার জন্য উপস্থিত শ্রোতারা ক্ষুদ্ধ হয় এবং ওই বৃদ্ধ ভিক্ষুকে ধর ধর বলে ধাওয়া করে। বৃদ্ধটি পালানোর সময় ভিক্ষুদের ব্যবহৃত পায়খানায় পড়ে যান। এভাবে তার আত্মরক্ষা হয়। পরদিন এ বিষয়টি বুদ্ধকে জানানো হলো বুদ্ধ এ জাতকটি বলেছিলেন। এটি ঈশান চন্দ্র ঘোষ অনূদিত ছয় খণ্ডের জাতকের ২ নং খন্ডে সংকলিত হয়েছে(১৫৩ নং জাতক)। এই জাতকটিই আমার উত্তর মনে করতে পারেন।

তবে জাতকটি পড়ে যাতে আমাকে ভুল না বুঝেন তার জন্য আগে ভাগে এখানে বলতে চাই, আমি মোটেই নিজেকে সিংহতুল্য মনে করছি না। মহান সারিপুত্রের সাথেও নিজেকে তুলনা করার ধৃষ্টতা আমার নেই। ‘কুদু আগাজর চান তারা, কুদু পুনর কেজ ফরা।’ সারিপুত্র হলেন আকাশের গ্রহ নত্র — মহাপুরুষ। আর আমি হলাম একজন সামান্য রাজনৈতিক কর্মী। তার সাথে নিজেকে তুলনা করে পাপের ভাগীদার হতে চাই না।

আপনার প্রশ্নগুলোও আমি একেবারে অন্তঃসার শূন্য বলছি না। আপনি একজন অভিজ্ঞ মানুষ, আপনি নিশ্চয়ই সে রকম প্রশ্ন করবেন না। তবে আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন তার জবাব জানা থাকলেও এখানে এ সময়ে উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ আপনি জানেন আমরা কোন পরিস্থিতিতে কাজ করি। আর এটা জেনেই আপনি ওই প্রশ্নগুলো করেছেন। সুতরাং এ অবস্থায় শ্রদ্ধেয় সারিপুত্রের কৌশল অবলম্বন করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই।

মিটিং মিছিল মানববন্ধন প্রসঙ্গ:

এগুলো করতে রাজনৈতিক দলের লোক হতে হয় না। কেবল রাজনৈতিক দলগুলো মিটিঙ মিছিল সমাবেশ মানববন্ধন করে না। এনজিওগুলোও দেদার করছে। বরং বলা যায় বাংলাদেশে অন্যান্য সেকটরের মতো রাজনীতিটাও এনজিওকরণ হয়ে যাচ্ছে।

যাই হোক, যে বিতর্ক হলো তার থেকে আমরা কী সিদ্ধান্ত টানতে পারি? আমার মতে, ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের জন্য যে যেভাবে পারে কাজ করতে হবে। গণবিক্ষোভ গণপ্রার্থনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আন্দোলনকে আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত করতে হবে। যারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের পক্ষে তাদের সবাইকে একই প্লাটফরমে আসতে হবে শত মত পার্থক্য বিতর্ক সত্বেও। এভাবে যদি ব্যাপক ঐক্য গড়ে ওঠে তাহলে সেটা ঐক্য-সমঝোতা বিরোধীদের ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করবে এবং শেষে এক পর্যায়ে তারা সংঘাত বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

যখন এই উত্তরটা লিখতে শুরু করি তখন জানতে পারি বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালায় পাহাড়িদের ওপর হামলা হয়েছে। একজন মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে। আর কতকাল আমাদের এভাবে মার খেয়ে থাকতে হবে? নিজ জন্মভূমিতে আমরা আজ পরবাসী শুকর কুকুরের মতো ধরে ধরে মারছে। যখন ইচ্ছে হয় তখন হামলা চালাচ্ছে। মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করছে। এর পরও সন্তু বাবুরা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ইউপিডিএফের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যেতে চান না। সন্তু বাবু ছাড়া জেএসএসে বুঝার মতো নেতা কি আর নেই? নিজেরা নিজেরা মারামারি করলে আমাদেরই ক্ষতি সেটা বুঝার মানুষ কি জেএসএস(সন্তু গ্রুপ)-এর মধ্যে নেই? চুপ করে বসে থাকার আর সময় নেই। যারা এতদিন চুপ করে আছেন তারা জেগে উঠুন। ঐক্য ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

ধন্যবাদ।

নিরন চাকমা

১৪ ডিসেম্বর ২০১১

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1431

1 comment

  1. অডঙ চাকমা

    প্রিয় নিরনবাবু,
    হা হা হা হা… আমরা না হয় দু’জনে একজন সারিপুত্র আর অন্যজন বৃদ্ধ ভিক্ষু হলাম।অন্তত দু’জনে তো ঝগড়া করিনি।এখন শ্রোতারা যা করেন আর কি! ধন্যবাদ আবারো আপনাকে।

    হ্যাঁ, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালার ঘটনার পর এখন আর আলোচনা করার মত মুড নেই।আপনার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, এত দীর্ঘ বিতর্কের পর মূল উদ্দেশ্যও হলো, যে কোনভাবে হোক পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করা, এবং সংঘাত বন্ধের পথে কী কী জঞ্ঝাল আছে বা থাকতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোকপাত করা। যে যেভাবে পারে যার যার অবস্থান থেকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করার সপক্ষে জোরালো জনমত গড়ে তুলুক সেটা কামনা করি। কেউ মানুষকে কথার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করে, কেউ বক্তব্য দিয়ে, কেউ লেখনি দিয়ে, কেউ গান দিয়ে, কেউ শিল্প দিয়ে, কেউ শ্রম-সময়-মেধা দিয়ে, কেউ মানুষকে সংগঠিত করে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে এগিয়ে আসবেন সেটাই মনে প্রাণে চাই।এই চাওয়ার সাথে ইউপিডিএফ-এর কাছে আবারো বলতে চাই, এক সন্তু লারমা না চাইতে পারে, কিন্তু লক্ষ লক্ষ জুম্ম জনতা চায় ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ হোক।এই চাওয়াকে ধারন করতে পারাই্ হলো ইউপিডিএফ-এর সামনে বড় কাজ। তাই ইউপিডিএফ-এর ঐক্যের টার্গেট সন্তু লারমা কেন্দ্রিক না হয়ে সেই লক্ষ লক্ষ জুম্মজনতা কেন্দ্রিক হওয়া উচিত। আমি একটা কথা বলেছিলাম, horizontal and vertical integration. আমাদের জুম্ম সমাজে সমান্তরালে ও উলম্বে শান্তির সপক্ষে, ঐক্যের সপক্ষে অনেক শক্তি আছে সেই শক্তিগুলোকে integration করতে হবে।সেই শক্তিগুলোকে জড়ো করতে পারাই হলো আপনাদের নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>