«

»

এই লেখাটি 723 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

নিরন চাকমার জবাবে

প্রিয় নিরনবাবু

অনেক দিন পর আপনি আবার ফেসবুক আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন।সেজন্যে আমার ব্যক্তিগত তরফ থেকে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্যে।আপনার লেখা পড়ে খুশি হলাম আপনার পার্টির সভাপতি বাবু প্রসিত বি খীসা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।আমিও আপনার মাধ্যমে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আমি খুব মনোযোগ সহকারে আপনার লেখাটা পড়লাম। ইতিপূর্বেও আপনার সাথে অনেক বিষয়ে এ ফেসবুকে আলোচনা হয়েছিলো। তাই আপনার লেখার সব বিষয়ে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছি না।আগেও বলেছিলাম, এখনো বলছি আমি কোন রাজনীতিবিদ নই। রাজনীতি আমার কোন নেশাও নয়, পেশাও নয়। আর আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িতও নই। সে কারণে রাজনীতির পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আমার জ্ঞান আছে সেটা দাবী করবো না। সাধারণ জুম্ম হিসেবে পাহাড়ে যে রাজনীতির হালচাল চলছে তা দেখলে খুব ব্যথিত হই। সেই বেদনাবোধ থেকেই এই ফেসবুকে কিংবা ব্লগে একটু আধটু লেখার চেষ্টা করি মাত্র। এতে পাহাড়ের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হবে কি না জানি না। তবে লেখার মাধ্যমে আমার ভাবনাগুলো সবার সাথে ভাগাভাগি করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন ধারনা আসতে পারে। যে ধারনাগুলো ভালো সেগুলো আমরা গ্রহণ করতে পারি। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় টিভির একটি বিজ্ঞাপনের ভাষা আমার খুব মনে লাগে, “simply an idea can change life”. কেবল একটি নতুন ধারনাই জীবন বদলে দিতে পারে। সেই নতুন ধারনার সন্ধানে আমরা বিতর্ক করতে পারি, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে আলোচনা করতে পারি।আমার ইচ্ছা করলে পাহাড়ের রাজনীতির সংঘাত ও তার কার্যকারণ নিয়ে সেরকম একটি সুষ্ঠু বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারি।

আর নয় গৌরচন্দ্রিকা। এখন আপনার বক্তব্যে ফিরে যাই। আমিও চেষ্টা করছি আপনার বিষয়গুলো একটা একটা করে জবাব দেওয়ার।

১) অঙ্গীকার করে যদি তা রক্ষা করা না হয়…

আপনি বলেছেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা অঙ্গীকার করে পরমুহুর্তে সেই ভুলে যায়। তখন সেই অঙ্গীকারের কোন মূল্য নেই।এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। তবে বড় নেতার মুখ থেকে অঙ্গীকার শুনতে পেলে আমার মত সাধারণ মানুষের স্বস্তি লাগে।আশ্বস্ত হতে পারতাম। প্যাঁচিয়ে বললে একটু খটকা লাগে, সেটার হ্যাঁ-ও হতে পারে, না’ও হতে পারে। একেবারে দ্ব্যর্থবোধক। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে ইউপিডিএফ-এর বিভিন্ন নেতার মুখ থেকে বক্তব্য শুনতে পাচ্ছি। সেটাকে স্বাগত জানায় সবাই। তবে এই আহবানটা যদি পার্টির প্রধান হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রসিত খীসার মুখ থেকে বের হতো তাহলে সেটার গুরুত্ব আলাদা হতে বাধ্য। এই প্রসঙ্গে আমারও একটি উদাহরণ টানতে হয়।সাল তারিখ এ মুহুর্তে মনে পড়ছে না। আওয়ামীলীগের আমলে প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার চিরন্তন শিখা উদ্বোধন করা হয়েছিলো।সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা, প্যালেস্টাইনের পিএলও প্রধান ইয়াসির আরাফাত, ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ড্যামিরিয়েল সুলতান।হাজার হাজার লোকের জনারণ্য। আমিও নেলসন ম্যান্ডেলাকে বাস্তবে দেখার জন্যে গিয়েছিলাম। সেই জনসভায় আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতারা “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু” বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলছিলো। জন সমুদ্রের কারোর মনে সেই “জাতিরপিতা” শব্দটি কোন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি। যেই প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দি ও নেলসন ম্যান্ডেলারা “the father of the nation” বলে তাদের বক্তব্যে উচ্চারণ করছিলেন, তখন জনসমুদ্রের করতালিতে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ হচ্ছিলো।এখানেই নেতার মুখ থেকে কোন বাণী উচ্চারিত হওয়ার তাৎপর্য। ঠিক এই উদাহরণের সাথে তুলনা করে বলতে চাই, আজকে ইউপিডিএফ-এর প্রধান হিসেবে প্রসিত খীসা যদি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে কোন ঘোষণা দেন, সেটা অবশ্যই সাধারণ জনগণ গুরুত্বসহকারে শুনবে এবং পর্যালোচনা করবে।  এই কথাটাই বলতে চেয়েছি আমার লেখাতে।

২) সংঘাতের প্রেক্ষাপটঃ কে আগে শুরু করেছে, কে পরে করেছে – কে দায়ী?

একটা কথা আছে, “একটা আঙুল অন্যের দিকে তাক করলে নিজের দিকে তিনটা আঙুল তাক করে থাকে”। এখানে পরস্পরকে দোষারোপ করে লাভ নেই, এবং তাতে সমাধানও নেই। বুকে হাত দিয়ে দু’দল্ই বলতে পারবে না, নিজের হাতগুলো পরিস্কার। নিজেদের জুম্ম ভাইয়ের রক্তে উভয় দলের হাত রঞ্জিত। কাজেই একজন সংঘাতের মূল হোতা হলে অন্যজন হবে উস্কানি দাতা কিংবা অনুঘটক। যদি সংঘাত বন্ধ করতে হয় তাহলে এরকম কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ প্রেক্ষিতে হয়তো আপনারা বলবেন, সন্তু লারমার উদ্ধৃতি দেবেন। তিনি ইউপিডিএফ-এর হাত পা ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সন্ত্রাসী বলেছিলেন। এখানে আমার কথা হলো, “তুমি অধম হলে আমি উত্তম হবো না কেন?” প্রসিত খীসাও যদি সন্তু লারমার মত আচরণ করেন বা সন্তু লারমার সাথে সমানতালে, সমান লয়ে চলেন তাহলে আমরা কীভাবে তাঁর কাছে কিংবা ইউপিডিএফ-এর কাছে উত্তম কিছু পাওয়ার আশা করবো?

অবশ্য, আপনি বিদেশী শুভাকাংখীর “fight back” বা প্রতিরোধ বা আত্মরক্ষার গল্প শোনালেন। আমি সামরিক বিশেষজ্ঞ নয়, তাই কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে ‘আত্মরক্ষা’ কিংবা ‘প্রতিরোধ’ করতে হবে জানি না। পরামর্শও দিতে পারবো না। তবে আমি মনে করি, এটা আপনার বা আপনাদের ‘রাজনৈতিকভাবে বানানো’ অজুহাত। কেন রাজনৈতিকভাবে অজুহাত বলছি একটা উদাহরণ দিই আমার জনৈক মুসলিম বন্ধুর শুকরের মাংস খাওয়া নিয়ে (মুসলিম বন্ধুরা মাফ করবেন)।

ঐ বন্ধু মদ শুকরের মাংস সবই খায়। তার নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে তার ধর্ম সম্পর্কে। তিনি একদিন শুকরের মাংস খাচ্ছিলেন। সেটা দেখে এক অমুসলিম বন্ধু জিজ্ঞেস করছিলো, “এই তুমি না মুসলিম!” মুসলিম বন্ধু উত্তর দেয়, “তাতে কী হয়েছে?” অমুসলিম বন্ধু অবাক হয়ে বলে, “পর্ক (শুকরের মাংস) খাওয়া মুসলমানদের জন্যে হারাম”।তখন মুসলিম বন্ধু তৎক্ষণাত উত্তর দেয়, “দেখো, এটা পর্ক না, এটা খাবার। খাবার প্লেটে আছে, খাচ্ছি, তুমিও খাচ্ছো।” এখন আপনি কী হিসেবে ধরবেনঃ ঐটা পর্ক নাকি খাবার? ঠিক সেভাবে প্রশ্ন রাখতে চাই, জেএসএস-এর সাথে যে দ্বন্দ্বসংঘাতে লিপ্ত হলেন সেটাকে রাজনৈতিকভাবে “খাবার” হিসেবে খাবেন নাকি “হারাম” হিসেবে ঘৃণা করবেন? উত্তরটা আপনাদের।

৩) স্বীকৃত গণতান্ত্রিক আন্দোলন পদ্ধতি প্রসঙ্গে

স্বীকৃত গণতান্ত্রিক আন্দোলন পদ্ধতি সম্পর্কে বললেন,

“…তিনি এমন নিরপেক্ষ তার চোখে নিতান্ত সাধারণ গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রয়োগও অপরাধ হয়ে যায়(যেমন তিনি প্রশ্ন করেছেন চুক্তি না মানার অর্থ কী প্রত্যাগত নিরীহ জেএসএসস স্যদরেকে পিনোনদেখিয়ে অপদস্থ করা? ইত্যাদি।) কিন্তু তার জানা থাকা উচিত পঁচা ডিম, টমেটো, জুতা ইত্যাদি নিক্ষেপকরে প্রতিবাদ জানানো বিশ্বে সর্বত্র স্বীকৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। অথচ অডঙ চাকমার কাছে সেটা স্বীকৃতিপায় না”

অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে চাই, “পঁচা ডিম, টমেটো, জুতা ইত্যাদি নিক্ষেপ” করার মত এরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে একমত নই, সমর্থক নই। এরকম ঘটনা কিছু কিছু দেশে ঘটেনি তা নয়, তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায়। যেমন জর্জবুশ কিংবা মনমোহন সিং-এর মত নেতারা জুতা নিক্ষেপের শিকার হয়েছিলেন।সেসব দেশের বা জাতির সাথে জুম্মজাতিকে তুলনা করেন, তাহলে বলার তেমন কিছুই নেই।যেমন দেখুন, আমাদের দেশে ঢাকার ইংলিশ মিডিয়ামের শিশুরা র‌্যাবের পারফরমেন্সে খুশি হয়ে বৃদ্ধাঙ্গুল উচিয়ে দেখাতে পিটুনি খেয়েছিলো। কেননা, আমাদের দেশে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর অর্থ হয় “কচু” আর বুশের দেশে হয়, “ব্রাভো” বা “সাবাশ”।যদি “পঁচা ডিম, টমেটো, জুতা” ইত্যাদি নিক্ষেপ করার মত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি চর্চা করে সাবাশ পেতে চান তাহলে আপনাদের আরো অনেক সময় এবং অনেক কাজ করতে হবে। “পঁচা ডিম, টমেটো, জুতা” ইত্যাদি নিক্ষেপ করে আপনি পেতে চাচ্ছেন “সাবাশ” আর সন্তুবাবু বুঝছেন “কচু”। এখানেই তো সংঘাত।সেই যা হোক, রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনাদের বড় দায়িত্ব হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। পরমত সহনশীলতা চর্চা করতে হবে। তা না হলে সংঘাত লেগেই থাকবে।

৪)  কে আক্রমণকারী আর কে আত্মরক্ষাকারী সকল দন্দ্ব সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয়

এই প্রসঙ্গে আমি বলবো আমি আইনজ্ঞ নয়। তাই কোন আইনে কোন যুক্তিতে কী বিচার করা হয় জানি না। তাই বিচারকের মত এখানে রায় দিতে পারবো না। তবে আপনার উপরের যুক্তি সপক্ষে বলতে গিয়ে সেলফ ডিফেন্স বা আত্মরক্ষার যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। আত্মরক্ষা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আইনের উদাহরণও টেনে এনেছেন। আপনার সাথে আত্মরক্ষা সম্পর্কে বেশি বলার আর নেই। আত্মরক্ষার সাধারণ ধারনা নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই, কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিলো আপনাদের আত্মরক্ষার ধারনার ধরন ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে। আত্মরক্ষার সাথে মানুষের মানবাধিকার নিয়েও আপনাদের ভাবতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মূল চেতনা হলো, “আপনি ইচ্ছেমত আপনার ছড়ি ঘুরাতে পারেন যতক্ষণ না আপনি পাশের জনকে আঘাত না করেন”। আপনার জেএসএস থেকে আত্মরক্ষা করেন, ভালো কথা। কিন্তু সেই আত্মরক্ষা করতে গিয়ে জনগণকে কী অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছেন সেটা কী আপনারা ভেবে দেখেছেন? আপনি কী বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, ইউপিডিএফ-এর লোকজন কখনো জেএসএস-এর কাউকে বাড়ী থেকে রাতে অন্ধকারে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেনি? খুন করেনি? সেগুলো কী আত্মরক্ষা করতে গিয়ে করতে হয়েছিলো? যেই আত্মরক্ষার কথা বলছেন, আপনাদের পার্টির গঠনতন্ত্রে কোথাও কী কিছু লেখা আছে? আপনাদের গঠনতন্ত্র মেনে আপনারা কী আপনাদের আত্মরক্ষার নীতি কৌশল ঠিক করেছেন?

৫) ইউপিডিএফ-এর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের আহবান নিয়ে সন্দিহান প্রসঙ্গে

আপনি বলতে চেয়েছেন, আমরা আপনাদের ভ্রাতৃঘাতী আহবান বন্ধের আহবান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছি।আপনি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এ আহবানকে সাধুবাদ জানাই। সন্দেহ পোষণ নয়, এই আহবানকে আরো জোরালো করার জন্যে আপনাদের আরো অনেক করনীয় আছে সে কথাগুলো বলতে চাই।এ বিষয়ে আগেও বলেছি বোধয়। সংঘাত বন্ধের জন্যে কেবল আহবান যথেষ্ট নয়। সেটার জন্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা, বিভিন্ন বিকল্প বের করতে হবে। ভাষায় ও কাজেকর্মে আপনাদের আরো সংযত হবে। আপনার রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে এর আগেও বলেছিলাম এবং এখনো বলছি। একদিকে আপনারা ঐক্যের আহবান জানান, অন্যদিকে আপনাদের লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারপত্রে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন। এর আক্রমণাত্মক ভাষা ঐক্যের সহায়ক হতে পারে না।

অনেক বিষয় ছিলো। সেগুলোতে আর যাচ্ছি না। আশা করি, আমি প্রধান প্রধান বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরেছি। আপনার সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি হলাম। আশা করি, জেএসএস-এর লোকজনও এভাবে আলোচনায় এগিয়ে আসবেন। সংঘাতের পথে নয়, যুক্তিতে বুদ্ধিতে জুম্মজাতির মুক্তি আনতে হবে।

ধন্যবাদ।

………………………………………

অডঙ চাকমা, ১২ ডিসেম্বর ২০১১

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1411

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>