«

»

এই লেখাটি 915 বার পড়া হয়েছে

Print this প্রকাশনা

দেখা ভার্চুয়াল জগত-বাস্তব জগত ও শান্তিমিচ্ছিলের থেরাপী নিয়ে কিছু কথা

দেখা ভার্চুয়াল জগত-বাস্তব জগত ও শান্তিমিচ্ছিলের থেরাপী নিয়ে কিছু কথা- হেগাবগা চাংমা

১.
সারাটা জীবন যদি ভার্চুয়াল জগতে কাটিয়ে দিতে পারতাম তা হলে কতই না ভালো হত! ভার্চুয়াল জগতে না আছে বাবা-মার শাসন, না ভায়ের হুকুম, না বোনের আবদার, না শিক্ষকের এসাইনমেন্ট-এর প্রেসার, না বসের নজরদারি-জবাবদিহি, না গাড়ির জাম, না বন্দুক যুদ্ধ সহ যা কিছু চাপিয়ে দেয়া, যা কিছু বিরক্তিকর তার কিছুই নেই এই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে! যা আছে তা শুধু বন্ধুদের সাথে আড্ডা-শেয়ারিং-চ্যটিং সহ নির্মল আনন্দ! এখানে কোন পার্থক্য নেয়, নেয় বাবা, মা, ভাই, বোন, শিক্ষক, বস, চাকর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত ভেদ জ্ঞান। সবাই সবার বন্ধু। এখানে চাইলেই বন্ধু পাওয়া যায়, চাইলে বন্ধুকে ছুড়ে ফেলা যায়(!); চাইলেয় সম্পর্ক গড়া যায়, চাইলেয় ভাঙ্গা যায় সব কিছু! এখানে ইচ্ছে হলে পরিবার বদলানো যায় বা পরিবার ত্যাগ করা যায় অথবা একই সময়ে মাল্টিপল ফ্যমেলিতেও অবস্থান করা যায়! চাইলেই পাওয়া যায় নতুন বাবা-মা, আবার বদলানোও যায় খুব সহজেই! এখানে ইচ্ছে হলে নিজেকে ডিএক্টিভেট করে বা সাইন আউট করে রাখা যায় কিছু সময়ের জন্য, কিছু দিন বা বচ্ছরের জন্য তাতে কারো কোন অসুবিধা হয়ও না। বাস্তব জগতের মত একই সময়ে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গতানুগতিক পাঠ নয়, চাইলে হাজার হাজার শিক্ষায়তনে বিচরন করা যায়, একি সাথে অনেক মনীষীর শিসত্য গ্রহন করা যায়।
এখানে সন্তু-প্রসিতকে চেলেঞ্জ জানানো যায়, কাঠগোরায় দাড় করিয়ে বিচার করা যায়, বিচারের রায়ও আমাদের হাতের মুঠোই! এখানে হাসিনা-খালেদার-ওবামা-পুতিনের মত ক্ষমতাশালীরাও সন্তু-প্রসিতের মত কাঠগোরায় দাড়াতে বাধ্য, স্বয়ং ঈশ্বরও কোন কোন স্কুলের ল্যবরেটরিতে বন্দী থাকতে বাধ্য হন এই ভারচুয়াল দুনিয়ায়! এখানে খুব সহজেই দাবী জানানো যায় স্বাধীনতা, পূর্ণস্বায়ত্তশাসন, চুক্তির বাস্তবায়ন-এর। এখানে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়; আন্দোলন হয় জ়ে,এস,এস বা ইউ,পি,ডি,এফ-এর সংঘাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে। কোন হামলা, হুমকিকে তোয়াক্কা না করে অন্যায়-অবিচারের বিরিদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়। থামানোর কেউ নেয় বলে ইচ্ছা মত বক বক করা যায়। এর সুবিধা অনেক। একের ভিতর অনেক কিছুই পাওয়া সম্ভব বলে আলাদা আলাদা কোথাও যাওয়ার সময়, শ্রম, অর্থও বাচানো যায় যেন বাংলাদেশের টেলিভিশনে প্রচারিত বিজ্ঞাপনমালা!

[বি, দ্রঃ
নিচে কয়েকটি শিক্ষালয়ে যাওয়ার “রেগা” দেয়া হল-
http://www.wikipedia.org/
|সৃজনশীল-বর্জ্য
http://www.dhormockery.com/
http://www.mukto-mona.com
http://www.choturmatrik.com/
http://www.sachalayatan.com/
http://www.cht.newsonline.wordpress.com
http://www.news.chtbd.net/

ই দুনিয়ার প্রতি যদি সামান্যতম আগ্রহ থাকে তাহলেই আপনি অবশ্যয় সাইটগুলো বেড়িয়ে আসতে পাড়েন। আশা করি ভালো লাগবে, উপযুক্ত জ্ঞান পাবেন]

বাস্তব জগতে মানুষের অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে হয়। সামাজিক রীতি-নীতি, পরিবার-সমাজ-দেশ-মানবতা-সীমাবদ্ধতা সব কিছুকে মেনে চলতে হয়। এখানে ভার্চুয়াল জগতের মত যা ইচ্ছে তা করা যায় না। আইন-সমাজ-ধর্ম-রাস্ট্র-প্রতিষ্ঠানে বাধা এই জগতে বাবা-মা-ভাই-বোন-স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সকলের ইচ্ছাকে মানিয়ে চলতে হয়। এই জগতে সব কিচ্ছুই সাজানো। কিভাবে মানুষকে বশে এনে ডোমেস্টিক এ্যনিমেল বানানো যায় তা বাস্তব জগতেই বুঝা সম্ভব শুধু। মানুষ মানুষের শৃঙ্খলে বন্দী, অন্যায়, শোষন, অবিচার, আগ্রাসন এই জগতে এত বেশী যে মানুষ এই জগত ছেড়ে পালাতে চায়! তাই সে এই ক্ষোভকে ছুড়ে দেয় ভার্চুয়াল জগতে। বাস্তব জীবনের ছায়া পরে এই জগতেও।

২.
কিন্তু ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তব জগতের মধ্যে অনেক অনেক তফাত! এই তফাত বোধ করি অনতিক্রম্য। তবুও বস্তব জগত এই জগতের উপর মাঝে মধ্যে হানা দেয়। বাস্তবতায় দস্যু, ছিনতাইকারী, চোর যেমন অন্যের বাড়ি হানা দেয় বাস্তবতাও মাঝে মাঝে ভার্চুয়াল জগতে প্রানভোমরায় আঘাত হানে। এক সময় এই জগতকেও শিকল পড়িয়ে রাখতে চায় বাস্তবের অধিপতিরা।তাই তার এই মানুষদের মুল অর্থাত বাস্তব জীবনের উপর হানা দেয়। চাপিয়ে দেয় কুশাসন, আগ্রাসন, অর্থনৈতিক বন্দীত্বর জাল। কিন্তু এই জগতের অধিবাসীরা যে সব সময় ভাঙ্গে; কেননা তারা বাধাকে ভাঙ্গতে জানে! বারবার চাপিয়ে দেয়া অন্যায় ভার্চুয়াল জগতকে ভারী করে তুলে। আর প্রতিটি সিস্টেম বা বস্তুর ধর্মই তো ধারন ক্ষমতাকে অতিক্রম করা মাত্রই ভেঙ্গে পরা! আর ভার্চুয়াল জগতও বস্তুর এই ধর্মের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। তাই এই ভেঙ্গে পরা এই জগতের মানুষরা হানা দেয় বাস্তব জগতে।

বাঘাইছড়ি-খাগড়াছড়ি হত্যাকান্ডের পরে ফুঁসে উঠা জুম্ম ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গুইমারা-মাটিরাঙ্গা-জালিয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, তিউনিশিয়া, মিশর, সিরিয়া সাহ আরব বিশ্ব, আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট অকুপাই, বিশ্বব্যাপী এর সমর্থনে উঠা ঝড়ো হাওয়া এই বক্তব্যকেই সমর্থন করে। কিন্তু ফুঁসে উঠা এই আন্দোলনগুলোকে ক্ষমতাবান-শাসক-শোষক বিভিন্নভাবে প্রশমিত করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে বারবার। আমাদের জুম্ম সমাজে নৈতিক আন্দোলনকে বারবার পথ ভ্রস্থ হতে হয়েছে কখনো হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে(১৯৭২ থেকে আজঅবধি আন্দোলন চলা কালে ছাত্র-জনতার উপর সেনা-মুখোশপার্টি সহ দালাল দিয়ে হত্যাকাণ্ড), কখনো দালাদ সৃস্টির মাধ্যমে( দীপংকর-সমীরনদের দিয়ে), কখনও পার্টি ভাঙ্গার মাধ্যমে, অথবা মগজ ধোলায়(!)এর মাধ্যমে। আমার সচেতন মনে সম্মুখ অংশগ্রহনের দুটি চিত্র তুলে ধরছি।
(১)এই ভার্চুয়াল যুগেও আমরা দেখছি যখন “জুম্ম মুই”এর সংবাদের মাধ্যমে মাটিরাঙ্গা-জালিয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে জুম্ম সমাজ ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেঁটে পড়ছিল ফেইসবুকে, আন্তর্জাতিক মহল চিন্তত, উদ্ধিগ্ন তখনো এক শ্রেণীর দালাদ অন্যায়কে মেনে নিয়ে “শান্তিমিচ্ছিল”এর পেইনকিলার খাইয়ে-ঘুমের ঔষধ দিয়ে বিপ্লবী-প্রতিবাদী জুম্মচেতনাকে চিরতরে ঘুমিয়ে রাখতে চেয়েছিল।
(২)বাঘাইছড়ি-খাগড়ছড়িতে ঘটনায় গঙ্গারামের ১০-১৫টি গ্রাম, খাগড়াছড়ির সাতভেইয়্যেপাড়া-মহাজনপাড়া-মধুপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সংবাদ যখন এস,এম,এস-ফেইসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল মানুষে মানুষে তখনো জ্বলে উঠেছিল জুম্ম ছাত্র-জনতা। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ, পার্বত্য চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আগুন। [মনে পরে, অরাজনৈতিক হয়া সত্তেও অনেক বদ্ধুবান্ধবীদেরকে অংশগ্রহনে উতসাহিত করেছিলাম; তখন বুয়েটের বন্ধুরা PCJSS-UPDF ঐক্যের দাবিতে ব্যনার হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। মুক্তাঞ্চলে দুদলের পাশাপাশি সমাবেশ দেখেছিলাম। ঐক্য চাই, ঐক্য চাই বলে চেচিয়েছিলাম। কেন ঐক্য হলো না জানতে চাই ???]এভাবেই ফেঁটে ফুঁসে উঠা ছাত্র-সমাজকে আবারো পথভ্রস্থ করা হলো “শান্তিমিচ্ছিল”এর পেইনকিলার খাইয়ে-ঘুমের ঔষধ দিয়ে।

এভাবে ঘুমের ঔষধ-পেইনকিলারের চিকিতসায় কথনো রোগীর আরোগ্য লাভ হবে না। যথাযত চিকিতসার ব্যবস্থা না করিয়ে, ভুল চিকিতসা দিয়ে রোগীর তো আরগ্য হবেই না বরং তাকে তারাতারি মৃতু্য পথ যাত্রী করা হচ্ছে বারবার কার সার্থে? এই প্রশ্নগুলো আসা উচিত ছিল বর্তমান জ়ে,এস,এস বা ইউ,পি,ডি,এফ-এর নতুন নেতৃত্বের কাছে থেকে! এইজন্য সঠিক পদ্ধতিতে চিকিতসা যদি রোগীকে অপারেশন টেবিলেও থেলে দেয়, আমি সেথানেও যেতে রাজি! ভার্চুয়াল জগতে নবীন-তরুণ বন্ধুদের কাছে আমিত দার সংঘাত বন্ধের আহবান দেখেছি, অডং দা, সেদামদা, জ়ে কার্বারী দা সহ অগনিত বন্ধুদের সংঘাত বন্ধের আর্তি আমাকেও স্পর্শ করে যায় বার বার। তারপরও এই চিকিতসাটা যেন মাঝে মধ্যে হোমিও চিকিতসার মত লাগে! আবার বুঝতে পারি না সন্তু-প্রসিতের চিকিতসার পদ্ধতিও(বোধ হয় বল্লমের আকুপাংচার!)। তবে হ্যাঁ, নতুন দিনের মানুষ হিসেবে একটু বনজ-হোমিওর চেয়ে ডাক্তারিতে আস্থা বেশী [তবে হতুরে ডাক্তার চাই না] হবে এটাই স্বভাবিক। তাই রোগ মুক্তির জন্য জাতিকে এভাবে পেইনকিলার-ঘুমের বড়ি না দিয়ে যথাযত দায়গোনষ্টিক চ্যেকিং-এর মাধ্যমে যেন উপযুক্ত চিকিতসা দেয়া হই এই বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে প্রস্তুত হওয়ার আহবান রইল। আজ বহুমাত্রিক সামাজিক রাজনৈতিক সমস্যা জর্জতির সমাজ কাল কচি-কাঁচাদেরও এই অফুরন্ত আন্দকে দূঃস্বপ্নে পরিনত করবে। তখন তারাও মুক্তি চাইবে এই দুঃস্বপ্ন থেকে। সেই দিনটিতে যেন পেইনকিলার খাইয়ে তাদের বিপ্লবী চেতনা ও ভবিষ্যতকে অসার-জড় করে না রাখা হয়।

হেগাবগা চাংমা
১১ নভেম্বর ২০১১

[ বি,দ্রঃ ঈদের বন্ধ শেষ হয়ে এল। অফুরন্ত সময়গুলিও যেন সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ক্লাশ, সিরিজ পরীক্ষার লম্বা সিডিউল মনকে অস্থির করে তুলছে। হয়তো কিছুদিনের জন্য হারিয়েও যেতে হবে। Cht Bd সহ সকল বন্ধুদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি পাশে থেকে অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য। নারী যাকে ভালোবাসা দিয়ে টানেনি, সাইটের প্রতি ভালোবাসার টানে তাকে যে আবারো যে আসতেই হবে! ]

About the author

হেগা

Permanent link to this article: http://chtbd.org/archives/1162

2 comments

  1. হেগাবগা চাংমা

    খুশি হলাম এবং আস্থা পেলাম। লেখাটির দূর্বল পয়েন্টগুলোর বিষয়ে মন্তব্য পেলে আরো খুশি হবো।
    ধন্যবাদ যারা লেখাটি পড়েছেন।

  2. info chtbd.net

    হেগাবগা চাংমা@ আপনার শেষ কথাগুলো ভালো লাগলো।। আমরা আপনার পাশে আছি সবসময়। মনে রাখবেন ক্লাশ, সিরিজ পরীক্ষা সবসময়ই থাকবে , এর মধ্যই সবকিছু করতে হয়। আর ছাত্রজীবনে আপনি যা পাবেন চাকরিজীবনে তা আর পাবেন না। আপনি সৃষ্টি করছেন আর আমরা আপনার সৃষ্টি-কে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছি শুধু। আমাদের চাইতে আপনি অনেক বেশি কাজ করছেন। আমাদের সাথে থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>