«

»

এই লেখাটি 715 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

অর্থনীতির সঠিক মূল্যায়ন এবং ভালোবাসা'র বিলাসিতা রোধ

“অর্থনীতি” হচ্ছে সমাজের জীবনধারণের চাহিদা মেতানোর মূল চালিকাশক্তি স্বরুপ । বিশ্বায়নের যুগে অর্থনীতির  ভার যারদিকে বেশি সেইদিকেই ক্ষমতার ধারণ-বাহনের ক্ষমতা ও বেশি । অর্থনীতিহীন জাতি দেশগুলোকে কেউ সহজে কর্ণপাত করতে চাই না । অর্থ দিয়ে মেধা/বুদ্ধিসহ সবকিছু কেনা যাই তবে অর্থের অভাবে নিজের আপন ঘরের মানুষগুলো ও বিপরীত মেরুতে অবস্থান করতে বাধ্য । তাই বলা হয়ে থাকে “অর্থই অনর্থের মূল” । পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে যদি তাকাই আমরা দেখতে পাই অর্থনীতির স্থিতিশীলতা দরুণ তাদের রাজনীতির স্থিতিশীলতা ও সংঘর্ষবিহীনভাবে বিরাজ করে । দেখা গেছে যখন একবার দেশের অর্থনীতি দস নেমেছে তাহলে সংঘর্ষ অনিবার্য, সম্প্রতি গ্রীসে এমন অবস্থার উদ্ভব হয়েছে । অর্থনীতি প্রভাবের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে মানবাধিকার লংঘনকারী দেশ চীন' নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে নিষেধাজ্ঞাহীনভাবে । যদিও বার্মার মতো কম অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অনেকক্ষেত্রে অমানবিক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণীত । দেশের সংখ্যালঘু জাতিসমূহের ক্ষেত্রে ও এমন রাষ্ট্রীয় ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় ।

মালয়েশিয়া একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ, অন্যদিকে দ্রুত উন্নয়নশীন এবং অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশেগুলোর একটি । আজ মালয়েশিয়ার অর্থনীতি এমন পর্যায়ে যাওয়ার পিছনে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অবদান কখনো অস্বীকার করার নেই । মালয়েশিয়াতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, শ্রীলংকান এবং তামিলদের প্রত্যেকের আলাদা-আলাদা ইউনিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তবে অর্থনীতি উন্নয়নে সংখ্যালঘুরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রথমাবস্থা ভেদাভেদের রেখা টানতে চাইলেও অবশেষে দমিয়ে রাখতে পারেনি । আজ মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ১৩ টি প্রাদেশিক অঞ্চলে বিভক্ত । সেহেতু একজন সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে চিফ মিনিষ্টার হওয়ার সম্ভবনা প্রচুর । যেমন পেনাং, কাদাসহ বহু প্রদেশের চিফ মিনিষ্টার হচ্ছেন একেকজন সংখ্যালঘু চাইনিজ অরিজিন । তাই মালয়েশিয়া সংখ্যালগু জনগোষ্ঠীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত দেশের অর্থনীতির অগ্রসরতার কথা চিন্তাই করতে পারে না ।

থাইল্যান্ডে বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ও ছিলেন একজন চাইনিজ রক্তজাত আর বর্তমানে তারই ছোটবোন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ইনলাক সিনাওয়াত্রা । থাকসিনের জন্ম হয় এক রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক পরিবারে । পরিবারের দিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্ববতী হতে ব্যবসায়িক ধনকুবের । থাইল্যান্ডে চাইনিজরা এমনই অবস্থান ধরে রেখেছে । এক্ষেত্রে দেশের সমগ্র ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় জীবদের পজিটিভ মানসিকতার প্রভাব অবশ্যই থাকতে হয় নতুবা দেশের রসাতল নির্ধারিত ।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মূল্যায়ন না করার কারণ ;একঃ সংখ্যাগুরুদের মানসিক হীনতা, দুইঃ সংখ্যালগুদের অনগ্রসরতা । সংখ্যালঘুদের মধ্যে  প্রান্তিক জনজাতিগুলো যাদেরকে আমরা আদিবাসী বলে সম্বোধন করছি বেশিমাত্রায় এই ভেদাভেদের শিকার । নিশ্চিতভাবে বলতে গেলে এর মূল কারণ অবশ্যই অনগ্রসরতা । বাংলাদেশে বসবাসরত প্রান্তিক জনজাতিগুলো আজ পর্যন্ত সংখ্যাগুরুদের তুলনায় অর্থনৈতিক, শিক্ষাদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে । আদিবাসী জনজাতিদের অর্থনৈতিক ভিক্তি শক্ত না হওয়াতে রাজনৈতিক এবং ভাষাগতভাবে ও ভেদাভেদের শিকার । লিখতে গিয়ে সিঙ্গাপুরের কথা মনে পড়ে গেলো, সিঙ্গাপুরকে কল্পানাতীতভাবে এমন উচ্চ পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসতে একজন কালজয়ী পুরুষের নাম অকপথে স্বীকার করে নিতে হবে, তিনি হলে “লী কুয়ান য়েউ” । এই কালজয়ী পুরুষ লীকে একসময় অবিভক্ত মালয়েশিয়ার সংসদে অপদর্স্ত করা হয় । তিনি সঙ্গেসঙ্গে প্রতিজ্ঞা করেন এর মূল্য দেখিয়ে ছাড়বো । ঠিক যেভাবে একসময় জুম্মজাতিয়তাবাদের অগ্রদূত অবিসংবাদিত নেতা এম.এন.লারমা সংসদ বর্জন করেছিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলেন । তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত পার্বত্য চট্রগ্রামের চেহারা বদলে যেতো । সিঙ্গাপুরের মতো না হোক অন্ততঃ কিছুটা হলে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আভাস পেতাম ।

ইউপিডিএফ এবং জেএসএস ও অর্থবিনা পার্টিকে ঠিকিয়ে রাখতে পারবে না, তাই শুধু মানুষের চাঁদা খেয়ে ভ্রাতৃহত্যা না করে জাতির অগ্রসরতা নিয়ে ও চিন্তা করতে হবে । আমাদের পাহাড়ে কাঁচামাল উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভবনাময়ী সুযোগ রয়েছে । এখন এগুলো সঠিক মূল্যায়ন এবং দূরদর্শীসম্পূর্ণ চিন্তাশীলতার দরকার রয়েছে মাত্র । আমাদের জাতিসমূহের ভাগ্য পরিবর্তনের অবশ্যই অর্থনৈতিক প্রভাব এক বিশাল অবদান রাখতে পারে । বিশ্বায়নের যুগে এর বিকল্প নেই । পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ঠিকিয়ে রাখতে আন্দোলনের বিকল্প নেই ।

এবার “ভালোবাসার” দিকে চোখ ফেরা যাক । বর্তমান যুগের ভলোবাসা হচ্ছে বস্তুবাদী ভালোবাসা, আগেকার মনষ্তাত্বিক ভালোবাসার চিহৃ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন । আজকাল ভালোবাসার পূর্ণতা পেতে হলে হাজারো টাকা পকেটে থাকতে হয়, না হয় মাসখানেকের মধ্যে এর ফাটল ধরতে বাধ্য । আমি একজন অর্থনীতির ছাত্র না হওয়াতে এর প্রয়োজনীয়তাকে তত্ত্বগতভাবে কিভাবে সংজ্ঞায়ন করা যায় আমার জানা নেই, তারপরও ঘাটলিগুলো আমার চর্মচক্ষু দিয়ে অনুভূত হয় । আমাদের মানুষগুলো ব্যাংকিং নিয়ে যেমনটা সচেতন নন ঠিক সেভাবে পুঁজিবাদ নিয়ে ও অজ্ঞ ধরা যাবে । ব্যবসায়িক চিন্তাধারণের ক্ষমতা সংকীর্ণ । অনেক মা-বাবা আছেন যারা ব্যাংকিং করেন সন্তানের পড়াশুনাতে । বেতনের সিংহভাগ অর্থ সন্তানের পড়াশুনার মাঝে ব্যয় করেন । কিন্তু দেখা যায় মা-বাবাদের পাঠানো টাকাগুলো সন্তান ব্যয় করছে “ভালোবাসা” নতুবা নেশা/জুয়ায় ।  তাই, হাজারো টাকার মাঝে বর্তমান প্রজন্ম ভালোবাসা না খুঁজে মানবতার মাঝে খুঁজে পাক সেই কামনা করি । ঢাকা ভার্সিটি থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া অনুরাগ চাকমা হয়ে উঠুক নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী চেতনা । জাতিমুক্তির জন্য এই হোক সকলের চাওয়া ।

zp8497586rq

About the author

অমিত হিল

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1348