«

»

এই লেখাটি 666 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

একটি স্বতন্ত্র চিন্তার বিছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অংশ

একটি স্বতন্ত্র চিন্তার বিছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অংশ:

পাহাড়ের আদিবাসী সমাজের ঘুণে ধরা রাজণীতি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে না বা কথা-বারতা বলে না এমন মানুষ ঢাকা শহরে আদিবাসীসমাজে চাকুরিজিবী, বিশেষ করে ছাত্র সমাজে খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন বলে মনে হয়। আর এই চিন্তার জগতের বিস্তারের ব্যপকতা বু্ঝা যায় আজ কালকার ফেইসবুক খুললে; যেখানে নামে বেনামে অনেকে তাদের বিচ্ছিন্ন চিন্তা প্রকাশ করছে, প্রকাশ পাচ্ছে হতাশা; বাড়ছে ঘৃণা।অনেকে তাদের অতি মুল্যবান মতামত রাখছে, আবার অনেকে হুজুগে না বুজে উগলে দিচ্ছে কোন নেতার উন্মাদনার মন্ত্রের বানী।তারা ফেইসবুক বা অন্য কথাও সাক্ষাতে তর্ক বা মারামারি করে, অথচ তারা সবাই চাই জুম্ম জাতির ভালেদী।

যদি ও আমাদের জুম্মজাতি হিসেবে বাঁচার ও লড়াইএর রাজনৈয়তিক ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয় তথাপি আমি মনে করি যে জাতি হিসেবে বাঁচার সমস্ত গুনাবলী এই জাতির মধ্যে বিরাজ়মান —কারন—যে জাতিতে একজন মহান নায়ক এম ন লারমা জন্ম নিতে পারেন, জন্ম নিতে পারেন আধ্যাতিক গুরু বনভান্তে বা যাদের আছে একটি গৌরবউজ্জল ইতিহাস এবং সুগঠিত গেরিলাবাহিণীর নেতৃত দানের অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির জাতি হয়ে উঠার যে ইতিহাস আমরা পাঠ করি তা আমাদেরকে এই জিনিস শিক্ষা দেয় যে ত্যাগ, তিঠিক্ষা আর চেষ্টা ছাড়া সংগ্রাম হয় না; আর সংগ্রাম ছাড়া অর্জিত হয় না জাতীয় অধিকার বা জাতীয় পরিচয়।আর আমাদের এই সুমহান সংগ্রামে লড়াই চালিয়ে যাছে এক ঝাঁক দেশপ্রেমিক লড়াকু ্যোদ্ধা যারা তাদের মেধা-মনন, কায়িক শ্রম বিলিয়ে দিচ্ছে অকাতরে জন্মভুমি ও জাতির তরে।

কিন্তু নিজেকে তখনি বোঝাতে কষ্ট হয় যখন দেখি এই সুমহান দায়িত্ব কাঁধে নেয়া মানুষগুলিই নিজেদের অন্তঃকলহে লিপ্ত হয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারি করছে এবং মরছ; অথচ দুজনের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। এই ভ্রাতীঘাতি যুদ্ধে তারা যেমন মরছে তেমনি মরছে সাধারন জনগন। আর অন্য দিকে তাদের এই দুর্বলতার সু্যোগ নিচ্ছে শাষক শ্রেণী যারা “ভাগ করো, শাষণ কর” নীতির মাধ্যমে সর্বদা শাষণ করার নীল নকশা প্রনয়নে ব্যস্ত। আর তাদেরই পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আমাদের ত্যাগী ্যোদ্ধারা একে অপরকে অবিশ্বাসের চোখে দেখছে; বলছে দালাল, গুন্দা, প্রতিক্রিয়াশীল।আর নেতারা শিক্ষা দিচ্ছে মাও-লেলিনদের রাজণৈয়তিক দর্শন এমনভাবে যে যা তাদের কর্মী বাহিনীকে পরিচালিত করছে একের বিরুদ্ধে অন্যকে। তারা আমাদেরই প্রতিনিধিত্ব করে, আমাদেরই ভাই(UPDF) ও বাবার(PCJSS) বয়সী, অথচ তারা একের সাথে অন্যের ঐক্য চাই না (অথচ ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতিতে উভয় দল আঁতাত করে ক্ষমতাশালী সরকারের প্রতিনিধি AL বা BNPর সাথে যাদের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে!)।এক ঘরের মানুষ যখন একে অন্যের সাথে বিরোধে লিপ্ত হয় তখন সেই ঘরে বিরাজ করে অশান্তি। পারষ্পরিক সহনশীলতাই পারে সেখানে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে।আর আমরা ত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠেই জানতে পেরেছি যে “একতাই শক্তি, একতাই বল”। তাহলে কি আমরা মাও-লেলিন-মার্ক্স শিক্ষা নিতে গিয়ে বাল্যশিক্ষাকে ভুলে যাচ্ছি। আর তাই যদি সত্যি হয় তাহলে বলতে হয় আমাদের ভবিষ্যতটা একটু বেশীই জটিল ক্যল্কুলেসনের মধ্য দিয়ে যাবে।এই অবস্থায় অনেক জাতপ্রেমি তরুণ এইসব জটিল ক্যল্কুলেসনের সাথে জড়িয়ে নিজেকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে জড়াতে চায় না; যারা সময় পরিবর্তনের অপেক্ষায় থেকে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে ভালবাসে। আর অন্যদিকে যারা সমগ্র কিছুকে দূরে থেলে রাজনীতিতে আসছে তারাও সিস্টেমের মধ্যে পড়ে সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখার বদলে ঊল্টো সংঘাতকে ঊষ্কে দিচ্ছে।

তাহলে কি আমাদেরকে সময়ের জন্য আপেক্ষায় থাকতে হবে ? আর সেই সময় বা কত দূরে ?

আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজার জন্যে আমাদের যা দরকার তা হল “জাতির প্রতি ভালবাসা”; এই ভালবাসা জন্ম দেবে জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ; আর এই দায়িত্ববোধ নির্ধারণ করে দেবে আমাদের করণীয় কার্য। তাইতো সূজ মরিজ়রা ভাষা উন্নয়নে নিজেদের নিয়জিত করেছে, রাজাবাবু আদিবাসীদের স্বীকৃতি ও অধিকারের দাবীতে সেচ্ছার, অনুরাগরা শত সংঘাতেও বিচলিত না হয়ে ১ম স্থান অধিকার করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে এখনই ভবিষ্যতের জন্যে প্রস্তুতির উপযুক্ত সময়।এছাড়া হতাশাগ্রস্ত মানুষের ভিড়েও আলোকছটা ছড়িয়ে যাচ্ছে অসংখ্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি—দূর্গম পাহাড় কিংবা বিদেশভূয়ে বা ইলেক্ট্রনিক্স ম্যাডিয়ার ভারচুয়াল জগতে কিংবা বাস্তব জগতে।কিন্তু যারা জুম্ম জাতির রাজনীতি বিষয়ে চিন্তা করেন তারা এসবে আশাবাদী হলেও খুব একটা আস্থা রাখতে পারেন না; কারন তারা খুব ভালভাবে জানেন যে রাজনৌয়তিক ভিত্তি দুর্বল হলে এইসব ব্যক্তিগত চেষ্টা বা অর্জন বালির বাধের মত ক্ষণস্থায়ী হবে।তাই রাজনৈয়তিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেয়, এজন্যে সমাজের শক্তিশালী ও অগ্রগামী অংশকে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে।আর এই জন্য দরকার ঐক্য; যা আসবে সহনশীল রাজনৈতিক চর্চা এবং এই বিষয়ে সচেতনতার মাধ্যমে।রাজনৈতিক দলগুলকে পরিহার করতে হবে আন্তঃরাজনৈয়তিক উগ্রপন্থা।তবে রাজনৈতিকদলগুলো যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তবে তা আমাদেরকে এই চিন্তা করতে বাধ্য করবে যে হয় তাদের “জাতির প্রতি ভালবাসা”র চেয়ে “নিজেদের স্বার্থপরতার” গুরুত্ত্ব বেশী যা তাদের অযোগ্যতাকে নির্দেশ করে। এজন্য সমাজে গুণগত পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেয়। এই জন্য সমাজে স্বজাত্যবোধে অনুপ্রেনিত যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে “জাতির প্রতি ভালবাসা”র মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে।

[বি,দ্র,ঃ  লেখাটি একটি ব্যক্তিগত চিন্তার বিছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অংশ। পরবর্তিতে শ্রম দিয়ে লেখাটা সম্ন্বয়ের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছে রইল। নবীন এই অধমের ভুল-ত্রুতি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।]

About the author

হেগা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1284

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>