«

»

এই লেখাটি 902 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে প্রসিত খীসার স্পষ্ট অঙ্গীকার শুনতে চাই

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে প্রসিত খীসার স্পষ্ট অঙ্গীকার শুনতে চাই

‘তেনারা’ কারা? আমাদের দুই নেতা, জুম্মজাতির ভাগ্যবিধাতা।একজন হলেন জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা ও অন্যজন হলেন ইউপিডিএফ প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা। ‘তেনারা’ কী বলেন সেগুলো আমাদের শোনা দরকার, আর বিশ্লেষণ করা দরকার। দু’জনের মধ্যে  সন্তু লারমার বক্তব্য প্রায়ই শোনার সৌভাগ্য হয়। কিন্তু প্রসিত খীসার বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য হয় না। অনেক দিন পর চুক্তির ১৪ তম বর্ষপূর্তির আগে প্রসিত খীসা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমকে সাক্ষাৎকার দিলেন। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ হলো। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ইউপিডিএফ-এর জন্ম, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, চুক্তি, জেএসএস-এর সাথে ঐক্য ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রসিত খীসার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশেষকরে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত প্রশ্নে কিছু কথা না বলে পারছি না। (সন্ত লারমার বক্তব্য নিয়ে ইতিপূর্বে লিখেছিলাম। তাই তার বক্তব্য নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই আজকের লেখায়)।

প্রসিত বি খীসা

সন্তু লারমা জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, এটা শ্রেণীগত সংগ্রাম (সন্তু লারমার এ বক্তব্য নিয়ে গত লেখাতে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছিলাম। কারোর কাছে এসব প্রশ্নের বিশ্লেষণ পাইনি)। অন্যদিকে, ইউপিডিএফ প্রধান প্রসিত খীসা দু’দলের মধ্যেকার সংঘাত প্রসঙ্গে বললেন, “ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সৃষ্টির পেছনে মূল হোতা হলেন সন্তু লারমা”।তিনি আরো বলেছেন, পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কুসুমপ্রিয় ও প্রদীপ লালকে হত্যার মাধ্যমে সন্তু লারমা সংঘাত শুরু করেন।হত্যা নিন্দনীয়।তাদের দু’জনকে যেভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তার জন্যে জেএসএসকে অবশ্যই নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। সেই সাথে প্রসিত খীসা তথা ইউপিডিএফকে প্রশ্ন করি। আপনারা কী জেএসএস-এর লোকজনের প্রতি ভালো আচরণ করেছিলেন? চুক্তি মানেন না, ভালো কথা। চুক্তি না মানার অর্থ কী প্রত্যাগত নিরীহ জেএসএস সদস্যদেরকে ‘পিনোন’ দেখিয়ে অপদস্থ করা? গ্রামের বাড়ী থেকে তাদেরকে ধরে এনে হেনস্তা করা? “পঞ্চাশ হাজার টেক্কে” (পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রাপ্ত) ডেকে ডেকে ক’জন প্রত্যাগত জেএসএস সদস্যকে গ্রামছাড়া করেছিলেন মনে আছে কী? ক’জনকে হত্যা করেছিলেন, সে হিসেবগুলো কী ভুলে গেছেন?

মি. প্রসিত, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত প্রসঙ্গে আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। কে আগে হত্যা শুরু করেছে, আর কে পরে শুরু করেছে সেটা কোন প্রশ্ন নয়। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে উস্কে দেয় উভয়ই সমভাবে দোষী। আগে হোক, কিংবা পরে হোক, হত্যা হত্যাই এবং সেটা জঘন্য অপরাধ ও মানবতাবিরোধী কাজ।দোহাই আপনাদের! জেএসএস আগে শুরু করেছে, আর ইউপিডিএফ পরে শুরু করেছে এরকম কথাবার্তা বলে জঘন্য অপরাধ ও মানবতাবিরোধী কাজগুলোকে প্রশ্রয় দেবেন না। জু্ম্মজাতির ভা্গ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না, মানুষের জীবন নিয়ে মস্করা করবেন না। আমরা আপনাদেরকে খুনি নেতা কিংবা জঙ্গি নেতা হিসেবে দেখতে চাই না। জনগণের প্রকৃত জননেতা ও বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই।

আরো একটা মনে রাখতে হবে, দ্বন্দ্ব সংঘাত বন্ধ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যারা থাকেন তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে সংঘাত বন্ধের জন্যে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যে উভয় পার্টিকে যৌথভাবে কিংবা এককভাবে সচেষ্ট থাকতে হবে। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, একটা অঘটন ঘটেছে বলে সেই অঘটনের জন্যে নিজের মত করে যুক্তি দাঁড় করিয়ে (আপনার দলের জনৈক নেতা নিরনবাবু বলতেন “আত্মরক্ষা” আর সন্তু লারমা বলছেন “শ্রেণীগত সংঘাত”) একটার পর একটা অঘটন ঘটাতে হবে – সেটা হতে পারে না। কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল চাকমাদের জেএসএস জঘন্যভাবে খুন করেছিলো বলে ইউপিডিএফকেও সেভাবে জঘন্য খুনের নেশায় মেতে উঠতে হবে সেটা মেনে নিতে পারি না। খুনের বদলে ‍খুন – এটা সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। মানলাম, জেএসএস খুন, অপহরণ, মুক্তিপন আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে অসুস্থ রাজনীতি চর্চা করে। কিন্তু ইউপিডিএফ-ও সেই একই পথ ধরে এগোয় তাহলে সেখানে ইউপিডিএফ-এর সাথে জেএসএসর কোন পার্থক্য থাকতে পারে না। যেই লাউ সেই কদু। ইউপিডিএফ যদি সত্যি সত্যি জুম্ম জনগণের আশা আকাংখার প্রতিনিধিত্ব করতে চায়, তাহলে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের জন্যে ‘লাউ-কদু’ বলা বাদ দিয়ে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের জন্যে আপনার মুখ থেকে প্যাঁচালো কথা নয়, স্পষ্ট ভাষায় সংঘাত বন্ধের অঙ্গীকার শুনতে চাই। সন্তু লারমা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের মূল হোতা হলে ইউপিডিএফ-এর প্রধান হিসেবে আপনি সংঘাতের এজেন্ট হবেন না – এ ব্যাপারে স্পষ্ট অঙ্গীকার আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই।

…………………………………..

অডঙ চাকমা, ১১ ডিসেম্বর ২০১১

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1376

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>