«

»

এই লেখাটি 746 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

চিঠি

blockquote>

বিলাসী মনের ভালোবাসা কেউ বুঝে না !+!

প্রতি সকালে এখনো খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি । নাস্তা করি রাস্তার পাশে জমানো রেস্টুরায় । সোনালি সূর্যের সম্মুখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ভিটামিন ''ডি'' আহরণে । এখনো প্রতি সপ্তাহে পড়ন্ত বিকেলে কাছাকাছি সমুদ্র সৌকতে ঘুরতে যাই । অনেক সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শরীরকে লবণাক্ত করে তুলি । শরীরের লোমগুলো আমার ফাঁক হয়ে যায় । তবে সমুদ্রের লবণাক্ত ভাব শরীরকে সতেজ করে । এই ব্যস্ততম জীবনে ও ব্যস্ততা আমাকে ভোগাতে পারে না শুধু বাস্তবতাকে নীরবে গ্রহণ করি বলে । অচেনা মুখগুলোর ভীরে খুব সহজে মিশে যাই । শ্রান্ত-ক্লান্ত শরীরে অফিস থেকে ফিরে নিজের জন্য রাতের খাবার রান্নাকরি । শনি-রবিবার অফিস বন্ধ থাকে । অবসরে বাইরে বেরুতে না গেলে কিছু বই পড়ি । আজ ভাবছি একটা আবেগময়ী লেখা লিখবো । আবেগের সঞ্চার করতে আমাকে সকাল থেকে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল । জানি, অনেক শক্তির ক্ষয় হয়েছে । নিউরণগুলোর গতি সঞ্চালন বাড়াতে হয়েছিল । তাই আপেল এবং গাঁজরের জুস পান করেছি দুবার ।

সে যাহোক ।

প্রিয় “অচেনা” (ছদ্মনাম);

আজ রবিবার । বহুবছর পর তোমার কথা মনে পড়ছে । সেদিন তোমার মার সাথে কথা হয়েছিল বহুক্ষণ । তিনি আমার কন্ঠ শুনে অনেক আবেগ অনুভব করেছেন বলে ধারণা করেছি । কথার কাঠিরে অনেক কথা উঠে । নানা সমস্যা/বাস্তবতার কথা উঠে আসে । এক সময় তোমার মায়ের মৃদুকন্ঠে চেঁপে রাখা কান্নার শব্দ শুনি । আমি ও ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই । তোমার মা'র নাকি অনেক আশা ছিল আমাকে উনার পুত্র বানাবেন । কিন্তু তোমাকে নিয়ে যে আশাটুকু ছিল এখন সব ছিন্নবিন্ন । তিনি জানান, তোমার ঘটনার কথা, এক বয়ষ্ক বাঙালী পুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার কথা । পরে তুমি ফিরে আসলে ও এখনো তোমাকে নিয়ে অনেক সংশয় কাজ করছে উনাদের মনে । সমাজে মাথা উঁচু করে আর কথা বলতে পারেন না । বর্তমানে ও যে ছেলের সাথে তোমার সম্পর্ক তাতে ও তোমার মা সন্তুস্ত নন কিন্তু তবুও একমাত্র মেয়ে হিসেবে তোমার চাওয়ার বিরুদ্ধে কোন চাপ দেয়া হচ্ছে না । তুমি হয়ত এখনো বুঝতে পারবে না, মায়ের যে অবর্ণনীয় ভালোবাসা তার সন্তানদের প্রতি । সেজন্য তোমাকে ভালোবেসে এখনো প্রতিবছর লক্ষ টাকার খরচ যোগাচ্ছেন । তুমি হয়ত আদৌ আনমনা । পরিবেশে তুমি হারিয়ে গিয়েছো হয়তো, তুমি নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারনি । বয়সে তুমি বুঝে উঠবে ।

“দৈহিক সৌন্দর্য” প্রেমকে আগলিয়ে রাখতে পারে না । প্রেমের জন্য প্রেমই দরকার পড়ে । জানি না তোমাকে কিভাবে বুঝাবো ? ভালোবাসা/প্রেমের যে আবেদন সময়ে বদলাবে । অল্প বয়সে সবাই ভুল করে দৈহিক সৌন্দর্যের উপর ঝুঁকে পড়লে ও বয়সে আবেদনের যে ধারা তা বদলিয়ে যায় । এক সময় দৈহিক সৌন্দর্য নয় মানুষের স্বভাব/চরিত্র অথবা সামাজিক স্ট্যাটাসটা আসল চাওয়া হয়ে দাঁড়ায় । জানি এখন তোমার অনেক আবেগ, তুমি এই কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করবে না । কিন্তু একদিন তুমি নিজের ভুলের জন্য প্রায়চিত্ত করার চেষ্টা করবে, সময়টা হয়ত অনেক এগুবে তখন । আমি ও তোমার ভালোবাসার প্রতি সরাসরি আঘাত করতে চাই না । জানি না, তোমাকে কিভাবে স্বান্তনা দেবো । তোমার মাকে কি বলে উত্তর দেবো, আমার জানা নেই । আমার চোখ ভিজে যাচ্ছে এই ভেবে যে, তোমার মা'র মতো অনেক মা'ই সন্তানের এমন দূঃখ-কষ্টকে নীরবে সহ্য করে যান । সমাজটা বুঝি অনেক বদলিয়েছে, আগেকার শান্তপ্রকৃতির পাহাড় আর মানসিক সুখগুলো যেন আর নেই ।

আমি আদৌ একা হাতি সুখগুলো কুঁড়াতে । রোডের পাশে অনেক কিছু দেখলে ও সুখটাই কুঁড়িয়ে নিই । জীবনে আসলে একাকীত্বটাকে সহজে সঙ্গী বানানো যাই না, প্রথমে বড় কঠিন লাগলেও পরে দেখি সব ঠিক হয়ে যায় । সেই ভীনদেশি মেয়েটি আদৌ খবর নে রীতিমতো, ই-মেইল/ফোন করে । আমরা তবুও আবেগ নিয়ে খেলি না । বাস্তবতাকে মেনে নিতে প্রস্তুত । তাই, আমাদের কোন আক্ষেপ থাকবে না যদিও কোনসময় একে অপরের কাছ থেকে হারিয়ে যাই । তোমাকে নিয়ে ভাবছি । মা-বাবাদের এভাবে বেশি কষ্ট দেয়াটা ঠিক নয় ।

পরিশেষে আশারাখি, তুমি বুঝে উঠবে ।</blockquote

zp8497586rq

About the author

অমিত হিল

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1313