«

»

এই লেখাটি 1,688 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

আদিবাসী নাকি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি, এবং আমরা কি চাই ?

আদিবাসী নাকি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি, এবং আমরা কি চাই ?

১।

ফেইসবুকে আদিবাসী নিয়ে যে পরিমান আলোচনা হয় তা দেখে অনেক সময় খুব ভালো লাগে! সংবিধানে চাপিয়ে দেয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’র পরিবর্তে আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য আমাদের ভাই-বোনেরা প্রায় আসম লড়াই চালিয়ে যাছেন প্রতিপক্ষ ক্ষমতাবান শাসকগোষ্ঠীর সাথে। নিসন্দেহে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চেয়ে আদিবাসী শব্দটি অনেক প্রগতিশীল এবং অনেক যৌক্তিক ও গ্রহনযোগ্য। আদিবাসী সংজ্ঞায়নে আছে মানবিকতার ছোঁয়া, সত্য ও ঐতিহ্যকে স্বীকৃতির সরল উচ্চারন, সংরক্ষন ও উন্নয়নের তাগিদ। তাই আমাদের মত আশাবাদীরা স্বপ্ন দেখে চলে অবচেতন মনে অথবা ছবি আঁকি সচেতন মনে আবচেতন স্বপ্নকে। তারপরও যারা এই মহান পরিচয়ের নির্ধারক-নির্নায়ক বা চালক তাদের দ্বৈত ভুমিকা অনেক সময় ভাসা ভাসা মনে দূঃস্বপ্নের গভীর দানবীয় ছাপ ফেলে যায়। তাই স্বপ্নময় কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও অনেক সময় সংসয় চিত্তে পুরোপুরি মেনে নিতে পারি না।কারন তাতে যে ফুটে উঠা দ্বন্দ দেখি তা আমার কাছে অগ্রহনযোগ্য বলে মনে হতে থাকে অবচেতন মনের সজাগ দৃষ্টিতে।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, যাদের দ্বারা জাতীয়তাবাদী শাসক সাদ্দাম বা গাদ্দাফিকে অন্যায় আগ্রাসনের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া হল, সেই আমেরিকা বা সাম্রাজ্যবাদীরা একদিকে মানবাধিকার লংঘন করছে, অন্যদিকে নিজেদের সুবিধামত দেশ ভেঙ্গে উড়াচ্ছে স্বাধীনতার পতাকা! মানবতার কথা বলে যারা মাঠ গরম করছে তারাই প্যালেস্তাইনের আর্তচিতকার না শুনার জন্য বধির সাজছে, চোখ বন্ধ করে মনিপুরের মানবাধিকারের দাবিতে অহিংসাবাদী আন্দোলনের চেতনাকে হাসপাতালে শুয়ে দিয়ে স্লাইনের জাদুতে না-মরা, না-জেতা(জিন্দা) করে অমানবিকতার খাঁচায় বন্দীত্বকে না দেখার জন্য অন্ধ! আবু গায়েব কারাগার, গুয়েন্তানামো বে’র ক্ষুদ্রত্বকে বৃহত ভার্শনে রুপ দিয়েও গাজা, ইরাক, আফগানিস্তানকে যারা প্রেক্টিস গ্রাউন্ড বানিয়ে লক্ষ লক্ষ বোমা ফেলছে, যারা রেড ইন্দিয়ান, এবরোজিনদের লাশের উপর বিয়ার হাতে বারুদরাঙ্গা নৃত্বের নাত্যায়ন দেখিয়েছিল, তাদের বা তাদের দোষরদের আদিবাসীদের জন্য মায়া বিলিয়ে মরা কান্না দেখাটা সত্যিই গাদ্দাফির অস্টম আচার্যকেও হার মানিয়ে দিয়েছে! যারা অ্যাপাচির সাহসী প্রতিরোধকে সন্ত্রাস বলে, তারা কোন জাদুবলে নিপীড়িত মানুষের মনকে খাঁচা বন্দি করে চলেছে তা নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারন আছে বলে মনে হয় আমার এই সরল মনের গরল মস্তিস্কে! তাই আমি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও পুতুল-ক্রীড়ানক জাতিসংঘের [যেমন, বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি ইউ,এন,ডি,পি সহ …] উপর তেমন ভরশা পাই না কারন তারা মানবতা রক্ষার জন্য ততটুকুই করবে যততা তাদের প্রয়োজন, আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নয়।

দিন দুএক আগে বোমং রাজার বক্তব্যের উপর চলা দীর্ঘ আলোচনায় দেখা মন্তব্যগুলোতে অনেকে রাজা মশাইয়ের উপজাতি বা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দানে অস্বীকৃতির মধ্যে রাজার কান্ড জ্ঞানের সামনে বিশাল প্রশ্নবোধক বসিয়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু মেগাবাইট স্বল্পটায় ভিডিওটি দেখতে না পেলেও আলোচনা থেকে অনুমান করে নিতে পারি যে রাজামশাইয়ের কন্ঠে ছিল ইতিহাসের উচ্চারন ও জাতি হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার দাবী! দশ জনের সাথে সুর মিলিয়ে সমালোচনা করতে গিয়েও অবচেতন মনে ব্যাথিত হয়েছি অনেকের আক্রমনাত্মক মন্তব্যে ফুটে উঠা ব্যাক্তিকেন্দিক আক্রোশের চেহারা দেখে!সচেতন বা অবচেতন মনে রাজার এই কথা অনেকের মনে ক্ষোভের কারন হলেও আমি ভিন্ন পথের মধ্যে  দেখছি এক সহজ-সত্যকে। জানি, এই সত্যকে আমরা অনেকেই স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করবো, কথাটা বলার জন্য আমি যোগ্যতম ব্যক্তিও নয়। তাছাড়া, অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তিকে চেলেঞ্জের মত শুনাবে এই সহজ কথাটা, তাই সবাইকে বিনয়ের সঙ্গে আমাকে ভুল না বোঝার জন্য এবং আমার বোঝার যদি ভুল থেকে থাকে তাহলে শুধরে দেবার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।

২।

কথা হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কোন পরিচয় গ্রহন করবে; জাতিসত্তা নাকি আদিবাসী?এখানে আমি এই দুয়ের সংজ্ঞা দিয়ে অর্থগত দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র।

জাতিসত্তা(ethnicity): ethnicity হচ্ছে জাতি বা গোষ্ঠীগত পরিচয়। জাতিসত্তা বলতে সাধারনত সেই সংঘবদ্ধ মানবসমস্তিকে বুঝায় যাদের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য মিল রয়েছে, যাদের মধ্যে বংশগতভাবে অনুরুপ বৈশিষ্ট বিদ্যমান, খাদ্য অভ্যাস অনুরুপ এমনকি ধর্ম বিশ্বাসগত মিলও থাকতে পারে। আর এসকল সকল জনগোষ্ঠী তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রেখে চলতে চাই।এটাকে নিম্নরুপে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

An ethnic group (or ethnicity) is a group of people whose members identify with each other, through a common heritage, often consisting of a common language, a common culture (often including a shared religion) and/or an ideology that stresses common ancestry or endogamy. Another definition is “…a highly biologically self-perpetuating group sharing an interest in a homeland connected with a specific geographical area, a common language and traditions, including food preferences, and a common religious faith”

যেমন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীদের মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা’র আলাদা আলাদা জাতিসত্তা।

 

আদিবাসী(Indigenous): Indigenous বলতে আমরা সেই জনসমস্তিকে বুঝি যারা নিজেদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে ধারন করে একটি নিদিষ্ট ভুখন্ডে/অঞ্চলে অন্য জনসমস্তি আসার বহুআগে থেকে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে কিন্তু পরবর্তিতে উক্ত ভুখন্ডে বিভিন্ন বহিরাগত জাতিসত্তার আগমনের ফলে তাদের স্বভাবিক জীবনধারা ব্যাহত/বিপন্ন হচ্ছে। যারা উপনিবেশ-পূর্ব বা সেটেলার-পূর্ব ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, যাদের স্বতন্ত্র সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যাবস্থা আছে, চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে যাদের নিবিড় সম্পর্ক, স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে যারা পূর্ব প্রজন্মের পরিবেশ ও ব্যাবস্থাগুলো পুন-উদপাদন করে চলে মুলত তারাই আদিবাসী বলে পরিচিত।

Indigenous or aboriginal peoples are so called because they were living on their own lands before settlers came from elsewhere; they are descendants-according to the one definition-of those who inhabited a country or a geographical region at the time when people of different cultures or ethnic origins arrived, the new arrivals later becoming dominant through conquest, occupation, settlement or other means.

আদিবাসী শব্দটির যে অর্থে বুঝানো হয় তার মুল কথা হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে, রাস্টীয় অবহেলায় এখনো বাসভুমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়ে আসছে, যাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচার মুল ভুখন্ড থেকে আলাদা এবং মুলধারার জনগোষ্ঠীর চেয়ে যারা বিভিন্ন দিক দিয়ে পচ্চাদপদ, যাদের জীবনধারায় আদিম ও প্রকৃতি নির্ভরতার উপর চলে আসছে এবং এখনও বিদ্যমান, এই সকল জনগোষ্ঠীই আদিবাসী নামে পরিচিত।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা(ILO)-র কনভেনশন-১০৭ ও কনভেনশন-১৬৯তে আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা সম্পর্কিত দাবী আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ কর্তৃক আদিবাসী দশক ঘোষিত হয়েছে আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক সচেতনতা সৃস্টির জন্য।

যেমন, বাংলাদেশের পুর্বাঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীসমুহ; চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো প্রভৃতি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে জাতিসত্তা ও আদিবাসী এই দুই টার্মের মধ্যে খুব একটা মৌলিক পার্থক্য চোখে না পড়লেও এটা স্পস্ট যে আদিবাসী শব্দের মধ্যে আছে জাতিসত্তাসমুহের প্রান্তিকতা, স্বতন্ত্রতা এবং বিপন্ন মানবতার আর্তনাদ। এই সংজ্ঞাগত/ অর্থগত দিক থেকে স্পস্ট যে জাতিসত্তাসমুহ নিজ পরিচয় ধরন করেও আদিবাসী বলে পরিচিত হওয়া যায় তাতে কোন সংঘর্স হয় না। তাই সাধারনভাবে বলা যায়, আদিবাসী ও জাতিসত্তার পরিচয়ের মধ্যে দ্বন্দ নেয়, বরং আদিবাসী হচ্ছে বিপন্ন-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার অর্জনের সহায়ক ফেক্টর।

৩।

কিন্তু আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয়ের মধ্যে সংজ্ঞাগত দিক থেকে দ্বন্দ না থাকলেও মৌলিক চেতনাগত পার্থক্যকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক আদর্শগত দৃষ্টির বিচারে আমদের সামনে খোলা চোখে এই পার্থক্য স্বচ্ছ ভাবে ধরা পরে। আদিবাসী শব্দটির মধ্যে অনেকে দেখতে পান অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি।বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয়ে ফুটে ওঠা পশ্চতপদতা, আদিমতা, প্রান্তিকতা, বিপন্নতা যে কোন জনগোষ্ঠীকে নিজেদের সম্পর্কে আন্ডার এস্টিমেট করতে বাধ্য করে।এই ঋনাত্মক শব্দগুলোকে ব্যাবহার করে যতই সহানুভুতি অর্জন ও মানবাধিকারের দাবীকে জোরালো করা হোক না কেন, আমার কাছে তা ক্লোরফর্মের চেতনা নাশক গুনের মত খুবই ভয়ংকর মনে হচ্ছে! একদিকে পাহাড়ের সম্পদ ও ভুমি লুন্ঠন, হত্যাযজ্ঞ ও রাস্ট্রিয় বাহিনীর  বহুমাত্রিক আগ্রাসন, অন্যদিকে রাস্ট্রের সংবিধানে জনগোষ্ঠীসমুহের জাতিগত পরিচয় সংকট-এই বহুমাত্রিক সমস্যার মাঝে আদিবাসী হওয়ার জন্য লাফালাফি দেখে মধ্যবিত্তের শ্রেণী চরিত্রের মাঝে নিজেকে আবিস্কার করি। কখনও স্রোতের মাঝে হয়ে যায় আদিবাসী, অচেতনভাবে ভাল লাগে সঞ্জীব দ্রং’এর আদিবাসীদেরকে দেখানো স্বপ্ন- আদিদাসীরা নাচবে, গাইবে, সবুজ মাঠ, দিগন্তহীন আকাশ!আমার বন্ধুমহলে আদিবাসী শব্দটি তার মানবিক আবেদনগুলোর জন্য যে খুবই গুরুত্ববহ , কিন্তু আমার মত আবাল মানুষ যে অচেতনতাকে ভয় পায় তা উচ্চ কন্ঠে কখনো বলতে পারতাম না [ কারন ইউ,পি,ডি,এফ ও পি,সি,জে,এস,এস যে দুই শিবিরে বিভক্ত, তাদেরকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করি কিভাবে? আমাদের তো কথা বলায় নিউত্রাল হতে হয়(!!!)]। এভাবে শিক্ষিত মানুষদের প্রথাগত চিন্তার-দর্শনের মাঝে ঢুবিয়ে নপুংশক করনের জন্য আদিবাসী টেবলেট ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে, আর তারা তা বিলি করে বেড়াচ্ছেনও। এর মধ্যে যে অনেক কিছুই ফ্রি ফ্রি পাওয়া যায়, সবচেয়ে অভাগ করা আমাদের অধিকাংশ [আমন কি অনেক ইউ,পি,ডি,এফ’ কেও দেখেছি] এই ফ্রি ফ্রি পাওয়া জিনিসটির দিকে ধাবিত হচ্ছেন !এভাবেই আমরা আদিবাসী চেতনার মধ্যে ঢুবে ধীরে ধীরে উচ্চস্তরের রাজনৈতিক ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে দুর্বল সামাজিক আন্দোলনের উপর ভর করছি, যেখানে স্বনির্ভরতার অর্জনের বদলে তৈরি হয় পরজীবিতা![বর্তমানে আমাদের জুম্ম সমাজে এই পরজীবিতা চোখে পরার মত] এই পরজীবিতা মানুষের মানাবিক আকাংক্ষা ও এর শক্তিকে ধংশ করে। আর নিজের সম্পর্কে যারা যথাযত মুল্যায়ন করতে পারে না তারা উচ্চমার্গীয় রাজনৈতিক অধিকারের স্বপ্ন দেখতে পারে না। এই দিক থেকে আমি মনে করি আদিবাসী শব্দটি পরিত্যাগ করা উচিত।

আদিবাসী(Indigenous)অভিধাটি প্রথম ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ কতৃক অবতারনা করা হয়, উদ্দেশ্য শোষিত-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মানবিক সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্সন। নিঃসন্দেহে উদ্দেশ্যের বয়ানটি  মহত্ত। সময়টা যখন দেশে দেশে জাতিয় মুক্তির ডাকে নিপিড়ীত মানুষের আন্দোলনের সময়, তখন নিপীড়িতের উপর শাসকদের পীড়নের চেয়েও সিস্টেমের উপর বড় আঘাতটি আসে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের মস্তিস্ক থেকে, যার বিপনন ঘটতে থাকে জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাদের হাত ধরে!কিন্তু একদিকে  আত্মনিয়ন্ত্রনাদিকারের জন্য লড়াই করা মানুষকে আন্তর্জাতিক করনের মাধ্যমে লক্ষ্যচুত্য করন ও অন্যদিকে তাদেরকে গৃহপালিত জন্তুর মত খাওয়া-পড়ার নুন্যতম চাহিদা মিটিয়ে বেঁচে রাখা, জীবন মান উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে স্বাধীন চিন্তার জগতের দখল নিয়ে তারা আমাদের কাছে কি এই বার্তা দিচ্ছে যে তারা যা করুনা করে দেবে তাই খেয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে, আমাদের চাহিদা মত আমরা চাইলেই বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ বলে ঝাঁপিয়ে পড়বে! ১ নং অনুচ্ছেদে বর্নিত হয়েছে এই ন্যাকারজনক ঘটনার দু-একটি চিত্র।

তাই আমাদের ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তির মধ্যে যেমন এই ………

২à।

প্রথমে বলা যাক দু-একটি ছোটখাট কথায়। যারা বর্তমানে আদিবাসী ইসুকে নিয়ে চিন্তিত্ব তাদেরকে মনে কষ্ট না দিয়ে কিভাবে লিখলে লেখাটা আমার বক্তব্যকে সঠিক ভাবে উপস্থাপিত করার দূর্সাধ্য কাজটা সহজে করা যাবে জানি না। তাই আপন খেয়ালে চিন্তামুক্তভাবে আংগুল চালনা করতে লাগলাম। প্রথমত, পাহাড়ের অন্যতম দুটি রাজনৈতিক দল- পি,সি,জে,এস,এস ও ইউ,পি,ডি,এফ আদিবাসী ইসুতে কি ধরনের মত পোষন করে সে দিকে একটু আলোকপাত করা যাক। পার্বত্য চট্টপ্রাম জনসংহতি সমিতি আদিবাসী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। দলটি চুক্তিতে উপজাতি হিসেবে মেনে নিয়ে চুক্তি সাক্ষর করলেও পরবর্তি সময়ে আদিবাসী ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব লাভ করলে তারা এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভুতি লাভ করে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুনদের দল ইউ,পি,ডি,এফ পার্বত্য চুক্তিকে প্রত্যাখান করে স্বায়ত্বশাসনের ডাক দেয়। জাতিসমুহের স্বীকৃতির ব্যাপারে তাদের অবস্থান প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বীকৃতি।

(অসমাপ্ত………………………………………………)

অসমাপ্ত লেখাটি রেখে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিচ্ছি। হয়তো আর এই ঠিকানায় ফিরে আসা হবে না আর। ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা আমাকে পাশে থেকে অনুপ্রেরনা দিয়েছেন।

About the author

হেগা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1322

2 comments

1 ping

  1. শাহেরীন আরাফাত

    হেগা দা’র লেখাটা আগেই পড়েছিলাম… উনার সাথে মতপার্থক্য থাকলেও এই বিষয়ে একমত যে, আদিবাসী ইস্যুটা কোন জনগণের ইস্যু নয়… সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন জাতিসত্তার মুক্তি-সংগ্রামকে দিকভ্রান্ত করতে এই তত্ত্ব ব্যবহার করেছে, করছে… কারণ আদিবাসী সনদ পেলে সাম্রাজ্যবাদের লাঠিয়াল “নীল টুপি” বাহিনী শান্তির নামে ওই ভূখণ্ড দখলে নিয়ে জনগণকে পরাধীনতার শেকলে আবদ্ধ করতে পারবে, তাও আবার বৈধ পন্থায়…!! আরেকটা বিষয় উল্লেখ্য যে, এই আদিবাসীর তত্ত্ব কিন্তু জাতিসত্তার লড়াই-সংগ্রামের বিপরীতে ছড়িয়েছে এনজিওবাদীরা, যেসব রাজনৈতিক দল এনজিও’র সাথে লিয়াজো রেখেছে, তারা ওই বুলি আওড়ে যায়, কখনো সজ্ঞানে, কখনো অজ্ঞানে… ৯০-এর দশকের শেষার্ধ পর্যন্ত নিজেদের আদিবাসী ঘোষণার কোন তাড়না নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠির নেতা-কর্মীদের মাঝেও লক্ষ্য করা যায়নি… কিন্তু পাহাড়ে মানবতার আবরণে মিশনারী আর এনজিও’র আগ্রাসনের সাথে সাথে সেখানে একই সাথে চলতে থাকে সাহায্যের নামে ধর্মান্তরিত করা, সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন করা আর জাতিগোষ্ঠির লড়াই-সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা, আর জন্ম দেওয়া হয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠিকে আদিবাসী ঘোষণার তাড়না…!!
    হেগা দা’ বিভিন্ন সময়ে জুম্ম জাতীয়তাবাদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা কিনা উনার মতে অন্য জাতীয়তাবাদ থেকে পৃথক, প্রগতিশীল…!! অথচ উনার এই কথার মাঝেই কিন্তু রয়েছে জাতীয়তাবাদের প্রতিক্রিয়াশীলতার বীজ, যার উপর ভর করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির জনগণ নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে জাহির করে…!! আর এজন্যই মানবিক বোধসম্পন্ন জনগণের গণতান্ত্রিক সমাজে জাতীয়তার পরিচয় জরুরী হলেও জাতীয়তাবাদ জরুরী নয়… আর এজন্যই কাম্য হচ্ছে সকল জাতিগোষ্ঠির স্বীকৃতি, নিশ্চিত করা তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার সহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, যেন নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠি চাইলে যেন সে জাতিগোষ্ঠির জনগণের মতামতের প্রেক্ষিতে পৃথক হওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে… কোন ভূখণ্ডের সকল জাতির স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে সকল জাতিগোষ্ঠির নিপীড়িত জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই কেবল একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব…

  2. Mohan Chandra

    অািদবাসীবাদ নিয়ে অগ্রসর হলে জুম্ম জাতীয়তাবাদ মাঝপথে হারিয়ে যাবে। অাদিবাসীবাদ যতটা অােপাষমুখি জুম্মবাদ ততটা সংগ্রামমুিখ। মনে রাখতে হবে সঞ্জীব দ্রং এর অািদবাসী অার লারমােদর অািদবাসী এক নয় (বিভিন্ন কারনে)।– নিজ বুদ্ধি সোনা –। জুম্মবাদ হারিয়োনা- পথ হারাবে। মুক্তি অাসবে সেই পথে।

  3. Murtoza

    Go ahead and complete the article people will aware and the situation will be changed. Hope for the best

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>