Print this পাতা

হুচ্‌- লিটল ম্যাগাজিন


হুচ্‌ ৫ম বর্ষ ২য় সংখ্যা পড়তে আর ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন-
সম্পাদক- আলোড়ন খীসা

 

 

 

*******************************************************

 

Huch cover

হুচ্‌ ৫ম বর্ষ ১ম সংখ্যা পড়তে আর ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন-
সম্পাদক- আলোড়ন খীসা
সম্পাদনা সহযোগী- দীপন চাকমা

প্রচ্ছদ- নান্টু চাকমা

*******************************************************

হুচ্‌- লিটল ম্যাগাজিন। ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৩

হুচ্‌- লিটল ম্যাগাজিন। ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা

হুচ্‌- লিটল ম্যাগাজিন। ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা

পুরো কাগজটি পিডিএফ-এ পরতে ডাউনলোড করুন।

*******************************************************

হুচ্‌ ,একটি  সমন্বিত  প্রয়াস, ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা জুলাই ২০০৯

আদিবাসী,আলোড়ন খীসা,chtbd,news

১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা
জুলাই ২০০৯

 

সম্পাদক
আলোড়ন খীসা

সম্পাদনা সহযোগী
স্মৃতম দেওয়ান
মহেন্দ্র চাক্‌মা

প্রচ্ছদ
নান্টু চাক্‌মা

নামলিপি
স্মৃতম দেওয়ান

মুদ্রণ ব্যবস্থাপনা
ইম্পেরিয়াল প্রেস
জামে মসজিদ লেইন, যশোর।
মোবা-+88 ০১৭১২-০৭৩৩০৮

সম্পাদকীয় যোগাযোগ
ই-মেইল[email protected]
মোবা+৮৮-০১৯২৩-৪০০৪৫০

লেনদেন- ৩০ টাকা

সম্পাদকীয়

কি এক দুঃসময়ের চেরাগ হাতে এগিয়ে চলছি তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা, কারণ, উৎসমুখ জানতে চাই। সুনির্দিষ্ট ডোরাকাটা দূর্বোধ্য জীব প্রায়শই জীবনের স্বাদগুলো নিংড়ে রসশূন্য পলিথিন বানিয়ে দেয়। আছে কর্তাব্যক্তিদের শিয়াল চোখ। তৈরি করা হয়েছে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার বেকুবী কলাকৌশল। পার্বত্যচট্টগ্রাম নামক তিনটি জেলা নিয়ে আমাদের প্রায়ই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে হয়। ঐ তিনটি জেলা নিয়ে আলোচনায় আমাদেও চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। সমস্যার পর সমস্যার গিঁট দেই। সমাধানের পথ খোঁজা আমাদের ধর্তব্য নয় !! শোষক শ্রেণী এখন নিজেরাই নিজেদের উপর আস্থা হারিয়ে ইতি-উতি আপোষের থালা খূঁজে বেড়াচ্ছে। সম্পর্কের জোড়াতালি অবস্থা বানাচ্ছে বেগতিক। এমন অবস্থায় পার্বত্য সমস্যা নিয়ে ভাবার সময় কৈ ? যারা উত্তর আধুনিকতা- উত্তর উপনিবেশিকতা বলে চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে সংস্কৃতির মূল তেলা লেজে হাতরাচ্ছেন তারা কি জানেন পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় উপনিবেশিকতার শক্ত কাঁটা কোথায় বিধেঁছে আর কাঁটা ছোটার বদলে কেন পড়ছে হাতুরির শক্ত ঘাই। যদি জেনে থাকেন অন্তত নিজেদের স্বার্থে হলেও মুখ খুলুন।
তবে এই ”উত্তর” নামক দগদগে শব্দের জোরে সবাই সবকিছু নতুনভাবে ভাবতে, বিশে ষণ, পর্যালোচনা করতে শুরু করেছেন। খুঁজে বেড়াচ্ছেন সমাধানের নতুন গলি। যাই হোক, শব্দটির ব্যবহার্য দিক আমরা কোনক্রমেই অস্বীকার করতে পারছি না। পুরোনো পাতিলকে ঘষে-মেজে আকর্ষণীয় বানানোর নয়াকায়দা হরহামেশাই চেখে পড়ছে। তার প্রত্যক্ষ অনবচ্ছেদে জীবন-যাপন প্রণালীতে যুক্ত হয় নতুনতর বিষয়। যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে তা সমাধানের কোন পথ তো খোঁজা হচ্ছেইনা আরো নতুন নতুন উদ্ভট সমস্যা তৈরির প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন ধীরগতির বিষ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে জনপদে। কথিত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া এতো মন্থর হয় যে তা আদৌও কোনদিন সমাধানের মুখ দেখবে কিনা সে বিষয়ে জাগে যৌক্তিক সন্দেহপ্রবণতা। সবচেয়ে বড় দুঃখ লাগে যখন দেখি কিছু মানুষ নিজের নাড়ির সমস্যা এড়িয়ে বাইরের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে মাথা ব্যাথা কোরে অবশেষে তালগোল পাকিয়ে সবজান্তার ভাব নিয়ে বসে থাকেন।
আমাদের নিজের দেশের সমস্যাগুলোর রঙ যেন আমরা একটু ছুঁয়ে দেখি।
”হুচ্” চাকমা শব্দ। যার অর্থ পদচিহ্ন। আমরা এই অস্থির সময়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণের কিছু চিহ্ন গড়ে তুলে অভ্যন্তরীণ দায় থেকে সংগ্রামের লাল রাস্তায় এসে জড়ো হলাম।সবকথা, সবসংগ্রাম যেখানে গিয়ে তার পরিণতি খুঁজে পায় তা হল “শ্রেণী”। শ্রেণী’র বাইরে যদি কিছু করতে চাই তা হবে সাময়িক বৃথা আস্ফালন। আমরা কখনোই তা করতে যাব না। আমরা চাই এই চেতনায় ঋদ্ধ হোক বর্তমান ও উত্তর প্রজন্ম।

 

“এয বেগে ওজে যেই “

–তারুম চাঙমা

“ঘরত বোই থেবার সময় নেই
হিলচাদি গাঙত হোন সুগ নেই
এয বেগে রাজপদত
যেবং আমি মিশিলত
সংগ্রাম গরি আনিবং স্বায়ত্তশাসন
ঝুরোতুরো গরি দিবং আমি শাসন
তুমি এয বেগে মিলি এয মুজুঙে ওজে যেই
ঐ অসুর’অ জাততোরে এয আমি বেগে মিলি শেষগরেই

পানছড়ি, লংগদু, মাল্যা, লোগাং, নানিয়াচর’অ গনহত্যা
মা-বোন’অ রক্তে রাঙা উইয়ে রাঙামাত্যা
বান্দরবান- হাগারাছড়িত মজ্জ্যেন হদক বাপ-ভেই
সংগ্রাম গরি স্বায়ত্ত শাসন আমি আনিবার চেই।

লারমা, কল্পনা, অমর বিকাশ, ভরদাসমনি
এয আমি বেগে গেই তারার জয়োধ্বনি
বিজগ’অ পাদাত লেগা থেব তারা নামানী
রক্ত বেগর গরম অব ভাবিলে তারা হদানী

আলুটিলা, ফুরোমোন, তাজিডং যেদকদিন থেবাক
জুম্ম-উনে যেদকদিন সংগ্রাম গরি যেবাক
চেঙেই – মেইনী- হাজলং মিলিনেই কর্নফুলি
হিল চাদিগাঙর গণহত্যা এয আমি নভুলি

চুবগরি তুমি ন’থিয়
মরনান ন, ডরেয়
সংগ্রামত যেবং এক সমারে
ওজেই যেবং জয় – জগারে ।

 

যাপিত জীবন

–আলোড়ন খীসা

আমরা ঠাণ্ডা তুষারপথে নাক_কান_মুখ ঢেকে হাঁটছি
পরস্পরকে দেখার ভণিতার অভিনয়ে শতবছরের
পরিচয়ের যে সূত্র তার সাথে গেরো বাঁধা আমাদের
দূর্বল আত্মা ফেলে যেতে চাইছি একে অপরকে
খবরাখবর না রাখার নিরব চুক্তি এবঙ অপ্রেমের সহবাসে ।

ফাতেমার জন্য একপাতা ফর্দ

যে অদৃশ্য সুতো তোকে ধরে টানে
সেই সুতোর একপ্রান্তে বসে আছি
গাইছি কীর্তনের এক প্যারা
একপ্রস্থ কাগজ তোর জন্য
আঁকিবুকি স্বপ্ন গড়ার জন্য
ঐ পাহাড়ের পিঠে তোর ঘর ছিল
বুনো শনে বানানো নিজের তোর
সবুজের ঘরে তোর অবাধ বিচরণ
জুমের আগুনে পোড়া তোর ত্বক
তোকে দেখলেই বুঝি-
খাগড়াছড়ি ছড়ার স্বচ্ছতার বিবরণ
জুমঘরের প্রশ্নহীন সুরক্ষা
মাটিখোড়া আলুর প্রকৃত স্বাদ
শুয়োরের চর্বির বাড়ন্তের কারণ
পাহাড়ের বুকের ফসলগুলির স্বাদুতার মন্ত্র
তোর-আমার ছায়া যেদিন মিশবে
বুঝবি ভেঙে ফেলবো একটি সকালের অলসতা

 

 

বুমেরাং সংস্কৃতির উত্থান আখ্যানে আদিবাসী দহন
রুদ্র শায়ক

সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্যেও যে দেশে জাতিতাত্তি্বক সমপ্রদায় ও ধর্মীয় সমপ্রদায়ের ঐতিহাসিক বিভাজনে সমাজ বিভক্ত থাকে, সেখানে বাস্তবিক আর্থসামাজিক বিভাজন ও বৈষম্য শ্রেনী কাঠামো ও জাত-ধর্মের কাঠামো বা ক্যানন ভেঙে দিতে হবে। আদিপত্যবাদি কেন্দ্রিক ধারণাকে উদ্দেশ্যমূলকতা থেকে সরিয়ে বিষয়গত করে তুলতে হবে। যে কেন্দ্র তার শূন্যমূলে অর্তকির্ত সংস্কৃতি তৈরি করে চাপিয়ে চায় তার বিপরীতে সাধারন মানুষের প্রান্তিক সংস্কৃতি ও স্থানিক স্বরন্যাস দিয়ে চারদিক থেকে পাল্টা জবাব দিতে হবে। অর্থাৎ কেন্দ্রকে বিকেন্দ্রিকরণ নয়, বিচ্ছিন্ন ভাবে গড়ে উঠা মানুষের বোধকে বিধয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে অন্বয় অন্বেষনের ইচ্ছায়। রাস্তা কেটে দিলে সীমা ভাঙা হয়না, সীমা ভেদমূলক তাই সীমাকে ফেরাতে হবে অভেদের দিকে। তত্ত্ব খাড়া করে মানুষের মধ্যেই ঘোর বিরোধ তৈরি করেছে মূলা খাওয়া বুদ্ধিজীবি শিবির। যারা নিজেরাই তৃণভোজী অথচ মানবতার কথা বলে মানুষকে ফেরার প্রকৃতি থেকে। তত্ত্বের শৃঙ্খলে চিহ্নিত করে মানুষ/অমানুষ, জাতি/উপজাতি, সভ্য/অসভ্য, জ্ঞানী/মূর্খ, মর্ডান/গেঁেয়া, এই দ্বিপাক্ষিক দ্বৈতাচারের কারণে তাদেরই মায়া সমাজের সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা এবং মুখোমুখি শ্রেণী বৈষম্য, এরাই বিভ্রান্তি সৃজন করে সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বির্তক লাগিয়ে দেয়। ঠান্ডা মাথায় পর্যবেক্ষন করে দুরন্ধর আউট সাইডার হয়ে মূল। বিষয় হল ইর্নার কনফ্লিষ্ট তৈরি করে উপদল গড়া এবং নিজের মধ্যে আন্তঃসংঘাত তৈরি করে সামষ্টিক শক্তিকে ভেঙে দেয়া। এই সময়টুকু তারা ব্যবহার করে পুকুরের মাছ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। কট্টর মার্কসবাদীরাই পতনের সিড়িতে বসে আছে বিভ্রান্তি খপ্পরে পড়ে। অথচ অভেদের সন্ধানে চেতন সূত্রের মননবৃত্তি নিয়ে উত্তর আধুনিকতা কালচারাল ফ্রিডমের মাধ্যমে জনগণের আর্থসামাজিক উপলব্দি তৈরি করছে এবং আক্রমনবাদী সাম্রাজ্যশক্তির অপপ্রয়াস কে হঠাচ্ছে উপনিবেশিক দাসত্ব থেকে নিজের উত্তরনের মাধ্যমে।

উপনিবেশ গড়ে উঠায় পর্যায়ে ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য নানাভবে প্রকাশ পায় প্রত্যাখান ও প্রতিরোধের মনোভঙ্গি। যত দুর্বল আর বিচ্ছিন্নই হোক এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যাবে না। উপনিবেশিক শাসন নিজের সাংস্কৃতিক আধিপত্য রক্ষা করে আসছে দুইভাবে, যা নয়া উপনিবেশিক সময়েও স্পষ্ট দেখা যাচেছ। একটি ভাষা, অন্যটি অর্থনীতি। ইংরেজী ভাষা আমরা শিখেছি কিংবা শিখতে বাধ্য হয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন জাতিসত্তার বসবাস। প্রায় প্রতিটি জাতিসত্তার রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি এবং সমৃদ্ধ ভাষা। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে সংখ্যাগরিষ্ট অংশের ভাষা কিংবা কেন্দ্রের ভাষা সাম্রাজ্য, তাদের নিজস্ব ভাষা থাকা সত্ত্বেও তাদের উপর অন্য ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা বাধ্য করা হয়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ তাতে প্রচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষাভাষীর পাহাড়ী আদিবাসীকে চারটি ভাষার অধ্যায়ন করতে হয়। শুরুতে তারা শিখে মায়ের ভাষা অর্থাৎ মাতৃভাষা, দ্বিতীয়ত স্থানিক যোগাযোগের নিমিত্তে চট্টগ্রামের উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে প্রমিত ভাষা বা বাংলা ভাষা। চতুর্থ ভাষা হিসেবে ইংরেজী। অথচ মূল স্রোতের বিশেষত বাংলা ভাষী শিশুকে শিখতে হয় দু’টি ভাষা বাংলা ও ইংরেজী। চারটি ভাষার শৃঙ্খলের চাতালে পড়ে ভালভাবে কোন ভাষায় তারা আয়ত্ব করতে পারেনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। বিশ্বব্যাপী ভাষা সমূহ দু’ভাবে বিভক্ত কতর্ৃত্ববাদী(Dominate) এবং প্রান্তিকায়িত(Marginalized)। বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামোর মত রাষ্ট্রকাঠামোতেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠে, যদি একই রাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষাভাষীর ও সংস্কৃতির জাতিসত্ত্বার বসবাস থাকে। আধিপত্যবাদী ভাষা তার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য বেছে নেয় সওদাগরি পন্থা। সওদাগরি পদ্ধতির উত্থান হয় আধুনিকতার বেড়ে উঠাকে কেন্দ্র করে। উপনিবেশের সমপ্রসারণ আধুনিকতারই প্রায়োগিক পদ্ধতি। বিশ্বায়নের প্রভাবে বণিক রাজত্ব কায়েম হচ্ছে। ট্রান্স কমিউনিকেশনের জন্য তৈরি হচ্ছে হাইওয়ে। স্থায়ী জায়গা(Site) কে বিভক্ত করে বাইপাস টানেল তৈরি হচ্ছে। কারণ স্থানিক(Local) ভাষাকে যদি প্রভাবিত করে আদিপত্যবাদী বা সাম্রাজ্যবাদী ভাষার বিকাশ ঘটাতে না পারে তাহলে নির্দিষ্ট(Particular) লক্ষ্যে পৌছাতে তালগোল লেগে যেতে পারে তাই তারা চায় সাধারণ (Common) ভাষা, কোন ভাষায় নিজেকে নিয়ে নিজে বা নিজের ভেতর নিজে স্বয়ং সম্পূর্ন নয়। কিন্তু বৈশ্বিক হতে গিয়ে উপনিবেশের ঢান্ডাবেড়ি পরছি, উপনিবেশিক মানসিকতার তকমা খেয়ে। উদ্গীরন করছি অন্য ভাষার চেয়ে ইংরেজী ভাষা একটু বেশী সার্বজনীন(Universal)। একই ধারনার নবায়ন ধারা অব্যাহত রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতর ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মধ্যেও বিরাজমান।

দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধত্তোর একটি দেশের গঠন প্রক্রিয়ার শুরুতে আপামর জনসাধারন জড়িয়ে পড়ছে নৈরাশ্য, হতাশা ও বিচ্ছিন্নতাবোধে। তা কাটিয়ে উঠতে না উঠতে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের নয়াপ্রভাব আমাদের উপর ভর করেছে। পুরনোর প্রতি অনাগ্রহ, ঐতিহ্যের প্রতি বিতৃঞ্চা, গতানুগতিকতার প্রতি বির্ষমিষা এই সব আমাদের জাত্যভিমান নষ্ট করে দেয়। বারবার সামরিক থাবায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কলকব্জা নড়ে যায়। বারবার ক্ষমতার প্রহসনের নিমিত্তে জোট, মঞ্চ দৈরাত্যের ফাঁকে উড়ে আসে ঈগল, বাসা বাধেঁ পুরানো শকুন। কথিত ইয়াং জেনারেশন হয়ে উঠে ভক্ষক। জাতির উত্তর প্রজন্ম তার উত্তরন পর্বে আস্থা হারায় জনগণের। এই শূন্য ফাঁপা সময় পাড়ি দিতে হবে মারাত্মক পরিণতির মধ্য দিয়ে। সম্ভাবনা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে দূরদর্শী নেতৃত্বের শূন্যতায়, ইতিহাস বারবার কথা বলে, শিকড়ের বিশ্বাসে ঐতিহ্যের নবায়নে হয়তো আবারো মনন কাঠামো নতুন উদ্যমে বিন্যাস করবে আমাদের প্রজম্ম। সে লক্ষ্যে নিষ্ঠার হাতে ধীমানরা রচনা করেছে সভ্যতার মাঙ্গলিক আলোক সম্পাত। স্বজাত্য চেতনায় সভ্যতা ও সংস্কৃতি ঘুরে দাঁড়াবে দুঃসময়ের আবর্ত থেকে। বৌদ্ধিক চিন্তার জাগরনে ক্ষমতাশীল একবিশ্বকেন্দ্রিক দাপটে নীতির কাউন্টার ডিসর্কোস তৈরী হবে। শত বছরের অযাচিত ইতিহাস কাঁধে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ভূমিপুত্র ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়ার সাহসে টালি খাতা হাতে।

সংস্কৃতিক আধিপত্য বা হেজিমনি সমাজের অধিকাংশ মানুষের বাস্তব বোধকে প্রভাবিত করছে। তৈরী হচ্ছে বুমেরাং সংস্কৃতি। নিমিত্তির আকরন ভেঙে বাস্তববোধ ও ভেসে যাচ্ছে নিরুদ্দেশ। ভিনদেশী সংস্কৃতির চাতালে হাবুডুবু খাচ্ছে মধ্যবিত্তের বৃত্তিয় মনন কাঠামো। পাশ্চাত্য অনুকরণে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষ্টি ও রিচুয়্যাল। জীবন যাপনের আচরণগুলো বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বাচনভঙ্গি ও প্রকাশের রীতি। মিডিয়ার কল্যাণে আগ্রাসী সংস্কৃতি আজ নিরাপদ আবাস গড়ছে আমাদের বৈঠকখানায়। পণ্য উৎপাদক দেশের বিজ্ঞাপনী ভাষার দৌড়ঝাপেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পের কাঁচামাল। উন্নত প্রযুক্তির দৈরাত্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিল্পকারখানা, বেকার হচ্ছে শ্রমিক। অন্যদিকে কর্পোরেট পুঁজির বিনিয়োগে গ্রাম ছেড়ে ডেরা গড়ছে মানুষ নগরে। কৃষি অর্থনীতি ও প্রান্তিক অর্থনীতির চূড়ান্ত পাঠ আজ প্রায় সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। আই.এম.এফ. ও বিশ্বব্যাংকের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে নেই প্রান্তিক ও কৃষি অর্থনীতি। কৌম সংস্কৃতির শৃঙ্খল ভেঙে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমের শিল্পায়িত সমাজের সমাজ ধর্ম ও আচার।

স্থানিক সংস্কৃতি ও স্বর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দলিত হয়। রাষ্ট্র কাঠামোতেও ব্যবহৃত এই চিত্র যা বহুরৈখিক সময়ের বহুরৈখিক কন্ঠস্বর ব্যাহত করে। মানুষের ঐতিহ্য পরম্পরার সংস্কৃতি পালনে বাধাগ্রস্ত হলে কেন্দ্রমুখী প্রবনতার কোপানলে পড়ে সক্রিয় প্রকাশ ভঙ্গি যার পরিনতি হল বিকৃত। যেমন: রাঙামাত্যা শব্দটি রাঙ্গামাটি। তাই স্থানিক আইডেন্টিতে তা রাঙ্গামাটি হয়েছে।রাঙ্গামাটি হয়েছে। কিন্তু স্থানিক স্বরে তা রাঙামাত্যা’ই উচ্চারিত হয়। এরকম আরো অনেক শব্দ ও ভাষা আছে। বাংলাদেশে এই সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষীর ভাষা অধিকার আজ সংকটের মুখে। প্রকৃতিগত সংস্কৃতি যেহেতু ব্যাহত হচ্ছে তাই প্রয়োজন পাল্টা সংস্কৃতি(Counter culture) উত্থান। কিন্তু এই জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া যেন উপ-সংস্কৃতি(Sub culture) পরিনত না হয়। তার জন্য প্রয়োজন বৃহৎ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র বর্গের ঐক্য এবং ঐক্যর মধ্যে বিভেদ নয় প্রতিভূ চিহ্নায়িত করতে হবে সংস্কৃতি বিকাশের জন্য। সাহিত্য চর্চা হতে পারে এজন্য উৎকৃষ্ট মাধ্যম। তৈরী হতে পারে বিকল্প সাহিত্য(Alternative Literature)। আদিবাসী সমপ্রদায়ের মধ্যেও এই ধারাটি অব্যাহত আছে তবে বেশ শক্তিশালী নয়। তাদের অনেকেই নিজ ভাষা থাকা সত্ত্বেও তাদের ভাষায় সাহিত্য চর্চা করে না। বরং নিজের দ্রোহ ও দহনের প্রতিচিত্র এঁকে সতত জবাব দিতে প্রস্তুত মূল স্রোতের সাথে। কিংবা নান্দনিক মোহ হতে চায় খ্যাতিমান, পরিনতি হতে পারে শুভঙ্করের ফাঁকি। ইতিহাসে ফিরে পাঠ নেওয়া যেতে পারে “মাইকেল” থেকে। আদিবাসী প্রান্তিকজন সক্রিয় কবিতা চর্চায়। নিবিড় পাঠের(Close reading) মাধ্যমে concrete poetry বোধ নিয়ে যারা individual talent তাদের দ্রহনের প্রতিরূপ এমন-

১. তবু আমি স্বপ্ন দেখি একদিন অন্ধকার কেটে যাবে
আলো ফুটবে, বেঁচে থাকবো আমি ধরিত্রির সন্তান হয়ে।
-বিবস্ত্র পতিতা।। কর্মধন তন্চংগ্যা

২. পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে
তার অস্তিত্ব খুঁজে পায় না কোথাও,
চারদিকে অসহায় মানুষের মরণের শেষ চিৎকার
মাথা গুঁজবার ঠাঁই নেই আমার কোথাও
কী হবে বেঁচে, এভাবে ?
-কী হবে বেঁচে।। পলাশ তন্চংগ্যা

৩. খরতপ্ত পাহাড়ে- প্রান্তরে তোমরা ঝাঁপিয়ে পড়ো
সম্ভাবনার সমস্ত দিগন্ত খুলে সমস্ত জীবনকে
জাগিয়ে যাও।
এইতো সময়!
-নির্বাসিত শব্দমালা।। প্রশান্ত ত্রিপুরা

৪. বৈরী বাতাস কেমন করে যেন
বেঁচে আছি !
-উদ্বাস্ত স্বপ্ন।। মথুরা ত্রিপুরা

৫. নিরবে নিমগ্ন হলে আদি আবাদের জমি
জ্বলে ওঠে অনন্ত অমার প্রতারক ক্রুর পটভূমি !
-পটভূমি।। মং সিং ঞো

৬. তোমার পার্বত্য অঞ্চলে এত কেন ব্যথা
দুঃখবোধে প্রশ্ন করি বারবার
বন্ধু কেন দিনদিন নিষ্টুরতার পথে
হেঁটে যায়, মৈত্রীর চেতনা মুছে দিয়ে !
-খোলা চিঠি।। উ শ্যে প্রু মারমা

৭. পিঠ দিচ্ছি, বুক দিচ্ছি, হাত দিচ্ছি, পা দিচ্ছি
সারা শরীর বিলিয়ে দিচ্ছি
দেশ-জাত সবই দিচ্ছি মুখ চেয়ে কিছু বলছি না
নিচ্ছি নিচ্ছি বলে কখনো বলিনি !
-নদীর নাম লোগাঙ।। মৃত্তিকা চাক্‌মা

৮. আমার সমস্ত অস্তিত্বে ঝাঁকুনি লাগে,
সমস্ত তন্ত্রে নিশ্বাসে কাঁপুনি লাগে,
বিপন্ন বোধে আমার ক্রোধ জাগে, জাগে তারুণ্য
সম্মুখে আগত এক প্রজন্মের অহংকার জাগে
জাগে সাহসী সময়, জাগে প্রেম,
জাগে দীপ্ত ভালবাসা বিপ্লব।
-বিপ্লব।। কবিতা চাক্মা

#কবিতাগুলোর উদ্ধৃতি কবি হাফিজ রশিদ খান কর্তৃক সংকলিত “অরণ্যের সুবাসিত ফুল” থেকে সংগৃহিত।#

আদমশুমারির প্রেক্ষিতে পার্বত্যজেলাত্রয়
অর্ধেন্দু চাকমা

দীর্ঘ দেড় যুগেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর জনসংখ্যা আদমশুমারিতে পুন:সংযোজন করা হয়নি। সর্বশেষ ২০০১ সালে সারাদেশ ব্যাপী আদমশুমারি করা হলেও তা ছিল ধর্ম ভিত্তিক। ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলোর জনসংখ্যার বিষয়ে নতুন কোন তথ্য দেয়া হয়নি। শুধু আদিবাসীদের একটা সংখ্যা দেখানো হয়েছে।

জানা যায় ১৯৯১ সালের আদমশুমারি ধর্মভিত্তিক হলেও চুড়ান্ত রিপের্াটে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর জনসংখ্যার বিষয়ে একটা পরিসংখ্যান ছিল যেখানে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলোর জনসংখ্যা উলে খ ছিল। কিন্তু সর্বশেষ ২০০১ সালের আদমশুমারিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা সমূহের সেরকম কোন পরিসংখ্যান ছিল না। এমনকি বাংলাপিডিয়াতেও সব ক্ষেত্রে নতুন তথ্য ব্যবহার করা হলেও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলোর জনসংখ্যা বিষয়ে নতুন তথ্য সংযোজন করা হয়নি। এক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা সমূহকে সংশি ষ্ট করা যাচ্ছে না। তাছাড়া সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানা যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র অনেক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, বর্ণমালা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন বিলুপ্তির সম্মুখীন। তাছাড়া অনেক ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাও বিলুপ্তির পথে। এর জলন্ত উদাহারণ হল লুসাই জনগোষ্ঠী। এ জনগোষ্ঠী ১৯৮১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এক হাজার ২২ জন কিন্তু ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে তাদের সংখ্যা কমে মাত্র ৬’শ ৬২ জন। ত্রিপুরা, ম্রো, বম, চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলো যুগের সাথে তাল মেলাতে তাদের নিজস্ব ধর্ম পরিবর্তন করছে। এভাবে অনেক আদি জনগোষ্ঠী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম। ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলো টিকিয়ে রাখা সরকারের দায়িত্ব। সরকার তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলো এ দেশ থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত আদমশুমারি অনুযায়ী তিন পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনসংখ্যা ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩ শত ৩২ জন। এর মধ্যে চাকমা- ২ লক্ষ ৫৩ হাজার, মারমা- ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩ শত ১ জন, ত্রিপুরা-৭৯ হাজার ৭ শত ৭২ জন, মুরং-২২ হাজার ১ শত ৭৮, বম- ৬ হাজার ৯ শত ৭৮জন, পাঙ্খো- ৪ হাজার ৫ শত জন, খাসিয়া- ১২ হাজার ৩ শত জন, খুমি- ১ হাজার ২ শত ৪১ জন, খ্যাং- ২ হাজার ৩শত ৪৩ জন, চাক- ২ হাজার জন, তঞ্চংগ্যা- ২১ হাজার ৫৭ জন, ম্রো- ৫ হাজার জন, লুসাই/লুসেই- ৬ শত ৬২ জন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা গুলোর জনসংখ্যা বিষয়ে এ সংখ্যাগুলো গত দেড় যুগ ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেসরকারী উন্নয়নকর্মী ও মারমা জাতিসত্ত্বা নিয়ে কাজ করা চিহ্লামং চৌধুরী বলেন, ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আদমশুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চুড়ান্ত রিপোর্টে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা সমূহের জনসংখ্যা বিষয়ক কোন নতুন তথ্য দেয়া হয়নি। এটা খুবই দু:খজনক। সরকারের কাছ থেকে এ ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ আশা করা যায় না। তাছাড়া ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোকে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে গনণা করা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলোর জন্য ট্রাইবেল ছাড়া অন্য কোন পরিসংখ্যান রাখা হয়নি। শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে একটা জাতিকে পরিমাপ করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাংগামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইন্সিটিটিউটের পরিচালক সুগত দেওয়ান বলেন, ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে উপজাতি ভিত্তিক জনসংখ্যাগুলোর তথ্য থাকায় তা যথাযথ হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা সমূহের পরিপূর্ণ তথ্য না থাকায় হতাশ হয়েছি।

তিনি আসন্ন আদমশুমারিতে সরকার উপজাতিভিত্তিক আদমশুমারি করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন সরকার যদি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে চায় তাহলে দেশে অবস্থানরত সব ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জনসংখ্যার তথ্য বের করে তাদেরকে উন্নয়ন কাজের সাথে সংশি ষ্ট করতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাসমূহের প্রকৃত সংখ্যা জানা না তাদের জন্য গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির পরিচালক মন্ডলীর সদস্য মথুরা ত্রিপুরা বলেন ২০০১ সালের আদমশুমারিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা সমূহের জনসংখ্যা বিষয়ক নতুন তথ্য না থাকায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা জানা যায় না। ফলে তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা দুরুহ হয়ে যায়। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জানার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলো সম্পর্কে জনসংখ্যাসহ সব বিষয়ে তথ্য থাকা দরকার বলে তিনি মত দেন।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক পরিসংখ্যান বিষয়ক কর্মকর্তা মো: ওয়াহিদুর রহমান বলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে আদমশুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চুড়ান্ত রিপোর্টে তা প্রকাশ করা হয়নি। পরিসংখ্যান বিভাগ কর্তৃক জেলা, উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশিত ভলিউম গুলোতে শুধু ট্রাইবেল হিসেবে একটা সংখ্যা দেখানো হয়েছে। নিদিষ্টভাবে জাতি ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

 

 

 

অসমাপ্ত গল্পের অন্যপাঠ
-পাইচিমং মারমা

ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনের পাশে কোয়াটারে প্রায় এক বছর ধরে সুজিতবাবু স্বপরিবারে বাস করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের কর্মী ধ্রুব তঞ্চগ্যা আগেও কয়েকবার এখানে এসেছে। সুজিতবাবুর পরিবারের সাথে তার বেশ ঘনিষ্টতা হয়েছে। সুজিতবাবুর স্ত্রী তাকে বেশ পছন্দ করেন কিন্তু সুজিতবাবু আজকাল তাকে নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিবোধ করেন। ধ্রুবর রাজনৈতিক পরিচয় জানার পর থেকে তার অস্বস্তি বেরে গেছে। ধ্রুব গভীর কৌতূহল নিয়ে সুজিত বাবুর কাছ থেকে অনেক কথা জানতে চায় । সুজিত বাবু এ্ক সময় মেশিনগান হাতে শান্তিবাহিনীর গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এমু্যনিশন এঙ্পর্াট হিসেবে এখনো তার বেশ সুনাম আছে পুলিশ বাহিনীতে। সুজিত বাবুর অতীত দিনের কথা, তাদের শরনার্থী হওয়ার ইতিহাস, বর্তমান জীবন এসব শোনার ধ্রুবর আগ্রহের কমতি নেই। সুজিত বাবুর মনে হয় ধ্রুব কিছু কি যেন খুজছে। অতীত খুড়ে সে কোন সত্য আবিস্কার করতে চায়। ধুলো পড়া অতীত অধ্যায় যেন খুলে খুলে পড়তে চায়। আজ হঠাৎ করেই দুপুরে আগে ক্যাম্পাস থেকে সোজা সুজিত বাবুর বাসায় চলে আছে ধ্রুব। তাকে দেখে সুজিত বাবুর স্ত্রী মমতা রানী চাকমা খুশি হন। পেয়াজ মরিচ কুচি কুচি করে কেটে তেলে মাখানো ঝাল মুড়ি খেতে দেন তিনি। পাহাড়ি জনপদ থেকে অনেক দূরের এই সমতল স্বজাতির সঙ্গঁ একটা আনন্দের ব্যাপার। ঝালমুড়ি খেতে খেতে ধ্রুব সুজিত বাবুর সংসার দেখে। একটা ২০ ফুট বাই ১৪ফুট কামরায় কনস্টেবল সুজিতের সংসার। ঘরের ভিতর গাদাগাদি করে অনেক আসবাব টাসানো। ঘরের কোনায় একটা আলনায় গোটা পরিবারের কাপড় চোপর। আরেক কোনায় রাখা দুটো সিঙ্গেল খাট এক করে বানানো,সুজিত বাবু , তার স্ত্রী ও চার বছরের কন্যার মিলিত শয্যা। এক পাশে ১৪ ইঞ্চি টি ভি , থালাবাটির র্যাক, আলমারি, সুজিত বাবুর নামাঞ্চিত নমঃ ত্রিরত্নায় লেখা একটা ট্রাঙ্ক। ঘন ঘন বদলির এই চাকুরীতে অন্য কারোর ট্রাঙ্কের ভীড়ে যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য এই ব্যবস্থা। বিবর্ণ দেওয়ালের রং নিধর্ারণ করা কষ্ঠকর। পাশের কামরায় আরেকটা পরিবার থাকে। তার পাশে যৌথ রান্নাঘর, যৌথ টয়লেট, সব মিলিয়ে পুলিশী জীবন ব্যবস্থায় সুজিত বাবুর বিনা অভিযোগে অভ্যাস্ত জীবন যাপন করছেন। এই দম্পতির জীবনের স্থবিরতা কাটে শিশু কন্যা অর্পিতার অবান্তর শিশুসুলভ কথায়, হাসিতে, খেলায়, বাড়ীর পেছনে দিকটা বেশ খোলামেলা, পুলিশ লাইন্সের দেওয়াল ঘেষে বেশ অনেকখানি জমিতে মৌসুমী ফসলের আবাদ হয়। একটা পুকুর ও আছে মাঠের পাড়ে। সুজিত বাবুর চাকুরী জীবনে সবচেয়ে খারাপ কেটেছে বগুড়ায়। সেখানকার ঘরটা ছিলো একটা কানা গলির ভিতরে। বর্ষায় নালার নোংরা পানি নর্দমা উপচিয়ে গলির রাস্তায় জমে থাকতো। তাতে ভাসতো মরা ইদুর, মুরগি, গৃহস্থালি বজর্্য। ঘোর বর্ষায় সেই পানি বাসায় ও ঢুকে যেতো। ৯৭এর অস্ত্র সমর্পনের পর সুজিত বাবু পুলিশে যোগ দেন। ঝালমুড়ি খাওয়ার এক পর্যায়ে সুজিতবাবু বাড়ী ফেরেন। অনেকদিন পর ধ্রুবকে দেখে খুশি হন। সুজিতবাবুর স্ত্রীকে বৌদি বলে ডাকে।

বৌদি বলেন “ভাত খেয়ে যেও। হাঙরের শুটকি রান্না করেছি” খাগড়াছড়ির তরুণ ধ্রুব স্বভাবতই শুটকি ভালোবাসে। তাই না করতে পারে না। খেতে বসে ধ্রুব সুজিতবাবুর জীবনের অভিজ্ঞতা শুনতে চায়। জিজ্ঞেস করে পুলিশের চাকরীতে কোথায় কি অভিজ্ঞতা হয়েছে। সুজিবাবু চলমান জীবনের পেছনে হাঁটেন। বিভিন্ন কথা চলতে থাকে।
সমকালনি পাহাড়ের ঘটনাপ্রবাহ চলে আসে কথার সাথে। মমমতারাণী অর্পিতাকে ভাত মেখে খাওয়ান। সন্তানকে খাওয়ানোর এক পর্যায়ে মমতা ধ্রুবকে জিজ্ঞেস করেন-
”খাগড়াছড়িতে কি তেমাদের জায়গা আছে ভাই?”
”কেন বৌদি?”
”আমার মেয়ের জন্য। আমি নিজেদের কথা ভাবিনা। শুধু অর্পিতাকে নিয়ে চিন্তা। আবার কখন কোথায় বদলি হয়ে যাই, শুধু মেয়েটাকে পাহাড়ে কোথাও রেখে বড় করার ইচ্ছা। তুমিই দেখো বাচ্চাটা নিজের ভাষাটাও জানেনা। কেমন শেকড়ছাড়া লতার মত বড় হচ্ছে। আর তাছাড়া ওর চাকরিই বা কয় বছরের….”

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিছূক্ষণ থামেন বৌদি। তারপর বলেন-” আমাদের ও তো কোথাও থিতু হতে হবে। শেষ জীবনটা পাহাড়েরই কাটাতে চাই, ওখানে যতো অশান্তিই হোক,তবু। তোমাদের জমি থাকলে এক টুকরো দাওনা” খাওয়া বন্ধ করে ধ্রুব ভাবতে থাকে কি জবাব দেবে। ধ্রুবর মালিকানায় কি পাহাড় আছে ? সে খাগড়াছড়ি শহরের নিম্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, সামান্য একজন ছাত্র। এভাবে ওর কাছ থেকে কেউ কখনো পাহাড় চায়নি। ধ্রুব কোন যুৎসই উত্তর খুঁজে না পেয়ে চুপ করে থাকে। সুজিতবাবু ধীর গতিতে ভাত চিবোতে থাকেন। হঠাৎ নীরবতা ভাঙ্গে অর্পিতা।
”কাক্কু, কাক্কু তুম গান শুনবে ?”
সংবিৎ ফিরে পায় ধ্রুব। হেসে উত্তর দেয়-
”হঁ্যা নিশ্চয়ই শুনবো, তুমি কি গান পারো ?”
আমি ঞরিহশষব ঞরিহশষব পারি, ও বগি তুই খাস কি পারি, গধরহব ঢ়বুধৎ শরুধ পারি।”
”এগেুলো ছড়া নাকি গান অর্পিতা ?”

অর্পিতা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর খোঁজে।
এা বলে দেয়-” বলো, আমি ছড়াও পারি, গানও পারি। আমি এক যে ছিল টোনা-পরি।”
এবার অর্পিতা উত্তর খুঁজে পায়। সে মার কথায় পুণরাবৃত্তি করে। ধ্রুব বোঝে বৌদির কথা মিথ্যা নয়। মেয়ের মুখে হিন্দি স্যাটেলাইট চ্যালেনের প্রচারিত চটুল গান সঙ্গে পাচঁমিশালী সংস্কৃতি। অর্পিতা চাকমা লোকজ সংস্কৃতি, মিথ, রূপকথার কিছুই পারেনা।
খাওয়ার পর পুকুরপাড়ে চলে আসে সুজিতবাবু আর ধ্রুব। সুজিতবাব একটা নেভী সিগারেট ধ্রুবর দিকে একটা বাড়িয়ে দেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ দুজনে সিগারেট টানে। একসময় ধ্রুব জিজ্ঞেস করে-
” আপনি শান্তিবাহিনীতে কত সালে যোগ দেন ?”
”৮১-সালের শেষদিকে।”
”কোন প্রেক্ষাপটে যোগ দিলেন ?”
আলোচনা চলে যায় অনেক পিছনে। তখনকার সময়-
বাস্তবতা বলতে বলতে সুজিতবাবু নিজের কথা বলেন।
হঁ্যা সে এক সময় ছিলো। তখন তিনি মাত্র কৈশোর চৌকাঠ ডিঙিয়ে নব তরুণ। তরুণ স্বপ্ন ছিলো, তারুণ্যের জোশ ছিলো। তার সঙ্গে আরো অনেকে যুক্ত হচ্ছে জনসংহতি সমিতিতে। গহীন জঙ্গলে রাজনৈতিক ক্লাস, সামরিক ট্রেনিং নিয়ে তাঁরা নিপীড়ন বঞ্চনা মুক্তির শপথে শান দিতেন। নক্ষত্র-উজ্জল এসব দিনে থাকা খাওয়ার সুবন্দোবস্ত ছিলোনা। তার আবস্যকতাও ছিলোনা। তখন কি অর তাঁরা ভাবতে পেরেছিলেন একদিন এরকম ছাপোষা, হতচ্ছারা জীবনযাপন করতে হবে। আলেচনা অতীত থেকে বর্তমানে মোড় নেয়। বর্তমানটাই বেশী আলোচনার দাবীদার।
“আমার মনে হয় সবকিছু আবার নতুন করে ভাবতে হবে। আপনারা যা করে গেছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নতুন করে লড়তে হবে। আপনাদের অসম্পূর্ন কাজ সম্পূর্ন করার দায়িত্ব আমাদেরই। তাইনা ?”
“তা তো বটেই।” অনেকটা স্বগতোক্তির স্বরে কথাটা বলে ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে থাকেন সুজিত বাবু। বেশ খানিক্ষন মাটির দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবেন।
খানিক বাদে ধ্রুব আবার প্রশ্ন করে,
“সুজিতদা আপনিতো লম্বা গ্রুপে ছিলেন তাই না?”
“হ্যা প্রীতি গ্রুপ আমাদের প্রতিপক্ষ ছিলো।”
“আপনাদের মধ্যে তো অনেক সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে। আপনি কি এরকম কোনটাতে ছিলেন?”
“হ্যা অনেক গুলোতে ছিলাম। তুমি বন্য শুকর মেরেছো কখনও?”
“না”
আমরা ওদের বন্য শুকরের মত তাড়া করে মেরেছি। চারদিক দিয়ে ঘিরে তাড়িয়ে নিয়ে কোনঠাসা করে মেরেছি। সে সময় বেশ কিছু ঘটনার কথা বললেন সুজিত বাবু।
“ওদের পক্ষে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল যোদ্ধা ছিলেন তাই না?”
ধ্রুব প্রশ্ন করে।
“হ্যা”
এই অন্তঃসংঘাতে কোন লাভই হয়নি আমাদের আন্দোলনে।
বরং অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।
কথায় কথায় সময় গড়ায়। সুজিত বাবুর ডিউটির সময় আসে।
ধ্রুবর ও ক্যাম্পাসে ফেরা দরকার। দুজন একসাথে বের হয় বাড়ি থেকে। ধ্রুবর সাংগঠনিক ব্যস্ততায় দিনের বাকী সময় কাটে আর সুজিত বাবুর গতানুগতিক কাজে।
আজ ডিউটি থেকে একটু তাড়াতাড়িই পেরেন তিনি। অর্পিতার সাথে সময়টা কাটিয়ে দেন। তিনজনের সংসার একরকম এভাবে কেটে যায়। কোন রাতে নাইট ডিউটি থাকলে সুজিত বাবুর বাড়ি ফেরা হয় না।
আজ রাতে একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়ে সুজিত বাবুর পরিবার। মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে হঠাৎ ধড়মড় করে জেগে উঠেন সুজিতবাবু। মনে করার চেষ্টা করলেন কি স্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভাঙলো।
মনে পড়ে যায় তিনি বুনো শূয়োরের তাড়া খেয়েছেন। শুকরগুলো চারদিক থেকে তাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করছিলো আর তিনি উর্দ্ধশ্বসে ছুটছিলেন। একপর্যায়ে আর পালাবার পথ ছিলনা তার সামনে। একটা দাঁতাল শুকর তেড়ে আসে তার দিকে। অদ্ভুত ব্যাপার যে শুকরটার পিঠে একটা সাবমেশিনগান ঝোলানো ছিলো। বিছানা ছেড়ে, ঘর ছেড়ে তিনি পুকুর ধারে চলে আসেন। অস্থির মনটাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একটা সিগারেট ধরিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন পুকুর পাড়ে। সহসা মনে হলো তার জীবনটা তাড়া খাওয়া শুকরের মতোই। জীবন জীবিকার তাড়না তাকে তাড়িয়ে এনেছে পাহাড় থেকে অনেক দূর দেশের প্রান্তে। সময় তাকে তাড়া করে এনেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতায়। তাড়া করে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চিত অভিমুখে। নক্ষত্র উজ্জল দিনগুলো হারিয়ে গেছে। নক্ষত্রের মত জ্বলন্ত স্বপ্নটাও ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। আকাশের দিকে তাকান সুজিতবাবু। আকাশে আকাশগঙ্গা, শুকতারা দিক পাল্টে আরেক দিগন্তে। গেরিলা জীবনের শিক্ষা থেকে তিনি এখন বলে দিতে পারেন ঘড়ির কাঁটার অবস্থান। মহাকাশে অগনিত তারা বসতি। নক্ষত্রের জন্ম, নক্ষত্রের মৃতূ্য মহাশুন্যে চিহ্নিত আছে। এখানে নক্ষত্রের ক্ষয় যেমন সত্য নক্ষত্রের নতুন উদ্ভাসন তেমনি সত্য। মহাকাল উতিহাস জমিয়ে রাখে। সুজিত বাবুরা তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব করে গেছেন। এখন সময় এসেছে নতুনের।

বিশাল মহাকাশের নীচে পুকুরধাড়ে সুজিতবাবু বসে বসে উথাল পাতাল ভাবেন।.. বিবর্ণতা, আগামী দিনের কথা। ঘরে ফেরার কোন উদ্যোগ তার মধ্যে নেই। কারন তিনি জানেন আজ রাতে তাঁর আর ঘুম আসবেনা। আজকাল প্রায় রাতেই তিনি ঘুমাতে পারেন না।

 

 

লংগদু গণহত্যা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
-চিত্তি চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে সেই বৃটিশ আমল থেকে। এখানে পাহাড়িদের দুঃখ-বেদনা, হাসি-কান্না প্রত্যকে একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে। কিন্তু কিছু শাসক গোষ্টি সেখানে পাহাড়িদের জবরদস্ত করে আসছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের থেকে। তাই শাসক গোষ্টির থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ করে আসছিল জুম্ম জণগোষ্টি। কিন্তু দূর্ভাগ্য আজও শান্তি ফিরে পায়নি। ১৯৯৭ এর ২রা ডিসেম্বর বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে জণসংহতি সমিতির শান্তি চুক্তি হয়। ভাবতে শুরু করলো এবার হয়তো কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে আসবে। শাসক গোষ্টির জিম্মির হাত থেকে মুক্তি পাবো। কিন্তু দীর্ঘ এগার বছরে শান্তি চুক্তি পা রাখলো এই পর্যন্ত কোন সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখায়নি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের জীবন বৈচিত্র সম্পর্কে স্ব চোখে না দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই শাসক গোষ্টির হাতে এখনও জিম্মি।

বিগত নব্বই শতকের আগে সামরিক বাহিনী পার্বত্য এলাকাতে সন্ত্রাস দমন নামে চালিয়েছিল পাহাড়িদের উপর নির্যাতন, ধর্ষন, গণহত্যা। এর মধ্যে লোগাং, নানিয়ারচর এবং লংগদু গণহত্যা বিশেষ উলে খ্য। সামান্য এক গ্রাম্য কোন্দলকে উপলক্ষ করে সামরিক বাহিনী ও বাঙালী সেটেলারের লোকজন কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরায় লোগাং গ্রামে। সেনা বাহিনীরা গুলি চালায় আর সেটেলাররা কসাইয়ের মত কুপিয়ে জবাই করে নিরপরাধ পাহাড়িদের উপর। একই ভাবে নানিয়ারচর হাট-বাজারে পাহাড়িদের উপর গণহত্যা চালায় সেনাবাহিনীরা। এর পরে একই ভাবে একই কায়দায় লংগদু গণহত্যা চালানো হয়। তারপরে লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার মাঝামাঝি স্থানে মাইল্যা ইউনিয়নে লঞ্চ ডুবি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণহত্যা চালানো হয়। কিন্তু এসব ঘটনা দেশে বিদেশে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ সরকারের কোন তনক পড়েনি। এবং তার ধারে কাছেও যায়নি।

১৯৮৯ এর ৪ঠা মে লংগদু গণহত্যা হয়েছিল। এর কযেকজন প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকজনের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনলে গা শিউরে উঠে। যাকে যখন যেভাবে পেয়েছে সেখানে হত্যা করেছিল। প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকের সামনে থেকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয় নিস্পাপ শিশু আর শিশুটির মাকে করেছিল ধর্ষণ। এভাবে নিরপরাধ পাহাড়িদের কতজনকে হত্যা করেছিল তার কোন হিসাব এখনো পায়নি। এর প্রত্যেকটি ঘটনার মূল মদত দাতা ছিল সেনাবাহিনী আর তাদের লেলিয়ে দেওয়া পোষা বাঙালি সেটেলাররা কসাই এর মত কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যা করেও শান্তি পায়নি চালিয়েছিল লুটপাট, পুড়িয়ে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম শত শত ঘর বাড়ি। প্রাণে বাঁচার জন্য পাহাড়িরা আরও পাহাড়ের ভিতর যখন আশ্রয় নিয়েছিল এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেটেলার বাঙালিরা সেনাবাহিনীর মদতে পাহাড়িদের পূর্ব পুরুষের ভিটে মাটিতে বসত বাড়ি গড়ে তুলে। পরে ফিরে এসে সেসব জায়গা আর ফিরে পায়নি। এভাবে জবর দখল করে কতজনের জায়গা বাঙালি সেটেলাররা বসত বাড়ি গড়ে তুলেছে তার কোন ইয়াত্তা নেই।

লংগদু উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল রশিদ সরকার বলা যায় সেটেলারদের একজন গডফাদার। তাকে সেদিন কে বা কারা হত্যা করেছিল। এই হত্যার জের ধরে পরের দিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে চলে গণহত্যা। সেই দিন সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের উচিৎ ছিল মূল হত্যা কারীকে সনাক্ত করে আইনানুগ ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্ত তারা সেথা না করে চালিয়েছিল নিরপরাধ পাহাড়িদের উপর নির্যাতন, ধর্ষন এবং পরে গণহত্যা।

এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী কিছু সেটেলারদের সনাক্ত করেছিল। যারা ঘর বাড়ি লুট করে আজ সেই সব সম্পত্তি নিয়ে সচ্চল ভাবে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। আর ওরা প্রকাশ্য ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ সরকারি, আধা-সরকারি চাকুরিতে বর্তমানে নিযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে দূর্নীতির দায়ে সাজা প্রাপ্ত সেটেলারদের গডফাদার আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া নেতৃত্বে তথা কথিত “সমঅধিকার আন্দোলন”, সামপ্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়বাদি সংগঠনে লংগদু উপজেলার কিছু বাঙালি সেটেলার যুক্ত। যারা সংগঠনে জড়িয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়ে জবর দখল করে নিয়ে যাচ্ছে পাহাড়িদের পূর্ব পুরুষের ভিটে মাটি। তিন পার্বত্য জেলায় চলছে ঐসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। আর গণহত্যার পৃষ্টপোষকতায় যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যাবে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়িদের চেয়ে বাঙালি সেটেলারের সংখ্যা বেশী।

 

 

প্রথম প্রকাশনার অনুভূতি
-লিসা চাকমা
একটা সময় যখন জীবনটা অনেক ছোট গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল । জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা ছিল না। সমাজ, রাষ্ট্র, শিল্প, রাজনীতি, সৃষ্টিশীল কোন কিছু সম্পর্কে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া ছিল না। মনে হতো এসব কিছু আমার আওতার বাইরে। শুধু ভাবতাম নিজেকে নিয়ে, নিজের স্বপ্নগুলো নিয়ে। স্বপ্নের ঘোরে ডুবে থাকতাম। প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে। জীবনের কিছু আশা থাকে। কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ হয়না। অনেক স্বপ্ন পূরণ করতে হলে বিভিন্ন ত্যাগ করতে হয়। বৌদ্ধ ধর্মে লেখা আছে-’ত্যাগই সুখ। এ ত্যাগ কি সবাই করতে পারে ? ত্যাগ করতে গেলে জীবনের সমস্তকিছু বিসর্জন দিতে হয়। তা কি দিতে পারবো আমারা বা আমি ? আমরা যে ধর্মেও কথা বলি বা ধর্ম মানি, কিন্তু আমার তো মনে হয় না সবাই মনে প্রাণে ধর্ম মানে। যদি ধর্মীয় যে নৈতিকতা শুধুমাত্র তা পালন করা হতো তাহলে এমন হতো না। সবাই তো লোক দেখানো ধর্ম করে। অনেকে তো শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্য ধর্ম করে। ধর্মের যে প্রগতিশীল আচরণ ছিল তা এ সময় এসে প্রতিক্রিয়াশীলতার আবরণ পরেছে। অনেকেই বলে, ধর্মেই সব কিছু ক্ষয় হয়। ধর্মেই জয় হয়। কিন্তু আমি বলবো আজকে যদি রাজনীতি না থাকতো তাহলে কি এই সমাজ, ধর্ম টিকে থাকতো? আমরা কি স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারতাম? তাহলে কেন আমরা রাজনীতিকে সরিয়ে দিই? রাজনীতি আমাদের জীবনে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংগ্রাম করতে হয়। বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম কওে বেঁচে থাকতে হয়। জীবন মানেই সংগ্রাম। সংগ্রাম যদি না-ই করি তাহলে সমাজ, ধর্ম, শিল্প সবকিছু হারাবো। সংগ্রামের মধ্যেই টিকে থাকতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদেও সমস্ত কিছু। তবে এ সংগ্রাম হতে হবে সত্যেও সংগ্রাম, সত্যেও লড়াই।
সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগে আমাদের বয়ন শিল্প নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ”পিনোন-খাদি” আরও অনেক জিনিস আছে যা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই ছিল। অনেক ঐতিহ্যবাহী জিনিস যা আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে এগুলো যদি আমরা ঠিকমত সংরক্ষণ না করি তাহলে আমরা অন্যদেও মধ্যে হারিয়ে যাবো। নিজের জাতিসত্তাকে যদি আমরা হারিয়ে ফেলি তাহলে কেন আমরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি। এ সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে, ধরে রাখতে আমাদের জুম্ম জাতিসত্তাকে।
জীবনে কোনদিন ভাবিনি এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করবো। শিল্প, সাহিত্য নিয়ে কাজ করবো। সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তারপরও এই ছোট্ট সংগ্রামে জয়ী হয়েছি। সবার মনে কিছুটা জায়গা দখল কওে নিয়েছি। ভাবতে খুব ভালো লাগে যে, প্রথম সাহিত্যপত্র প্রকাশনায় সফল হয়েছি। এ প্রকাশনা করতে গিয়ে মনে একটা জেদ ছিল যে প্রকাশনাটা করতেই হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা ক-জন তরুণ এই সংগ্রামে জয়ী হয়েছি এবং কষ্টের সফলতা পেয়েছি।

এটাই কি জীবন
-আশা চাকমা

সূর্যটা পশ্চিমে হেলান দিয়েছে, দীপ্ত রোদের তেজ আর নেই। ক্লান্ত বিকেল, তবুও একটুকরো শান্তি নেই নরেনের মনে। সে ১০বছরের এক দূরন্ত বালক। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার ধনপাতা নামক এলাকার বাবা, মা আর ছোট বোনের সাথে সুখে থাকতো। কিন্তু নির্মিত নিয়তির নির্মম পরিহাসে এ সুখ বেশী দিন সইলো না। নরেন বসে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন। কখন যে রাত হলো, আকাশে তারারা মিটিমিটি কওে হাসছে এসব তার কিছুই খেয়ালে নেই। দক্ষিণের ঠাণ্ডা হাওয়া তবু তার মনে হচ্ছে অস্থিও গরম। সে ভাবছে কয়েকমাস পর তাকে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে।
১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদু্যৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হয় আর তার কারণে ১ লাখ মানুষের নিজ জায়গা থেকে উদ্বাস্তু হতে হয়। এ বাঁধের ফলে ৫০০ বর্গ মাইল জায়গা ডুবে যায় সম্পূর্ন পানির নীচে। কারোর অজানা নয়, সবাই জানে পাহাড়ের মানুষ সহজ-সরল। এই সরলতার দূবৃলতাকে তারা কাজে লাগিয়েছিল। একটাই স্বপ্ন দেখানো হল। দিনের আলোর মত রাতও হবে ঝলমল। আলোর পেছনে পোকারা যেভাবে ছুটে আসে ঠিক তেমনি পাহাড়ের মানুষরাও ছুটে আসলো এক মরিচীকার পেছনে।

নরেন বাবা-মা আত্দীয়দেও সাথে আসলো রাঙামাটি জেলার মারিশ্যা নামক এলাকায়। নরেনকে বারেবাওে পিছু ডাকে তার সেই কর্ণফুলীর দুই ধার। তাই সে দেখতে গেলো। যা দেখলো তার দুই চোখ বন্যায় প াবিত হলো। এমন জায়গা সে বেছে নিলো যেখান থেকে সবকিছু ভালোভাবে দেখা যায়। সে দেখলো পানি ঢুকছে হুরহুর করে। দেখতে দেখতে তলিয়ে গেলো সমস্ত ঘর-বাড়ি,গাছ-গাছালি, রাজবাড়ি আর ছোট ছোট পাহাড়গুলো। তারা সবাই সওে গেলো নতুন জায়গায়। নতুন জায়গায় এসে বাবা মারা গেল কলেরায়। তার দিন কাটে মা আর বোনকে নিয়ে। একদিন পিসির বাসা থেকে বেড়িয়ে আসার পর শুনলো মামারা তার মাকে জোর কওে নিয়ে গেছে। তার মাথায় বাজ পড়ার মতো হলো। এরপর সে তার মাকে কত খুঁজলো আরো কত কি। প্রায় ৫-৬ বছর পর সে জানতে পারলো তার মা-বোন ভারতের অরুণাচলে আর মায়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আপন যারা ছিল তারা এখন অনেক দূরে, ইচ্ছে হলেও কাছে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। জায়গা-জমি যা ছিল তার সৎ কাকারা সব বিক্রি কওে দিয়েছে। রেখে দিলো শুধু ১ একর ছোট্ট একখণ্ড জায়গা। তার একমুহূর্তও মন টিকলো না। বাঁচার তাগিদে একদিন সে এসে পেঁৗছাল খাগড়াছড়িতে। কেটে গেলো ৩০টা বছর। চার ছেলেমেয়ে নিয়ে তার সুখে যাচ্ছিল। একদিন একটা চিঠির খাম আসলো। খামটার চেহারা মলিন আর ছেঁড়া। তবে চিঠিটি কোনমতে পড়া যায়। চিঠির ভাঁজ খুলে পড়তে বসে নরেনের চোখ জলে ভেসে গেলো। চিঠিতে লেখা- ”আমি আপনার আপন রক্তের ছোট ভাই। আমার যখন জম্ম হয়নি তখন আমার দিদি মারা যায় পানিতে ডুবে। পরিস্থিতির কারণে মামারা জোড় কওে নিয়ে এসেছিল মাকে। মায়ের মন একমাত্র জানে, সে কিভাবে এসেছিল একটা ছেলেকে রেখে। মাকে ভূল বুঝোনা দাদা। আমার জম্মেও কয়েক বছর পর মামারা মাকে বিয়ে দেন দ্বিতীয়বার। মা জীবিত আছেন এখনও। যদি দেখার ইচ্ছে হয়, তাহলে খবর দেবেন। আসলে তাড়াতে আসবেন। মা শুধুই আপনার নাম বলে কাঁদে। “

নরেন মাকে দেখতে গেলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেখা, মা মোটেই চিনতে পারলেন না ফেলে আসা ছেলেকে। নরেন এমন সুখ কোনদিন পেয়েছেন কিনা তার মাথায় আসলো না। কিন্তু কয়েকমাস পর ফিওে আসতে হলো নিজের সংসারের টানে। বছর ঘরতে না ঘুরতেই খবর আমলো মা আর বেঁচে নেই। সামান্য সুখও নরেনের জুটলো না। দুই মাস পর নরেনও মায়ের জগৎ যাত্রী হলেন। বেঁচে থাকতে নরেন শুধু এটুকুই শান্তি এবং সুখ পেয়েছিলেন, তার মাকে দ্বিতীয়বার দেখা।

নরেনের সবটুকু কাহিনী লিখে শেষ করা যাবেনা। তার অনেক কিছুই অজানা থেকে গেল। এমন অনেক নরেনের কাহিনী আমাদের অজানা এখনও।

সেই একটা স্বপ্নের পিছনে কত হাজারো স্বপ্ন নিঃশেষ হলো তার খবর কেউ জানলো না এবং এখনো জানেনা।

সবটুকু পত্রিকা পড়ুন

Permanent link to this article: http://chtbd.org/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%9a-%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8

হুচ্‌- লিটল ম্যাগাজিন। ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা

  সম্পাদকীয় অনেকদিনপর দেখা দিয়েই অনেকেই দেখি লিখে থাকেন “পর্যবেক্ষণ”। না আমরা তা বলবো না। আমাদের ইচ্ছা ছিলো কিন্তু উপায় ছিলো না। খেয়ে পরে বাঁচার তাগিদে ব্যাক্তিক এবং সামষ্টিক বিভিন্ন ঝামেলায় আমরা আমাদের জড়িয়ে ফেলেছিলাম তাই ইচ্ছা আর সদিচ্ছা-তে পরিণত হয়নি। এই যে ঝামেলা তা কিন্তু প্রাকৃতিক নয় বানানো, পুঁজিবাদের। পুঁজিবাদ সারা বিশ্বকেই তার নিজের …

View page »

1 comment

12 pings

Skip to comment form

  1. Panidhan Panyanidhikul(P.J.Chakma)

    I wish a great success of THE HOOCH (THE STEP).

    Best wishes,
    Prof. P.J. Chakma

  2. Aloran Khisa

    অপেক্ষায় থাকলাম দাদা @

  3. Aloran Khisa

    অনেক ধন্যবাদ Ñêw Rêlêx Júmmó@ ভেই ।

  4. Aloran Khisa

    Azad [email protected] অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।

  5. Arzad Shikdar

    খুব সুন্দর। চালিয়ে যান…..ধন্যবাদ.

  6. Ahmod Jasim

    পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে মন্তব্য করবো।.

  7. Aloran Khisa

    Rakhal [email protected] দাদা , প্রুফ দেখেছিলেন নিসর্গের সরকার আশরাফ, মাহবুবুল হক, খলিল মজিদ। ভুলগুলো অপ্রত্যাশিত । ধন্যবাদ দাদা আপনার মূল্যবান মন্তব্যর জন্য।

  8. Rakhal Raha

    dhekhlam, kichu lekha porlam. bhalo. kichu bakkyo ebong banan bhul ache. shubho kamona.

  9. Kafi Kamal

    deklam, montobbo pore, ekhon ami barishal.

  10. Aloran Khisa

    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।.

  11. Ñêw Rêlêx Júmmó

    exelent a publish,welcome 2 writer

  1. HILLBD » বাসুদেব চাকমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে।

    […] কাজ কিভাবে সামলাবো ? । শেষে লিটল ম্যাগ “হুচ্‌” সম্পাদক  আলোড়নকে সকল দায়িত্ব দিয়ে […]

  2. ঘুণে ধরা জুম্ম আদিবাসী সমাজের কিছু কথা | ।।জুম্মো ব্লগ।।

    […] আমাদের লিটল ম্যাগাজিন হুচ্‌ -এ […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>