«

»

এই লেখাটি 1,644 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

জুম্মদেশে কবে হবে সেই নীতিবান-আদর্শবান লোক?

নীতি-আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলে কারও সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির এসব কোনো কিছুই নেই।…এ সংঘাত ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি নয়, এটা শ্রেণীগত সংঘাত”।  জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা

——————–

“এক দলে না হোক একই প্ল্যাটফর্মে যেন আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন করা যায়, তার চেষ্টা করতে হবে।”, রাজা দেবাশীষ রায়

গতকালকের (১১ নভেম্বর ২০১১) দৈনিক ‘প্রথম আলো’ থেকে উপরের উক্তিগুলো নিলাম।জুম্মজনগণের মহান নেতা এম এন লারমার ২৮তম শহীদ দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত স্মরণ সভায় আমাদের অতি প্রিয় নেতা জেএসএস সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়। পাহাড়ে দুই জুম্ম রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত নিরসন ও ঐক্যের আকাংখা প্রসঙ্গে দুই নেতা ঐ বক্তব্য দিয়েছিলেন।নি:সন্দেহে দু’জনের বক্তব্য দুই মেরুর ব্যবধান। দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এ কথাগুলোর বিশ্লেষণ হওয়া জরুরী। বিশেষ করে সন্তু লারমার বক্তব্য বিশ্লেষণের জন্যে রাজনীতি বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও সমাজতত্ত্ববিদদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছি।আর আমি উক্ত তিন বর্গের মধ্যে কেউ না হলেও অধম ব্লগার হিসেবে কিছু কথা বা বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পাচ্ছি।

মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগে মাননীয় রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই সন্তু লারমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জুম্ম জনতার আকাংখা তুলে ধরার জন্যে।সেই সাথে ড. মানিক লাল দেওয়ানসহ যারা জুম্মদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবী উত্থাপন করেছিলেন তাদেরকেও অভিনন্দন জানাই।

প্রথমে সন্তু লারমার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো, সন্তু লারমা বোধয় ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনের আহবানের প্রেক্ষিতে এই প্রথম মুখ খুললেন। তিনি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন নিজেদের “ভালোমানুষি” দেখানোর জন্যে।তার বক্তব্যের কয়েকদিকের প্রতি আলোচনা করা যেতে পারে।যেমন,

১) ঐক্য আহবান প্রসঙ্গে বলছেন, যার “নীতি-আদর্শ নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই” তার সাথে কারোর (মানে জেএসএস-এর) ঐক্য হতে পারে না।

২) দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে অস্বীকার করতে গিয়ে তিনি বলেছেন “পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির কাছে এসব কোনো কিছুই নেই”।

৩) জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর মধ্যেকার যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে সেটাকে তিনি “ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত” হিসেবে দেখছেন না। বলছেন, “এটা হলো শ্রেণী সংঘাত”।

সন্তু লারমার ‘ভালোমানুষি” বক্তব্যে মধ্যে কী আছে সেসব নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

১) যার নীতি-আদর্শ নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই, তার সাথে কারোর ঐক্য হতে পারে না বলে তিনি যে অভিমত দিয়েছেন সে কথাটা তাঁর বা তার দল জেএসএস-এর বেলায়ও কী প্রযোজ্য নয়? নিজেদের দলীয় সংবিধানে বর্ণিত ‘নীতি-আদর্শগুলোও কী তেনারা পালন করছেন? তেনারা প্যাঁচালো কথাবার্তা বলে কী অর্জন করতে চান? তেনারা কোন নীতির-আদর্শের কথা বলেন? নিজেদের গঠনতন্ত্রে লেখা নীতি-আদর্শ নিজেরাই কী মানেন? নিচে তেনাদের সংবিধানে বর্ণিত নীতি-আদর্শগুলো আবারো একটু দেখা যাক

——————————————————————-

জেএসএস-এর সমাজস্বপ্ন

সমতাভিত্তিক শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা;

জেএসএস-এর আদর্শ ও নীতি

জেএসএস-এর মূল আদর্শ হলো মানবতাবাদ। আর এই আদর্শ পাঁচটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিতঃ

১. জাতীয়তাবাদ;

২. গণতন্ত্র;

৩. ধর্মনিরপেক্ষতা;

৪. সমতা; ও

৫. সামাজিক ন্যায়বিচার।

(তথ্যসূত্র হিসেবে জেএসএস-এর ওয়েবসাইট দেখুন http://www.pcjss-cht.org/about-pcjsss.php)।

——————————————————————-

পাঠকগণ, জেএসএস-এর সংবিধানে বর্ণিত সমাজস্বপ্ন ও নীতি-আদর্শ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কী? জেএসএস তার গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্কার করে বলছে, তারা “সমতাভিত্তিক শোষণহীন সমাজ” প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর এই স্বপ্ন অর্জন করতে গিয়ে জেএসএস বিশ্বাস করে “মানবতাবাদের” আদর্শে। আর “মানবতাবাদ” আদর্শকে সার্থকভাবে রূপায়িত করার লক্ষ্যে জেএসএস-এর কার্যক্রম বা কর্মসূচীতে পাঁচটি নীতির প্রতিফলন থাকবে। যেমন, জাতীয়তাবাদ; গণতন্ত্র; ধর্মনিরপেক্ষতা; সমতা; ও সামাজিক ন্যায়বিচার।

এখন প্রশ্ন হলো, জেএসএস তথা জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা কী এই নীতিগুলো অনুসরণ করছেন কী? আমার দৃষ্টিতে জেএসএস-এর বর্তমান দৃশ্যমান কর্মকান্ডে এসব নীতির কোনটারই প্রতিফলন দেখি না। তার নিজের দল যদি নিজেদের গঠনতন্ত্রে নির্ধারণ করা নীতি অনুসরণ না করেন, তাহলে আমরা তাকে কী বলা পারি?

এ প্রশ্নের সাথে জেএসএস-এর কাছে আরো প্রশ্ন রাখতে চাই:

ক) জেএসএস-এর রাজনৈতিক কর্মসূচী কী কী? নিজেদের কর্মসূচীতে জেএসএস নিজেদের বর্ণিত নীতিগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে উদাহরণ দিয়ে এমন নজির কী দেখাতে পারবে?

খ) ইউপিডিএফ কিংবা সংস্কারপন্থীদের সাথে মারামারি করে জেএসএস কী তার কাংখিত সমাজ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে? খুনোখুনি ও মারামারি করে কী জেএসএস তার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়? খুনোখুনি ও মারামারি করাই কী মানবতাবাদী আদর্শ?

২) সন্তু লারমা আরো বলেছেন, “পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির এসব কোনো কিছুই নেই”। এ কথার মাধ্যমে তিনি কী বলতে চাচ্ছেন?

এ কথাটারও অনেক মানে ও অনেক প্রশ্ন হতে পারে। প্রথমত, জেএসএস তথা সন্তু লারমা “ইউপিডিএফ” ও “সংস্কারপন্থী”র অস্তিত্ব মানেন না। সহজ কথায়, ঐক্যের আহবানকে নাকচ করে দিয়ে সন্তু লারমা “এক জঙ্গলে একাধিক বাঘ থাকতে পারে না” কথাটা আবারও উচ্চারণ করলেন ভিন্ন ভাষায়। দ্বিতীয়ত, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী বলতে যদি কিছুই না থাকে, তাহলে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থীদের নিয়ে তার এত মাথা ব্যথা হওয়ার কোন কারণ দেখি না। সরকারের কাছে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধের দাবী জানানোরও কোন যুক্তি দেখি না।আর ইউপিডিএফ-এর সাথে অস্ত্র দিয়ে মারামারি করে প্রাণহানি ঘটানোরও কোন মানে দেখি না। জেএসএস ইউপিডিএফ-এর সাথে মারামারি বাদ দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিতে পারেন। তখন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের আহবান জানানোরও প্রয়োজন হতো না।

৩) সন্তু লারমা চলমান ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতকে “শ্রেণী সংঘাত” বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন। “শ্রেণী সংঘাত” বলে তিনি জুম্ম জনগণকে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এখানে তিনি কোন কোন শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বলে ধরে নিয়েছেন এবং তিনি কোন শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করছেন?

এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, আমি এখনো জেএসএস-এর জুম্ম সমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ দেখতে পাইনি।জেএসএস বা সন্তু লারমা কীভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে জুম্মসমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ করেছেন? জুম্ম সমাজের মধ্যে তিনি কয়টা শ্রেণী পেয়েছেন? এসব শ্রেণীর মধ্যে কারা কারা জুম্ম অধিকারের পক্ষে সহায়ক আর কারা কারা বিরোধী ইত্যাদি বিষয়ে আমাদেরকে পরিস্কার ধারনা দিলে উপকৃত হবো। দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বললে আমাদের বুঝতে কষ্ট হয়। শ্রেণী সংঘাত বিষয়ে নিজের মত করে ‘ঐশি’ বাণী হাজির করলে কারোর লাভ হবে না। এতে জুম্ম সমাজের প্রকৃত সমস্যারও সমাধান হবে না। তাই আশা করবো, সন্তু লারমা বা জেএসএস-এর তাত্ত্বিকগণ লিখিতভাবে আমাদের মত অধমদের কাছে জুম্মসমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

এখন মাননীয় চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের বক্তব্য সম্পর্কে কিছু কথা বলে আজকের লেখাটা শেষ করতে চাই।

সন্তু লারমা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বলে স্বীকার করুন আর না্ই করুন, চরম বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত হোক কিংবা সন্তু লারমা কথিত শ্রেণী সংঘাত হোক – আজ চরম সত্য কথা হলো জুম্ম সমাজ বহুধা বিভক্ত, সংঘাতে জর্জরিত। এই সংঘাতের ফলে অনেক প্রাণের হানি ঘটেছে এবং ঘটছে। রাজা দেবাশীষ রায় তথা পাহাড়ের সর্বস্তরের জনগণ তা তো দেখতে পাচ্ছেন এবং এ সংঘাতের কুফল প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। তাই জুম্মজাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ সংঘাতের অবসান হতে হবে, ঐক্য হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাজা রায়ের সাথে আমিও একমত হয়ে বলতে চাই, ঐক্য হওয়া মানে নিজেদের দল, নীতি-আদর্শ বিসর্জন  দেওয়া নয়; জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নয়। কেবল প্রয়োজন দু’দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। পরমত সহিঞ্চুতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে  মারামারি ও খুনোখুনির মত জঘন্য অপরাধ থেকে বিরত থাকা।

অনেক আলোচনা হলো, অনেক প্রশ্ন হলো। পরিশেষে, নগন্য ‘আধং’ ব্লগার হিসেবে জেএসএস তথা সন্তু লারমার কাছে আমিও বিনীত আহবান জানাই, জুম্মজাতির বৃহত্তর স্বার্থে আপনার লোকজনকে নলতন্ত্র হতে বিরত রাখুন। আপনি “শ্রেণী সংঘাত” বলেন কিংবা অন্যকোন নাম দেন, তাতে কোন রকমভেদ হবে না। সংঘাত সংঘাতই।আপনার দলের বন্দুক থেকে গুলি ফুটুক আর নাই ফুটুক, এর চরম সত্য হলো জুম্ম সমাজের শত শত তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে অকালে।খালি হচ্ছে অনেক মায়ের বুক, বিধবা হচ্ছে অনেক নারী, অনাথ হচ্ছে অনেক শিশু। এরকম অন্যায় এভাবে চলতে পারে না।

অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ নয়, আপনি নিজের পার্টির গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে প্রমাণ দিন আপনিই মানবতাবাদ অনুসরণ করেন। আপনি নীতিবান, আপনি আদর্শবান, আপনি মানবতাবাদী। আমরা জুম্মজনতা সেই নীতিবান, আদর্শবান ও মানবতাবাদী লোকের অপেক্ষায় আছি।

………………………………..

অডঙ চাকমা, ১২ নভেম্বর ২০১১

About the author

অডং চাক্‌মা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1187

4 comments

Skip to comment form

  1. খীসা

    arjyo [email protected]
    আপনি নিজেই খুব একতরফাভাবে বিচার করলেন।
    অডঙ চাকমা সম্পর্কে সবাই জানে অন্তত আমরা যারা ওয়েব নিয়ে কাজ করছি বা তার সাথে আছি। আপনাকে তার পুরোনো লেখাসমুহ পড়ে দেখার অনুরোধ করছি।
    মন্তব্যর জন্য মন্তব্য নয় , প্রাণ দেয়ার জন্য মন্তব্য।
    আপনি অডঙ চাকমার পুরোনো লেখা পাবেন এই লিঙ্কএ-

    http://www.news.chtbd.net/?page_id=235&user=Odong+Chakma

  2. অডঙ চাকমা

    @ arjyo chakma ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে। আমাকে সুবিধাবাদী বলা হলে আমি কিছুই মনে করি না। বরং খুশি হই। মানুষ স্বভাবগতভাবে সুবিধাবাদী। তবে মাত্রাগত পার্থক্য আছে। কেউ নিজের সুবিধা অর্জনের জন্যে অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি করে চরমভাবে, আর কেউ কেউ তার বিপরীত। নিজেকে দ্বিতীয় দলে ফেলতে চাই। আমিও সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত হতে কোন কার্পন্য করি না। তবে আমার সুবিধার জন্যে জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর মত মারামারি, খুনোখুনি করি না। এরকম জঘন্য কাজ সমর্থনও করি না। আমি সুবিধাবাদী, কারণ লিখতে আমার ভাল লাগে, আমার লেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে, আমি মারামারি-খুনোখুনি দেখতে চাই না।আমি ঐক্য চাই, কারণ, ঐক্য ছাড়া জেএসএস-ইউপিডিএফ-এর মারামারি ও খুনোখুনির মাধ্যমে আমার অধিকার রক্ষা হবে না। তাই যত ইচ্ছা আমাকে সুবিধাবাদী বলতে পারেন তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।

    হ্যাঁ, লেখাটা একপাক্ষিক হতে পারে। কেননা এখানে কেবল সন্তু লারমার বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।আমার বিশ্লেষণ বা বক্তব্যে কোন ভুল থাকলে বা সমস্যা থাকলে বা দ্বিমত থাকলে আপনি আলোচনায় আসতে পারেন। আপনার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবো।

    ৥হেগাবগা চাংমা, ধন্যবাদ আপনার অংশগ্রহণের জন্যে।হেগাবগারা লেখার সুর ধরতে পারেন, কিন্ত আর্যরা (বুদ্ধিমান কিংবা উত্তমরা)পারেন না। কথায় বলে, বৃক্ষহীন দেশে এড়েন্ডা প্রধান। বড় বড় বুদ্ধিমানরা নেই বলে আমাদের মত হেগাবগা ও অডঙরা একটু কথা বলতে চায়। বড় নেতাদের ঐশিক বাণীর অর্থ বের করতে চায়।

  3. হেগাবগা চাংমা

    কথাটা গিলতে পাড়লাম না @arjyo chakma। আমার মনে হয় আপনি আসল বিষয় এবং ঘটনা প্রবাহকে পাশ কাটিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন।দেখুন,
    ঘটনা প্রবাহ বলছে, “গতকালকের (১১ নভেম্বর ২০১১) দৈনিক ‘প্রথম আলো’ থেকে উপরের উক্তিগুলো নিলাম।“
    আলোচ্য বিষয় বলছে, “নীতি-আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলে কারও সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ও তথাকথিত সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতির এসব কোনো কিছুই নেই।…এ সংঘাত ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি নয়, এটা শ্রেণীগত সংঘাত”। জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা”
    তাই লেখাটা বিশ্লেষনের সময় আপনার উচিত ঘটনা এবং বিষয়বস্তুকে আমলে নেয়া।তা না হলে ভুল সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার ঝুকিকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
    অডং দা’কে কম করে হলেও ৬মাস ধরে তার লেখায় চিনেছি, তার কাছ থেকে শিখেছি, এবং এখনো শিখছি।আপনির তাকে বুঝার চেষ্টা করতে পারেন, পড়তে পারেন নিচের লেখাটি,
    http://www.news.chtbd.net/?p=991

  4. arjyo chakma

    আপনার লেখাটি পড়ে বুঝলাম আপনিও একজন সুবিধাবাদী দলের একজন, কেননা আপনার কথায় একপক্ষ সাপোর্ট করে , লেখছেন ভালো কিন্তু নিরপেক্ষ হয়ে লিখুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>